গত সপ্তাহের পুরোটাই ওরা র্যাঞ্চের দূর সীমানা থেকে গরু তাড়িয়ে আনার কাজে ব্যস্ত ছিল। লোকবলের অভাবে, একেকবারে গরুর ছোটছোট দলকে সামলাচ্ছে ওরা। কাজের চাপে হেনরি আর সরে পড়ার সুযোগ পায়নি।
ড্যাশার আজ তার প্রিয় গেন্ডিঙ টপারের পিঠেই আরোহী হয়েছে। টেরি, হ্যারি, কিড লেকার, রজার, শটি মনটানা, হেনরি–সবাই কাজে ব্যস্ত। ভালই এগোচ্ছে কাজ।
চাক ওয়্যাগনের পাশ থেকে জনি হিউবার্ট বিরক্ত চোখে সব খেয়াল করছে। সে ঠিক বুঝতে পারছে না ওর কি করা উচিত। সিলভার হিউবার্টের মনে কোন সন্দেহ নেই। সে লড়তে চায়, এবং সেজন্যে সে তৈরি। লঙ হিউবার্ট কাজে সাহায্য করছে। খ্রী এইচের কিছু গরু পাওয়া গেছে, একটা জেএ কানেকটের এবং একটা বার এল ইউ র্যাঞ্চের।
রনি কঠিন পরিশ্রম করছে, নিজের অংশের পরেও আরও করছে। দিনের তাপমাত্রা বেড়ে উঠেছে। বেন কেসি চিন্তাযুক্ত ভাবে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে, পেনসিলটা চোখা করে নিয়ে, হিসাবের খাতার পাতা উল্টাল।
চাক ওয়্যাগন থেকে খাবার ঘণ্টা শুনে হ্যাট থেকে ধুলো ঝেড়ে রনি চিৎকার করল, সবাই চলো, খাবার তৈরি।
ঝট করে লাগাম টেনে পিছনের দুই পায়ের ওপর বে ঘোড়াটাকে ঘুরিয়ে নিয়ে হ্যারির সাথে পাল্লা দিয়ে চাক ওয়্যাগনের দিকে ছুটল কিড লেকার। ওদের পিছনেই টেরি। হেনরি এতক্ষণ আগুনের পাশে ব্র্যাণ্ডি করছিল। আগুনের তাপে ওর মুখটা লাল হয়ে উঠেছে। উঠে দাঁড়িয়ে রনির দিকে চেয়ে সে হাসল।
কাজ ভালই এগোচ্ছে, বলল হেনরি। কিন্তু অপেক্ষা করো, শুগারলোফের ল্যাণ্ডিনো গরুগুলোকে কাবু করা যে কি কঠিন তা বুঝবে।
খারাপ?
প্রত্যেকটাই প্রিকলি পেয়ার খায়। একেবারে বুনো। ওরা হাঁটুতে ভর দিয়ে ঝোঁপের ভিতর ঘুরে বেড়ায়! সত্যি! মাসখানেক আগে আমি একটাকে দেখেছি, ওর হাঁটুতে একটা লোমও নেই, আর ওর নাকমুখ পেয়ারের কাঁটায় বোঝাই!
বয়স্কগুলো অনেক স্মার্ট, রনি সায় দিল। কাটার খোঁচা না খেয়েই ওরা বেশিরভাগ প্রিলি পেয়ার খেতে পারে। টেক্সাসের বিগ বেণ্ডে আমি দেখেছি। মাসের পর মাস ওরা কোন ওয়াটার হোলের কাছে না গিয়েও থাকতে পারে। পেয়ারের পানিই ওদের জন্যে যথেষ্ট।
ওটা ল্যাসের কাজ, একমত হলো জনি হিউবার্ট। ওদের দল বেঁধে বের করা অসম্ভব। দড়ি দিয়ে একটা একটা করে টেনে বের করতে
রাতের বেলা দড়ি খুঁড়ে কখনও গরু ধরেছ? টেরি প্রশ্ন করল। ওটা একটা ভয়ঙ্কর কাজ। টেক্সাসে আমি তা করেছি। বুনো বিশাল মসি হর্নস। রাতের বেলা জঙ্গলের গভীর থেকে বেরিয়ে ওয়াটার হোলের দিকে যায়। চুপিসারে ওদের পিছু নিয়ে বিকট চিৎকার দিয়ে চার্জ করে ওদের ভিতর ছুটে যেতাম!
