ঘটনাটা অদ্ভুত আর অযৌক্তিক। রেঞ্জ-ওয়ারে কেমন সাংঘাতিক দাঙ্গা হয় এটা সে জানে। এই নীরবতা ওকে অস্থির করে তুলেছে। সায়মন মারা যাওয়ার পর, ওর পকেট সম্পূর্ণ খালি পাওয়া গেছে শুনে, তখন থেকেই সে দুশ্চিন্তায় ভুগছে। যদি খুনী ওগুলো নিয়ে থাকে, আর ওর পকেটে তাকে অভিযুক্ত করার মত কাগজ থাকে, সেটা এখন খুনীর হাতে-এবং অ্যাডাম জানে খুনী কে।
শেষে খবর এল চারজন রাইডার রকিঙ কে-তে ফিরেছে। কিন্তু ওদের সাথে ড্যাশার ছিল না। সে যদি আবার হাইডআউটে যায়? কিংবা স্টার সিটির মাইনে? সে কি প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারবে তা কিছুই বলা যায় না। লোকটা যে বোকা নয়, সেটা জেমস হার্টকে যে খুন করা হয়েছে, এটা ধরে ফেলা থেকেই বোঝা যায়।
অ্যাডাম অনুভব করছে ভাগ্য চারপাশ থেকে ওকে যেন ঘিরে ফেলছে। অথচ সবকিছুই এত সুন্দর ভাবে এগোচ্ছিল! অবশ্য আউটফিটের যদি কিছু হয়, ওদের সাথে সমার্সও মারা পড়তে পারে। কিন্তু ওর মন থেকে সংশয় দূর হলো না। লোকটার বেঁচে থাকার ক্ষমতা অসাধারণ। ড্যাকোটা জ্যাকের ভাগ্যে কি ঘটেছিল? নিজের লোকই ওকে গুলি করে মেরে ওর ঘোড়া নিয়ে পালিয়েছিল। জেরি সমার্স নিঃসন্দেহে ভয়ানক।
জন মার্সার বারে অ্যাডামকে পার হওয়ার সময়ে বুড়ো আঙুল ঝাঁকিয়ে হ্যারিংটনকে দেখাল। ও তোমার সাথে কথা বলতে চায়।
অ্যাডাম যখন ওর পাশে এসে দাঁড়াল হ্যারিংটন তখন হাসছে। রুমাল দিয়ে ঘাম মুছল অ্যাডাম। গরম, বলল সে।
হ্যাঁ। বিল হ্যারিংটনের উফুল্ল ভাব। এবং আরও গরম হবে। ওরা হেনরি আর ওয়াটসনকে পেয়েছে–দুজনেই মৃত। মনে হয় ওরা দুজন নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করে মরেছে।
আমার ধারণা ছিল ওরা একসাথেই কাজ করত।
হয়তো। কিন্তু আজকাল মানুষ যে কে কোনদিকে যাবে তা বলা মুশকিল।
কর্ন প্যাচে আর কেউ আছে?
একেবারে খালি।
জনি হিউবার্ট যদি মারা গিয়ে থাকে, তাহলে ফাইট হয়তো এখানেই শেষ।
হঠাৎ ভীষণ ক্লান্ত আর ভীত বোধ করছে অ্যাডাম। ওর সব প্ল্যান ব্যর্থ হয়ে গেল–সম্পূর্ণ ব্যর্থ?
