ক্যানিয়নের সরু গিরিপথটার দিকে চেয়ে একটা ময়লা রুমাল বের করে ভুরুর ঘাম মুছল হেনরি। ওরা যদি আজই অ্যামবুশ করার পরিকল্পনা নিয়ে থাকে, তবে সামনের গিরিসঙ্কটের মাথা থেকেই গুলি আসবে। ঘোড়ার পিঠে সে ওর ভিতরেই ঢুকতে যাচ্ছে। ড্যাশার ঠিক কথাই বলেছে বলে মনে হচ্ছে-এই এলাকা থেকে রাসলি সে বন্ধ করেই ছাড়বে। রকিঙ কে-এর এই সেগুলো যদি এত ভালভাবে সব কিছু আঁচ করতে পারে, তবে ঝুঁকি নেয়াটা তার কোন মতেই সঙ্গত হবে না।
ওর মুখের ভিতরটা শুকিয়ে গেছে। বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটছে হেনরি। অস্বস্তিভরে আড়চোখে একবার রনির দিকে তাকাল সে। কিন্তু ওস্তাদ পিস্তলবাজ লোকটা শান্তভাবেই সামনে এগিয়ে চলেছে। ওর জন্যে সামনে কি অপেক্ষা করছে, সেটা যদি আঁচ করেও থাকে, ওর চেহারা দেখে তা বোঝার উপায় নেই।
কয়েকবার গরুকে ঘাস খেতে দেখে, যেখানে গরু জড়ো করা হবে, সেদিকে তাড়িয়ে দিল ওরা। এবং তারপর গিরিসঙ্কটে মুখের কাছে পৌঁছে, হঠাৎ ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে একটা ক্ষীণ ট্রেইল ধরে সোজা উত্তর দিকে রওনা হলো রনি।
ওর এই কাজে হেনরি নিশ্চিন্ত হওয়ার চেয়ে দুশ্চিন্তাতেই পড়ল বেশি। সে নিজেও এই ট্রেইল সম্পর্কে কিছু জানে না, অথচ ড্যাশার কিভাবে এর অস্তিত্ব জানল? আসলে কয়েক মাইল দূর থেকেই একটা সবুজ এলাকা রনির চোখে পড়েছে। পানির এমন সুন্দর একটা উৎসে পৌঁছা’র একটা ট্রেইল থাকতেই হবে, এটা সে পুরানো অভিজ্ঞতা থেকে জানে।
আরও অনেক গরু ওদের চোখে পড়ল। ওরা দুজনে কঠিন পরিশ্রম করল। হেনরি রাসলার হলেও, অনেক রাসলারের মত সে ভাল কাউহ্যাণ্ডও বটে। দুই ঘণ্টার মধ্যেই ওরা দুশোর বেশি গরু ম্যাণ্ডালে ম্প্রিংসের দিকে পাঠাল।
এর মাঝেও রনি সতর্ক নজর রেখেছে কিন্তু আশপাশে কোন রাইডারের চিহ্ন সে দেখতে পেল না।
মনে হচ্ছে ওই ট্রেইলটা একজন লোকেরই তৈরি। ওর খোঁজেই রওনা হবে ড্যাশার। হেনরিকে গরু তাড়িয়ে নেয়ার কাজে রেখে, সে ট্রেইল ধরে এগোল।
ঘোড়ার পিঠে চলার সময়েই সে লক্ষ করেছে বেশিরভাগ গরুই রকিঙ কে র্যাঞ্চের। তবে থ্রী এইচ র্যাঞ্চেরও কিছু গরু এত ভিতরে চরছে। ওদের সাথে একটা বোঝাপড়া হওয়া দরকার। বুড়ো কেসি মারা যাওয়ার পর থেকেই কঠিন লোকের অভাবে রকিঙ কে র্যাঞ্চ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বুড়ো ছিল বাঘ। আর ছেলেটা হচ্ছে ভেড়া। কোন সাহস নেই। শক্ত নয় সে।
চলার পথে বারকার উত্তর-পশ্চিমের দিকে দেখছে রনি। ওখানেই একক রাইডারের ট্রেইলটা হারিয়ে গেছে। ওদিকে মরুভূমি। কিন্তু ওদিকেই কোথাও আছে হাই রক ক্যানিয়ন, যেখানে ভাল ঘাস আর পানি আছে। কয়েকটা ছোট লেকও আছে ওখানে। এটা পার হওয়া কঠিন কাজ নয়। যে জানে কোথায় পানি আছে, সে সহজেই পার হতে পারবে। কিন্তু যে জানে না, সে পানির থেকে দশ গজ দূরেও তৃষ্ণায় মারা যেতে পারে। কারণ ওগুলো পাহাড়ের ভাজে এমন সব জায়গায় আছে যে আগে থেকে না জানলে খুঁজে বের করা অসম্ভব।
এদিকে লোকের অভাবে রকিঙ কে-এর লোক নজর রাখতে পারে। এখান থেকে যে অল্পদিন আগেই গরু চুরি করা হয়েছে তার চিহ্ন সে সব জায়গাতেই স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।
ছোটছোট পাহাড় পার হয়ে চলেছে ও। সামনে ঘোড়ার গাড়িতে একটা লোককে যেতে দেখল। সাবধানে এগিয়ে নড় করল রনি।
হাওডি! খুশি মনেই লোকটা বলল। অনেক দিন হলো এদিকে কোন মানুষের দেখা পাইনি।
তুমি কোন দিকে যাচ্ছ?
