লারার জন্য মায়াই লাগল জেফের। মেয়েটা ঠিকমত বেতন পায় কি না কে জানে।
বারের মত লারা নিজেও অবশ্য জেফকে কম অবাক করেনি! মিরাণ্ডার সঙ্গে মেয়েটার একরত্তি মিলও নেই। ছিপছিপে দেহের গড়ন, যেন হাড়ের উপর সরাসরি চামড়ার প্রলেপ দেয়া, মাংসপেশীর কোন বালাই নেই। এতটা শুকনো একজন মানুষ হয় কী করে?
গায়ের রঙ দুধে আলতা মেশানো, প্রচণ্ড সুন্দরী। একবার তাকালে চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না।
মুক্তোর মত ধবধবে সাদা দু’সারি দাঁত, মুখ খুললেই ঝিলিক দিয়ে ওঠে তবে উপরের পাটির ক্যানাইন দুটো খানিকটা বেশি লম্বা মেয়েটার। তাই হাসার সময় খুব সাবধানে হাসে সে, যেন চট করে ব্যাপারটা কারও চোখে না পড়ে। মাপা হাসিতে আরও বেশি সুন্দর লাগে তাকে।
জেফ নিজেকে মনে করিয়ে দিল, তার ক্লায়েন্ট মিরাণ্ডা, লারা নয়। তাই মিরাণ্ডাই তার পূর্ণ মনোযোগের একমাত্র দাবিদার। যদিও এর উল্টোটা হলেই বেশি খুশি হত সে।
‘এবার কোথায় যাব, মিস?’ মিরাণ্ডাকে জিজ্ঞেস করল জেফ।
‘চলুন, পথ দেখাচ্ছি।’
গাড়ি ছেড়ে দিল জেফ। লারা পিছনের সিটে বসলেও, মিরাণ্ডা এখনও সামনের সিটে তার পাশেই বসে আছে। বান্ধবীকে সঙ্গ দিতে পিছনে গিয়ে ওঠেনি।
তবে একটা ব্যাপার ঠিকই খেয়াল করল জেফ। লারা আসার পর থেকে মিরাণ্ডার হাবভাবই পাল্টে গেছে।
দু’জনের মুখেই সার্বক্ষণিক চাপা হাসি লেগে আছে, দু’জনেই প্রচণ্ড উত্তেজিত। একটু পর-পরই চোখে-চোখে কথা হচ্ছে ওদের। যদিও আলাপের বিষয়বস্তু ঠিক পরিষ্কার না জেফের কাছে।
এতটা উত্তেজিত কেন ওরা? অনাগত রাতের অ্যাডভেঞ্চারের কথা ভেবে? এটাই হবে। দু’জনের জন্যই যে ব্যাপারটা নতুন, এতে কোন সন্দেহ নেই।
রিয়ারভিউ মিররের দিকে তাকাতেই লারার সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে গেল জেফের। তার মুখের দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটা। তার চোখে যুগপৎ লালসা আর ঈর্ষা দেখতে পেল জেফ।
লালসা কার প্রতি, সেটা বুঝতে মোটেও কষ্ট হচ্ছে না। কিন্তু ঈর্ষা? বান্ধবীর ভাগ্যের প্রতি?
তার চোখে চোখ রেখেই নিজের শুকনো ঠোঁটে জিভ বুলাল লারা।
মনে-মনে হাসল জেফ। মেয়েটা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কোনমতেই। কতদিন পুরুষবিবর্জিত জীবন কাটাচ্ছে কে জানে!
নিজের উপর জোর খাটিয়ে রিয়ারভিউ মিরর থেকে চোখ সরাল জেফ। উপলব্ধি করছে, মিরাণ্ডাও তার মুখের দিকেই তাকিয়ে আছে এখন। মিরাণ্ডার চোখেও চকচক করছে লোভ!
ওদের উত্তেজনার মূল কারণটা কিছুটা হলেও এখন আঁচ করতে পারছে জেফ। সম্ভবত ওদের সম্মিলিত কোন ফ্যান্টাসি আছে, যা ওকে দিয়ে আজ পূরণ করাতে চলেছে ওরা। নিষিদ্ধ আনন্দ আহরণের সম্ভাবনা চিরকালই উত্তেজনাকর। ওদের আর দোষ কী?