সোনা নিয়ে আরেক দুশ্চিন্তা। ওগুলো স্টার সিটির মাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রেডও নেই যে ওগুলো পাহারা দেবে। বোকার মত জের সাথে ওকে থ্রী এইচে যোগ দেয়ার অনুমতি দিয়েছে সে। ভেবেছিল ওখানে সে সমার্সের ওপর নজর রাখতে পারবে। কিন্তু বিগ গানফাইটার নিজের ইচ্ছামত কোনদিকে গেলে ওকে অনুসরণ করার মত যুক্তিসঙ্গত কোন অছিলাই রেডের থাকবে না। অ্যাডাম ভেবেছিল জেরিকে সে বাগে রাখতে পারবে। কিন্তু এখন ভাবতে গিয়ে মনে পড়ছে, লোকটা তার কথা আপাত সম্প্রমের সাথে শুনলেও সবসময়ে নিজের ইচ্ছে মতই চলেছে। অ্যাডাম তার শুকনো ঠোঁট চাটল।
রাতে যে ওর ভাল ঘুম হয়নি, তার চেহারায় এর স্পষ্ট ছাপ পড়েছে। দরজার কাছে এগিয়ে লিভারি আস্তাবলের দিকে তাকাল সে। শহরে কেউ এলে ওখানেই প্রথম থামে।
কোন খবর না পেলে আমি শান্তি পাচ্ছি না, রাগের সাথে বলল সে। এই নীরবতা আমাকে টেনশনের মধ্যে ফেলে রেখেছে।
চিন্তাযুক্ত ভাবে ওর দিকে চাইল বিল। এর ভিতর তোমার স্বার্থটা কোথায়? তুমি হিউবার্টদের সাথে নেই, এবং আর যাদের ক্ষতি হতে পারে তারা হচ্ছে রাসলার। যদি না, সে সাবধানে যোগ করল, যদি না সেটা স্টেজ ডাকাতি সম্পর্কিত হয়।
তুমি কি ইঙ্গিত করছ ওদের সাথে আমার সম্পর্ক আছে?
তুমি? নিরীহ সুরে প্রশ্ন করল সে। এমন কথা কে ভাবতে পারবে? একটু থেমে আবার বলল, সমার্স? এখন সেটা সম্পূর্ণ আলাদা কথা। ওর কাছে সব সময়েই টাকা থাকে, কিন্তু কোথা কে সে তা পায়, সেটা আমি কখনও বুঝে পাইনি। একটা চুরুট ধরাল সে। আসি, পরে আবার দেখা হবে, অ্যাডাম।
ওর যাওয়ার পথের দিকে চেয়ে রইল অ্যাডাম, ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বসেছে। ওকে এখন থেকে আরও সাবধান থাকতে হবে।
জন মার্সার ওকে লক্ষ করছিল, গোপনে হাসল সে। অ্যাডাম যদি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, তাতে ক্ষতির চেয়ে তার লাভই হবে বেশি। রনি ড্যাশার আসার পর থেকেই, নিজে নগণ্য খেলোয়াড় বলে জন মনেমনে ছোট বলে তাকে কেউ খেয়াল করবে না, এবং সে সাধারণত আড়ালেই থাকে। এটাই ওর পছন্দ। নগণ্য হয়েও বেঁচে থাকাটা ওর কাছে অনেক বেশি কাম্য।
জনি হিউবার্ট শেষ পর্যন্ত একটা ঘোড়া ধরতে সক্ষম হলো। জোরে ঘোড়া ছুটিয়ে থ্রী এইচে পৌঁছে খালি করাল আর নীরবতাই কেবল দেখতে পেল। র্যাঞ্চে কোন খাবার বা গোলাগুলি নেই। তার ভাই বা লোকজনের কোন চিহ্নও নেই। দুশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে দূরবীন নিয়ে কাছেই একটা পাহাড়ের মাথায় উঠে চারপাশ খুঁটিয়ে দেখল। প্রথমে কিছুই দেখতে পায়নি, তারপর দেখল একটা সরু কালো রেখা যেন নড়ছে। হয়তো একটা গরুর দল-ওয়াটারহোলের দিকে যাচ্ছে।
চেষ্টা করেও ওটা কি বা কে বুঝতে পারল না সে। আসলে, ওরা তারই লোকজন। গরমে আর পিপাসায় ওদের ঠোঁট ফেটে গেছে। পুরু ধুলোয় ঢাকা সারা দেহ-মেজাজ চড়া।
দ্রুত চিন্তা করছে জনি। একটা ঘোড়া ওর এখন সব থেকে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু র্যাঞ্চে কোন ঘোড়া নেই। ম্যাণ্ডালেই সবচেয়ে কাছে যেখানে ঘোড়া পাওয়া যাবে। সে জানে না যে ওগুলোকেও তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যে মাসট্যাঙটার পিঠে চড়ে সে র্যাঞ্চে ফিরেছে, সেই ক্লান্ত ঘোড়াটার পিঠেই আবার চাপল জনি। হঠাৎ তার মনে পড়ল ম্যানডালের থেকে রকিঙ কে অনেক কাছে। রাইডাররাও সব বাইরে থাকবে।
