কিড তার খোলা পিস্তলটা স্থির হাতে ধরে আছে। ওর স্বরটা ঠাণ্ডা। সে নিজেই তার মৃত্যু ডেকে এনেছে, শান্ত স্বরে সে বলল। ওর বড়াই এর মুখটা একটু বড়ই ছিল, এটা সবাই জানে। আমাকে হারাতে পারবে মনে না করলে লড়তে আসত না। হত্যা করাটা আমার স্বভাব নয়, সে আরও বলল, হিউবার্টদের বিরুদ্ধে আমার কোন বিরোধ নেই-তোমরা পাহাড়ের ওপাশে থাকলেই হলো। ওখানে যদি ওর বদলে আজ আমি পড়ে থাকতাম, তাহলে কি তুমি এত হৈচৈ করতে? মনে হয় না!
কিড ঠিকই বলেছে, শান্ত স্বরে বলল বেন। লঙই এটা শুরু করেছিল, কিন্তু সে স্নো বলে হেরে গেছে।
হয়তো পরেরবার যখন দেখা হবে! চিৎকার করেবলল সিলভার। আমি এতটা স্লো হব না!
হয়তো। লেকারের চেহারা একটু ফেকাসে, চেহারা কিন্তু শান্ত। আমি ঝগড়া বা লড়াই চাচ্ছি না। তোমার যেমন খুশি তাই হবে। ঠাণ্ডা ভাবে পিস্তল খাপে ভরে পিছন ফিরল কিড! ওয়্যাগনের কাছে গিয়ে নিজের কাপে কফি ভরার আগে সিলভার বা জনির দিকে ফিরল না। লোকটার দিকে একবারও তাকাল না।
রনি সহজ ভঙ্গীতে আগুনের পাশে এসে দাঁড়াল। আমাদের অনেক কাজ বাকি পড়ে আছে। আমরা লড়াই করলে কোন কাজই এগোবে না।
আমরা সবাই দেখেছি কি ঘটেছে। লঙ তোমার ভাই ছিল এবং তোমার একটু উত্তেজিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা ভুলে যাওয়াটাই এখন সব থেকে ভাল।
আমরা কিছুই ভুলব না! গর্জে উঠল সিলভার।
তাহলে মনে রেখো ওই ছেলেটা রকিঙ কে-এর রাইডার! বব কেসি কথা বলল। ওর স্বরে হঠাৎ কঠিন চ্যালেঞ্জের সুর ঝেজে উঠল। মনে রেখো হিউবার্ট! তোমরাই এর শুরু করেছ। আমি বেঁচে থাকতে রকিঙ কে-এর কোন রাইডারের কেউ ক্ষতি করবে, এমন লোকের জন্মই হয়নি। তোমরা যদি ফাইটই চাও, এখন বা যেকোন সময়ে শুরু করতে পারো।
রনির দেহ বেয়ে উত্তেজনার ছোট একটা ঢেউ খেলে গেল। ওখানকার সবার চেহারায় দারুণ একটা বিস্ময়ের ভাব ফুটে উঠতে দেখল সে। অনেকের মনেই সন্দেহ ছিল, বব কেসির মত ঠাণ্ডা লোক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে কিছুতেই নামবে না। কিন্তু ওর আজকের এই শক্ত চেহারা আগে কেউ কখনও দেখেনি। হিউবার্টরা যে এটা আশা করেনি এ’সম্পর্কে রনি নিশ্চিত। রকিঙ কে-এর কিছু লোকও এতে অবাক হয়েছে। এখন বব নিজেকে স্পষ্টই ব্যক্ত করেছে। জনি হিউবার্ট সবথেকে অবাক হয়েছে। ভুরু কুঁচকে তরুণ র্যাঞ্চারের দিকে অস্বস্তিভরে তাকাল সে।
এখনই আমি ঘোষণা করে দিচ্ছি, রেঞ্জ-ওয়ার শুরু হলে আমরা শেষ ডলার আর শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ব। সে একটু থামল। চলো আবার আমরা কাজে নামি।
কফির কাপ নামিয়ে রেখে কিডের পাশে এসে থামল টেরি। আজ বিকেলে আমি তোমার সাথে রাইড করর, লেকার।
তোমাদের দুজনের কাউকে আজ রাইডিঙে যেতে হবে না, বাধা দিয়ে বলল ড্যাশার। তোমরা হেনরি আর রজারের কাজটা করবে। কিড ব্র্যাঙি করবে, আর আগুন জিইয়ে রাখবে।
এতক্ষণ জনি হিউবার্ট একটা কথাও বলেনি। কেবল একবার ভাইয়ের মৃতদেহটার দিকে তাকাল, ঠাণ্ডা চোখে যাচাই করল। কিডকে পাত্তাও দিল না। ওকে মনেমনে আগেই জরিপ করেছে। ওর ওপর জীবন নাশের হামলা আসতে পারে বুঝেই যে ওকে বাইরে যেতে দিচ্ছে না ড্যাশার, সেটা বুঝতে এক সেকেণ্ড দেরি করেনি। পরিস্থিতির টেনশন এখনও কমেনি।
তোমাদের রাউণ্ডআপ আমরা শেষ করে দেব, বাছারা। কিন্তু কোন ঝামেলা নয়। আমরা কোন বিপদ চাই না!
