ফ্রেড ও জর্জ ওয়েসলি ভেতরে প্রবেশ করেছে। হ্যারি পোশাকটা সাথে সাথে লুকিয়ে ফেলল। সে তার অনুভূতি কারো সাথে ভাগ করে নিতে চায় না।
শুভ বড়দিন।
তাকিয়ে দেখ হ্যারি একটা উইসলি জাম্পার পেয়েছে।
ফ্রেড আর জর্জ জাম্পার পরা ছিল। একটাতে হলদে রঙে বড় করে এফ লেখা ছিল অপরটাতে হলদে রঙে বড় করে জি লেখা ছিল।
হ্যারির জাম্পার হাতে নিয়ে ফ্রেন্ড বলল–আমাদের উপহারের তুলনায় তোমার উপহার সবচেয়ে ভাল। যেহেতু তুমি আমাদের পরিবারের সদস্য নও, সেহেতু মা তোমার জন্য আরও বেশি পরিশ্রম করে সুন্দর করে বানিয়েছে।
তুমি কেন তোমারটা পরছ না রন? জর্জ জানতে চাইল ও বলল এটা পর, কি সুন্দর এবং উষ্ণ।
মেরুন রঙ আমার পছন্দ নয়, মা প্রতিবছর এই রঙের সোয়েটার আমার জন্য বুনেন। জাম্পার খুলতে খুলতে রন বলল।
তোমারটাতে কোন অক্ষর নেই। জর্জ বলল–তার ধারণা তুমি তোমার নাম ভুলে যেতে পার না। আমরা বুদ্ধ নই। আমরা জানি আমাদেরকে ফ্লেভ এবং জর্জ বলা হয়।
কী ব্যাপার, এত হইচই কিসের? পার্সি উইসলি বিরক্ত স্বরে দরজায় মুখ বাড়িয়ে বললো। তারও উপহারের প্যাকেট খোলা প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। তার হাতেও একটা জাম্পার। ফ্রেন্ড তার জাম্পারটা কেড়ে নিল।
প্রিফেক্ট লিখতে পি। পার্সি এদিকে এসো। আমরা সবাই আমাদের জাম্পার পরেছি। হ্যারিও একটা পরেছে।
না, আমি পরব না। পার্সি বলল।
উইসলি যমজ দুভাই পার্সিকে চশমা পরা অবস্থায় জাম্পার পরাতে গেল। তার চশমাটা বাঁকা হয়ে গেল।
আজ তো তুমি প্রিফেক্টদের সাথে বসছ না। জর্জ বলল–বড়দিনের অনুষ্ঠান তো একটা পারিবারিক অনুষ্ঠান।
***
হ্যারি তার জীবনে বড়দিনের কোন ভোজে যোগ দেয়নি। একশটি তরতাজা টার্কির রোস্ট, অফুরন্ত সেদ্ধ আলু, মাখন দেয়া মটরশুটি এবং সুস্বাদু সস। একটু পর পরই বিকট আওয়াজে বোমা ফুটছে।
এই অদ্ভুত আতশবাজির সাথে মাগলদের আতশবাজির কোন তুলনা হয় না। ডার্সলি প্লাস্টিকের খেলনা এবং পাতলা কাগজের হ্যাটের সাথে সেসব আতশবাজি ক্রয় করে থাকেন। ফ্রেডের সাথে হ্যারি জাদুকরের আতশবাজি ফোটালো। এটা শুধু শব্দ করেনি, কামানের মতো বিকট আওয়াজ করেছে। কালো ধোঁয়া তাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলল। আর ভেতর থেকে বিস্ফোরিত হলো একটা রিয়ার এ্যাডমিরালের হ্যাট ও কয়েকটা প্রাণী, সাদা ইঁদুর। উঁচু টেবিল ডাবলডোর তার হ্যাটটা ফুলের তোড়ার ওপর রেখে ফ্লিটউইকের সাথে আনন্দ কৌতুক করছেন।
ভোজনের পর এলো পুডিং। পার্সি তার দাঁত খোয়াতে বসেছিল প্রায়। হ্যারি লক্ষ্য করে দেখল–মদ চাইতে চাইতে হ্যাগ্রিডের চেহারা ক্রমশ লাল হচ্ছে। হ্যারি অবাক হয়ে দেখল হ্যাগ্রিড অধ্যাপক ম্যাকগোনাগলের চিবুকে চুমো খাচ্ছেন। ম্যাকগোনাগল লজ্জায় লাল হয়ে হাসলেন। তার হ্যাটটা তেরচা হয়ে গেছে।
