ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে ওকে হটিয়ে নিয়ে রিজ পার হলো সে। কারণ ওকে পিঠে নিয়ে ওই ঢালু রিজ পার হতে পারত না টুপার। ওপারে পৌঁছে ঘোড়ায় চেপে রওনা হলো রনি।
সেভেন পাইনস আজকে জম-জমাট। কারণ আজ সবাই বেতন পেয়েছে। রনিকে নিয়ে ক্লান্ত গেল্ডিঙটা সেভেন পাইনসে ঢুকল।
আস্তাবলে পৌঁছে ঘোড়াটাকে রাখল সে। আস্তাবলরক্ষীই ওটার যত্ন নেবে। সেলুনগুলো ভর্তি। সবাই আনন্দ করছে–পে ডে। পিয়ানো বাজছে। সেইসাথে বাইরে কিছু মাতালও ওই সুরে বেসুরো গলায় গান গাইছে। পিয়ানো আর চিৎকারের আওয়াজ শহরটাকে যেন মাতিয়ে রেখেছে। মাঝে মাঝে পিস্তলের আওয়াজও শোনা যাচ্ছে–কিন্তু সেটা কাউকে মারার জন্যে নয়–স্ফূর্তিতে। অ্যাডাম বারের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঠাণ্ডা সতর্ক চোখে সে সব খেয়াল করে দেখছে।
ওরা হৈচৈ করে বটে। কিন্তু ক্যাশ টাকা দিয়ে মদ কিনে খায়।
একটা চতুর কল্পনা এটা। একটা ভুয়ো ক্লেইমে কিছু সোনা ছড়িয়ে রেখো, এতে অন্য সোনাগুলো পাচার করা সহজ হবে। ওগুলো নিজের মাইন থেকে এসেছে বলে দাবি করা যাবে।
সোনা সোনাই। খনি থেকে একবার বেরিয়ে এলে, কোন খনি থেকে এল, এটা বোঝার কারও উপায় নেই।
একটা লোক দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। শান্ত ঠাণ্ডা চোখ। ওর পরনে মাইনারের পোশাক। কিন্তু দুটো গান ঝুলছে ওর দুপাশে। ভুরু কুঁচকাল অ্যাডাম। লোকটা নতুন তারপর সে চিনতে পারল।
লোকটা ফিনলে হার্ট।
জেমস অনেক কথাই বলেছে ওর ভাই ফিনলের সম্পর্কে। পিস্তলে জেমস-এর হাত ভাল ছিল, একথা সবাই জানে। কিন্তু সে সবসময়েই বড়াই করত যে তার ভাইয়ের হাত আরও ভাল। এই ছিপছিপে লোকটার দিকে এক নজর দেখলেই বোঝা যায় এই লোকের একটা লক্ষ্য আছে। সেটা থেকে ওকে কেউ নড়াতে পারবে না।
বারের মাথায় নিজের আসন পেরিয়ে ঘুরে এগিয়ে এল অ্যাডাম। সেভেন পাইনস-এ ওয়েলকাম! স্বাগত জানাল অ্যাডাম। স্ট্রেঞ্জার, তাই না?
না। স্বরটা নিচু আর ঠাণ্ডা।
সরি, সহজ স্বরে বলল অ্যাডাম। তোমাকে আঘাত দিতে চাইনি আমি। তোমাকে কোনভাবে সাহায্য করতে পারলে আমি খুশি হর।
চারপাশে একবার চেয়ে দেখল লোকটা। তারপর অ্যাডামের চোখে চোখ রাখল। রনি ড্যাশারকে কোথায় পাওয়া যাবে? প্রশ্ন করল ফিনলে।
জয় হয়েছে–একটা পুলক অনুভব করল অ্যাডাম। ড্যাশার? ভুরু উঁচাল সে। মানে যে লোকটা ডাকাতির পরে দেখা দিয়েছিল? ও তো রকিঙ কে-তে গানম্যানের কাজ নিয়েছে।
আজ রাতে সে কি শহরে এসেছে?
হয়তো। আমার সাথে ওর দেখা হয়নি। সাবধানে কথা বলছে। অ্যাডাম। আমার নাম অ্যাডাম। আমি এই সেলুনের মালিক।
লোকটার মুখের ভাবে কোন পরিবর্তন দেখা গেল না। আমার নাম হার্ট, তরুণ লোকটা বলল। আমার একটা ভাই এখানে থাকত।
জেমস। ওকে আমি ভালভাবেই চিনতাম। চমৎকার মানুষ!
