প্রথমে, প্রশ্ন করল রনি, তোমাদের মধ্যে সবথেকে ভাল ইণ্ডিয়ান। কে? আসলে দুজন দরকার।
আমি, লেকার চট করে জবাব দিল। ইউটের সাথে বড় হয়েছি আমি। একটা লঙহর্ন চামড়া আমি চুরি করে আনতে পারি, গরুটা টেরও পাবে না আমি কাছে আছি।
অও! বাধা দিল হ্যারি। ওর কথা বিশ্বাস কোরো না, রনি। দিনের বেলাতেও সে একটা গুদাম খুঁজে পাবে না। গুদামের সাথে দড়ি বাধা থাকলেও না। তাছাড়া ও বেশি ছোট। কিড বেশি বড়াই করছে।
হ্যাহ্! বড়াই আমি মোটেও করছি না, প্রতিবাদ জানাল লেকার।
ঠিক আছে, তোমরা দুজনেই যেতে পারো। ক্লান্ত ঘোড়াগুলোকে নিয়ে মাথা ঘামাবার দরকার নেই। গা যদি ভেজা নাও থাকে ওদের লোম শুকিয়ে শক্ত হয়ে থাকবে। চেনা কঠিন হবে না।
ঘোড়ার লাথি খেয়ে মাথা খুইয়ে এসো না যেন, উপদেশ দিল শটি। অবশ্য তোমাদের দু’জনের মাথায় কি প্রয়োজন সেটাই আমি বুঝি না।
বিড়বিড় করে শর্টির মুণ্ডুপাত করে, ওরা অন্ধকারে অদৃশ্য হলো। টেরি ওদের দিকে নড় করে বলল, আসলে কিড অত্যন্ত পটু ছেলে। হ্যারিও ভাল, তবে লেকারের তুলনায় সে কিছুই না।
রনিকে উঠে দাঁড়াতে দেখে শর্টি প্রশ্ন করল, তুমি আবার কোথায় চললে?
ঘুরে দেখে আসি ওখানে ওই লোকটা কে। তোমরা দুজন এখানেই থাকো। প্রয়োজন হলে কিড আর হ্যারিকে কাভার দেয়ার জন্যে তৈরি থেকো। আমি ফিরে এলে আমরা বাকি ব্যবস্থা নেব।
রনির সামনের ঢালু ঢালটা পাথরে ভরা, ঝোঁপ ঘাসও জন্মেছে। মাঝে মাঝে গ্রীজউড গাছ আর জুনিপার। এগুলো নিচে নামার পথে ওকে কিছুটা আড়াল দিল। অন্ধকারে নিচে নামাটা খুব কঠিন কাজ।
দ্বিতীয় আগুনটা এখন প্রায় নিতে এসেছে। কিন্তু প্রথমটায় আবার কাঠ চাপানো হয়েছে। চক্রাকারে ঘুরে সতর্ক ভাবে আগুনের দিকে এগোল রনি। বারো গজ দূরে থাকতে একটা হালকা খসখস শব্দ ওর কানে এল। আড়ষ্ট হয়ে কান পেতে অপেক্ষা করছে সে। শব্দটা আবার শুনতে পেল! ঘাস কিংবা ঝোঁপের সাথে খসখসে কাপড় ঘষার শব্দ। বাম দিকে আরও একটা শব্দ হলো। বুঝল ওর পাশাপাশি আরও কয়েকজন লোক বুকে হেঁটে আগুনের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু ওরা কি ছোট আগুনটা দেখেছে? মনে হয় না। ওটা কেবল উপর থেকেই দেখা যায়। একটু একটু করে বুকে হাঁটা লোকটার কাছে সরে এল রনি। মুহূর্তের জন্যে তারার আলোয় ওর মাথাটা দেখতে পেয়ে পিস্তল দিয়ে কষে বাড়ি মারল। ঘোৎ করে একটা শব্দ করে ওখানেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে থাকল লোকটা।
নীরবতা।
হঠাৎ বুনো একটা চিৎকারে সঙ্কেত পেয়ে লোকগুলো একসাথে ধাওয়া করে আগুনের দিকে ছুটে এগোল। তারপর সবাই থমকে দাঁড়াল। যেটাকে ঘুমন্ত মানুষ মনে করেছিল সেটা দুই সারি পাথরের ওপর একটা কম্বল ছাড়া আর কিছুই নয়। বোকার মত মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে ওরা।
চলে গেছে। একটা গালি দিল হ্যানকিনস। পাজি ড্যাশার আমাদের ফাঁকি দিয়েছে!
