সে বলল। সময় মত কেন আসোনি?
ব্যস্ত, চায়না, হেসে জবাব দিল রনি। একটু কফি দিলেই চলবে। বাকিটা ভুলে যাও।
কিছু ভুলব না, জবাব দিল রাঁধুনী। তুমি কাজ করো, তোমাকে খেতে হবে।
দরজা খুলে গেল। চোখ তুলে তাকিয়ে লিসাকে দেখতে পেল রনি। ওহ, তুমি? মনে হলো নিরাশ হয়েছে মেয়েটা। শুনলাম তুমি বেশ ব্যস্ত ছিলে। ওর স্বরটা ঠাণ্ডা। ঝামেলা পাকানোটা তোমার স্বভাব।
কেউ-কেউ করে, স্বীকার করল রনি। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি এর পক্ষপাতি নই।
একজুন লোক যে দাবি করে ঝামেলা অপছন্দ করে তার পক্ষে সর্বক্ষণ বিপদের মাঝখানে কাটানোটা মানায় না! ছ্যাঁৎ করে জ্বলে উঠল মেয়েটা। আমি জেনেছি কর্ন প্যাচে গিয়ে তুমি গোলমাল বাধিয়ে এসেছ?
মুহূর্তে সতর্ক হলো রনি। আমি আবার ওখানে কি করলাম? আমার তো কিছুই মনে পড়ছে না।
একটা মানুষকে মেরেছ। ট্রেসারকে তুমি খুন করেছ!
পুরো এক মিনিট লিসার দিকে তাকিয়ে থাকল রনি। হেনরি ছাড়া আর কাউকে সে কথাটা জানায়নি। এবং লোকটা রাত করেই ফিরেছে। সুতরাং কথাটা লিসা ওর কাছ থেকে শোনেনি। তাছাড়া ঘটনাটা ঘটেছে ওদের গোপন আড্ডায়। কেবল বেইলি ছিল তার একমাত্র সাক্ষী। মেয়েটাকে একটু বাজিয়ে দেখতে চাইল সে।
তুমি এটা শুনেছ? কি জানো তুমি? এর থেকেই বোঝা যায় লোকজন যে বিষয়ে কিছুই জানে না সেই সম্পর্কেও কথা বলে।
এটা আমি নিশ্চিতভাবে জানি? প্রতিবাদ করল লিসা। তুমি ওর সাথে একটা ঝগড়া বাধিয়ে ওকে মেরেছ।
শহরের সবাই বুঝি এই কথাই বলছে?
আমি শহরে যাইনি। কিন্তু ওরা সবাই কথাটা অবশ্যই শুনবে। এবং ওরা সবাই বলবে আমরা একজন খুনীকে ভাড়া করেছি!
হতে পারে। নিজের কাপে আবার কফি ঢেলে নিল সে। কিন্তু আমি তো শুনলাম জেরি সমার্সকে তোমার ভাই কাজে নিক, এটাই তুমি চেয়েছিলে। সে কি খুনী নয়?
রাগে ওর মুখটা লাল হয়ে উঠল। সে তা নয়! প্রতিবাদ করল সে। মানুষকে গুলি করেছে সে, কিন্তু সে একজন ইতস্তত করছে লিসা। কিন্তু হঠাৎ বুঝতে পারল সে যা বলছে সেটা কতটা অবাস্তব। নিজের মনেই ওকে স্বীকার করতে হলো অনেক মানুষ হত্যা করেছে সমার্স। তার মধ্যে কিছু প্রায় বিনা কারণে। এটা নিয়ে ওকে অনেকবার দোষারোপও করেছে লিসা। কিন্তু ওর মুখের ওপরই হেসেছে জেরি।
যাহোক, বলল সে, যদি সে তা করেও সেটা প্রশ্রয়ের যোগ্য কোন কাজ হলো না। অযথা হত্যা আমি মোটেও দেখতে পারি না।
আমিও না, শান্ত স্বরে রনি বলল, কিন্তু তাই বলে ভাল লোকের অস্ত্র ছেড়ে দেয়ার কোন অর্থ হয় না, যখন অন্যেরা তা করছে না। শান্তির কথা দুই পক্ষ থেকেই আসতে হবে।
তোমার বাবা সুন্দর একটা র্যাঞ্চ গড়ে তুলেছিল। এখানে শান্তিও সে রক্ষা করেছে, মাঝেমাঝে কঠিন হাতে, কিন্তু সে তা রক্ষা করেছে। মানুষ শান্তিতে বাস করেছে।
তোমার ভাইয়ের অনুভূতিও তোমারই মত। সেও হত্যার বিরোধী, কিন্তু তাতে কি ঘটছে? আর সবাই কি সে ভাল বোলে তার সাহায্যে এগিয়ে আসছে? তার বদলে ওকে নরম পেয়ে র্যাঞ্চটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে। এখন তোমার ভাই আমাকে কাজে নিয়েছে, এক মাসের মধ্যেই যে এখানে আবার শান্তি ফিরে আসবে, তার নিশ্চয়তা আমি দিতে পারি।
