ইশ! গেল, বলল কিড। আমার নতুন শার্টটা ওখানে ছিল।
বাজে কথা, হ্যারি বলল। তোমার বাড়তি শার্ট কোনদিনই ছিল
না।
কী, প্রতিবাদ জানাল কিড। নিশ্চয় ছিল! তুমি কি জানবে? তুমি তো জীবনে কোনদিন বুটের সাথে মোজাই পরোনি।
ওটাই বুট পরার সবথেকে ভাল উপায়, উৎফুল্ল স্বরে বলল হ্যারি।
অনেক ঠাণ্ডা।
হ্যাঁ, তোমার মত কর্নওয়ালা মানুষের জন্যে তাই।
ওদের কথা শুনে সশব্দে হাসল রনি। এটা ওকে পুরানো বার ২০-র কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। রেড কনরস, জনি নেলসন, আর বাকি সবাই।
দিন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। বাতাসটাতে এখন আর তাপ নেই। ঠাণ্ডা। উঁচু এলাকায় বাতাসও পাতলা। দিনের শেষে খুব দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। আকাশে মেঘও নেই।
রাইড করতে করতে রনি ভাবছে ঘোড়াগুলোকে তাড়িয়ে দেয়ায় একটা দুটো ঘোড়া ধরতে পারলেও বেশিরভাগ লোককেই এখন পায়ে হেঁটে ফিরতে হবে।
বিশ্রাম পেলে ওদের ঘোড়াগুলো একটু তাজা হবে বটে, কিন্তু কঠিন রাইডিঙ করতে পারবে না। ওরা জানে না রনি কি প্ল্যান করেছে।
জনি কি করতে চাইছে সে সম্পর্কে রনির একটা আন্দাজ আছে।
রনি যে বার ২০-র দু’জন রাইডারকে আসতে বলেছে এটা ওরা জানে না। ওদের দ্রুত শেষ করে ফেলতে চায় জনি। একএক করে, দু’তিনজন করে। ওদের শেষ করে ফেলবে।
দিনটা প্রায় কেটে গেছে। বাতাসে আর অপ নেই। ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। মরুভূমি এলাকায় এত উঁচুতে খুব দ্রুত সব ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
সবদিক চিন্তা করে রনি মোটামুটি আঁচ করতে পারছে জনির মতলবটা কি। কিন্তু সে জানে না সব কর্মচারীকে সে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে। লাইন কেবিনে কেউ নেই। সম্পষ্টতই কিছু গলদ হয়েছে। ওর আঁচ যদি ঠিক হয় তবে ওরা উইলো স্ট্রিংস থেকে হয় উত্তরে ম্যাণ্ডালে কিংবা দক্ষিণে পোকার গ্যাপে গেছে। ওরা যদি ম্যাণ্ডালেতে যায় ওখানে ওরা কোন তাজা ঘোড়া পাবে না। র্যাবিষ্ট হোলেও কোন ঘোড়া নেই।
ঠিক আঁচ করতে পেরেছে কিনা তা রনি নিজেও জানে না। এটাও সে জানে না ওদের প্ল্যান মত হেনরির সাথে ওর গ্যাপে যাওয়ার কথা। এটাই যে জনি হিউবার্টের প্ল্যান, এটা সে তার রাইডারদের সাথে আগেই আলাপ করেছে। জনি পুনরায় দেখা না দিলে যে বিপর্যয় ঘটতে পারে এটা সে নিজেই জানে না।
থ্রী এইচ রাইডাররা বিকেলের দিকে ক্লান্ত ঘোড়ার পিঠে পোকার গ্যাপে পৌঁছল। ঘোড়াগুলোকে একটা কানা ক্যানিয়নে রেখে আগুন জ্বেলে সাপার তৈরি করল। পাহাড়ের মাথা থেকে হ্যানকিনস রনি ড্যাশারের অপেক্ষায় ট্রেইলের ওপর নজর রেখেছে। পোকার গ্যাপের দিকে রনির দেখা দেয়ার সময় হয়ে এসেছে। একজন একাকী রাইডারকে আসতে দেখল হ্যানকিনস।
লোকটাকে চিনতে পারল না সে। কারণ এখনও অনেক দূরে রয়েছে সে। ওর পৌঁছতে রাত হয়ে যাবে। তাই পাহাড় থেকে নেমে সিলভার হিউবার্ট আর জেরি সমার্সকে সে কথাটা জানাল। আঁচ করছে ওই লোকটা হয়তো ভ্যাশার হতে পারে।
মনে হয় লোকটা ঝর্নার ধারে ক্যাম্প করবে। মন্তব্য করল সিলভার। এই অন্ধকারে সে এদিকে আসবে নাএলে মারা পড়বে।
ওর সাথে হেনরির থাকার কথা ছিল না? প্রতিবাদ করল ট্রয়।
হয়তো এমন কিছু ঘটেছে যাতে প্ল্যানটা বদলেছে। কিন্তু যাই হোক, সে আসছে, এটাই বড় কথা। চুপচাপ থাকো, ওকে ক্যাম্প করার সুযোগ দাও। ঝর্নাটা এখান থেকে কত দূরে?
