বার থেকে কিছুটা দরজার দিকে এগিয়ে পরিষ্কার গলায় সে বলল, ড্যাশার, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
০৭. লম্বা গড়নের যুবকটাকে দেখল রনি
কিছুক্ষণ লম্বা গড়নের যুবকটাকে দেখল রনি, তারপর মাথা ঝাঁকাল। নিশ্চয়! তুমি কি এখানেই কথা বলতে চাও, নাকি আর কোথাও যেতে চাও?
হার্ট এগিয়ে গেল স্থির দৃষ্টির নীল চোখের লোকটার দিকে। লোকটা ভয়ানক, কিন্তু উগ্র নয়। হার্ট বুঝল, ঝামেলা হলে রনি তা সামলাবে, কিন্তু গায়ে পড়ে লাগাতে যাবে না। যেকোনখানে, বলল হার্ট। শুনলাম তুমিই আমার ভাইয়ের সাথে শেষ কথা বলেছ।
ঠিকই শুনেছ। লোকটা কে তা বুঝতে পারছে রনি। কিন্তু রটনা সত্ত্বেও সে বুঝতে পারছে, ওর সাথে তার বিরোধ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। ও খুব খারাপ ভাবে আহত হয়েছিল, কিন্তু আমি যখন ওর জন্যে ডাক্তারের খোঁজে আসি তখন সে বেঁচেই ছিল। আমার অনুপস্থিতিতে কেউ ওকে গুলি করে হত্যা করেছে।
শহরে ওই ঘটনার অন্তত ছয়-সাত রকম বিভিন্ন বর্ণনা চালু আছে। একটার সাথে আরেকটার কোন মিল নেই। ড্যাশারকে অভিযুক্ত করার সব রকম চেষ্টাই চলছে। ওর মৃত ভাইয়ের সম্পর্কে পরিষ্কার বক্তব্য ব্যাপারটা সহজ করে দিল। এটা, ও বেঁচে না থাকলে, আমি বানিয়ে বলতে যাব না।
ওর মন্তব্যটার মধ্যে নির্ভেজাল সত্যের একটা গন্ধ রয়েছে। কয়েকজন মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিল। কিন্তু অ্যাডাম, ঘটনা ওর মন মত এগোল না দেখে অস্থির বোধ করছে। ওরা দুজন একটা টেবিলে গিয়ে বসল। কথা বলছে কিন্তু সব শুনতে পাচ্ছে না অ্যাডাম। ড্যাশার আর হার্টের সাক্ষাতে সে যা ঘটবে আশা করেছিল তার কিছুই ঘটল না। এই সময়ে ডাক বেইলি বারে ঢুকল।
অ্যাডামই ওকে প্রথম খেয়াল করেছে–ওর ভুরু একটু কুঁচকাল। রনিও ওকে লক্ষ করল। এবং সাথেসাথেই সাবধান হলো।
আউটল লোকটা সোজা বারে গিয়ে একটা ড্রিঙ্কের অর্ডার দিল। ওর চোখ দুটো বারের চারপাশে একবার ঘুরে এল। কিন্তু কাউকে ইশারা দিল বলে মনে হলো না। সে রনিকে চিনতে পারলেও তার কোন চিহ্ন দেখা গেল না। হার্ট খেয়াল করেছে কিনা জানে না রনি।
আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে বলিনি, আমি ওদের গোপন আস্তানাও খুঁজে বের করেছি। আমি ওদের ট্র্যাকও দেখেছি।
কোন লোকেশন না দিয়ে, গত দু’দিনের ঘটনা সে ফিনলেকে বলল। ওর কথা শুনে যেটুকু সন্দেহ ছিল ওর মনে, সেটাও দূর হয়ে গেল। হার্ট ওর সরাসরি বক্তব্য পছন্দ করেছে। কঠিন লোক সে। ওর ভাইকে যে মেরেছে সে এ নয়। এই ব্যাপারে সে নিশ্চিত।