ওরা তাজা ঘোড়া নিয়ে বেরিয়ে গেল।
রনিকে ঘোড়ায় চড়তে দেখে বব এগিয়ে এল। রনি, তোমার কি মনে হয় ওরা সরে থাকবে? নাকি ঝামেলা করার ফন্দি আঁটছে?
আমার সন্দেহ হচ্ছে আমাদের কপালে লড়াই করাই আছে, জবাব দিল রনি। তবে আমার বিশ্বাস রাউণ্ডআপ ওরা শেষ করবে-কিন্তু পরে ঝামেলা করবে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর হেনরি ছয়টা গরু তাড়িয়ে নিয়ে হাজির হলো। ওই হিউবার্টদের আমার মোটেও বিশ্বাস হয় না, হঠাৎ মন্তব্য করল সে। ওরা ঝগড়াটে পরিবার থেকে এসেছে। কিড না মরা পর্যন্ত ওরা এখন শান্ত হবে না। সাথে আমাদেরও অনেককেই শেষ করবে।
কৌতূহলী দৃষ্টিতে রনি ওর দিকে তাকাল। তুমি আমাদের বললে, হেনরি। তার মানে তুমি থাকছ?
হেনরির চেহারাটা সামান্য লাল হলো। তোমার কি করে ধারণা হলো আমি চলে যাচ্ছি?
আঁচ করেছিলাম। গতরাতে তোমাকে খুব অস্থির আর চঞ্চল দেখলাম। তুমি যদি থাকো, আমি খুব খুশি হব।
একটু থমকাল হেনরি। কিছুক্ষণ রনির দিকে তাকিয়ে থাকল, তারপর বলল, কিন্তু আমি রাসলারদের সাথে কাজ করেছি।
তা আমি জানি। অনেক ভাল লোকই সময় কালে কিছু গরু চুরি করে। কিন্তু সঙ্কটের মুহূর্তে সে কোন পক্ষ নেয়, তাতেই মানুষ চেনা যায়। শোনো, হেনরি। এই রেঞ্জের ওপর অনেক আক্রমণ আসবে। লড়াই হবে–আমি হিসেবে যদি খুব ভুল না করে থাকি, রকিঙ কে-কে একাই ওদের মোকাবিলা করতে হবে।
আমারও তাই ধারণা। তাহলে আমি থাকতে পারি?
হাসল ড্যাশার। নিশ্চয়! তবে তুমি যে পরিমাণ খাও, তাতে আমাদের প্রতিদিন একটা করে আস্ত গরু লাগবে!
প্রাণ খুলে হাসল হেনরি। আমার চিরকালই একটু বেশি খাওয়ার অভ্যাস। এক টুকরো তামাক দাঁত দিয়ে কেটে নিল সে। রনি, রজার আমার সাথে এর মধ্যে ছিল না। সে জানত আমি কিছু কিছু গরু সরাই, কিন্তু সে এতে কোন অংশই নেয়নি। কথাটা তোমাকে জানিয়ে রাখলাম।
