তা ঠিক, মনে হয় এর পিছনে বসের বিশেষ কোন উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু সে এতই ভাল যে ওর চিন্তার কোন কারণ ছিল না।
খুব ফাস্ট
আমার বিশ্বাস, হার্ডিনের থেকেও ফাস্ট। ক্লে অ্যালিসন, ব্যাট মাস্টারসন, ওরা কেউ ওর সামনে দাঁড়াতেই পারবে না। এবং খেপলে, ওর মত নিষ্ঠুর আর কেউ হতে পারে না। হাই তুলল ডাক। লারামির এতক্ষণে এসে পৌঁছবার কথা, বলল সে, ও এসে পৌঁছলেই বাচি। আমার সিগারেটের তামাক প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
ডাক বেইলি আরেকটা সিগারেট তৈরি করার ফাঁকে ট্রেসার নড়েচড়ে জেগে ওঠার জোগাড় করল। ওর সম্পর্কে যা শুনেছে, তাতে মনে হয় না ওই নোক ওকে ডাকের মত সহজে মেনে নেবে। এই এলাকায় ঢুকে সে যা জেনেছে, তাতে মনে হয় ট্রেসারও ওই হোল্ড আপে জড়িত ছিল।
সে যা শুনেছে তাতে বসের সঠিক পরিচয় না পেলেও কিছু লোকের পরিচয় সে পেয়েছে। কিন্তু ওই বসকে ওর চাই-যে ঠাণ্ডা মাথায় হার্টকে ওভাবে হত্যা করেছে। রনির এখানকার কাজ শেষ হয়েছে; এখন যত জলদি বেরোনো যায় ততই ভাল। কিন্তু হঠাৎ ঘোড়ার পিঠে চড়ে এখান থেকে চলে গেলে, ডাকের কাছে সেটা অদ্ভুত ঠেকবে। পিস্তলের ব্যবহার না করে এখান থেকে বেরোতে পারলেই সবথেকে ভাল হয়। অবশ্য পরিচয় ফাস না করে যদি এখানে থাকা সম্ভব হত, তাহলে বস–যেই হোক তার দেখা পাওয়া সম্ভব হত। হার্টের হত্যাকারীকে সে চায়।
আমার ঘোড়াটাকে একটু পানি খাওয়ানো দরকার, বলে উঠে বেরিয়ে এল সে। পিছনে চেয়ার ঠেলে সরাবার আওয়াজে বুঝল ডাক চেয়ার ছেড়ে উঠে ওকে লক্ষ করে দেখছে। নির্বিকার ভাবে সে খোলা জায়গা দিয়ে এগিয়ে ঘোড়াটার পাশে হাজির হলো। ওকে দেখে ঘোড়াটা খুশির একটা হ্রেসা ধ্বনি করল। সে যদি পিস্তল ব্যবহার না করে এখান থেকে বেরোতে পারে, সেটাই সবচেয়ে ভাল হবে। ঘোড়াটাকে পানি খাওয়াবার জন্যে নিয়ে গেল সে। লক্ষ করল, পিছন থেকে ডাক ওর ওপর নজর রেখেছে। ঘোড়াটা নাক ডুবিয়ে পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি খেলো। রনি পাশেই একটা কাঠের গুঁড়ির ওপর বসল। কেবিনের দরজা থেকে ওকে দেখা যাচ্ছে না। হ্যাটটা খুলে পোস্টের ওপর এমন ভাবে বসাল, যে আপাত দৃষ্টিতে মনে হবে সেই ওখানে বসে আছে। হামাগুড়ি দিয়ে করাল পার হয়ে সোজা হয়ে দাড়াল। তারপর হালকা পায়ে কেবিনের পিছনে এসে দাঁড়াল।
ওর ধারণা ডাক এখন ট্রেসারকে জাগাবে। ওর ধারণা যে ঠিক তা একটু পরেই বোঝা গেল। একটা বিরক্ত স্বর খেকিয়ে উঠল। কি হয়েছে? আমাকে খামোকা কেন ওঠালে?
আমাদের এখানে একজন নতুন মানুষ কাজে এসেছে।
ট্রেসার যে চমকে বিছানায় উঠে বসেছে সেটা ওর খাটটা ককিয়ে উঠতে শুনেই বোঝা গেল। কি বললে?
