এটা তার দোষ নয়…
চুপ কর, মিস পাতিল অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল বললেন।
কিন্তু ম্যালফয়।
আর বলতে হবে না। মি. উইসলি ও পটার এখন আমাকে অনুসরণ কর। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল আদেশ দিলেন।
হ্যারি দেখল–ম্যালফয়, ক্রেব ও গয়েল বিজয়ের হাসি হাসছে।
হ্যারি বুঝতে পারল এখন সে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি। তার মনে ভয় যে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হ্যারি কিছু বলতে চাইল, কিন্তু ম্যাকগোনাগল তার কথায় কান দিলেন না। তিনি হন হন করে সামনে এগিয়ে গেলেন। তার সঙ্গে তাল রাখার জন্য হ্যারিকে রীতিমত দৌড়াতে হলো। হ্যারি ভাবতে লাগল, তাকে বের করে দেয়া হলে সে কোন মুখে আবার ডার্সলি পরিবারে ফিরে যাবে।
ম্যাকগোনাগল দরোজা খুলে করিডোর ধরে হাঁটতে লাগলেন। হ্যারিও উদ্বিগ্ন মনে তাকে অনুসরণ করছে। কোথায় যাচ্ছে তারা! হ্যারি ভাবল, তিনি হয়ত অধ্যাপক ডাম্বলডোরের কাছে যাবেন। হ্যারি হগ্রিডের কথা ভাবল। হ্যাগ্রিন্ডকেও তো হোগার্টস থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তবে তার গেমকিপারের চাকরিটা ছিল। হ্যাগ্রিডের সহকারী হিসেবে তাকে রেখে দেয়া যেতে পারে।
ম্যাকগোনাগল একটা ক্লাস রুমের বাইরে দাঁড়ালেন। তিনি দরোজা খুলে মুখটা ক্লাস রুমের ভেতরে গলিয়ে বললেন–অধ্যাপক ফ্লিটউইক আমাকে মাফ করবেন। আপনি কি এক মুহূর্তের জন্য উডকে দিতে পারেন।
উড কেন? হ্যারি অবাক হয়ে ভাবল–উড কি কোন বেত নাকি যা তার ওপর প্রয়োগ করা হবে।
দেখা গেল উড একজন মানুষ। সে ফিফথ ইয়ারের ছাত্র। সে কিছু না জেনেই ক্লাস থেকে বাইরে এলো। ম্যাকগোনাগল দুজনকেই বললেন তোমরা দুজনেই আমার পেছন পেছন এসো।
তারা করিডোর দিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন। উড কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে হ্যারির দিকে তাকাল।
এখানেই বলে অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল তাদেরকে একটা ক্লাসরুমে নিয়ে গেলেন। ক্লাসে কেউ ছিল না। কেবল পিভিস ব্ল্যাকবোর্ডে বাজে কিছু লিখছিল। পিভিস, এখান থেকে যাও। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল কড়া নির্দেশ দিলেন। পিভিস তার চকটি ফেলে দিল। বেশ জোরে শব্দ হলো। তারপর অভিশাপ দিতে দিতে পিভিস ক্লাসরুম ত্যাগ করল। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ঠাস করে দরোজা বন্ধ করে দিয়ে দুই বালকের দিকে তাকালেন।
ম্যাকগোনাগল হ্যারির দিকে তাকিয়ে বললেন-এই হচ্ছে অলিভার উড। উড–তোমার জন্য আমি একজন পেয়েছি।
উডের মুখে ধাঁধা থেকে খুশির রেখা।
উড এবার জিজ্ঞেস করল–প্রফেসর আপনি কি সত্যিই বলছেন?
