হ্যারি পত্রিকার কাটিংটা আরেকবার পড়ল। ভল্টটা ওইদিনই খালি করা হয়েছিল যেদিন গ্রিগেটস থেকে হ্যারির জন্য টাকা তোলা হয়। হ্যারি আর রন যখন রাতের খাবার জন্য দুর্গে আসছিল তখন তাদের পকেট ছিল হ্যাগ্রিডের দেওয়া বক কেকে ভর্তি। তারা হ্যাগ্রিডকে না বলতে পারেনি।
হ্যারির মনে হলো এতদিনে লেখাপড়ায় যতটুকু এগুনো দরকার ছিল ততটুকু সে পারেনি। তার এটাও মনে হলো সেই সম্পর্কে হ্যাগ্রিড অনেক কিছু জানেন কিন্তু তাকে কিছু বলেননি।
০৯. মধ্যরাতের মল্লযুদ্ধ
হ্যারি কখনো ভাবতে পারেনি যে, ডাডলির চেয়েও কোন খারাপ ছেলের সাথে তার দেখা হবে। কিন্তু তাই হলো। ছেলেটির নাম ম্যালফয়। গ্রিফিল্ডর ও স্লিদারিন হাউজের প্রথম বর্ষের ছাত্ররা শুধুমাত্র ওষুধ তৈরির ক্লাস করতেই এক সাথে মিলিত হতো।
ওই ক্লাস ছাড়া অন্য কোন ক্লাসে ম্যালফয়ের সাথে দেখা হতো না। বৃহস্পতিবার থেকে ফ্লাইং শেখানো হবে। গ্রিফিল্ডর ও স্লিদারিন হাউজের ছাত্রদেরকে একসাথে ওড়া শেখানো হবে জেনে হ্যারি আক্ষেপ করে বলল ম্যালফয়ের সামনে আমাকে ঝাড়ু লাঠির ওপর বোকা বানাবার জন্যই এটা করা হয়েছে।
উড়তে শেখার অনুশীলন নিয়ে হ্যারি ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
রন বলল–তুমি এখনই সব কিছু বলতে পার না, ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা দেখে নিজেই হয়তো অবাক হবে। ম্যালফয় দেখাতে চায় যে, কিডিচ খেলায় সে কতখানি দক্ষ। আসলে সে যতটা বলে ততটা সে নয়।
ম্যালফয় ওড়ার বিষয়ে তার দক্ষতা নিয়ে অনেক কথা বলত। সে এটাও জোর দিয়ে বলত যে, প্রথম বর্ষের ছাত্রদেরকে হাউজ টিমে কিডিট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয় না। সে নিজের সম্পর্কে গল্প করতো, কীভাবে খাগলরা তার কাছ থেকে অল্পের জন্য হেলিকপ্টারে পালিয়ে যেতে পেরেছিল। তার গল্পের শেষটা সব সময় এই রকমই হয়–অল্পের জন্য…।
শুধু ম্যালফয়ই নয়। সিমাস ফিনিগানও এ ধরনের বাড়িয়ে কথা বলত। সে দাবি করত যে ছোটবেলায় ঝাড়ুর সওয়ার হয়ে সে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াত। এমন কী রনও দাবি করত যে, সে উড়তে গিয়ে তার ভাই চার্লির ঝাড়ুর সাথে প্রায় ধাক্কা খেতে যাচ্ছিল। জাদুকর পরিবার থেকে যারা এসেছে তারা প্রায় সবাই কিভিচ খেলার ব্যাপারে আলোচনা করত।
এ নিয়ে ডীন টমাসের সাথে রনের তর্ক হয়ে গেছে। বিতর্কের বিষয় ছিল ফুটবল। রন বুঝে উঠতে পারে না কেবল একটি বল নিয়ে খেলায় কীভাবে এত আনন্দের হতে পারে, যেখানে ওড়ার কোন সুযোগ নেই।
