রজারের সাথে রাইড করছিল হেনরি। স্মোক সিগন্যাল দেখতে পেল ওরা। বিশাল লোকটা জানে ওই সঙ্কেতের প্রকৃত অর্থ। ওকে ওখানে যেতে বলা হচ্ছে। কর্ন প্যাচে এই মুহূর্তে যাওয়ার কোন বাসনা নেই ওর। কি করবে বুঝে পাচ্ছে না সে। শেষে সিদ্ধান্ত নিয়ে বলল, আমি ওখানে যাচ্ছি, রজার। ওরা যা চায় তা আমাকে করতে হবে, কিন্তু রনিকে সাহায্য করবে এমন কিছু তথ্য হয়তো আমি সংগ্রহ করতে পারব।
ওদের থেকে তোমার দূরে থাকাই ভাল, রজার ওকে সাবধান করল। ওই বিল ওয়াটসন লোকটা যে শয়তানের হাড্ডি তা তুমি ভাল করেই জানো।
আমি যে দল বদল করেছি এটা সে আঁচই করতে পারবে না, জোর দিয়ে বলল হেনরি। এই সবকিছুর পিছনে আর কেউ আছে। লোকটা কে জানতে পারলে ভাল হত। ওয়াটসন তারই নির্দেশে কাজ করে। আমার বিশ্বাস স্টেজ ডাকাতির পিছনেও ওই একই লোকের হাত আছে।
সিগারেট মুড়ানোর পর জিভ দিয়ে কাগজের আঠাটা ভিজিয়ে পুরো রেঞ্জার ওপর রজার একবার ভাল করে চোখ বুলিয়ে নিল। হতে পারে, বলল সে। কিন্তু আমি বলব ওই সাপের গর্ত থেকে তোমার দূরে থাকাই ভাল।
হেনরি ঘোড়ার পিঠে কর্ন প্যাচের সেলুনে পৌঁছল। এলাকাটা নীরব। সেলুনটাও খালি। বারের দিকে এগিয়ে গেল সে। ওর দিকে চেয়ে নড করল বিল।
চারদিক একেবারে চুপচাপ দেখাচ্ছে? প্রশ্ন করল হেনরি। লোকজন সব কোথায়?
সব থ্রী এইচে, জবাব দিল বিল। এরকম একটা সুযোগের অপেক্ষাতেই আমরা ছিলাম। রকিঙ কে আর থ্রী এইচের লড়াইয়ে রকিঙ কে ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে-তখন আমরা সহজেই ওদের গরুগুলো সব লুটে নিতে পারব।
থ্রী এইচ হয়তো নাও জিততে পারে।
পাগল হয়েছ? হিউবার্টদের নিজের লোক তো আছেই, সাথে আছে। জেরি সমার্স, ডাকি, ড্রিনান, হ্যানকিন্স, ট্রয়, আর আরও ছয়জন লোক। ওরা একদিনেই সব শেষ করে ফেলবে। ফিরে লড়ার মত একজনকেও জ্যান্ত রাখা হবে না।
এর ভিতর আমার কাজটা কি হবে?
