তিনি এসেই চিৎকার করে বললেন তোমরা দাঁড়িয়ে আছো কেন? সবাই ঝাড়ুর পাশে দাঁড়াও তাড়াতাড়ি চলে এসো।
হ্যারি তার ঝাড়ুর দিকে তাকাল। ঝাড়ুটি পুরনো এবং কিছু কাঠি বাঁকা হয়ে নড়ে গেছে।
মাদাম হুচ এবার নির্দেশ দিলেন–ডান হাত সামনের দিকে ঝাড়ুর ওপর রাখ। এবার বল–আপ।
হ্যারির ঝাড়ুটা তার হাতে লাফিয়ে উঠল। হারমিওনেরটা মাঠের ওপর গড়িয়ে পড়ল। নেভিল এক চুল পরিমাণ নড়তে পারল না। ওর হাত কাঁপছে। ওর মাথায় ভয়ের ছাপ। ও মাটি থেকে উপরে উঠতে ভয় পাচ্ছে। মাদাম হুচ দেখালেন কিভাবে ঝাড়ুর ওপর চড়তে হয়। তিনি ম্যালফয়কে ধমক দিলেন–তুমি কি সারাজীবন ভুল করবে?
এই কথাটা শুনে হ্যারি ও রন দারুণ খুশি হলো যে, ম্যালফয় সব সময়ই ভুল করছে।
মাদাম হুচ বললেন–আমি বাঁশি বাজাবার সাথে সাথে তোমরা লাফ দেবে। ঝাড়ু সোজা রাখবে। কয়েক ফুট ওঠার পর সামনের দিকে ঝুঁকবে। তারপর নিচে নেমে আসবে। তোমরা প্রস্তুত হও। আমি এখন বাঁশি বাজাচ্ছি। তিন……..দুই……..
এক বলা বাকি। নেভিল আগেই লাফ দিল। মাটি থেকে উপরে উঠার পর সে ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়ল। সে একটু বেশিই উপরে উঠেছে কারণ সে মাটিতে জোরে ধাক্কা দিয়েছিল।
মাদাম হুচ চিৎকার করলেন–কামব্যাক মাই বয়। কিন্তু নেভিল সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। হ্যারি লক্ষ্য করল যে, নেভিলের চেহারা একেবারে ফ্যাকাশে সাদা হয়ে গেছে। ঝড়ির পাশে থেকে সে লম্বা শ্বাস নিচ্ছে। নেভিল যখন মাটিতে পড়লো তখন ধুম করে শব্দ হলো।
নেভিলের কবজি ভেঙে গেছে। সে উপুড় হয়ে একটা ঘাসের পে শুয়ে পড়ল। তার ঝাড়ু এখনও ঊর্ধ্বমুখী। ঝাড়ুটা নিষিদ্ধ বনের দিকে যেতে যেতে এক সময় অদৃশ্য হয়ে গেল। মাদাম হুচ নেভিলের ওপর ঝুঁকে পড়লেন। দুজনেরই মুখ ফ্যাকাসে, সাদা।
হ্যারি শুনতে পেল, মাদাম হুচ বলছেন–কজি ভেঙে গেছে। কাম অন বয়। দাঁড়াও। সব ঠিক হয়ে যাবে।
মাদাম হুচ এবার অন্যদের দিকে তাকিয়ে বললেন–আমি ছেলেটাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। এর ভেতর তোমরা এক পাও নড়বে না। যার যার ঝাড়ু যেখানে ছিল সেখানে ঠিকমত রাখবে আর তা না করলে তোমাদের কিডিচ খেলার আগেই হোগার্টস ছেড়ে যেতে হবে।
নেভিলকে বললেন–আমার সাথে এসো।
নেভিলের দুচোখেই অশ্রু। কবজি চেপে ধরে টলতে টলতে সে আগে বাড়ল। ওরা চলে যাবার সাথে সাথেই ম্যালফয় অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। তোমরা কি এই থল থলে মাংস পিণ্ডটির চেহারা দেখেছো?
