মুখ বাঁকাল সে। একটা লোক আছে–সে বলেছিল ওর নাম লারামি। মাঝেমধ্যে ওরা কথা বলত, কিন্তু আড়ালে।
লারামি!
ওই মুহূর্তে রজার ঘোড়া ছুটিয়ে রনির কাছে এসে থামল। ওরা আসছে! বলল সে। আরোহীরা থ্রী এইচ ছেড়ে এগিয়ে দক্ষিণ দিকে আর একটা দলের সাথে যোগ দিয়েছে। ওরা আমাদের লাইন কেবিন উইলো স্প্রিংসের দিকে যাচ্ছে।
হেনরি কোথায়?
রজারকে একটু উদ্বিগ্ন মনে হলো। কর্ন প্যাঁচ থেকে একটা ধোয়ার সঙ্কেত পেয়ে সে ওখানেই গেছে। কিন্তু সেটাও অনেকক্ষণ আগে।
কর্ন প্যাচের থেকে কোন সাড়া দেখা যাচ্ছে?
না, কিন্তু ওদের সাথে হ্যানকিনসের রোন ঘোড়াটাকে আমি চিনতে পেরেছি।
ঠিক আছে, রজার; তুমি এখানে বেন কেসি আর চায়নার সাথে থাকো। আমরা থ্রী এইচআর কর্ন প্যাঁচ হয়ে আসছি। ওদিকে কিছু ঘটলে সেটা আমাদের জানা দরকার। এদিকে যদি আক্রমণ আসে, তবে রিজের ওপর ধোয়ার সঙ্কেত দিও আমরা দেখতে পাব।
বেসিন ধরে এগোল রনি। ওর সাথে আরও চারজন রাইডার। রেঞ্জ ওয়ার পছন্দ করে না রনি। কিন্তু এটা ওকে লড়ে জিততেই হবে। আসলে, বহু দক্ষিণে কর্ন প্যাচের বিরুদ্ধে একটা বিরাট আঘাত আগেই হানা হয়েছে।
হেনরি মরেছে। কিন্তু ওর মৃত্যু বৃথা যায়নি। নিজের সাথে ওয়াটসনকেও সে নিয়ে গেছে। শেষ শক্তি দিয়ে রাইফেলটা কাঁধে তুলে গুলি করেছিল সে। কাউকে মারার জন্যে নয়-কেবল একটা ওয়ারনিং শট। কিন্তু সেটাই থ্রী এইচকে ঠেকাল।
জনি হিউবার্ট ওদের বস্। সিলভারও ওকে কখনও রাগাতে সাহস পায়নি। জনি ওদের লীডার, কিন্তু সে ওখানে উপস্থিত নেই। দ্রুত আক্রমণকারী দলটা ওর আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু সে কর্ন প্যাঁচ থেকে ফেরেনি। হেনরির গুলিতে সে আহত হয়নি, তবে ওর ঘোড়াটা মারা পড়েছে। হেনরি যে বাফেলো গানটার পাশে মরে পড়ে আছে, এটা সে বুঝতে পারেনি। জনি সাবধানী লোক। নিজের ঘোড়াটা মারা পড়ার তিন ঘণ্টা পরে সে হেনরির ঘোড়াটা নিয়েই ফেরার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু বিগত রাসলারের মাসট্যাঙটা বুনো। জনিকে গুঁড়ি মেরে ওর দিকে এগোতে দেখে ভয় পেয়ে সে পালিয়ে গেল। ওকে ধরার জন্যে ওর পিছনে ছুটল জনি।
সতর্কতার সাথে তৈরি করা আক্রমণের প্ল্যানটা ওর অপেক্ষায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুপুরের পর লাইন কেবিনের লোক দু’জনকে মারার উদ্দেশ্যে ওরা রওনা হলো। কিন্তু ওরা যে ভোর বেলাতেই র্যাঞ্চে ফিরে গেছে এটা ওদের জানা ছিল না। সিলভাবের নেতৃত্বে ওরা রাইড করছে। এখন।
একটা সরু ড্র ধরে রনির পিছুপিছু মরুভূমিতে বেরিয়ে এল ওরা। কিছু ট্র্যাক দেখতে পেয়ে লাগাম টেনে ঘোড়া থামাল ড্যাশার। দু’জন লোক কিছু ঘোড়াকে লীড করে উত্তর দিকে নিয়ে গেছে। এর মানে কি হতে পারে?
