ধন্যবাদ। ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে ওয়াশ ধরে রওনা হলো ড্যাশার। খাবার টেবিলে দেখা হবে।
জনি হিউবার্ট তৃতীয় দিন শহরে পৌঁছল! সতর্ক চিন্তা-ভাবনা করেই সে এসেছে। ওর প্ল্যানের কথা সে কাউকে জানায়নি। এমনকি সিলভারকেও না। এক নজর দেখেই বুঝল যার খোঁজে সে এসেছে, সে নেভাডা সেলুনে নেই। রেড রয়েছে। অ্যাডামের গানম্যান বারে হেলান দিয়ে সতর্ক চোখে হিউবার্টকে লক্ষ করছে। ওর চাহনিটা খেয়াল করেছে জনি। লোকটাকে সে মোটেও পছন্দ করে না। তবু শেষে ওর দিকেই এগোল।
ডাকি বা জেরিকে শহরে দেখেছ? প্রশ্ন করল জনি।
একটু ইতস্তত করল রেড, দ্রুত চিন্তা চলেছে ওর মাথায়। তারপর সে মাথা ঝাঁকাল। হ্যাঁ, একটু আগেই মলির ওখানে ঢুকেছে ওরা। ওদের বেরোতে দেখিনি।
সেলুন থেকে দ্রুতপায়ে বেরিয়ে এল জনি। ঝট করে ঘুরে পিছনের অফিসের দরজায় দুটো হালকা টোকা দিয়ে ভিতরে ঢুকল রেড।
বস, উত্তেজিত স্বরে বলল সে, জনি হিউবার্ট শহরে এসেছে। ডাকি আর জেরি সমার্সের খোঁজ করছিল সে।
সঙ্গেসঙ্গে উঠে দাড়াল অ্যাডাম। ওর চোখ দুটো বিজয় উল্লাসে ঠাণ্ডা আর কুৎসিত হয়ে উঠেছে। হতে পারে, মন্তব্য করল সে। জেরি সমার্স, তাই না? রনি ড্যাশারের বিরুদ্ধে জেরি! ওটা একটা দেখার মত দৃশ্যই হবে।
শুধু তাই না, শব্দ করে হাসল রেড। ওরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে ব্যস্ত থাকবে। দুটো রেঞ্জেই অনেক ভাল স্টক আছে।
ঠিক তাই। দাঁত দিয়ে অ্যাডাম চুরুটের গোড়া কাটল। ঘোড়া নিয়ে ওদিকে যাও, হেনরির দেখা না পাওয়া পর্যন্ত লুকিয়ে থেকো। ওকে বলো, সে যেন আমার সাথে দেখা করে।
জনি হিউবার্ট রাস্তা পার হয়ে মলির রেস্টুরেন্টে গিয়ে ঢুকল। দেখল জেরি সমার্স আর ডাকি ছাড়া ওখানে আর কেউ নেই। কফি আর পাই ওদের সামনে। জনিকে ঢুকতে দেখে নড করল জেরি। হিউবার্টকে ওর দিকেই আসতে দেখে সমার্সের চেহারা থেকে হালকা ভাবটা মিলিয়ে গেল। তুমি কি ড্যাশারকে ভয় পাও? জানতে চাইল জনি।
রান্নাঘরে পাথর হয়ে জমে গেল মলি ব্রাউন। ওর ময়দা মাখা হাত দুটো মাখানো ময়দার ওপর শূন্যে ঝুলে আছে।
কৌতুকে মিটমিট করে জ্বলল জেরির চোখ; তারপর সে হাসল। ড্যাশার? আমি ওকে ভয় করব কেন?
