কোনদিন এমন একটা লোকের সাথে রাইড করার সুযোগ আমি পাইনি। এখন দেখছি এটা আমারস্তাবই লাগছে। খুব ভাল। তুমি সব সময়েই কি-র্যাট ছিলে, বিল, আর এই জনি হচ্ছে দুই পয়সার মানুষ, যে তার নিজের লড়াইয়ের জন্যে তোক ভাড়া করে। আমার মনে হয় না তোমাদের কারও মধ্যে একটুও মনুষ্যত্ব আছে।
হেনরি ধারণা করেছিল এই কথার পর ওরা পিস্তল ড্র করবে। কিন্তু ওরা কিছুই করল না। একটু রাগ তাও না। পুরো এক মিনিট ওরা চুপচাপ বসে রইল। তারপর হিউবার্ট উঠে দাঁড়াল। বোঝা যাচ্ছে আমাদের প্রশ্নের একটা জবাব পাওয়া গেল, বলল সে। তুমি কিভাবে এর নিষ্পত্তি করো সেটা আমাকে জানিও। দরজার দিকে এগোল সে। হেনরি মনে করেছিল লোকটা চলেই যাচ্ছে। ওর চোখ জনিকে অনুসরণ করছে। হঠাৎ কি বে বিলের দিকে ফিরল সে। দেখল ওর ডবল-ব্যারেল শটগানটা খেচে আভা বেরোল। আঘাতটা হেনরির পেটের মাঝখানে লাগল। পড়ে যাচ্ছে সে।
পড়ার মধ্যেই পিস্তল বের করে পরপর তিনটে গুলি করল। কিন্তু ওগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া গুলি নয়। অবশ্য তা হতেও পারে না। প্রথমটা ওয়াটসনের পিছনে একটা বোতল ভাঙল। দ্বিতীয়টা বারের কোনায় লাগল, তৃতীয়টা ওর গলায় বিঁধে মেরুদণ্ডের কিছুটা উড়িয়ে নিয়ে গেল।
জনির কপালে চিকন ঘাম দেখা দিয়েছে। ঠোঁট দুটো পরস্পারের চাপে সাদা হয়ে গেছে। ওয়াটসন বারের পিছনে লম্বা হয়ে পড়েছে। সে যে মারা গেছে তাতে সন্দেহ নেই। কাঠের গুঁড়ো ছড়ানো মেঝেতে চিত হয়ে পড়ে আছে হেনরি। দেহটা রক্তে লাল।
বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল জনি। লোকটা সাহসী বটে–কিন্তু চোখের সামনে দু’দুটো লোককে মুহূর্তে মরতে দেখে ওর পেটটা গুলাচ্ছে। নিজের ঘোড়ার পিঠে চেপে ট্রেইল ধরে রওনা হলো সে।
হেনরি মরেনি, কিন্তু মারা যাচ্ছে। ধীরে, অনেক ব্যথা সহ্য করে নিজেকে একটু-একটু করে টেনে বারের পিছনে রাইফেলের র্যাকটার সামনে নিয়ে এল হেনরি। কঁকি দিয়ে শার্পস .৫০ রাইফেলটা তুলে দিল।
জনিকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। তিনশো গজ দূরে ঘোড়াটাকে হটিয়ে নিয়ে চলেছে।
রাইফেলটা ওর দিকে তাক করল হেনরি। কেমন যেন এলোমেলো লাগছে। ঠিক লক্ষ্য করতে পারছে না। লক্ষ্যটা দুলছে, নাচছে, তারপর স্থির হলো। ট্রিগার টিপল সে।
বাফেলো গানটা ওর হাতে লাফিয়ে উঠল। কাঁধে প্রচণ্ড ধাক্কা দিল। তিনশো গজ দূরে জনি অনুভব করল তার ঘোড়াটা আড়ষ্ট হলো। তারপর পড়ে গেল। লাফিয়ে নেমে ছুটে পাথরের আড়ালে আশ্রয় নিল হিউবার্ট।
সেলুনের ভিতর রাইফেলটা ওর হাত থেকে খসে পড়ে গেল। আর অনুভব করার শক্তি আর নেই–মেঝের ওপর লুটিয়ে পড়ল সে।
রকিঙ কে-তে ঘোড়ায় জিন চাপাচ্ছে রনি। অপেক্ষা করছে লিসা। চেহারা দেখে মনে হচ্ছে সারারাত মেয়েটা ঘুমায়নি। হঠাৎ সে প্রশ্ন করল, রনি, এখন কি ঘটবে?