স্লিদারিন হাউজের অন্যান্যরা নেভিলকে তামাশা করা শুরু করল। চুপ করো ম্যালফয়। পার্বতি পাতিল ধমক দিল।
লংবটমের জন্য তোমার এত দরদ? স্লিদারিন হাউজের এক কর্কশ চেহারার ছাত্রী প্যানসি পার্কিনসন বলল। পার্বতি, আমি কখনো ভাবতে পারিনি তুমি হিঁচকানে শিশুদের এত পছন্দ কর।
দেখো। মাটি থেকে একটা জিনিস উঠিয়ে ম্যালফয় বলল—
এক ফালতু জিনিস, লংবটমের নানী তাকে এটাই পাঠিয়েছে।
স্মারকটা সূর্যের আলোতে চকচক করে উঠল।
ম্যালফয়, ওটা এদিকে দাও। হ্যারি গম্ভীর কণ্ঠে ম্যালফয়কে বলল।
কী ঘটতে যাচ্ছে তা দেখার জন্য সবাই একেবারে চুপ।
ম্যালফয় দুষ্ট হাসি হেসে বলল-এটা আমি কোথাও রাখবো, সেখান থেকে লংকটমকে নিতে হবে–গাছের ওপর হলে কেমন হয়?
ওটা এদিকে দাও। হ্যারি চিৎকার করে উঠল। ম্যালফয় তার ঝড় নিয়ে উড়তে শুরু করল। মিথ্যে বলেনি, সে ভালো উড়তে পারে। ম্যালফয় একটা ওক গাছের চূড়ায় উঠে হ্যারির উদ্দেশ্যে বলল-এসো। এখান থেকে নিয়ে যাও।
হ্যারি তার ঝাড়ুটা হাতে তুলে নিলো।
না, না। হারমিওন গ্রেঞ্জার চিৎকার করে উঠল–মাদাম হুচ বলে গিয়েছেন আমরা যেন একটুও না নড়ি। তুমি আমাদের সবাইকে বিপদে ফেলবে।
কিন্তু হ্যারি তার কথা শুনল না। মাথায় তার রক্ত চড়েছে। সে তার ঝাড়ুতে চড়ে মাটিতে ধাক্কা দিল। আর সাথে সাথে সে উড়তে লাগল। বাতাসে তার চুল উড়ছে! পোশাক উলটে যাচ্ছে। তার কাছে খুব অবাকই লাগলো। না শিখেই সে কোনো বিদ্যা রপ্ত করতে পারে। তার কাছে ওড়াটা অত্যন্ত সহজ মনে হলো। নিচে মেয়েদের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। রনের উল্লাস হ্যারির দৃষ্টি এড়াল না।
হ্যারি তার ঝাড়ু ঘুরিয়ে মধ্য আকাশে ম্যালফয়ের দিকে অগ্রসর হলো। ম্যালফয় স্তম্ভিত হয়ে গেল।
এবার দাও, নইলে আমি তোমাকে ওই ঝাড়ু থেকে ফেলে দেবো। হ্যারি বলল।
এতো সহজ। ম্যালফয় বলল, কিন্তু তাকে উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে। হ্যারি জানে এখন কী করতে হবে। দুহাতে নিজের ঝড় শক্ত করে ধরে হ্যারি বর্শার মত তীব্র বেগে ম্যালফয়ের দিকে ছুটল। বিপদ বুঝে ম্যালফয় সরে গেল। নিচে করতালির শব্দ শোনা গেল।
হ্যারি বলল-এখানে তো তোমার বন্ধু ক্রেব আর গয়েল নেই।
ম্যালফয়ের মনেও একই চিন্তা।
চেষ্টা করে দেখো, নিতে পারো কিনা। এই বলে ম্যালফয় কাঁচের গোলকটা শূন্যে ছুঁড়ে দিল।
হ্যারি প্রথমে ওপরে উঠল। পরে নিচে নামতে লাগল। সে ঝুঁকে ঝাড়ুর মুখ ঘুরিয়ে দিল। তার ঝাড়ু দ্রুতবেগে নিচে নামতে লাগল। হ্যারি মাটি থেকে ঠিক এক ফুট উঁচু থেকে গোলকটা ধরে ফেলল। তার মুঠোর ভেতর কাঁচের গোলকটা নিয়ে হ্যারি মাটিতে নামল।
অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ছুটে এসে চিৎকার করে বললেন—
হ্যারি পটার।
ম্যাকগোনাগল বললেন–তুমি কোন সাহসে এত ওপরে উঠলে। আর একটু হলেই তো ঘাড় ভেঙে যেত। তিনি রাগে কাঁপছিলেন।