অন্ধকারে কেউ ভাল দেখতে পেতাম না। সামনে কালো যা কিছু দেখা যায় সেটাই হয়তো গরু হতে পারে। আমি শুনেছি একবার এক মেক্সিকান একটা ভালুককেই গরু মনে করে দড়ি খুঁড়ে আটকে ফেলেছিল।
অবিশ্বাস করার কোন কারণ দেখি না, মন্তব্য করল হেনরি। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভ্যাকেরোরা (কাউবয়) নিছক আনন্দের খাতিরেই সেটা করত। মাঝেমাঝে বিশাল লঙহর্ন ষাড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করিয়েও মজা দেখত।
বাজে কথা, প্রতিবাদ করল লঙ হিউবার্ট। গ্রিজলির বিরুদ্ধে ষড় কিছুই করতে পারবে না!
সেটা তোমার কথা, কিড লেকার আপত্তি জানাল। একবার আমি একটা বিরাট লঙহর্নকে ঝোঁপের ভিতর মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছি। একটা চোখ নেই, ক্ষতবিক্ষত দেহ, কিন্তু সে নিজের পায়েই দাড়িয়ে ছিল। কিছু খোজাখুজির পর দেখলাম একটা গ্রিজলি মরে পড়ে আছে। বিশাল আকার।
সপ্তাহখানেক পরে আমি আবার ওদিকে গেছিলাম, দেখলাম ওই লঙহর্ন খ্যাপার মত ঘুরছে। মনে হলো সে আরেকটা গ্রিজলি শিকার করার জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরছে।
লঙ একদৃষ্টে কিড লেকারের দিকে কয়েক সেকেণ্ড চেয়ে রইল। যত সব আষাঢ়ে গল্প, বলে, অবজ্ঞা প্রকাশ করল সে। এমন গল্প কেবল কচি ছেলেরাই বড়দের আসরে বলতে পারে!
সহসা সবাই নীরব হলো। রনির চোখ বিশাল জনি হিউবার্টের ওপর। লোকটা সতর্ক চোখে মাথা তুলে দেখছে। ম্যাজিকের মতই সবাই ছড়িয়ে পড়ল। কেবল রান্নার আগুনটার পাশে কিড লেকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে লঙ। হিউবার্টকে আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে, চেহারায় হেলার ভাব।
লেকারের গড়ন পাতলা, এবং সে কম কথার মানুষ। মাথায় সরু প্রান্তের হ্যাটটা পুরানো আর তোবড়ানো। মুখে দাড়ি নেই বটে, কিন্তু ওর চোখ দুটোয় অভিজ্ঞতার ছাপ। হঠাৎ রনি উপলব্ধি করল লঙ বোকামি করতে যাচ্ছে।
আমার বিশ্বাস, ধীর স্বরে বলল কিড, আমার ট্র্যাকও তোমার মতই বড়, লঙ। তুমি আমাকে মিথ্যাবাদী বলতে চাইলে, বলতে পারো কিন্তু তা বলতে হবে পিস্তল ড্র করে!
অবাক হয়েছে লঙ এবং ভীষণ খেপেছে! পুঁচকে ছেলের সাহস। দ্রুত ওর হাত পিস্তলের বাটের দিকে নামল। মুহূর্তে কিড লেকার বাম হাতে ড্র করে ওর মাথা ফুটো করে দিল।
লঙ হিউবার্ট আধ-পা এগিয়ে মুখ থুবড়ে আগুনের পাশে পড়ল। ওর মাথা আর ঘাড়ের পিছন দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে।
কিছুক্ষণের জন্যে সবাই স্তব্ধ। তারপর সিলভার হিউবার্ট আগুনের চক্রটার পাশে এসে দাঁড়াল। ওর চেহারা নিষ্ঠুর আর কঠিন। হতচ্ছাড়া, ডেঁপো ছোকরা! তুই আমার ভাইকে মেরে ফেলেছিস!
