হ্যারি প্রসাধন কক্ষে অন্য খেলোয়াড়দের সাথে জার্সি পরে নিল। তাদের জার্সির রঙ লাল, আর স্লিদারিন হাউজের জার্সির রঙ সবুজ।
উড গলা পরিষ্কার করে সবাইকে নীরব থাকতে বলল।
তারপর সে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রশ্ন করল–তোমরা সবাই প্রস্তুত তো?
মেয়েরা তোমরা তো প্রস্তুত। চেজার মিস অ্যাঞ্জেলিনা জনসন জানতে চাইল।
আমার মনে হয় মেয়েরাও প্রস্তুত। উড় মন্তব্য করল।
সেই বড় একজন। ফ্রেড উইসলি বলল।
সেই একজনের জন্য আমরা সবাই প্রতীক্ষা করছি। জর্জ বলল।
অলিভারের ভাষণ আমাদের মুখস্থ হয়ে গেছে। হ্যারির উদ্দেশ্যে ফ্রেড বলল। গত বছর আমরা দলে ছিলাম।
তোমরা দুজন চুপ করো। উড ধমক দিল।
গুডলাক। উড খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলল।
খেলার প্রস্তুতি নিয়ে হ্যারি, ফ্রেড ও জর্জের অনুসরণ করল। হ্যারির মনে আশংকা ছিল–খেলার সময় তার হাঁটু তার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। মাদাম তুচ হলেন এ খেলার রেফারি। তিনি ঝাড়ু হাতে নিয়ে মাঠে উপস্থিত হলেন। তার দুদিকে দুদল দাঁড়াল।
তিনি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বললেন–আমি তোমাদের কাছ থেকে একটি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন খেলা দেখতে চাই।
মাদাম হুচ খেলার সূচনা করলেন–তোমরা তোমাদের ঝাড়ুর ওপর উঠে পড়ো।
হ্যারি নিম্বাস ২০০০ ঝাড়ুর ওপর উঠল।
মাদাম হুচ তার রূপালী বাঁশি বাজালেন।
পনেরটা ঝাড়ুকে ওপরে উঠতে দেখা গেল।
গ্রিফিল্ডর হাউজের অ্যাঞ্জেলিনা জনসনের হাতে কুয়াফল।
দেখতে সুন্দর এই মেয়েটি ভাল ধাওয়া করতে পারে…
উইসলি যমজ ভাইদের একজন লী জর্ডান খেলার ধারা বিবরণী দিচ্ছিল।
জর্ডান?
তার ওপর সবসময় নজর রাখছিলেন অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল।
দুঃখিত প্রফেসর।
এবার পরিষ্কার পাস দেয়া হলো এলিসিয়াস্পিনেটকে। সে উডের প্রিয় ছাত্রী। গত বছর সে রিজার্ভে ছিল। বল আবার জনসনের কাছে। না না। এবার বল স্লিদারিন হাউজের দখলে। বলটা চলে গেছে ওদের অধিনায়ক মার্কাস ফ্রিন্টের কাছে। ঈগলের মত উড়ে চলেছে সে। এই বুঝি সে স্কোর করবে। না হলো না। গ্রিফিল্ডর হাউজের কিপার উড় ঝাঁপ দিয়ে বলটি ধরে ফেলেছে। চেজার কেটি বেল এগিয়ে যাচ্ছে। বল অবার অ্যাঞ্জেলিনার হাতে। স্লিদারিন হাউজের কিপার ব্লেচলি ঝাঁপ দিল। না বলটি সে ধরতে পারেনি। গ্রিফিল্ডর হাউজ স্কোরটি করল।
চারদিকে বিপুল হর্ষধ্বনি।
আনন্দে হ্যাগ্রিড রন ও হারমিওনকে জড়িয়ে ধরলেন।
অ্যাঞ্জেলিনা স্কোর করার পর থেকেই হ্যারি মিচের ওপর নজর রাখছিল। হ্যারি বল নিয়ে তীরবেগে এগোচ্ছে। একজন ব্লুজার বাধা হয়ে পঁড়ালেও মাথা নত করে হ্যারি তা এড়িয়ে গেল। কেউ তাকে রুখতে পারছে না। কি করবে চেজারও বুঝে উঠতে পারছে না।
