ওষুধ তৈরির এক ক্লাসে হঠাৎ করে ম্যালফয় উঠে দাঁড়িয়ে বলল আমার তাদের জন্য দুঃখ হচ্ছে যাদেরকে বড়দিনের সময় হোগার্টসে কাটাতে হবে, কারণ তাদের নিজ বাড়িতে ঠাঁই নেই।
ম্যালফয় হ্যারির দিকে তাকিয়ে এই কথা বলল। ঐেব ও গয়েল টিটকারি দিল। হ্যারি তখন ওষুধ প্রস্তুত করছিল। সে ম্যালফয়ের কথায় গা করল না।
কিডিচ খেলায় গ্রিফিল্ডর হাউজের কাছে শিদারিন হাউজের পরাজয়ের পর হ্যারির ওপর তার ক্রোধ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
ম্যালফয়ের এইসব শ্রেষপূর্ণ কথাবার্তায় আর কেউ যোগ দেয়নি। কিডিচ খেলায় গ্রিফিল্ডর হাউজের বিজয়ে হ্যারির বিশেষ ভূমিকা থাকায় হ্যারি এখন হোগার্টসে খুব জনপ্রিয়। হ্যারিকে কাবু করতে না পেরে ম্যালফয় এবার বলল–হ্যারির নিজস্ব কোন পরিবার নেই।
বড়দিনের ছুটিতে হ্যারি প্রিভেট ড্রাইভে যাবে না। বড়দিনের এক সপ্তাহ আগে অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল এসে তালিকা তৈরি করলেন–কারা বাড়িতে যাবে, আর কারা হোগার্টসে থাকবে। বড়দিনে হোগার্টসে থাকতে হবে বলে হ্যারির কোন দুঃখ ছিল না। কারণ এবারের বড়দিনটা হ্যারির খুব আনন্দে কাটবে। রন ও ফ্রেডও হোগার্টসে থাকবে কারণ চার্লিকে দেখার জন্য তার বাবা–মা বড়দিনের ছুটিতে রুমানিয়া যাবেন।
ক্লাস শেষ করে তারা যখন বাইরে বেরুল তখন দেখল, একটি ফারগাছ তাদের গতিরোধ করছে। গাছের পেছন থেকে একটি শব্দ শোনা গেল। ওরা অবাক, কি হতে পারে, না, গাছের পেছনে হ্যাগ্রিড দাঁড়িয়ে আছেন।
গাছের ডালের ফাঁক দিয়ে রন চিৎকার করে উঠল–হ্যাগ্রিড! কোন সাহায্য করতে হবে?
কোন সাহায্যের দরকার নেই। আমি ঠিকই আছি। হ্যাগ্রিড বললেন।
আপনি কি পথ ছাড়বেন? পেছন থেকে ম্যালফয়ের কণ্ঠ শোনা গেল। উইসলি, তুমি কি কিছু অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করতে চাইছ। ভবিষ্যতে তুমিও কি গেমকীপার হতে চাও না–কি? তোমাদের বাড়ির তুলনায় হ্যাগ্রিডের কুঁড়ে ঘর নিশ্চয়ই একটি প্রাসাদ।
রন ম্যালফয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ঠিক সেই সময় স্নেইপ এসে হাজির। তিনি রনকে জিজ্ঞেস করলেন–কী ব্যাপার, কী হয়েছে? রন ম্যালফয়কে ছেড়ে দিল।
গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে হ্যাগ্রিড বললেন–প্রফেসর, ম্যালফয় রনকে খামোখা খেপিয়েছে। সে রনের পরিবার সম্পর্কে যা–তা বলেছে।
তা-হোক। মারামারি করা হোগার্টসের নিয়মের বাইরে, হ্যাগ্রিড। অধ্যাপক স্নেইপ বললেন–উইসলি, গ্রিফিল্ডর হাউজ থেকে পাঁচ পয়েন্ট কাটা গেল। তোমার ভাগ্য ভালো, তোমাকে বেশি কঠিন শাস্তি দেয়া হয়নি। তোমরা সবাই যেখানে যাচ্ছিলে যাও।
ম্যালফয়, ক্রেব ও গয়েল গাছটাকে ঝাঁকুনি দিয়ে যত্রতত্র গাছের কাটা ফেলে দুষ্টামির হাসি হেসে চলে গেল।
ম্যালফয়ের পেছন থেকে রন দাঁত কিড়মিড় করে বলল আমি তাকে একহাত দেখে নেব। একবার না একবার তো সুযোগ পাব।