একটা নতুন মানুষ। ঘণ্টা দেড়েক আগে এখানে এসেছে। ওর নাম রেড রিভার রেগান। চেনো?
মনে হয় না। কোথায় সে?
ঘোড়াকে পানি খাওয়াচ্ছে। লম্বায় আমার সমানই হবে, কিন্তু আমার চেয়ে একটু ভারি। বলল, বস্ ওকে পাঠিয়েছে। সোজা ঢুকে এসেছে–মনে হলো কোথায় আছে সে জানে। আমার নাম সে ঠিকই বলল, তোমারটাও।
নতুন মানুষ নেয়ার কোন কথাই হয়নি। আমাদের যথেষ্ট লোক আছে।
ওটা বসুকে বোলো। ক্ষুব্ধ হয়ে জবাব দিল ডাক। লোকটা সত্যিই ভাল। মনে হয় টেক্সাসের লোক।
বসের আরও লোক কিসের দরকার? এমনিতেই ভাগে টাকা কম পড়বে। লারামি, হেনরি, তুমি, আমি আর বস্-যথেষ্ট। এই লোকের এখানে নাক গলানো আমার পছন্দ হচ্ছে না। ওকে কঠিন লোক বলেই মনে হয়।
আমার গান-বেল্টটা কই? ওকে আমি দেখতে চাই। দ্রুত ছুটে ফিরে হ্যাটটা মাথায় পরে ঘোড়াটাকে আবার গাছের নিচে নিয়ে গেল রনি।
ট্রেসার দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে–ওর বিশাল দেহ দরজাটা প্রায় ভরে ফেলেছে। ওর পরনে ময়লা শার্ট আর তালি দেয়া জিন্স্। ওর বুট গোড়ালির দিকে অনেকটা ক্ষয়ে নিচু হয়ে এসেছে। ওর পিস্তলটা একটু নিচুতে ঊরুর সাথে ফিতে দিয়ে বাঁধা। দাড়ি কামায়নি, চুল উষ্কখুষ্ক, শক্ত লোকটার চোখে বিদ্বেষ। ধীর পায়ে সূর্যের আলোয় বেরিয়ে এসে সে চিৎকার করে বলল, অ্যাই, শোনো।
রনি ওকে উপেক্ষা করল। আরও কয়েক পা এগিয়ে এল সে। অ্যাই! আমি যখন কথা বলি, জবাব আশা করি!
টপারের লাগামটা ছেড়ে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল ড্যাশার। ওর নীল চোখ দুটো কঠিন হয়ে উঠেছে। কারও থেকে এমন ব্যবহার সে সহ্য করতে রাজি নয়। ট্রেসার যদি ঝামেলা চায় তবে সে উচিত জবাবই পাবে। আমার সাথে ভাল ভাবে কথা বললে আমি জবাব দিই। নইলে আমার ইচ্ছা হলে জবাব দেব।
খেপল ট্রেসার। কঠিন লোক, হ্যাঁহ? তোমাকে কে এখানে পাঠিয়েছে?
বস পাঠিয়েছে।
কে পাঠিয়েছে? কোন বস? বিপদের আশঙ্কায় রনির পেশীগুলো শক্ত হলো। আমি নাম বলব। মানা আছে।
আঘাতটা ঠিক জায়গাতেই পড়েছে বোঝা গেল, কারণ ইতস্তত করছে ট্রেসার। তারপর বলল, ওর চেহারার বর্ণনা দাও।
কোন বর্ণনা আমি দেব না! সরাসরি জবাব দিল রনি। আমি জানি
তুমি কে। ডাক কে তাও আমি জানি না, তবে আমাকে যে পরিচয় দেয়া হয়েছে তার সাথে ওর সবই মেলে। ওকে সহজেই চেনা যায়।
এই লোকটাকে যদি বস্ পাঠিয়ে থাকে, তবে ঝামেলা করতে চায়
ট্রেসার। ইতস্তত করছে সে। কিন্তু লোকটা যদি পাই হয়? ফিনলে হার্ট শহরে এসেছে, এটা সে জানে। ফিনলের কথা শুনে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শুর মুখোমুখি হতে চায় না। এই লোকটাই ফিনলে হতে পারে।
