হারমিওন লাইব্রেরির ক্যাটালগ দেখতে লাগল। রন লাইব্রেরির বই দেখছিল আর হ্যারি চলে গেল নিয়ন্ত্রিত বইয়ের কোনায়। এখানকার বই ইস্যু করতে হলে কোন একজন শিক্ষকের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। কালো জাদুর ওপর নিয়ন্ত্রিত কিছু বই ছিল যা হোগাৰ্টসে কখনও পড়ানো হতো না। কালো জাদুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বিষয় নিয়ে যে সমস্ত সিনিয়র ছাত্র লেখাপড়া করত কেবল তাদেরকেই এ সমস্তু বই পড়তে দেয়া হত।
তোমরা কী খুঁজছ?
কিছুই না। হ্যারি জবাব দিল।
লাইব্রেরিয়ান মাদাম পিনস–তার ধূলা ঝাড়ার পালক তাদের দিকে ভাক করে বললেন–তাহলে তোমরা এখন বাইরে যাও।
হ্যারি লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে এলো। সে, বন ও হারমিওন একমত হয়েছিল যে তারা মাদাম পিসকে ফ্লামেল সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞেস করবে না। তিনি নিশ্চয়ই ফ্লামেল সম্পর্কে বলতে পারবেন। তবে তারা কী খুঁজছে এটা স্নেইপ জানুন সেটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
হ্যারি কিছুক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করে দেখে রন ও হারমিওন কোন ক্লু পেয়েছে কিনা। তবে হ্যারি তেমন আশাবাদীও ছিল না। গত পনেরো দিন ধরে তারা ফ্লামেল সম্পর্কে জানার এত চেষ্টা করেছে, কিন্তু লাভ হয়নি। তারা চাচ্ছিল মাদাম পিনসের অনুপস্থিতিতে লাইব্রেরিতে এটা ভালভাবে খুঁজবে।
পাঁচ মিনিট পর রন আর হারমিওন হ্যারির কাছে এলো। তারা নানা রকম চিন্তাভাবনা করে মধ্যাহ্নভোজে গেল। আমি না থাকলেও তোমরা খুঁজে দেখ। হারমিওন বলল–যদি কিছু পাও আমার কাছে একটি পাচা পাঠিয়ে দিও।
তুমি তোমার বাবা–মাকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো নিকোলাস ফ্লামেল কে? রন হারমিওনের উদ্দেশ্যে বলল। তাদেরকে জিজ্ঞেস করাটাই নিরাপদ হবে।
তুমি ঠিকই বলেছ, কারণ তারা দুজনেই দন্তচিকিৎসক। হারমিওন বলল।
বড়দিনের ছুটি শুরু হলে হ্যারি আর রনের সময় খুব ভালো কাটতে লাগল। ফ্লামেল সম্পর্কে ভাবার জন্য তারা অফুরন্ত সময় হাতে পেল। ঊর্মিটরি এখন তাদের দখলে। কমনরুম আগের তুলনায় অনেক ফাঁকা। ছুটিতে সবাই বাড়ি গেছে। তারা ইচ্ছেমত ভালো ভালো আরাম কেদারা নিয়ে আগুনের পাশে বসে। তারা ইচ্ছেমত খেতেও পারে।
বন এখন হ্যারিকে জাদুর দাবা শেখাচ্ছে। খেলাটা অনেকটা মাগলদের দাবা খেলার মত। তফাৎ হলো-এখানে রাজা, মন্ত্রী, হাতী, ঘোড়া, নৌকা সবই জীবন্ত।
বড়দিনের আগের রাতে শোবার সময় হ্যারি ভাবছিল, এবার বড় দিনে অনেক মজা হবে, তবে তার জন্য কোন উপহার আসবে না। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠেই সে অবাক। বিছানায় পায়ের সামনে একগাদা প্যাকেট।
শুভ বড়দিন ঘুম জড়ানো কণ্ঠে রন হ্যারিকে অভিনন্দন জানাল। হ্যারি বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে তার ড্রেসিং গাউন পরে নিল।
তোমাকেও শুভ বড়দিন। হ্যারি বললো–দেখ, আমি একটা উপহার পেয়েছি।
নিজের উপহারগুলোর দিকে তাকিয়ে রন বলল–হ্যারি তুমি কি শালগম আশা করেছিলে?
