কর্ন প্যাচের ফাইটের পর রাতে জেরি শহরে এসেছিল। অল্প সময়ের জন্যে সে পিছনের গলির দরজা দিয়ে অ্যাডামের অফিসে ঢুকেছিল। ওই দরজাটার ওপর নজর রেখেছিল হার্ট। মুহূর্তে সে বুঝে নিল অ্যাডাম একজন পলিটিশিয়ান এবং প্রথম শ্রেণীর একজন জোচ্চোর। সমার্স শহর ছেড়ে রওনা হলে হার্ট ওকে অনুসরণ করেছিল। ট্রেইলটা পোকার গ্যাপের।
অন্ধকারে এলাকাটা শত্রুর আভাসে যেন জীবন্ত। জনি হিউবার্ট কর্ন প্যাচের রান্নাঘরে খাবার খাচ্ছে। একই সময়ে পোকার গ্যাপ ঝর্নার ধারে ক্যাম্প করল হার্ট। ওকে দেখেই থ্রী এইচের লোকজন ওকে ড্যাশার মনে করেছিল। রনি চারজন রাইডার সহ উত্তরপশ্চিম দিক থেকে এগোচ্ছে। থ্রী এইচের লোকজন যখন অপেক্ষা করছে, জেরি সমার্স ডাকিকে বিড়বিড় করে কিছু বলে ঘোড়া নিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমে এগোল।
জেরি সমার্সের পশুর মতই আবহাওয়ার পরিবর্তন টের পাওয়ার শক্তি আছে। পারিপার্শ্বিক মানুষের মনোভাবও তাই জানতে পারে। সে বুঝতে পারছে রনি মারা গেলেও এই এলাকাটা অনেকদিন বিপজ্জনক থাকবে।
ডাকিকে সে পছন্দ করে ওর সাহসিকতার জন্যে। নিজে সে কোন নীতি বা বিবেকহীন মানুষ। একটা জিনিসই এখন চায় সে-প্রথমে সে রকিঙ কে-ও চেয়েছিল কিন্তু এখন সে সোনা ছাড়া আর কিছুই চায় না। এবং সবটা সে একাই নিতে চায়। এটাই স্বাভাবিক যে রনির চেয়ে অ্যাডামকে সামলানো ওর পক্ষে কঠিন হবে, এটা সে বুঝতে পারছে।
একবার থেমে সে পিছন দিকে চাইল। ওকে কেউ অনুসরণ করছে। হিউবার্টরা রনিকে শেষ করতে চাইছে। হয়তো পারবে। কিন্তু ওর কাছে এর বিশেষ কোন দাম নেই। সোনা পাচার করার প্ল্যান ওকে আপাতত বাদ দিতে হবে। ওকে এখন হাইডআউটে গিয়ে দামী যা কিছু আছে তা নিয়ে আসতে হবে। তারপর স্টার সিটিতে গিয়ে সোনা উদ্ধার করতে হবে। কি যে করবে এটা এখনও স্থির করে উঠতে পারছে না সে। আবার নিজের পথ ধরল সে। হিউবার্ট যে রনিকে শেষ করে ফেলতে চাচ্ছে, এতে আসলে তার কিছু আসে যায় না। এই যুদ্ধে যদি হিউবার্টরা জেতে তবে হয়তো সে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু সে কোনরকম অযৌক্তিক হত্যায় অংশ নিতে চায় না। বিশেষ করে রনির মত লোকের। কারণ এতে বার ২০-র সব নোক ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে-বার ২০-র লোকজন সম্পর্কে সে যা শুনেছে, তাতে ওর বাঁচার কোন সম্ভাবনাই থাকবে না। কঠিন লোক ওরা।
থ্রী এইচ থেকে তাজা ঘোড়া ধার নিয়ে রনি ড্যাশার তার লোকজনকে নিয়ে এগিয়ে চলল। উপরে এক ফালি আকাশে কিছু তারা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ওদের সামনে আর পিছনে সবই অন্ধকার। ঘোড়ার খুরের শব্দ, জিনের চামড়া ককানো, আর মাঝে মাঝে ঘোড়ার নাক ঝাড়া ছাড়া আর কোন শব্দ নেই।