হ্যারি যখন সবশেষে টেবিল ত্যাগ করল তখন তার ওপর এক বোঝার ভার। অদাহ্য তারাবাতি, বেলুন ও টুকটাক জিনিস। তার জাদুর নিজস্ব দাবার সেট। সাদা ইঁদুর অদৃশ্য হয়ে গেছে এবং হ্যারির মনে এক বাজে চিন্তা এল যেন তাদের দশা হবে মিসেস নরিসের বড়দিনের ভোজের মত।
হ্যারি আর উইসলি যমজ দুই ভাই মাঠে বরফ নিয়ে খেলা করে একটি সুন্দর বিকেল কাটাল। ঠাণ্ডা, ভিজে অবস্থায় হাঁপাতে হাঁপাতে তারা তিনজন শরীরকে গরম করার জন্য গ্রিফিল্ডর হাউজের কমন রুমে ফিরে এলো। হ্যারি দাবা খেলায় রনের কাছে গো–হারা হারল। হ্যারির ধারণা–পার্সি যদি রনকে এত সাহায্য না করত তাহলে খেলার ফলাফল এরূপ হতো না।
তারপর চায়ের সাথে এলো টার্কি স্যান্ডউইচ, বড়দিনের কেক ইত্যাদি। সব মিলিয়ে এটাই ছিল হ্যারির জীবনে সর্বোত্তম বড়দিন পালন। বিছানায় শুয়ে সে পাশ থেকে অদৃশ্য হওয়ার পোশাকটা বের করার চেষ্টা করল। এটা তার বাবা ব্যবহার করেছেন। রেশমের চেয়ে কোমল। এত হালকা যে বাতাসে ওড়ে। চিরকুটে লেখা ছিল-এটার সঠিক ব্যবহার কর।
এই পোশাকটার সঠিক ব্যবহার করতে হবে। তাকে এখন পোশাকটা পরতে হবে। পোশাকটা পরে সে বিছানা থেকে নামল। তার পায়ের সামনে জ্যোৎস্না খেলা করছে।
পোশাকটা পরার পর হ্যারির সমস্ত সত্তা নতুন করে জেগে উঠল। সম্পূর্ণ হোগার্টস তার সামনে উপস্থিত হলো। অন্ধকার আর নীরবতায় দাঁড়িয়ে নিজেকে মহানায়ক ভাবতে হ্যারির খুব ভালো লাগছিল। এ পোশাক পরে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে সে যেখানে খুশি সেখানেই যেতে পারে। কেয়ারটেকার ফিলচও কিছুই জানতে পারবেন না।
রন ঘুমিয়েছিল। হ্যারি ভাবছিল তাকে জাগাবে কিনা। পরে সে ভাবল রনকে জাগানো ঠিক হবে না। তার বাবার পোশাকের সাথে কাউকে সঙ্গী করা ঠিক হবে না। সে ঠিক করল একাই পোশাকটা ব্যবহার করবে।
সে ডর্মিটরি থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল। কমনরুম দিয়ে বেরিয়ে দেয়াল বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল।
ওখানে কে? মোটা মহিলাটি প্রশ্ন করল–হ্যারি কোন জবাব দিল না। সে তাড়াতাড়ি করিডোর পেরিয়ে নিচে নামল।
সে কোথায় যাবে? সে দাঁড়াল। তার বুক কাঁপছে। এখন সে সেই স্থানটিতেই আসল–লাইব্রেরির নিয়ন্ত্রিত অংশ। হ্যারি এবার জানতে পারবে, পড়তে পারবে ফ্লামেল কে ছিলেন। অদৃশ্য হওয়ার পোশাক পরে সে হাঁটতে লাগল।
লাইব্রেরির ভেতরে ছিল ভুতুড়ে অন্ধকার। হ্যারি একটা প্রদীপ জ্বাললো।