আধ মাইল মত হবে, বলডি বলল। এর বেশি হবে না।
উইলোতে যাদের থাকার কথা ছিল তাদের কি হলো? জানতে চাইল ডাকি। আমরা দেরিতে রওনা হয়েছি, মনে হচ্ছে ড্যাশারের কোন বিশেষ মতলব আছে।
পিছনে হেলান দিয়ে একটা সিগারেট ধরাল জেরি। চুপ করো, ডাকি, তুমি বেশি চিন্তা করো। আমরা সবাই এখানে আছি না? একা ও কি করতে পারবে?
জনি এখানে নেই, বলল বলডি। এটা আমার ঠিক পছন্দ হচ্ছে না।
ওহ, এতক্ষণে সে হয়তো বাড়িতে, বলল সিলভার। সে জানবে। আমরা ট্রেইলে আছি। দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।
জনি হিউবার্ট তখন কর্ন প্যাচে আগুন জ্বালাতে ব্যস্ত। গরমে ক্লান্ত আর ধুলোময় অবস্থায়, ফোস্কা পায়ে সে পাহাড় থেকে কর্ন প্যাচে ফিরেছে। ঘোড়াটাকে ধরতে পারেনি।
সেলুনে দু’জন মরে পড়ে আছে। ওদের এড়িয়ে তাড়াতাড়ি নিজের জন্যে কিছু খাবার তৈরির দিকে মন দিল সে।
এর মধ্যে ফিনলে হার্টও বিশেষ একটা উদ্দেশ্য নিয়ে পৌঁছল পোকার গ্যাপে। জনি যা বুঝেছে, সেও সেই একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। ওই দিনই সে শুনেছে স্টার সিটির কাছে নাকি জেরি সমার্স একটা মাইনে অনেক সোনা পেয়েছে। চোরাই সোনা পাচার করতে হলে আরেকটা সোনার খনি আবিষ্কার করার চেয়ে ভাল উপায় আর নেই।
সোনা গলিয়ে নতুন বার তৈরি করলে সেটা চেনার কোন উপায় থাকবে না। এই উপায়ে সহজেই নতুন খনির সোনা বলে সোনা পাচার করা যাবে। খনির কথাটা বিল ওয়াটসনই বেশি প্রচার করেছে। সে বুঝেছে সারাদিন আলস্য করে শহরে কাটিয়ে এখন হিউবার্টদের সাথে যোগ দিয়ে সোনা খুঁজে পাওয়ার সময় সে পায়নি? ওর জানা মতে, জেরি স্টার সিটির ধারে কাছেও কখনও যায়নি।
রনির মত সেও বুঝেছে এটা সোনা পাচার করারই একটা ফন্দি। সোনার বার এত সহজে সরানো অসম্ভব। শহরে গুজবটা প্রধানত অ্যাডামই ছড়িয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে যদিও মনে হয় অ্যাডাম আর জেরি সমার্সের সাথে কোন রকম সম্পর্কই নেই, কিন্তু ওদের মধ্যে যে জোরাল একটা গোপন আঁতাত রয়েছে, এবিষয়ে হার্ট নিশ্চিত। এবং খ্রী এইচ আউটফিটটা ওদের হাতের পুতুল। জনি হিউবার্ট একজন ভীষণ বদরাগী মানুষ। ভাবে মনে হয় জেরি সমার্সের তোয়াক্কা সে করে না। কিন্তু সে বুঝতে পারছে না সহজ হাসি আর সুদর্শন চেহারার আড়ালে অত্যন্ত চতুর একটা মগজ কাজ করছে।