রনের অনেক উপহার।
হ্যারি তার উপহার খুলল। বাদামী কাগজে প্যাকেটটা মোড়ানো। মোড়ক খোলার পর দেখা গেল ওপরে সুন্দর করে লেখা আছে–হ্যারির জন্য, ইতি হ্যাগ্রিড। প্যাকেটটার ভেতর ছিল একটা কাঠের বাঁশি। হ্যারি বাঁশিটা বাজাল। পেঁচার ধ্বনির মত শব্দ শোনা গেল। দ্বিতীয় প্যাকেটটা ছিল খুবই ছোট। প্যাকেটের ভেতর ছিল টাকা আর একটা চিঠি।
চিঠিতে লেখা আছে–আমরা তোমার বার্তা পেয়েছি। এখানে তোমার বড়দিনের উপহার। আঙ্কল ভার্নন ও আন্ট পেতুনিয়ার উপহারের সাথে সেলো টেপ দিয়ে লাগানো ছিল ৫০ পেনসের একটা নোট।
উপহারের মধ্যে আন্তরিকতা আছে। হ্যারি বলল। হ্যারি ৫০ পেনসের নোট পাওয়াতে রন খুব অভিভূত হলো।
আশ্চর্য। রন মন্তব্য করল-একেবারে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে।
তুমি এটা রাখতে পারো। রনের উল্লাস দেখে হ্যারি রনকে বলল।
হ্যাগ্রিড এবং আমার আঙ্কল ও আন্ট এই দুটো পাঠিয়েছেন।
আর এই প্যাকেটটা?
প্যাকেটটার দিকে তাকিয়ে রন বলল–আমার মনে হয় আমি বলতে পারব-এটা কোত্থেকে এসেছে। আমার মা পাঠিয়েছেন। আমি তাকে বলেছিলাম যে হ্যারিকে বড়দিনে কেউ উপহার পাঠাবে না। তাই তিনি তোমার জন্য একটা পশমীর সোয়েটার পাঠিয়েছেন।
হ্যারি প্যাকেটটা খুলে দেখল–ভেতরে হাতে বোনা একটি সোয়েটার। নিজের প্যাকেট খুলতে খুলতে রন বলল–আমার মা প্রতিবছর আমাদের সোয়েটার বানান। আমারটির রঙ হবে অবশ্যই মেরুন।
তিনি সত্যিই খুব ভালো মানুষ। হ্যারি বলল।
পরবর্তী প্যাকেটে ছিল হারমিওনের পাঠানো মিষ্টি ও চকোলেট ফ্রগ।
উপহারের আরেকটা প্যাকেট খোলা বাকি। ওজনে খুবই হালকা। হ্যারি খুলে দেখে ভেতরে একটা অদৃশ্য হওয়ার পোশাক। হ্যারি পোশাকটা পরল। রন বলল–দেখ পোশাক থেকে একটা চিরকুট নিচে পড়ে গেছে। হ্যারি চিরকুটটা কুড়িয়ে নিল। চিরকুটে ছোট ছোট অক্ষরে লেখা আছে
মৃত্যুর আগে তোমার বাবা আমাকে এটা দিয়ে গিয়েছিলেন।
এখন সময় হয়েছে এটা তোমাকে ফেরত দেয়ার।
এটার সঠিক ব্যবহার কর।
শুভ বড়দিন।
চিঠিতে কারো স্বাক্ষর ছিল না। রন পোশাকের প্রশংসা করে হ্যারিকে চিন্তিত দেখে প্রশ্ন করল–হ্যারি, কি ব্যাপার, কি হয়েছে?
না কিছু না। হ্যারি বলল। তারপর চিন্তা করতে লাগল কে তাকে এ পোশাকটা পাঠিয়েছে। তার বাবাই কি এ পোশাকটার মালিক ছিলেন?
হ্যারি যখন চিঠির রহস্য উদঘাটনের কথা চিন্তা করছিল ঠিক তখনি দরোজা খুলে গেল।