ওরা মাঝ শূন্যে উড়ছে।
হ্যারি অবশ্য হিগসের চেয়েও দ্রুতগামী।
বল এবার গোলার মত ছুটে আসছে।
ধাম।
গ্রিফিল্ডর হাউজ চিৎকার করে উঠল—ফাউল।
মাদাম হুচ শটের নির্দেশ দিলেন।
স্নিচ আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। গ্যালারির মধ্য থেকে টমাস চিৎকার করে উঠল–তাকে লাল কার্ড দেখানো হোক।
রন বলল-এটা তো ফুটবল খেলা নয়। এখানে লালকার্ডের কোন নিয়ম নেই।
হ্যাগ্রিড বললেন–খেলার তো কিছু নিয়ম–কানুন আছে। ফ্লিন্ট হ্যারিকে আকাশে ধাক্কা দিয়েছে। লি জর্ডান বলল-এটা খুব খারাপ। এক ধরনের ধোকাবাজি।
ম্যাকগোনাগল জর্ডানকে ধমক দিলেন।
জর্ডান বলল–ওটা তো ফাউল ছিল। তিনি নিরপেক্ষ হতে পারছিলেন না।
অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল বললেন–জর্ডান, আমি তোমাকে আবার হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি।
খেলা জমে উঠল। হ্যারি একজন ব্লুজারকে কাটিয়ে গেল। ঝাড়ুর আঘাত থেকে রুজারের মাথাটা কোনভাবে বেঁচে গেল। হ্যারিও কিছুটা আঘাত পেয়েছে। এই রকম ঘটনা আবারও ঘটল। হ্যারির ঝাড়ু নিম্বাস ২০০০ খুব স্বাভাবিকভাবেই আকাশে উড়ছে। এবার বল গ্রিফিল্ডারদের গোলপোস্টে। হ্যারি কিপার উডকে সতর্ক করে দিল। ওরা একটু আঁকা বাকাভাবে উড়ছে। দারুন শব্দ হচ্ছে।
জর্ডান খেলার ধারাভাষ্য বর্ণনা করে চলেছে।
খেলার ভেতর কেউ লক্ষ্য করল না যে, হ্যারির ঝাড়ু অদ্ভুত আচরণ করছে। ঝাড়ুটা তাকে ধীরে ধীরে খেলার বাইরে ওপর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ঠিক বুঝতে পারছি না, হ্যারি কী করছে। বাইনোকুলার দিয়ে খেলা দেখতে দেখতে হ্যাগ্রিড এই মন্তব্য করলেন।
হ্যাগ্রিড বলে চললেন–আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে হ্যারি ঝড়ির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এটা তো কখনোই হতে পারে না। একমাত্র শক্তিশালী জাদু ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়।
এবার সবার নজর হ্যারির ওপর পড়ল। দেখা গেল তার ঝাড়ু কোন কাজ করছে না। মাঝে মাঝে ঝাঁকুনিতে হ্যারির ঝাড়ুর শলা পড়ে যাচ্ছে। সে কোনমতে একহাতে ঝাড়ুটা ধরে রেখেছে।
কোন কিছু কি ঘটেছে? সিমাস প্রশ্ন করল।
হারমিওন হ্যাগ্রিডের কাছ থেকে বাইনোকুলারটি নিয়ে খেলা দেখতে লাগল। তার দৃষ্টি হ্যারির ওপর না পড়ে পড়ল জনতার ওপর। হতাশ কণ্ঠে রন জিজ্ঞেস করল–তুমি এখন কী করতে চাচেছা?
আমি জানি এটা স্নেইপের কারসাজি।
রন বাইনোকুলার হাতে নিয়ে দেখল, তারা যেখানে বসেছিল ঠিক তার বিপরীত দিকে অধ্যাপক স্নেইপ দাঁড়িয়ে আছেন। আর তার দৃষ্টি হ্যারির ওপর নিবদ্ধ। তিনি অনর্গল কথা বলে চলেছেন।
সে ঝাড়ুর ওপর জাদুবিদ্যা খাটাচ্ছে। আমরা এখন কী করব? হারমিওন বলে উঠল।
