তাই নিতান্ত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই মেল এসকর্টের ব্যবসাটা খুব তাড়াতাড়িই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেছে। এখানে-ওখানে গড়ে উঠেছে বহু এসকর্ট এজেন্সি।
যদিও লেনদেনের বেশিরভাগ অংশ এখনও গোপনেই সারা হয়, তবুও এর বিস্তৃতি যে কোন অসচেতন মানুষের পিলে চমকে দেবার জন্য যথেষ্ট
শহরের অভিজাত এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জেফের অ্যাপার্টমেন্টটা বেশ বিলাসবহুল। এই মুহূর্তে নিজের ফ্ল্যাটের নরম গদিমোড়া কাউচে আধশোয়া হয়ে আছে সে। হাতে শোভা পাচ্ছে বিয়ারের বোতল। আধঘণ্টা ধরে একটা বিশেষ ফোনের অপেক্ষায় আছে সে।
ফোনটা করবেন তার বস, রবার্ট জনসন। সাধারণত সন্ধ্যা ছ’টা থেকে সাতটার মধ্যেই ফোন করেন তিনি। সাতটার পরও তাঁর ফোন না এলে, ধরে নিতে হবে আজ রাতে জেফকে দেয়ার মত কোন কাজ নেই তাঁর হাতে। তবে এমন ঘটনা গত দু’মাসে মাত্র একবারই ঘটেছে।
বিয়ারের তৃতীয় বোতলটা শেষ হবার আগেই ফোনটা বেজে উঠল।
‘হ্যালো, জেফ। ঠিকানা লিখে নাও।’
কাগজ-কলম নিয়ে তৈরিই ছিল জেফ। ঠিকানাটা টুকে নিতে সময় লাগল না।
‘আজকের ক্লায়েন্ট একজন কুমারী। ফর্মে অন্তত তিনি সেটাই লিখেছেন। তাঁর বিয়ে হবার কথা সামনের সপ্তাহে। তাই সিঙ্গেল লাইফটাকে শেষবারের মত উপভোগ করতে চান। তোমার বায়োডাটা দেখেই পছন্দ হয়ে গেছে তাঁর। পিক টাইম-ইলেভেন পিএম। বুকিং-ফুল নাইট। জব-এনিথিং। ক্লিয়ার?’
‘ইয়েস, স্যর।’
‘গুড। এবার শপথ বাক্যটা বলে ফেলো জলদি।’
‘এজেন্সির সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ক্লায়েন্টের সন্তুষ্টি অর্জনই আমার প্রধান কর্তব্য, নিজে উপভোগের সুযোগ পাওয়াটা বাড়তি পাওনা। আমি সদা সতর্ক থাকব, যেন আমার কোন আচরণের জন্য পুরো এজেন্সির অস্তিত্ব হুমকির মুখে না পড়ে। এর কোন ব্যত্যয় ঘটলে, এজেন্সি কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন শাস্তি মাথা পেতে নিতে বাধ্য থাকব।’
যন্ত্রের মত গড়গড় করে বলে গেল জেফ। প্রতিটা কাজ বুঝে নেয়ার সময়ই এটা বলতে হয় তাকে। রুটিন ওয়ার্ক।
‘বেস্ট অভ লাক, জেফ।’
ফোন কেটে দিলেন রবার্ট জনসন।
মনে-মনে খুশি হয়ে উঠল জেফ। সে খেয়াল করেছে, এ পর্যন্ত যতবার বিদায় নেয়ার সময় ‘বেস্ট অভ লাক’ বলেছেন বস, ততবারই নিজের কাজটা উপভোগ করেছে সে। তাহলে আজকের রাতটাও কি তেমনই একটি স্মরণীয় রাত হতে যাচ্ছে?