সকাল হওয়ার আগেই সেভেন পাইনসের লিভারি আস্তাবলের খড়ের বিছানা ছেড়ে রকিঙ কে-এর দিকে রওনা হলো রনি। টপার সকালের ঠাণ্ডা হাওয়ায় দ্রুত ছুটল। নাস্তা খাওয়ার সময় মতই র্যাঞ্চে পৌঁছে গেল সে। দেখল শর্টি মাইক ওর আগেই র্যাঞ্চে পৌঁছে গেছে। করালে কাজ করছে সে। শর্টি আড়চোখে ওর দিকে চাইল। তুমি যখন বলেছিলে এখানে অনেক কাজ আছে-ঠাট্টা করোনি, বুঝতে পারছি। অ্যান্টিলৌপের পুবে অনেক গরু ক্যানিয়নের ভিতরে আছে।
চোখ দুটো খোলা রেখো, পরামর্শ দিল রনি। তুমি হ্যারি আর কিডের সাথে কাজ করবে। কোন ঝামেলা শুরু করতে যেয়ো না। কিন্তু কারও দুর্ব্যবহারও সহ্য করতে বলছি না। থ্রী এইচের কোন গরু দেখলে ওদের পুব দিকে তাড়িয়ে দিও।
হেনরি বাঙ্ক-হাউস থেকে বেরিয়ে এল। ওর চাল-চলন একটু উদ্ধত, খেয়াল করল রনি। অল্পক্ষণ ওকে লক্ষ করে চোখ ফিরিয়ে নিল সে। রজার কাজের মানুষ, কিন্তু হেনরির সাথে ওর মোটেই বনে না। রজারকে সে খেয়াল করেছে–কিন্তু হেনরির থেকে দূরে থাকলেই সে ভাল কাজ করে। রজার তুমি আজ টেরির সাথে কাজ করবে। গরুগুলোকে তাড়িয়ে ম্যাণ্ডালে স্প্রিংসের কাছে জড়ো কোরো। তোমরা যারা খড়ের গাদা নিয়ে কাজ করছ, তোমাদেরও ওই একই কাজ।
আর আমি? হেনরি জানতে চাইল।
তুমি আমার সাথে যাবে। আমরা রোউজ বাডের দিকে যাব।
ওর চেহারায় কিছু চকচক করে উঠল। কিন্তু আমি তো রজারের সাথেই কাজ করি। আমরা দুজনে চমৎকার আছি।
হ্যাঁ, কিন্তু আজকে তুমি আমার সাথে যাবে। আমরা রোউজ বাডের দিকে যাব। তুমি আর আমি একসাথেই যাব। রোউজ বাড, র্যাবিটহোল, আর শুগারলোফের কাছে মরুভূমিটাও একটু দেখে আসব।
কার্প ওকে সাবধান করেছে যে বোজ বাডের কাছেই কোথাও ওকে অ্যামবুশ করে হত্যা করার চেষ্টা করা হবে। এটা খুবই সম্ভব যে হেনরি নিজেই এর সাথে জড়িত আছে। কিন্তু লোকটা যদি তার সাথেই থাকে তবে তার পক্ষে হত্যাকারীদের গোপনে খবর দেয়াটা সম্ভব হবে না। সেই সাথে ওই বিশাল লোকটা সম্পর্কে, আর অচেনা এলাকা সম্পর্কেও তার জ্ঞান বাড়বে।
পুবের আকাশে রিজের মাথায় সূর্যটা মাত্র উঁকি দিয়েছে, এই সময়েই ওরা রওনা হয়ে গেল। হেনরিকে কিছুটা বিষণ্ণ দেখাচ্ছে-কোন কথাই বলছে না সে। ওর পাশাপাশি রোউজ বাড ক্যানিয়নের দিকে এগোচ্ছে রনি।
গরু চুরি, হঠাৎ বলে উঠল রনি, ওটা এই এলাকার জন্যে শেষ। এক মাসের মধ্যেই আমরা ওটার শেষ দেখে ছাড়ব। এই দলটা খুব অসাবধান হয়ে উঠছে। স্টেজ ডাকাতদের থেকেও ওরা খারাপ।
এখন পর্যন্ত ওদের কেউ কিছু করতে পারেনি, মন্তব্য করল হেনরি। ওর মুখের ভাবে কৌতুক।
এখনও পারেনি, এটা ঠিক, স্বীকার করল রনি। কিন্তু ওদের গোপন আস্তানা এখন আর ওদের কোন কাজে আসবে না।