তাই যদি হয়, তোমার একটা কাজ জুটল। কিড লেকার আমার ভাইকে হত্যা করেছে।
শুনেছি, জেরি স্বীকার করল। ভাবিনি কিড এতটা ফাস্ট। তবে কাজের চেয়ে লঙের মুখটা একটু বেশি চলত।
জনি হিউবার্টের ঠোঁট দুটো পরস্পারের ওপর চেপে বসে সরু হলো। তার নিজেরও একই ধারণা, কিন্তু অন্যের মুখ থেকে কথাটা শুনতে খারাপ লাগে।
আমি তোমাকে দুশো দেব, ঠাণ্ডা ভাবেই বলল জনি। এবং লেকার, ড্যাশার, বা কেসির জন্যে একটা বোনাস।
কফির কাপে চুমুক দিল জেরি, ওর চোখ সতর্ক, ঠাণ্ডা এবং সন্তুষ্ট। ডাকির কি হবে? সে শক্ত লোক।
ওর কথাও আমি বিচার করেছি। একশো। বোনাস রোজগার সেও একই হারে পাবে।
মাথা ঝাঁকাল জেরি। আগামীকালই আমরা রওনা হব।
রান্নাঘরে নীরবে দ্রুত কাজ করছে মলি, ওর মাথাটাও সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে। তাহলে গুজবগুলো সত্যি। একটা রেঞ্জ ওয়ার লাগতে যাচ্ছে। হিউবার্ট, রাসলারস আর অ্যাডামসের বিরুদ্ধে রকি
কে একা। ওদের মানুষও অনেক কম। বুড়ো কেসি মারা যাওয়ার পর থেকেই নেকড়েরা এগিয়ে আসছে। ছিঁড়েখুড়ে রকিঙ কে ধ্বংস করে দিতে চাইছে ওরা।
রনি ড্যাশারের কথা মনে পড়তেই সে ভাবল, ওরা হয়তো বিফলও হতে পারে। শর্টি মাইণ্ড ওখানে আছে জেনে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে। শর্টি শীঘ্রি ওর সাথে দেখা করতে আসবে। ওই ছেলেটার মাধ্যমেই হিউবার্ট আর জেরির চুক্তি সম্পর্কে রনির কাছে খবর পৌঁছনো যাবে। হঠাৎ আর একজনের কথা তার মনে পড়ল। লোকটা ভাল। ওই লোকের সম্পর্কে মলির নিজস্ব কিছু প্ল্যান আছে।
আইন-শৃঙ্খলাহীন অবস্থার সুযোগ নিয়ে যারা লাভ করতে চায়, তারা সবাই একজোট হতে শুরু করেছে। ওদের ভয়, রনি ড্যাশারের নেতৃত্বে রকিঙ কে হয়তো আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এবং আগে ওরা যেমন শক্ত হাতে আইন বজায় রেখে অপরাধীর শাস্তি দিয়েছে, সেই অবস্থাও আবার ফিরে আসতে পারে। বিল ওয়াটসন তার সেলুনে নিজস্ব প্ল্যান আঁটছে। অ্যাডামও তার সেলুনে বসে কিছু গভীর চিন্তা ভাবনা করছে। তার বিশ্বাস, ড্যাশার যেটা শুরু করেছে, সেটা সে শেষ করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। এবং সেও নিশ্চিত করবে রনি যেন এটা শেষ করতে না পারে।
জেরি সমার্স শহরেই আলস্যে সময় কাটাচ্ছে। ওর মুখে চট করেই হাসি ফোটে, কিন্তু চোখে তার কোন ছাপ পড়ে না। সবার আলোচনা শুনে খবর সংগ্রহ করছে সে। হিউবার্টের প্রস্তাব গ্রহণ করার পিছনে ওর নিজস্ব কিছু মতলব আছে। এই দুই দলের খুনাখুনিতে সে বেশ কিছু মুনাফা লুটে নিতে পারবে।
জনি একাই কর্ন প্যাচে হাজির হলো। বিল ওয়াটসনের সাথে অনেকক্ষণ গোপনে আলাপ হলো ওর। সে যখন কর্ন প্যাঁচ ছাড়ল তখন ওর সাথে এল আরও তিনজন। ড্রিনান, হ্যানকিনস আর ট্রয়। প্রত্যেকেই সশস্ত্র এবং প্রস্তুত। জনি হিউবার্ট ওই পরিবারের সবথেকে স্থির মস্তিষ্কের প্ল্যানার, ঝুঁকির মধ্যে সে যেতে রাজি নয়। ফিফটি-ফিফটি চান্সেও নয়।
সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।
লঙ মারা যাওয়ার চতুর্থ দিন ফিনলে হার্ট মলি ব্রাউনের রেস্টুরেন্টে ঢুকল। কিছুক্ষণ আগেই একটা শীপ ক্যাম্পে সে পেট ভরে খেয়ে এসেছে। কিন্তু ইদানীং সে লক্ষ করছে পেট যতই ভরা থাকুক, মলির রেস্টুরেন্টে না এলে ওর যেন ঠিক পেট ভরে না। মনও না।