ম্যালফয় আর স্নেইপ, আমি দুজনকেই ঘৃণা করি। হ্যারি বলল।
হ্যাগ্রিড বললেন-এসব বাদ দাও। বড়দিন আসছে। চল আমরা গ্রেট হলে আনন্দ করি।
হ্যারি, রন, হারমিওন, হ্যাগ্রিড ও তার গাছ অনুসরণ করল। তারা গ্রেট হলে প্রবেশ করে দেখল অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ও ফ্লিটউইক বড়দিনের সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত।
হ্যাগ্রিড, সবশেষে গাছটা এনেছ তুমি, এই গাছটা কোনায় শেষের দিকে রাখবে একটু।
গ্রেট হল খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। দেয়ালে দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। কমপক্ষে বারোটা ক্রিসমাস গাছ ঘরের ভেতর রাখা হয়েছে।
ছুটির আর কদিন বাকি? হ্যাগ্রিড জানতে চাইলেন।
মাত্র একদিন। হারমিওন জবাব দিল। আর এই কথার সাথে, আমার মনে পড়ে যাচ্ছে–মধ্যাহ্নভোজের আর মাত্র আধঘণ্টা বাকি আছে। হ্যারি ও রন, চলো এই সময়টুকু লাইব্রেরিতে কাটাই।
অধ্যাপক ফ্লিটউইক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রন বলল–হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। ফ্লিটউইক সে সময় তার জাদুদণ্ড দিয়ে সোনালী বুদবুদ তৈরি করে সেগুলো নতুন গাছের ওপর ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন।
আবার লাইব্রেরি কেন? হ্যাগ্রিড অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন। ছুটির আগে লাইব্রেরি। তাহলে বোঝা যাচ্ছে লেখাপড়ায় তোমরা খুবই মনোযোগী।
লেখাপড়া করার জন্য আমরা লাইব্রেরিতে যাচ্ছি না। হ্যারি জবাব দিল।
আপনার মুখে নিকোলাস ফ্লামেলের নাম শুনেছি। আমরা তার সম্পর্কে আরো জানতে চাই।
কী জানতে চাও? বিরক্ত কণ্ঠে হ্যাগ্রিড বললেন–আমার কথা শোন। আমি তো আগেই বলেছি এ চিন্তাটা মাথা থেকে নামাও। কুকুর কী পাহারা দিচ্ছে। এ নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামাবার প্রয়োজন নেই।
নিকোলাস ফ্লামেল লোকটা কে–শুধু এটাই জানতে চাই। এর বাইরে অন্য কিছু জানার আগ্রহ আমাদের নেই। হারমিওন বলল। আপনি একটু সাহায্য করলে আমরা খাটনি থেকে মুক্তি পেতে পারি। হ্যারি বলল আমরা এ পর্যন্ত শতাধিক বই পড়েছি। কিন্তু নিকোলাস ফ্লামেল সম্পর্কে কিছুই পাইনি। তবে, আমার মনে হয় কোথায় যেন তার নাম শুনেছি।
আমি এ ব্যাপারে তোমাদের কিছু বলব না। হ্যাগ্রিডের স্পষ্ট জবাব।
ঠিক আছে, আমরা নিজেরাই খুঁজে বের করব। রন বলল। বিরক্ত হয়ে তারা সবাই দ্রুত হাগ্রিডের কাছ থেকে বিদায় নিল।
লাইব্রেরিতে তারা নানা ধরনের বই খুঁজল। জাদুর ওপর সেখানে যে কটা বই ছিল সব তারা তন্ন তন্ন করে দেখল। কোথাও নিকোলাস ফ্লামেলের নাম পাওয়া গেল না। কিন্তু ফ্লামেল সম্পর্কে জানতে না পারা গেলে অধ্যাপক স্নোইপ কী চুরি করতে চেয়েছিলেন জানা যাবে না।