ওই রকগুলোর দিকে। ওই পাহাড়ে অনেক সোনা আছে। কেবল খুঁজে বের করাটাই সমস্যা। ওর খোঁজেই আমি যাচ্ছি।
এখানে কতদিন আছ?
তিরিশ বছর। পাহাড়ের প্রতিটা ইঞ্চি আমি চিনি, কিন্তু কোন সোনা এখনও পাইনি।
নিশ্চয় এলাকাটা বুনো ছিল তখন। অনেক আউটল।
বুনো ছিল, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিছু খারাপ লোকও ছিল। পুবের দিকে দেখাল সে। আমি বুড়ো কেসিকে ওদিক দিয়ে রাসলারদের তাড়িয়ে নিয়ে মারতে দেখেছি।
তুমি দেখেছ? কিন্তু ড্যাকোটা জ্যাক তো খুব শক্ত মানুষ ছিল।
তুমি যদি নিজের চোখে দেখতে–দুটোই ছিল শক্ত দল। কিন্তু রাসলারের দলকে ওরা একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দিল। শক্ত লোক ছিল বুড়ো কেসি। ড্যাকোটা জ্যাক মরেনি, প্রতিশোধ নিতে ফিরে এসেছিল ভাস্কো গ্ৰেহাম আর তার দল নিয়ে। কিন্তু বুড়ো গুলি করে ঘোড়ার থেকে স্কোকে ফেলে দিল। সবই আমি নিজের চোখে দেখেছি। ভাস্কোর ঘোড়া গুলি খাওয়ায় সে পড়ে গেল। ড্যাকোটা জ্যাক ওর জন্যে ফিরে এল। গুলি করে ওকে ঘোড়ার পিঠ থেকে ফেলে দিয়ে, ওর ঘোড়া নিয়েই পালাল ভাস্কো।
ড্যাকোটা জ্যাক ওকে সাহায্য করতে ফিরে আসছিল?
হা। এমন ঘটনা আমি আর দুটো দেখিনি। আমার বিশ্বাস সে বুঝেছিল এক ঘোড়ার পিঠে দু’জনে চাপলে বুড়ো কেসির ঘোড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে ওরা পারবে না। তাই এমন জঘন্য একটা কাজ করল।
এটা হজম করা কঠিন…সত্যিই খুব শক্ত। মন্তব্য করল রনি।
তা ঠিক। কিন্তু ওটা ছিল ভাস্কো। প্রায়ই ভাবি লোকটার পরে কি হলো। এই এলাকার প্রতিটা ইঞ্চি লোকটার মুখস্থ ছিল। পিস্তলেও ওর হাত ছিল খুব চালু। এবং এর ব্যবহারে সে মোটেও দ্বিধা করত না।
হ্যাঁ, ওর কথা আমি শুনেছি, মন্তব্য করল রনি। মনটানায় একজন শেরিফকেও সে হত্যা করেছে।
র্যাঞ্চে ফিরতে ওর বেশ রাত হলো। চীনা রাধুনী ওকে রান্নাঘরের দিকে আসতে দেখে বিরক্ত হয়ে তাকাল। সাপার, সে ঠাণ্ডা, অসন্তোষভরে