গভীর ভাবেই ওর দিকে তাকাল ড্যাশার। আমি ঠিক বলতে পারছি, লিসা। তবে মনে হচ্ছে যুদ্ধ আসন্ন। হিউবার্টরা এখন আর থামবে না। কিডকে ওদের হাতে তুলে দিলেও হয়তো ওরা থামবে না।
ঠিকই বলেছ। রক্ত ক্ষয় ছাড়া এখন আর কোন উপায় নেই।
হঠাৎ এগিয়ে এসে ওর হাত চেপে ধরল লিসা। তুমি-তুমি কেন জেরি সমার্সকে কাজে নিচ্ছ না?
সে আগেই বিপক্ষ দলে যোগ দিয়েছে।
বিশ্বাস করি না।
বিশ্বাস করো আর না করো, কথাটা সত্যি! সে জনির পক্ষ নিয়ে। কাজ করেছে। আমাদের বলার কিছুই নেই।
সে-সেকি সত্যিই ওদের দলে যোগ দিয়েছে?
হ্যাঁ, কথাটা তোমার কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকলেও সত্যি।
ওর ঠোঁট জোড়া শক্ত হলো। ভিতরটা একেবারে খালি বোধ হচ্ছে। তবু সে মনে মনে জানত, হয়তো এমনই ঘটবে। আগে কখনও স্বীকার করেনি। নাচের সঙ্গী হিসেবে সে সবার থেকে ভাল। এটা স্বীকার না করে উপায় নেই।
রনি, বলল লিসা, ওর গলার স্বরটা সিরিয়াস। জেরি সমার্স যদি হিউবার্টদের সাথে যোগ দিয়ে থাকে, তবে সে আর আমার বন্ধু নয়। আমি-আমি এখন বুঝতে পারছি, লোকটা যে বিশ্বাসযোগ্য নয় এটা আমি আগে থেকেই জানন।
নীরবে একটা সিগারেট রোল করছে রনি। অনেক সমস্যার সমাধানই সে পেয়েছে, কিন্তু প্রমাণ নেই। নিশ্চিত ভাবেই সে জানে জেমস হার্টকে কে মেরেছে। সে জানে ডাকাতিগুলো কে করাচ্ছে। ওরা দু’জনেই ঠাণ্ডা মাথার মানুষ-ওদের কাছে মানুষের জীবনের কোন দাম নেই। জেরিকে লিসা ভাল করে চেনে, হয়তো লোকটা এমন কিছু মন্তব্য করেছে যেটা জানতে পারলে অনেক সুবিধা হত।
কিছুক্ষণ ইতস্তত করে লিসা বলল, এই এলাকাটা সে ভাল করে চেনে–খুব ভাল। আমি যখন ওকে প্রথম দেখি তখনই সে চিনত। অথচ মাত্র শহরে এসেছে সে।
ডাকি একবার বলেছিল জেরি প্রভাবশালী লোক ছিল। ও যখন কথা বলত সবাই সন্ত্রস্ত থাকত। কর্ন প্যাচের লোক-এমনকি শহরের গণ্যমান্য লোকেরাও।
আগের মন্তব্যে ফিরে গেল রনি। তোমার ধারণা সে এখানে আগেও এসেছে?
লিসার চোখ অলস ভাবে টেরি, কিড লেকার, আর মিলিগানের ওপর ঘুরে আসল। বাঙ্ক-হাউসের আশেপাশেই ঘঘারাফেরা করছে ওরা। শর্টি মাইক রিজের মাথায় শুয়ে দূরবীন দিয়ে রেঞ্জের ওপর কড়া নজর রেখেছে।
লিসা, বলল রনি, একজন, বা বড় জোর দুজন, এইসব ঘটনার পিছনে রয়েছে। আমার ধারণা অ্যাডাম ওদের একজন। হয়তো বিল ওয়াটসন আর একজন। কিন্তু আমার বিশ্বাস ওই লোকটা চুনোপুঁটি। কর্ন প্যাঁচটাকেই সবাই বড় করে দেখছে, কিন্তু আমার বিশ্বাস ওটা একটা ভাঁওতা। জেরি সমার্স হয়তো জানে এর মূলে কে আছে। তোমার যদি এমন কিছু মনে পড়ে যেটা আমাদের সাহায্য করতে পারে, তবে জানিও। জেরি কোন কাজ করে না, অথচ ওর টাকার অভাব নেই–কিভাবে? আমি জানতে চাই কার সাথে ওর যোগাযোগ আছে।