দরজা ঠেলে জনি হিউবার্ট ভিতরে ঢুকল। একটু আড়ষ্ট হলো হেনরি। বুঝতে পারছে এই সবই আগে থেকে প্ল্যান করা।
তুমি ড্যাশারকে আমাদের কাছে পোকার গ্যাপে নিয়ে আসবে। কথাটা জনি হিউবার্ট বলল।
হেনরি জনির দিকে তাকাল। এই–প্রথমবারের মত ওদের গোলামিতে তার মন বিষিয়ে উঠেছে। সব কিছুরই একটা সীমা আছে। কিছু রাসলি করেছে সে, কিছু লোককে হাইজ্যাক করে টাকাও লুট করেছে। কিন্তু সে কখনও একটা সৎ আর নির্ভীক লোককে মৃত্যুর ফাঁদে টেনে নিয়ে যায়নি। হঠাৎ একটা অদ্ভুত অনুভূতি ওকে গ্রাস করল। মনে হচ্ছে দিন ফুরিয়েছে এটাই তার জীবঘ্নে শেষ দিন। অবান্তর হলেও অনুভূতিটাকে সে মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছে না। সিগারেটটা ছুঁড়ে ফেলে আর একটা রোল করল। ড্যাশার, বলল সে, লোকটা নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী চলে। ওকে আমি বা আর কেউ লীড করতে পারবে না।
চেষ্টা করো, দৃঢ়স্বরে বলল ওয়াটসন। ওকে কেবল একবার পোকার গ্যাপে নিয়ে এসো, বাকিটা আমরা সামলাব।
কোন সম্ভাবনা নেই! ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াল হেনরি। ওর ভারি মোটাসোটা আঙুলের হাত দুটো বারের ওপর। শক্ত লোকটার চেহারা এখন আরও কঠিন হয়েছে। ও এত বোকা নয়। ওর চোখ এবার য়াটসনের দিকে ঘুরল। লোকটা পোকার খেলায় তোমাকে হারিয়েছে–যেটা কেউ কোন দিন পারেনি। দু’বার সে হিউবার্টদের মোকাবিলায় ওদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, অথচ দু’বারই ওরা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বাস করো সে এবারও তাই করবে। চাইলেও আমি ওকে ফাঁদে ফেলতে পারব না। এবং আমি সেটা চাইও না!
ওদের মুখের ওপর কথাগুলো বলে দিতে পেরে ওর মন তৃপ্তি আর প্রশান্তিতে ভরে উঠল। দেখল হিউবার্টের চেহারা রাগে লাল হয়ে উঠেছে। ওরাটসনের মুখটা মনে হচ্ছে পাথরে খোদাই করা। বোকামি কছ তোমরা! হেনরির স্বরটা এখন কর্কশ। তোমাদের জেতার কোন সম্ভাবনাই নেই! তোমরা যার বিরুদ্ধে লড়তে যাচ্ছ, সে বুড়ো কেসির থেকেও অনেক কঠিন, আর স্মার্ট!
ওর কথার শেষে কামরায় নীরবতা বিরাজ করছে। বাইরে একটা সিকাডা পাখি গ্রীজউড বনে ডাকছে। একটা রুবল মাছি ভিতরে ঢোকার জন্যে ময়লা জানালাটার কাঁচে বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিগারটা দাঁতের ফাঁকে কামড়ে ধরে জনি বলল, তুমি বলেছিলে এই লোকটাকে বিশ্বাস করা যায়। কিন্তু মনে হচ্ছে ও ড্যাশারের দলেই যোগ দিয়েছে।
কথায় তাই মনে হচ্ছে, স্বীকার করল বিল। বলো, হেনরি, এখন তুমি কোন দলে?
জীবনে অনেক লোকের অনেক আদেশই হেনরিকে পালন করতে হয়েছে। কিছু ভাল, কিছু খারাপ। হঠাৎ সে উপলব্ধি করল, নিকৃষ্ট হয়েই তার সারাটা জীবন কেটেছে। তৃতীয় শ্রেণীর। জানে, কথা বলে সে এর থেকে বেরোতে পারবে। মাফ চেয়ে, ওদের প্ল্যানে সম্মতি জানিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে খবরটা সে রনির কাছে পৌঁছে দিতে পারবে। কিংবা ওদের দু’জনের মোকাবিলা এখনই এখানে করতে পারে।
এই দুটো লোক যদি মরে, হয়তো লড়াইয়ের এখানেই ইতি ঘটবে। যদি শেষ নাও হয়, তবে চাপ কিছুটা যে কমবে তাতে সন্দেহ নেই। ক্ষতি কি?
মুখ তুলে চাইল সে। হেনরি প্রায় ওয়াটসনের মতই বিশাল। শেভ করেনি। পোশাকও অগোছাল। তবু ওই মুহূর্তে সে ভাল বোধ করছে। এত ভাল সে আগে কখনও বোধ করেনি।
আমি ফাইটে ড্যাশারের পাশেই দাঁড়াব। হেনরির স্বরটা শান্ত। আমি রকিঙ কে-এর লোক।