অবশই। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল জোর দিয়ে বললেন, ছেলেটা খুবই ভাল। আমি এর মত আর কাউকে দেখিনি।
এবার তিনি হ্যারির দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন–তুমি কি এই প্রথম ঝাড়ুর ওপর উড়লে? হ্যারি নিঃশব্দে মাথা ঝাঁকালো।
হ্যারি ঠিক বুঝে উঠতে পারল না তাকে নিয়ে কী করা হবে। তবে এতটুকু সে বুঝতে পারল যে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না। সে তার পায়ে শক্তি পেতে শুরু করল।
হ্যারি পঞ্চান্ন ফুট ওপর থেকে নিচে ড্রাইভ দিয়ে একটা জিনিস ধরেছে। ম্যাকগোনাগল উডকে বললেন। তার গায়ে একটুও আচড় লাগেনি। এটা চার্লি উইসলিও করতে পারত না। উডের কাছে মনে হল তার স্বপ্ন যেন এখনই সফল হতে যাচ্ছে।
তার চোখমুখে আনন্দের ঝিলিক। একই সঙ্গে উত্তেজনা। জিজ্ঞেস করল, হ্যারি তুমি কি কখনও কিডিচ খেলা দেখেছো?
অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ব্যাখ্যা করে বললেন–উড, গ্রিফিল্ডর হাউজের অধিনায়ক।
তার শারীরিক গঠনও একজন সিকারের মতই। হ্যারির চারদিকে হেঁটে ও হ্যারির দিকে তাকিয়ে উড এই মন্তব্য করল। হালকা… গতিসম্পন্ন। প্রফেসর, তাকে একটি সুন্দর ঝাড়ু দিতে হবে–নিম্বাস ২০০০ অথবা ক্লীনসুইপ সাত।
আমি অধ্যাপক ডাম্বলডোরের সাথে কথা বলব। আমরা দেখি প্রথম বর্ষের জন্য নিয়মকানুন কিছু শিথিল করা যায় কিনা। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল বললেন। গতবারের চেয়ে আমরা ভাল দল চাই।
স্লিদারিনদের কাছে গত ম্যাচে হেরে গিয়ে কয়েক সপ্তাহ লজ্জায় সিভিরাস স্নেইপের মুখের দিকে তাকাতে পারিনি!
অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল হ্যারির দিকে তাকিয়ে বললেন–হ্যারি, আমি শুনতে চাই তুমি এখানে ভালো প্রশিক্ষণ নিচ্ছ। আমি শুনতে চাই তুমি প্রশিক্ষণকালে পরিশ্রম করছো, আর ভিন্ন কিছু শুনলে তোমার শাস্তির বিষয়ে আমার মত পরিবর্তন করতে পারি বলে মুচকি হাসলেন।
তারপর তিনি বললেন–তোমার বাবা তোমাকে নিয়ে নিশ্চয়ই গর্ব করতেন। তিনি একজন উঁচুমানের কিডিচ খেলোয়াড় ছিলেন।
***
রন তার স্টিক অ্যান্ড কিডনি পাই অর্ধেক মুখে পুরেছে, কিন্তু সে খেতে ভুলে গেল। সিকার? সে বলল, কিন্তু প্রথম বর্ষের কেউ তো হতে পারে না, কখনোই না, তুমি সবচেয়ে ছোট, এর আগে…তুমি নিশ্চয়ই ঠাট্টা করছো।
মধ্যাহ্নভোজের সময় ম্যাকগোনাগলের সাথে মাঠ থেকে যাওয়ার পর কি কি ঘটেছে এই মাত্র হ্যারি বলে শেষ করেছে।
হ্যারি বলল–শতাব্দীর মধ্যে এটাই প্রথম। উড আমাকে তাই বলল।
এ খবর শুনে রন এত অবাক ও অভিভূত হল যে, সে হ্যারির দিকে হা করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।
হ্যারি রনকে বলল–আগামী সপ্তাহ থেকে আমার প্রশিক্ষণ শুরু হবে। তুমি কাউকে বলো না কিন্তু, কারণ উড চায় না কেউ এটা জানুক।
ঠিক এই সময় ফ্রেড আর জর্জ উইসলি হলঘরে প্রবেশ করল। হ্যারিকে দেখে জর্জ নিচু কণ্ঠে বলল–শাবাশ! উড আমাদেরকে সব বলেছে। আমরাও এই টিমে আছি।
