তোমার ভাবনার কিছু নেই! শক্ত স্বরে জবাব দিল ট্রেসার। আমি এখানকারই মানুষ! তুমিও কি তাই?
ঘোড়ার কাছে ফিরে গেল রনি। জ্বলন্ত দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ট্রেসার।
মুহূর্তের জন্যে গুলি করতে ইচ্ছে হচ্ছিল ওর–কিন্তু মনটা যেন কেমন দুর্বল হয়ে এল–মনে হলো এই লোকের বিরুদ্ধে পিস্তলের খেলায় নামলে তাকে মরতে হবে। কিন্তু ভয় ওর ধাতে সয় না। ভয় কাটিয়ে উত্তেজিত হয়ে উঠল সে। কঠিন লোক বলে ওর অহঙ্কার আছে। কেবল বসের কাছেই সে একটু নিচু হয়ে থাকে। এমনকি লারামিও ওকে ঘাটাতে চায় না। এড়িয়ে যায়। জানে নোকটা সহজেই খেপে ওঠে।
অযথা হত্যা লারামির নীতি-বিরুদ্ধ।
ঘোড়ার কাছে পৌঁছে ইতস্তত করছে রনি। বোকা নয় সে। জানে সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। দলের লোকজন ফিরবে। ওদের কেউ হয়তো ওকে সেভেন পাইনসের শহরে দেখে থাকতে পারে। তাছাড়া ওরা সবাই আসবে সরাসরি বস্-এর কাছ থেকে। সুতরাং ওরা জানবে নতুন কাউকে নিয়োগ করা হয়নি।
ট্রেসার সন্দিগ্ধ ভাবে ওকে লক্ষ করছে। মনে মনে নিজেকে দুষছে রনি। এই লোকটা জেগে ওঠার আগেই তার সরে পড়া উচিত ছিল। ধীরে ঘোড়া নিয়ে আস্তাবলের দিকে সরতে শুরু করল। একটা সংঘর্ষ ছাড়া এখান থেকে বেরোনো যাবে না বুঝে মনে একটা জ্বালা বোধ করছে রনি। সাধারণত সহজে রাগে না সে। কিন্তু এখন ওর ভিতরটাও খেপে উঠছে।
দরজা আটকে দাঁড়িয়ে আছে ট্রেসার। রনিকে সরাসরি কেবিনের দিকে আসতে দেখে দরজা ছেড়ে সরে দাঁড়াল সে। ভিতরে ঢুকে রনি
কফি পটটা পরিষ্কার করে আগুনে চাপাল।
কফি আমি সব সময়েই পছন্দ করি, অনিশ্চিতভাবে মন্তব্য করল ডাক।
ট্রেসার কিছুই বলল না, দরজা ছেড়ে ভিতরে ঢুকে একটা চেয়ারে বসল সে। চেয়ারটা ঘুরিয়ে রনির মুখোমুখি করে নিল।
টপারের কথা ভাবছে রনি। পিঠে চড়লে ওই ঢাল বেয়ে উঠতে রক্তরাঙা ট্রেইল
পারবে না ও। কিন্তু অন্য কোন পথে গেলে প্রহরীর গুলি খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া ট্রেইল ধরে এগোনোও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। ওদিক থেকে কেউ এসে পড়তে পারে। তখন গোলাগুলি ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। হয় মারতে হবে, নইলে মরতে হবে।
তোমরা কেউ পোকার খেলো?
হ্যাঁ, খেলি। ড্র পোকার আমার খুব পছন্দ। ট্রেসারও খেলে।
তবে-ট্রেসার খোঁচা দেয়ার সুযোগটা ছাড়ল না–আমি কার সাথে খেলব, এতে আমার বাছ-বিচার আছে!
রনি নীরবে, ধীরে ঘুরে দাঁড়াল। কফি পটটা হাতে তুলে নিয়েছিল সে, ওটা এখন নামিয়ে রাখল। মনে হচ্ছে তুমি গায়ে-পড়ে ঝামেলা করতে চাই, বন্ধু? আমি কিন্তু ঝামেলা চাচ্ছি না। বস্ যখন আমাকে এই আউটফিটের কথা বলেছিল তখন ভাল লোকজনের কথাই বলেছিল। তোমার মত বিষাক্ত মানুষের কথা সে বলেনি। আমি যদি থাকি, তাহলে তোমাকে আমার নিশ্চয় মেরে ফেলতে হবে!
