আসলে খুবই ভাল হয়েছে যে হ্যারি ও হারমিওন, ওরা এখন বন্ধু। হ্যারি চিন্তাই করতে পারে না হারমিওনের সাহায্য ছাড়া কিভাবে সে তার এত হোমওয়ার্ক করবে। হারমিওন হ্যারিকে কিডিচ থ্রু এইজেস নামে একটা চমৎকার বই পড়ার জন্য ধার দিয়েছে। হ্যারি বইটা থেকে জেনেছে কিডিচ খেলায় সাতশ ধরনের ফাউল হয় এবং ১৪৭৩ সালের বিশ্বকাপে এর সব ধরনের ফাউলই হয়েছিল।
জন্তুটির ঘটনার পর থেকে হারমিওন এবং রন আইন–কানুন মেনে চলার ব্যাপারে একটু শিথিল। হ্যারির প্রথম কিডিচ খেলার আগের দিন, ক্লাসের অবসরে তারা তিনজন স্কুলের প্রাঙ্গণে যায়। শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হারমিওন জাদু করে উজ্জ্বল নীল আগুনের সৃষ্টি করলো, যা একটা জ্যামের বোতলে করেও বহন করা যায়। তারা আগুনের দিকে পেছন ফিরে শরীরটাকে গরম করছিল। স্নেইপ তাদের কাছ দিয়েই খোঁড়াতে খোঁড়াতে যাচ্ছিলেন। আগুন জ্বালাটা নিয়মসিদ্ধ নয়। তিনি যেন আগুন না দেখতে পান সে জন্য তারা তাদের পেছন দিয়ে আগুন আড়াল করে রাখলো। ওদের মুখ ও ভাবসাব দেখে স্নেইপের সন্দেহ হয়েছে। নিশ্চয়ই কিছু গলদ আছে। তিনি আবার ফিরে এসে ওদের দিকে ভালভাবে তাকালেন। কিন্তু তিনি কোন আগুন দেখতে পাননি। কিছু না পেয়ে একটা অজুহাত তিনি খুঁজতে লাগলেন।
তোমার হাতে কি, মি. পটার?
এটা কিডিচ থ্রু এইজেস, হ্যারি বইটি দেখাল।
লাইব্রেরির বই স্কুলের বাইরে নেয়া নিষেধ। বইটা আমাকে দাও। গ্রিফিল্ডরের পাঁচ পয়েন্ট কাটা গেল।
স্নেইপ খোঁড়াতে খোঁড়াতে চলে গেলে হ্যারি রেগে গিয়ে বলল, এই নিয়ম খেয়ালখুশি মতো তার তৈরি। তাঁর পায়ে কী হয়েছে?
জানি না, তবে তাঁর পায়ের তীব্র ব্যথায় তিনি কষ্ট পেলে খুশি হবো, রন তিক্তস্বরে বলল।
সেদিন সন্ধ্যায় গ্রিফিল্ডরের কমনরুমে বেশ শোরগোল হচ্ছিল। হ্যারি, রন ও হারমিওন একটি জানালার কাছের টেবিলে বসলো। হারমিওন হ্যারি ও রনের বশীকরণ বিদ্যার হোমওয়ার্ক দেখে দিচ্ছিল। হারমিওন কখনো তার খাতা থেকে ওদের ঢুকতে দেয় না, বলতো এতে তোমরা কিছু শিখবে না। হারমিওন ওদের হোমওয়ার্ক পড়ে সংশোধন করে দিত এবং এর ফলে তাদের উত্তর সঠিক হতো।
হ্যারি কিডিচ থ্রু এইজেস বইটা ফিরে পাবার জন্য অস্থির হয়ে পড়লো। স্নেইপকে এত ভয় পাওয়ার কি আছে। সে যাবে তার কাছে এবং সোজাসুজি বলবে বইটা তার দরকার। হারমিওন ও রনকে বলল ওই কথাটা। তারা দুজনেই বলল, তুমিই যাও। আমরা না। সে শিক্ষকদের কামরায় গিয়ে দরজায় টোকা দিল। কোন শব্দ নেই। আবার দিল। কেউ নেই। স্নেইপতো বইটা ওখানে রেখেও যেতে পারেন। দেখা যাক ভাগ্য পরীক্ষা করে। সে দরোজাটা ধাক্কা দিয়ে ফাঁক করলো এবং এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখল।
স্নেইপ ও ফিলচ ভেতরে, মাত্র ওরা দুজন। স্নেইপের আলখেল্লা তার হাটুর ওপর তোলা, এক পা রক্তাক্ত ও আঘাতপ্রাপ্ত। আর ফিলচ তার পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিচ্ছে।
স্নেইপ বলছিলেন, কিভাবে একজন লোক তিন মাথার চোখের প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারে?