দীর্ঘ এক মিনিট অ্যাডামের দিকে চেয়ে থাকল হার্ট। তোমার সম্পর্কে সে ওই কথা বলেনি।
অ্যাডাম ওর কথায় খুব ক্ষুব্ধ হলো। ফিনলের ব্যবহারে সে অত্যন্ত বিরক্ত বোধ করছে। হাজার হলেও সে এই শহরের মেয়র। এই লোকটা তাকে এভাবে অগ্রাহ্য করছে, এটা ওর সইছে না। জেমসের কাউকে তোয়াক্কা না করে চলাফেরা করা। এটাও ওর খুব অপছন্দ ছিল। ওর ভাইও ওর চেয়ে কিছু কম যায় না বরং একটু বেশিই। দুজন একই রকম।
খুব খারাপ কথা! ফেটে পড়ল অ্যাডাম। আমাকে অপছন্দ করার ওর কোন কারণ দেখি না। আর ও কে, যে আমার মত মানুষকে বিচার করবে? অ্যাডাম মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করে না। সে নিজেই সবার বড়। মেয়র।
ওহ, ওসব কথা ভুলে যাও। বিষয়টা যে কেমন বিচ্ছিরি আকার নিয়েছে, এটার সে প্রতিবাদ করল না। ওর একটাই প্রশ্ন-ড্যাশার কই?
জানি না। হয়তো শহরেই আছে। আসলে কি যে ঘটেছে সেটা কেউ জানে না। ড্যাশার আসার পরে আমরা কোন গুলির শব্দ শুনিনি।
তাহলে বলতে চাও, ড্যাশারই মেরেছে ওকে?
না, তা বলছি না, তবে ঘটনা যেন একটু কেমন। বলা যায় না, হয়তো রনিও জেমসকে মেরে থাকতে পারে।
ঠিক আছে, ওর সাথে কথা বলতে চাই আমি। অ্যাডাম বুঝতে পারছে এটাই জেমসের ভাই ফিনলে হার্ট। ও যে পিস্তলবাজিতে দক্ষ এটা সবাই জানে। ওদের মধ্যে একটা গান-ফাইট হোক এটাই সে চাইছে। আমি ওকে চাই। ও কি শহরে আছে?
হয়তো, জানি না আমি। জবাব দিল সে। আসলেই সে জানে না, ও শহরে আছে কিনা।
আমার ওর সাথে দেখা করা দরকার।
তোমাকে আর অপেক্ষা করতে হবে না। অ্যাডামের স্বরটা সন্তুষ্টিতে একটু কঠিন শোনাল। আর, সায়মন, কোন গান-ফাইটারের হাতে মারা পড়েছে। ও নিজেও ভাল গানম্যান ছিল। কিন্তু যে ওকে
মেরেছে সে আরও ভাল। ওকে যথাযথ সুযোগ খুনী দিয়েছিল।
তাই? গ্লাসটা বারের ওপর রাখল হার্ট। আমি ভাবছি, শান্তস্বরে সে বলল, রনি ড্যাশারের সাথে আমার কিছু কথা হওয়া দরকার।
তোমাকে আর অপেক্ষা করতে হবে না। অ্যাডামের গলার স্বর একটা বিকৃত আনন্দে ফ্যাসফ্যাসে শোনাল। ওই যে, দরজায় ওকে দেখা যাচ্ছে!
ফিনলে হার্ট ঘুরে ট্রেইলের সবথেকে নামকরা পিস্তলবাজের মুখোমুখি হলো। লোকটা ওয়াইল্ড বিল হিককের মতই নামকরা ফাইটার। বারে বসা লোকজনের মাথার উপর দিয়ে ওর দিকে তাকাল হার্ট। সতর্ক নীল চোখ, কঠিন চোয়াল, সুদর্শন লোকটা কালো চওড়া হ্যাটের তলা দিয়ে ওর দিকেই চেয়ে আছে। ঊরুর সাথে বাঁধা দুটো সাদা হাতলের পিস্তল ওর দু’পাশে ঝুলছে। লোকটা ওই সময়ের একজন ভয়ঙ্কর আর সম্মানিত মানুষ।