অন্ধকারে মনে মনে হাসল রনি। আগুনের আলোয় কয়েকজনকে চিনতে পারল সে। জনি হিউবার্ট, ডাকি, ড্রেনান, হ্যানকিনস, আর রেড!
আরে। ট্রয় কোথায়? চিৎকার করল হ্যানকিনস। ওর কি হলো?
সে কিছুক্ষণ আগেও আমাদের সাথে ছিল। ও করছে কি? লুকিয়েছে?
রনি অন্ধকারে মিশে দ্রুত ঢালের উদ্দেশে রওনা হলো। লোকটা যে কে তা আর জানা হলো না। সে কাছেই কোথাও আছে। পালায়নি। নইলে রনি ওকে দেখতে পেত বা তার আওয়াজ শুনতে পেত। পাহাড়ের মাথায় উঠে হ্যারি আর কিডকে ফিরতে দেখে অবাক হলো।
দু’জনেই হাসি চাপার চেষ্টা করছে।
আমরা ওদের সব ঘোড়াই নিয়ে এসেছি, জানাল হ্যারি। এখন পায়ে হেঁটে ফেরা ছাড়া ওদের উপায় নেই।
জানো, হঠাৎ বলল রনি, আমি জেরিকে দেখলাম না, কিন্তু ওর সাগরেদ ডাকি স্মিথ ওখানে ছিল।
তাহলে ওটা নিশ্চয় জেরিই ঘোড়া ছিল! সামনে ঝুঁকে এল লেকার। একটা ঘোড়া ওখানে কম দেখলাম। ঘোড়া বাঁধার দড়িটা মাটিতে পড়ে আছে।
ও কোথায় যেতে পারে? প্রশ্ন করল টেরি।
রনি ভাবছে লোকটা হয়তো অ্যাডামের সাথে দেখা করতে যেতে পারে। হঠাৎ আর একটা চিন্তা ওর মাথায় এল। সে হাইডআউটে যায়নি
তো? হয়তো সেই ওদের লীডার!
যে লোক সায়মনকে মেরেছে, পিস্তলে তার হাত খুব দ্রুত চলে। জেরির হাতও তাই। মুহূর্তে রনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল তার কি করতে হবে।
হঠাৎ রনি বলল, থ্রী এইচ এখান থেকে তিরিশ মাইলের উপরে। পায়ে হেঁটে ওরা আগামীকাল রাতের আগে র্যাঞ্চে পৌঁছতে পারবে না। সেক্ষেত্রে তোমাদের বাড়ি ফিরে যাওয়াই ভাল।
আর তুমি? প্রশ্ন করল টেরি।
আমার একটা ছোট্ট কাজ রয়েছে। তোমরা ফিরে যাও। কাল বা পরশু আমি র্যাঞ্চে ফিরব। হাই তুলল সে। আমাদের সবারই এখন ঘুমানো দরকার। কাল সকালে রওনা হলেই চলবে।
ভোর হতেই ওরা রওনা হয়ে গেল। রনি একা পুব দিকে এগোল। সতর্ক ভাবে এগোচ্ছে সে। কারণ সামনে কোথাও একজন গানম্যান আছে, যার পিস্তলে দক্ষতা ড্যাশারের সমান, কিংবা বেশিও হতে পারে।
কিছুদূর এগিয়ে রনি আউটল লোকটার ট্র্যাক দেখতে পেল। নিশ্চিত লোকটা কোথায় যাচ্ছে তা সে জানে।
আরও এগিয়ে আরেকটা ঘোড়ার ট্রাক ওর চোখে পড়ল। ঘোড়ার খুরে নাল নেই। কিন্তু আরোহী কোন ইণ্ডিয়ান নয়।
তাহলে লোকটা কে? ক্যানিয়নের সেই রহস্যময় ক্যাম্পার? একজন বন্ধু, নাকি শত্রু?
১০. সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে
সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে তাতে অ্যাডাম বিচলিত। এতক্ষণে কিছু খবর আসা উচিত ছিল। কয়েকজন রাইডার, যারা শহরে এসেছে, তারা জানিয়েছে রকিঙ কে বা ত্রী এইচ রেঞ্জে কোন কাউহ্যাণ্ডের ছায়া পর্যন্ত ওরা দেখতে পায়নি।