হ্যারি সন্তর্পণে ভেতরে প্রবেশ করে দরোজা সাবধানে বন্ধ করতে যাচ্ছিল।
পটার।
স্নেইপ বিরক্তিতে তার মুখ বাঁকালেন এবং দ্রুত তার আলখেল্লা টেনে পা ঢেকে দিলেন।
আমি কি আমার বইটা ফেরত পেতে পারি।
বেরিয়ে যাও। বের হয়ে যাও।
হ্যারি দ্রুত বের হয়ে গেল যেন স্নেইপ আবার কোন পয়েন্ট কাটার সময় না পান। সে দৌড়ে ওপরে চলে গেল। খুবই সাবধানে ফিস ফিস করে রন ও হারমিওনকে সব কথা খুলে বলল।
এর অর্থ বুঝতে পারছো? কোন শ্বাস না নিয়েই সে বলল। স্নেইপ হ্যালোইনের রাতে তিন মাথা কুকুরকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে যেতে চেয়েছিলেন। সেদিনই, যে সময় আমরা ওঁকে দেখেছিলাম ওইদিকে যাচ্ছিলেন। তিন মাথা কুকুর যা পাহারা দিচ্ছে সেটার প্রতি নজর তার। সেদিন ট্রল নামক পাহাড়ি জন্তুটিকে তিনি ছেড়ে দিয়ে সবার দৃষ্টি ওইদিকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।
হারমিওনের চোখ বড় হলো।
না–তিনি এটা করবেন না। যদিও তিনি খুব একটা ভাল লোক নন, কিন্তু ডাম্বলডোরের জিনিস চুরি করবেন বা চুরির চেষ্টা করবেন, তা হতে পারে না।
তুমি মনে করতে পারো সব শিক্ষক একেবারে দেবতা। আমার হ্যারির কথাই সঠিক মনে হচ্ছে। রন বলল।
পরেরদিন সকালটা ছিল উজ্জ্বল এবং শীতল। গ্রেট হল সসেজ ভাজার গন্ধে ম ম করছে এবং সবাই খেলাটা কেমন হবে–সেই আলোচনায় ব্যস্ত।
তোমার কিছু নাস্তা খেয়ে নেয়া দরকার।
না আমি কিছু খাব না।
কমপক্ষে টোস্ট নাও। হারমিওন বলল।
আমার কোন ক্ষিদে নাই।
হ্যারির সেদিনের খেলার চিন্তায় ক্ষুধা উধাও। সিমাস অনুরোধ করল, হ্যারি তোমাকে খেতে হবে। খেলার জন্য তোমার শক্তির দরকার।
হ্যারি সিমাসের দিকে তাকাল, দেখল, সে সসেজের ওপর কেচাপ ঢালছে, বলল ধন্যবাদ সিমাস।
সকাল এগারটার মধ্যে সবাই স্কুল মাঠে চলে এসেছে। কিডিচ পিচের চারদিকে বসার স্থানে জায়গা করে নিচ্ছে। অনেক ছাত্রের হাতে বায়নোকুলার। বসার স্থান যদিও ধাপে ধাপে ওপরের দিকে উঠেছে তবুও অনেক সময় দেখা যায় না ঠিক কি ঘটছে।
নেভিল, সিমাস ও ওয়েস্ট হামের ডীন বসেছিল একেবারে ওপরের সারিতে। রন ও হারমিওনও তাদের সাথে যোগ দিল যেন সেখান থেকে তাদের দলকে সাপোর্ট করা যায়। হ্যারি অবাকই হলো, ওদের বড় বড় ব্যানারের মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে গেছে। ওতে লেখা আছে পটার ফর প্রেসিডেন্ট এবং লেখাটার নিচে গ্রিফিল্ডারের প্রতীক সিংহ এঁকেছে ভীন। ডীন একজন ভাল আঁকিয়ে। এরপর হারমিওন ব্যানারগুলো যাদু করে নানা রঙে ভরে দিল।