ট্রেসারের ঠোঁট চিকন হলো। আমাকে মারবে? তাচ্ছিল্যের সাথে বলল সে। তুমি নিশ্চয় নিজেকে একজন বড় গানম্যান মনে করো।
বোঝার একটাই উপায় আছে, বলল রনি। তুমি যে কোন সময়ে চেষ্টা করে দেখতে পারো। ঠাণ্ডা নীল চোখের লোকটা ট্রেসারকে পাল্টা হুমকি দিল। মরতে চাইলে কেউ তোমাকে ঠেকাবে না।
ট্রেসারের আঙুলগুলো ওর পিস্তলের বাটের ওপর ছটফট করছে। চোখ দুটো সচেতন। তবু রেড রিভার রেগানের নীল চোখের দিকে চেয়ে ওর ভিতরটা কেমন যেন কুঁকড়ে এল। একটা মাছি উড়ে গিয়ে ওর নাকের ওপর বসল। একটা ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে গেল ওর শিরদাঁড়া বেয়ে।
আমি কে তুমি জানো?
তাতে কিছু আসে যায় না। মরা মানুষের পরিচয়ে আমার কোন আগ্রহ নেই।
কী, এত বড় কথা?
মুহূর্তে ঘটে গেল ঘটনা। খাপ থেকে পিস্তল বের করার আগেই দুটো গুলি বিধল ট্রেসারের বুকে। প্রায় একই জায়গায়, বুকের বাম দিকে–এক ইঞ্চি ব্যবধানে।
চিত হয়ে পড়ল সে, মৃত।
একবার বেইলির দিকে চাইল সে। লোকটা দ্রুত এগিয়ে সঙ্গীকে পরীক্ষা করে দেখল। সন্দেহ নেই সে মৃত। অথচ এদিককার সবথেকে নামজাদা গানম্যান ছিল সে। নবাগত লোকটা ওকে এভাবে সুযোগ দিয়ে…ভাবতে পারছে না ডাক। চোখের সামনে এভাবে ট্রেসার…অবশ্য ট্রেসারেরই দোষ, সেই আগে পিস্তল বের করার জন্যে হাত বাড়িয়েছিল। সবটাই সে নিজে দেখেছে। অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। ও পিস্তলের বাঁটে হাত দেয়ার আগে পিস্তল তোলেনি রেগান। তাই সে কিছুই বলল না। বলার উপায়ও নেই-কারণ সবটাই সে দেখেছে। লড়াই ট্রেসারই প্রথম শুরু করেছে। এটা ওরই দোষ।
রেড রিভার রেগান নীল চোখে ওদিকে চাইল। ওকে সুযোগ আমি দিয়েছিলাম। নিজের মৃত্যু সে নিজেই ডেকে এনেছে।
মাথা ঝাঁকাল ডাক। ও-ও সবসময়েই ছিল ঝগড়াটে। সবটাই আমি দেখেছি। তোমাকে কেউ দোষ দিতে পারবে না।
এবার যাবার একটা ভাল সুযোগ দেখে তা ছাড়ল না রনি। মনে হয়, বলল সে, এখন আমার বসের সাথে দেখা করে ওকে সব কথা জানানো দরকার। এটা সে পছন্দ করবে না।
মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানাল ডাক। হ্যাঁ। তোমার ওর সাথে দেখা করা দরকার। তবে সে খুব বিরক্ত হবে বলে মনে হয় না। তুমি আছ, ওর চেয়ে অনেক ভাল পিস্তলবাজ তুমি। অনেক ফাস্ট।
পিস্তলে দুটো গুলি ভরে নিল রনি, তারপর দরজা দিয়ে বেরিয়ে এল। ঘোড়ায় চড়ে যেদিক দিয়ে এসেছে সেদিকেই রওনা হলো রনি।
ডাক বেরিয়ে ওকে উল্টো পথে যেতে দেখে খুব অবাক হলো। কিন্তু রনি সোজা পথে বেরোতে চায় না, কারও সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে–তাহলে ঝামেলা হবে। ঝামেলা নিজে ডেকে আনতে চায় না সে। ওটা যদি সেধে ওর কাছে আসে, সে তার ব্যবস্থা নিতে পারবে।