ঘোড়াগুলোকে লীড করে নেয়া হয়েছে এ বিষয়ে তুমি কি নিশ্চিত? প্রশ্ন করল হ্যারি। সম্ভবত ওরা উইলো স্প্রিংসের দিকে গেছে।
দু’জন আরোহী ওই ঘোড়াগুলোকে হটিয়ে নিয়ে গেছে, অনেক দিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলল রনি।
ওরা পুব দিকে এগোল। আবার থামল সে। আরেকটা দল, একজন রাইডার। ওর চোখের পাতা পড়ল। কপালের ঘাম বেয়ে চোখে পড়েছে। হ্যাটটা ঠেলে একটু পিছনে সরিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে রেঞ্জটা পুরো খুঁটিয়ে দেখল। নীল হৃদটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ওটা মরীচিকা হতে পারে–কিন্তু ট্রাকগুলো তা নয়।
ডোনাটের সাথে ডলার বাজি রেখে বলতে পারি ওরা, ফ্রেশ ঘোড়া নিয়ে গেছে। ওরা আমাদের শেষ করে দূরে কোথাও যেতে চাচ্ছে।
মনে হচ্ছে এটা হিউবার্টের প্ল্যান, মন্তব্য করল টেরি।
রনি ড্যাশার পুব দিকে ফিরল। থ্রী এইচ মরুভূমির মধ্যে। করালের গেট খুলে সবগুলো ঘোড়াকে তাড়িয়ে দিল সে। টেরি, তুমি খেয়াল রেখো। কেউ আসলে আমাদের সাবধান করবে।
টেরি তীক্ষ্ণ চোখে চারপাশে খেয়াল রেখেছে। ওর চোখ এড়িয়ে কারও আসার উপায় নেই।
হ্যারি আর শর্টি মাইক, তোমরা আমার সাথে এসো। আমরা ওদের সব খাবার এমন জায়গায় লুকিয়ে রাখব যে ওরা কেউ তা খুঁজে পাবে না। গোলাগুলিও। আমরা এদের এমন অসহায় অবস্থায় ফেলব যে ওরা বুঝতেই পারবে না আঘাতটা কে হেনেছে।
খিলখিল করে হাসতে হাসতে হ্যারি আর শর্টি ওদের খাবার রাখার তাক আর স্টোররূম রেইড করল। টিনের খাবার সহ সব খাবার আর কার্তুজ ওরা পাহাড়ের একটা গর্তে লুকিয়ে রাখল। তারপর ঘোড়ার পিঠে উঠে আবার উত্তর দিকে রওনা হলো ওরা।
এক খসড়া প্ল্যান করে ফেলেছে রনি। ঘোড়াগুলোকে উত্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সম্ভবত ম্যাণ্ডালি স্প্রিংসের দিকে।
দিন শেষ হয়ে আসছে। বাতাসে এখন আর তাপ নেই। ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করেছে। উঁচু জায়গায় বাতাসটা পাতলা। আকাশে মেঘ নেই। খুব দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে আসতে পারে।
রাইড করতে-করতে চিন্তা করছে রনি। ঘোড়াগুলোকে তাড়িয়ে দেয়ায় থ্রী এইচের লোকজনকে এখন পায়ে হেঁটেই চলতে হবে। একটা দুটো ঘোড়া যদি ওরা ধরতেও পারে, কঠিন রাইডিঙের জন্যে ওরা উপযুক্ত থাকবে না।
জনি হিউবার্ট যে কি প্ল্যান করেছে তার একটা আঁচ করতে পারছে রনি। বিকেলের আগেই ঘোড়ার আরও দুটো দল দেখতে পেয়ে ওদের পাহাড়ের দিকে তাড়িয়ে দিল।
ধোয়া! হঠাৎ বলে উঠল রজার। ওটা কি আমাদের র্যাঞ্চের দিক থেকে উঠছে?
তীক্ষ্ণ নজরে কিছুক্ষণ চেয়ে দেখে রনি বলল, মনে হচ্ছে ওরা আমাদের লাইন কেবিনটা জ্বালিয়ে দিয়েছে।
