আমরা তাহলে কী করতে পারি।
সেটা আমার হাতে ছেড়ে দাও।
রন কিছু বলার আগেই হারমিওন অদৃশ্য হয়ে গেল। রন বাইনোকুলার নিয়ে আবার হ্যারির দিকে তাকাল। তার ঝুড়িটা এত কাপছিল যে এটার ওপর বসা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। উইসলি যমজভাই ওপরে উড়ে গিয়ে হ্যারিকে নিরাপদে ঝড়ির ওপর আনার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এতে কোন ফল হয়নি। যতবারই তারা হ্যারির কাছাকাছি গেছে ততবারই ঝাড়ু ওপরে উঠে তাদের কাছ থেকে দূরে চলে গেছে। তারা নিচে নেমে চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে লাগল। তাদের প্রত্যাশা ছিল হ্যারি নিচে নামলে তারা তাকে ধরে ফেলবে। এই সুযোগে মার্কাস ফ্লিন্ট কুয়াফলটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সবার অলক্ষ্যে পাঁচ বার স্কোর করে ফেলল।
হারমিওন, এখানে চলে এসো। রন বেপরোয়া হয়ে তাকে ডাকল। স্নেইপ যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন হারমিওন দৌড়ে গিয়ে তার পেছনের সারিতে দাঁড়াল। স্নেইপের কাছে গিয়ে সে তার জাদুদ বের করল, কয়েকটা নির্বাচিত শব্দ উচ্চারণ করল, উজ্জ্বল নীল শিখা তার জাদুদণ্ড থেকে বেরিয়ে স্নেইপের পোশাক স্পর্শ করল।
সমস্ত ঘটনা ঘটতে তিরিশ সেকেন্ডের বেশি সময় নিল না। সেই বুঝতে পারলেন তার জামায় আগুন লেগেছে। তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাইলেন। হারমিওন আবার জাদুদণ্ডে ফুঁ দিল। পকেট থেকে একটা ছোট পাত্র বের করে সব আগুন পাত্রের ভেতর ঢোকাল। পাত্রটি নিয়ে সে এমনভাবে উধাও হল যে, তাকে খুঁজে বের করা স্নেইপের পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভব হলো না। এতক্ষণে শূন্যে হ্যারি নিজেকে অনেকটা সামলে নিয়েছে। ঝাড়ুর ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ফিরে এল।
নেভিল এবার তাকিয়ে দেখ। রন বলল। নেতি প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে হাগ্রিডের জ্যাকেটে মুখ রেখে কাঁদছিল।
হ্যারি এবার দ্রুতগতিতে ভূমির দিকে এগোচ্ছে।
দর্শকরা দেখল–হ্যারি তার দুহাত মুখের ওপর রাখল। মনে হলো সে অসুস্থ। সে চারদিকে আঘাত করল। এরপর কাশল। সোনা জাতীয় একটা বস্তু তার হাতে এসে পড়ল।
আমি এবার স্নিচকে হাতে পেয়েছি। বস্তুটা মাথার ওপর তুলে হ্যারি চিৎকার করে উঠল। খেলাটা বিভ্রান্তির ভেতর দিয়ে শেষ হলো।
সে তো এটা লুফে নেয়নি। সে তা বলতে গেলে এটা গিলে ফেলেছে। বিশ মিনিট ধরে ফ্লিন্ট এ নিয়ে খুব হইচই করল। এতে কোন ফল হলো না। কারণ হ্যারি কোন নিয়ম ভঙ্গ করেনি। আর লী জর্ডানও তার ধারাভাষ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। খেলাশেষে গ্রিফিল্ডর হাউজ পেল ১৭০ পয়েন্ট আর স্লিদারিন হাউজ পেল মাত্র আট পয়েন্ট। হ্যারি এসবের কোন খবর পায়নি।
বিকেল বেলা হ্যাগ্রিড, হ্যারি, রন আর হারমিওনকে চা দিয়ে আপ্যায়ন করলেন।
রন বলল-এসব কিছুর জন্য স্নেইপই দায়ী। হারমিওন আর আমি দেখলাম তিনি তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছেন আর তাঁর দৃষ্টি তোমার ওপর নিবদ্ধ।
যতসব বাজে কথা। হ্যাগ্রিড বললেন।
হ্যারি, রন ও হারমিওন একে অপরের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল তারা স্নেইপ সম্পর্কে কী বলবে। হ্যারি সত্য কথা বলাটাই ঠিক মনে করল আমি তাঁর সম্পর্কে কিছু জানতে পেরেছি। হ্যারি হাগ্রিডের উদ্দেশে বলল–তিনি হ্যালোইনে তিন মাথাওয়ালা কুকুরটাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কুকুরটা তাকে কামড় দেয়। আমার ধারণা তিনি সবকিছুই চুরি করতে চেয়েছিলেন যা কুকুরটা পাহারা দিচ্ছিল।
হ্যাগ্রিড হ্যারিকে প্রশ্ন করলেন–তুমি কি ফ্লাফি সম্পর্কে কিছু জানো?