আবার খাওয়ার দিকে মন দিল রনি। লিসা চিন্তামগ্ন ভাবে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। জেরির বদলে তার ভাই ড্যাশারকে কাজে নেয়ায় সে খাপ্পা হলেও এই নীল চোখের গানম্যানকে ওর পছন্দই হচ্ছে। নিশ্চয়তা নিয়ে লোকটার ওপর নির্ভর করা যায়।
তুমি জেরিকে পছন্দ করো না, তাই না? হঠাৎ প্রশ্ন করল সে।
ইতস্তত করল ড্যাশার। জানে ওই বিষয়ে লিসার সাথে আলাপ করা বিপজ্জনক ব্যাপার। লিসা, ধীরে আরম্ভ করল সে, ওকে আমি চিনি না। কিন্তু ওর সম্পর্কে যা শুনেছি তা আমার মনকে নাড়া দিতে পারেনি। হয়তো আমার ভুলও হয়ে থাকতে পারে। অনেকবারই আমি করেছি। তোমার নিজেরই অনেক বুদ্ধি আছে। তুমি তো ওকে চেনো। ও কেমন, আর তোমার বিচারে মানুষের কেমন হওয়া উচিত, সেটা তুমি নিজেই সভাবে বিচার করে দেখো।
উঠে দাঁড়াল লিসা। মনে হচ্ছে আমিই তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম।
দরজা দিয়ে বেরোবার সময়ে একটু ইতস্তত করল রনি। হ্যাঁ, ভাল কথা, সন্ধ্যায় তুমি হেনরিকে ফিরতে দেখেছ?
না তো? জবাব দিল লিসা, ওর সাথে গত দু’দিনে আমার একবারও দেখা হয়নি। ও কি কোথাও গেছে?
না, ঠিক মত ফিরল কিনা জানতে চাচ্ছিলাম। বাইরে বেরিয়ে সিঁড়ির ওপর একটা সিগারেট তৈরি করার জন্যে থামল সে। তাহলে ট্রেসার মফিটকে হত্যার কথা হেনরি মেয়েটাকে বলেনি। তাহলে কে ওকে খবরটা দিল। আর ঘটনা কর্ন প্যাচে ঘটেছে, এটাই বা কেন। বলেছে?
হেনরি জেগেই তার বাঙ্কে শুয়ে আছে–ভাবছে। আজকের দিনটা ওর ব্যস্ততা আর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে কেটেছে। সন্দেহ আর চিন্তা ওর মাথায় ভিড় করে আছে।
ড্যাশার কতটা জানে? স্টেজ ডাকাতদের গোপন আস্তানাই বা সে কিভাবে চিনল? রাসলাররা অবশ্য অন্য দলটার সম্পর্কে জানে। কিন্তু ওরা কে বা কারা তা কেউ জানে না। জানলে, কেবল বিল ওয়াটসন জানতে পারে। হেনরি হঠাৎ টের পেল সে ভয় পেয়েছে–দারুণ ভয়। মৃত্যুকে সে আগে কখনও ভয় করেনি। গুলি খেয়ে মৃত্যু, স্ট্যামপিড, বা খ্যাপা ষাড় কিছুই সে কেয়ার করেনি। ওর কেবল একটাই ভয়, সেটা ফাঁসির দড়ি। সারা জীবন সে কাউহ্যাণ্ড হিসেবেই কাজ করেছে। ওর ভাল করেই জানা আছে রাসলিঙ করে ধরা পড়লে ফঁসি অনিবার্য। রনি ড্যাশার আসার পর থেকেই তার ভয়টা দ্বিগুন হয়েছে। হেনরির দেশ ছাড়ার স হয়েছে। কাউকে কিছু না জানিয়ে সে সরে পড়বে। হেনরি সিদ্ধান্ত নিল, সকালেই চুপিচুপি অরিগমের পথে রওনা হবে।
০৮. চলিত প্রথা অনুযায়ী
চলিত প্রথা অনুযায়ী বেন কেসি আর ড্যাশার গরু জড়ো করার ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটা পুরোপুরি একটা স্থানীয় ব্যাপার। রকিঙ কে-এর যেসব গরু-বাছুর ব্র্যাণ্ড করা হয়নি সেগুলোকে ব্র্যাণ্ড করা আর স্টকের সংখ্যা গুণে দেখাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। তবে ঘাস খেতেখেতে অন্য র্যাঞ্চের কিছু গরুও এই দলের সাথে যোগ দেয়াই স্বাভাবিক বলে, প্রতিবেশী র্যাঞ্চগুলোকেও ব্র্যাণ্ডিও দেখার জন্যে তোক পাঠাতে বলা হয়েছে। ওদের র্যাঙ্কের গরুগুলোকে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়ার কারণেই এই ব্যবস্থা।