রেঞ্জ যুদ্ধে অভিজ্ঞ রনি এত বোকা নয় যে সরাসরি পোকার গ্যাপে ঢুকবে। ঘুরে রকি ক্যানিয়ন পার হয়ে সে গ্যাপে ঢোকার প্ল্যান নিয়েছে। এদিক দিয়ে এলে কেউ ওদের অবস্থান টেরই পাবে না। গ্যাপের কোন প্রহরী ওদিকে খেয়াল করবে না। ঘণ্টাখানেক পরে সে তার নিজস্ব ক্যাম্প করল।
টেরি এগিয়ে গিয়ে এলাকাটা ঘুরে দেখে এল। ফিরে সে রিপোর্ট করল, কাছাকাছি আরও দুটো ক্যাম্প রয়েছে। আমরা উপর থেকে ওদের দিকে নজর রাতে পারি। একটা ক্যাম্প গ্যাপ স্প্রিংসের পাশে, কিন্তু ওই লোকটা আরও একটা আগুন জ্বেলেছে ওর থেকে প্রায় তিরিশ ফুট দূরে।
রনি নিজেই ওটা চেক করে দেখতে গেল। টেরি যা রিপোর্ট করেছে, ঠিক তাই। লোকটা খাবার তৈরির জন্যে কিছুটা দূরে আরও একটা ছোট আশুন জ্বেলেছে। প্রথমটা বড়। কিন্তু ক্যাম্পফায়ারের আগুনে সে নিজেকে দেখা দিতে চায় না। একই সময়ে সে বড় আগুনটার ওপরও নজর রাখতে পারবে।
ওহ, অবাক কাণ্ড, বলল টেরি। সাবধান লোক। কিন্তু লোকটা কে?
অন্য ক্যাম্পটা একটু পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
আগুনটা একটু ছোট। আগুনের আলোয় কয়েকজনের ছায়া দেখা যাচ্ছে। ওই যে, ওরা সবাই রয়েছে! ফিসফিস করে বলল হ্যারি। ওখানে নয় থেকে দশজন লোক আছে!
পরিস্থিতিটা বিচার করে দেখল রনি। লোকগুলো সতর্কতার সাথে ক্যাম্প-সাইট বেছে নিয়েছে। সম্ভবত একাকী লোকটা ওদের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত নয়। ওই লোকগুলোও জানে না আশপাশে আর কারও ক্যাম্প রয়েছে। এই অন্ধকারে কোন ফাইটিং শুরু করলে, সেটা মিত্র আর শত্রু, দুই পক্ষেরই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রনি এটা চায় না।
রিজের থেকে একটু নেমে পাথরের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে একটা সিগারেট ধরাল ড্যাশার। নিচে ওখানে রয়েছে একগাদা ঝামেলা, বলল সে। এখন কথা হচ্ছে, নিজেরা গুলি না খেয়ে পরিস্থিতিটা কিভাবে সামলানো যায়।
শর্টি মাইক বলল, দু’হাতে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ওদের আক্রমণ করি। ওরা এমন হকচকিয়ে যাবে যে একটা গুলিও ছোড়ার সুযোগ পাবে না।
হয়তো, স্বীকার করল রনি, কিন্তু আমার মাথায় আরেকটা প্ল্যান এসেছে। যদিও সেটা তেমন কিছু নয়, তবু এতে হয়তো কাজ হবে।
নিচু স্বরে প্ল্যানটার ব্যাখ্যা দিল সে। শুনতে শুনতে লোকগুলো খিকখিক করে হাসতে শুরু করল। ওদের চারজনই ফাইট-প্রিয় লোক। রকিঙ K-এর জন্যে শেষ বিন্দু রক্ত দিতেও ওরা কেউ দ্বিধা করবে না। তবে প্রত্যেক কাউহ্যাণ্ডেরই প্র্যাকটিক্যাল জোকের একটা রুক্ষ সেন্স অব হিউমার থাকে। একে ঠিক হাস্যরসের পর্যায়ে ফেলা না গেলেও এটা যে তাদের শত্রুর ওপর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তা ঠিক।