ফ্লাফি? হ্যারি অবাক হয়ে হ্যাগ্রিডের দিকে তাকিয়ে।
ফ্লাফি হল সেই কুকুরটার নাম। আমি এ কুকুরটা একজন গ্রীক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনে ডাম্বলডোরকে দিয়েছি।
তারপর? হ্যারি জানতে চাইল।
আর জিজ্ঞেস করো না। এটা অত্যন্ত গোপনীয় বিষয়।
এবার হারমিওন চিৎকার করে জানতে চাইল–তাহলে তিনি কেন হ্যারিকে খুন করতে চাইবেন?
হ্যাগ্রিড রেগে গিয়ে বললেন–তোমরা ভুল করছ। আমি জানি না, হ্যারির ঝাড়ু কেন এমন করল। কিন্তু স্নেইপ কখনোই তার একজন ছাত্রকে খুন করবেন না। তোমরা তিনজনের এমন ভাবাই উচিত নয়। তোমরা কুকুরটার কথা ভুলে যাও। কুকুরটা কী পাহারা দিচ্ছে সেটা নিয়ে তোমাদের মাথাব্যথার কোন কারণ নেই। এটা ডাম্বলডোর আর নিকোলাস ফ্লামেলের ব্যাপার। ওহ তাই হ্যারি বলল। তাহলে নিকোলাস ফ্লামেল নামক কেউ এর সঙ্গে যুক্ত আছেন।
এখানে ফ্লামেল নামে কেউ আছেন কি? হ্যাগ্রিডের মুখ রাগে লাল হয়ে ও
১২. এরিসেডের আয়না
বড়দিন আসছে। ডিসেম্বর ৩০,সর মাঝামাঝি কোন এক সকালে দেখা গেল যে সমগ্র হোগার্টস কয়েক ফুট বরফে ঢেকে গেছে। হ্রদের পানিও জমে বরফ হয়ে গেছে। বরফের টুকরো নিয়ে জাদু করার জন্য উইলি পরিবারের যমজ দুভাইয়ের শাস্তি হয়েছে। তারা বরফের বল তৈরি করে কুইরেলের পেছনে লাগায় এবং বলটা কুইরেলের চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে তার পাগড়িতে লেগে ফিরে আসে। এই শীত উপেক্ষা করে চিঠি বিলি করার জন্য যেসব পেঁচা আসত সেগুলোকে সেবা করে সুস্থ করার দায়িত্ব হ্যাগ্রিডের ওপর।
সবাই ছুটির জন্য অধীর হয়ে গেছে। গ্রিফিল্ডর হাউজের কমন রুম ও গ্রেট হল গরম রাখার ব্যবস্থা থাকলেও করিডোর ছিল কনকনে ঠাণ্ডা। শীতল হাওয়ায় জানালায় প্রচণ্ড ঝটপটানি শোনা যায়।
সবচে খারাপ হলো অধ্যাপক স্নেইপের মাটির তলায় বন্দিশালায় ক্লাস–সেখানে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। আর ছাত্ররা চেষ্টা করত গরম কলড্রনের কাছাকাছি বসতে।