আচমকা ঘাড়ের কাছে উষ্ণ একটা স্পর্শে চমকে উঠল জেফ। পরক্ষণেই বুঝতে পারল, লারা হাত বুলাচ্ছে ওখানে! ঝট করে ঘাড়টা সরিয়ে নিল জেফ। শিরদাঁড়া সোজা করে বসল সিটের উপর।
পিছন থেকে অস্ফুট শব্দ করে উঠল লারা। স্পষ্ট বোঝা গেল, ব্যাপারটায় অসন্তুষ্ট হয়েছে সে। তবে পরোয়া করল না জেফ। তার ক্লায়েন্ট মিরাণ্ডাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে বাধ্য সে, লারাকে নয়।
গোটা ব্যাপারটা খুব ভালভাবে লক্ষ্য করলেও, মুখে কিছু বলল না মিরাণ্ডা শুধু লারার দিকে তাকিয়ে চোখ মটকাল একবার। ভাবখানা এমন, তর সইছে না, না?
চার
লারার অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংটার পুরোপুরি বেহাল দশা। অনেক পুরানো একটা দালান, দেয়ালের জায়গায় জায়গায় ছাল-চামড়া উঠে গেছে। পলেস্তারা খসে গিয়ে ভিতরের লোহার কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে। যে কোন সময় ভেঙে পড়ার শঙ্কা নিয়েই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছে ওটা।
নিরাপত্তার কোন বালাই নেই। সিকিউরিটি ক্যামেরা দূরে থাক, একজন দারোয়ান পর্যন্ত নেই!
সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় জেফ ভাবল, মিরাণ্ডার ভার সইবে তো জরাজীর্ণ সিঁড়িগুলো?,
তবে কোনরকম বিপত্তি ছাড়াই পাঁচতলায় লারার ফ্ল্যাটে উঠে এল ওরা।
ফ্ল্যাটটা ছোট, তবে বেশ পরিপাটি করে সাজানো। বাইরে থেকে কল্পনাও করতে পারবে না কেউ, ভিতরটা এতটা সুন্দর। মনে-মনে লারার রুচির প্রশংসা না করে পারল না জেফ।
ঘরে ঢোকার পর আর একটা সেকেণ্ডও নষ্ট করতে চাইল না মিরাণ্ডা। উত্তেজনায় রীতিমত কাঁপছে সে।
‘তুমি ভাল করেই জানো, আমি কেন তোমাকে এখানে এনেছি। তাই না, জেফ?’
মাথা নেড়ে সায় জানাল জেফ। জানে সে, বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট তার কাছে এটাই চায়।
‘আমরা দু’জন একসাথে থাকলে তোমার কোন আপত্তি নেই তো?’ বলে উঠল লারা।
‘মিস মিরাণ্ডা রাজি থাকলে, আমার কোন অসুবিধে নেই,’ শান্ত স্বরে জবাব দিল জেফ।
জবাব দিতে একটুও সময় নিল না মিরাণ্ডা। ‘আমি রাজি। আসলে, আইডিয়াটা আমারই।’
শ্রাগ করল জেফ। ক্লায়েন্ট যা বলবে, তা-ই করতে বাধ্য সে।
তার চোখের সামনেই চটজলদি কাপড় ছাড়তে শুরু করল মেয়ে দুটো। পূর্ণ দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল জেফ।
নিজের ভিতরকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে সে। কত সহজেই না শিকার মিলছে আজকাল! কেবল ঝোপ বুঝে কোপ মারতে পারলেই কেল্লা ফতে।
স্বীকার করতেই হয়, বস রবার্ট জনসনের এই এসকর্ট এজেন্সি খোলার আইডিয়াটা দুর্দান্ত ছিল। কেননা বেশিরভাগ মানুষই এসকর্ট এজেন্সির সার্ভিস নেয়ার ব্যাপারটাকে নিজেদের স্বার্থেই গোপন রাখে। তাই পুলিশের পক্ষে কখনওই ব্যাক-ট্র্যাক করে এজেন্সি পর্যন্ত পৌঁছনো সম্ভব হয় না।