তৈরি হতে চলল জেফ। ক্লায়েন্টদের কাছে সবসময় নিজেকে পরম কাঙ্ক্ষিত একজন সঙ্গী হিসেবেই উপস্থাপন করতে চায় সে। আর এজন্য সময়সাপেক্ষ একটি প্রস্তুতিপর্বের কোন বিকল্প নেই।
দুই
জেফের আজকের ক্লায়েন্টের নাম, মিরাণ্ডা। রওনা হবার আগে ঠিকানা লেখা কাগজটায় আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিল জেফ। ১৩/৪ মিডল জোন।
ভ্রূজোড়া খানিকটা কুঁচকে গেল তার। এর আগে ব্যাপারটা খেয়াল করেনি ও। এই প্রথম মিডল জোনের কোন ক্লায়েন্টকে সঙ্গ দিতে যাচ্ছে সে।
ওখানে সাধারণত নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা বসবাস করে। তাদের কাছে এসকর্ট সার্ভিসের চার্জটা গগনচুম্বী লাগার কথা। নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরায়, তাদের এহেন বিলাসিতার সুযোগ কোথায়?
তাহলে মিরাণ্ডা অতগুলো টাকা পেল কোথায়? লটারি জিতেছে?
তবে ব্যাপারটা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই জেফের। তার ক্লায়েন্ট ধনী নাকি দরিদ্র, তাতে তার কী আসে-যায়? তাকে কাজের জন্য পেমেণ্ট করে এজেন্সি, সরাসরি ক্লায়েন্ট নয়।
তাছাড়া ব্যাপারটা হয়তো ততটা গোলমেলেও নয়। কারণ অনেকেই ভুল ঠিকানা ব্যবহার করে এ ধরনের গোপনীয় কাজে। যদিও তার এজেন্সি শতভাগ বিশ্বস্ততার সঙ্গেই এযাবৎকাল কাজ করে এসেছে, তারপরও সঠিক পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক ক্লায়েন্টেরই আপত্তি থাকে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আবার এমনও হতে পারে, এই বিশেষ রাতের জন্যই সারাজীবন ধরে অর্থ সঞ্চয় করেছে মেয়েটা!
নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌছে মিরাণ্ডার নাম্বারে ফোন করল জেফ। তার গাড়ির রঙ এবং পার্কিং লটের ঠিক কোথায় সেটা অবস্থান করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাল মেয়েটাকে। তারপর দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে হাত-পা ছড়িয়ে যতটা সম্ভব আরাম করে বসল। অভিজ্ঞতা থেকে জানে, মেয়েদের সাজগোজের শেষ পর্বটাই সাধারণত সবচেয়ে লম্বা হয়। এক ক্লায়েন্টের জন্য ঝাড়া তিনঘণ্টা অপেক্ষা করার রেকর্ডও আছে তার!
তবে মিরাণ্ডা খুব একটা অপেক্ষা করাল না তাকে। মিনিট দশেকের মধ্যেই নীচে নেমে এল। জেফের জন্য তৈরি হয়েই অপেক্ষা করছিল মেয়েটা। বিশেষ রাতের একটা মুহূর্তও অপচয় করার ইচ্ছে নেই তার।
তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল জেফ। তার ডান হাতটা মুঠোয় নিয়ে, হাতের উল্টোপিঠে আলতো করে চুমু খেল।
‘নিঃসন্দেহে আমার দেখা সেরা সুন্দরীদের একজন আপনি, মিস মিরাণ্ডা।’
হাসল মেয়েটা। ‘আপনিও কম হ্যাণ্ডসাম নন, মিস্টার জেফ কার্টার।’
‘শুধু জেফ,’ বলতে-বলতে প্যাসেঞ্জার সিটের দরজাটা মিরাণ্ডার জন্য খুলে দিল জেফ। মেয়েটা উঠে বসার পর ড্রাইভিং সিটে এসে বসল সে।
মনে-মনে হাসছে ও। ক্লায়েন্টদের খুশি করার জন্য কত কিছুই না বলতে হয়! এমন ভাব করতে হয়, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে আরাধ্য মেয়েটিকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে সে। অন্য কারও সঙ্গেই যার তুলনা চলে না। এমন কিছু করা যায় না, যাতে মেয়েটি নিজেকে ছোট ভাবে।