নেভিল কখনও ঝাড়ুর ওপর সওয়ার হয়নি কারণ ওর নানী কখনো ওকে ওটার ধারে কাছে যেতে দেয়নি। কারণ, সে ইতোমধ্যে মাটিতেই খেলতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। নেভিলের মত ওড়ার ব্যাপারে হারমিওন-এরও সাহস কম, এটা এমন একটা জিনিস যা বই পড়ে শেখা যায় না।
বৃহস্পতিবার সকালে নাস্তা খাওয়ার সময় হারমিওন লাইব্রেরি থেকে সগ্রহ করা কিডিচ থ্রু এইজেস বই থেকে জানা ওড়ার বিষয়ে নানা জ্ঞান দেওয়া শুরু করে। নেভিল তার পেছন থেকে হারমিওনের দিকে ঝুঁকে গভীর আগ্রহে তার কথা শোনে। অন্যদের শোনার কোন আগ্রহ ছিল না। বরং ডার্ক চলে আসার পর তার বক্তৃতা থেকে সবাই যেন রেহাই পায়।
হ্যাগ্রিডের সাথে সাক্ষাতের পর হ্যারির নামে কোন চিঠি আসেনি-এটা ম্যালফয় লক্ষ্য করেছে। এসব বিষয় সে খেয়াল করে বেশি। ম্যালফয়ের ঈগলপেঁচা তার জন্য মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে আসে। ম্যালফয় ঝাঁপিয়ে পড়ে তা স্লিদারিন হাউজের টেবিলের ওপর খোলে। একটি পেঁচা নেভিলের নানীর বাড়ি থেকে একটা প্যাকেট নিয়ে এলো।
সে উত্তেজনায় দ্রুত প্যাকেটটি খুলল। এটা ছিল মার্বেল আকারের একটা কাঁচ। মনে হলো কাঁচের ভেতর ধুয়া।
এটা একটা স্মারক। সে ব্যাখ্যা করল। আমার নানী জানেন যে আমি অনেক কিছুই ভুলে যাই। তুমি যদি কিছু ভুলে যাও এই কাঁচটা তোমাকে মনে করিয়ে দেবে। শক্ত করে ধরে এটার দিকে তাকিয়ে থাক। এটা যদি লাল হয়ে যায় তাহলে তুমি বুঝবে তুমি হয়ত কিছু ভুলে গেছ। স্মারকটা হঠাৎ লাল হয়ে উঠল, এর অর্থ আমি নিশ্চয়ই কিছু ভুলে গেছি।
নেভিল ভাবতে লাগলো এমন কিছু কি আছে যা সে ভুলে গেছে। সে সময় ম্যালফয় তার গ্রিফিল্ডর হাউজের টেবিলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে নেভিলের হাত থেকে স্মারকটা ছিনিয়ে নিল। হ্যারি আর রন লাফ দিয়ে ম্যালফয়ের ওপর চড়াও হলো। তারা ভাবছিল ম্যালফয়কে একহাত দেখিয়ে দেবে। ঠিক এই সময় অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি জানতে চাইলেন–কী ব্যাপার, এখানে গণ্ডগোল কিসের?
প্রফেসর, ম্যালফয় আমার স্মারক নিয়ে নিয়েছে। ম্যালফয় তাড়াতাড়ি স্মারকটা টেবিলের ওপর রেখে দিল।
ঠাট্টা করছিলাম। এই বলে সে ক্রেব আর গয়েলকে নিয়ে সরে গেল।
***
তখন বিকেল সাড়ে তিনটা। প্রথম উড়ান শিক্ষা শুরু হবে। হ্যারি, রন ও অন্যরা মাঠে গেছে। সবুজ দুর্বাঘাস বাতাসে হেলে পড়েছে।
স্লিদারিন হাউজের ছাত্ররা ইতোমধ্যে এসে গেছে। কুড়িটা ঝাড়ু মাঠে সারি করে সাজানো। হ্যারি শুনেছে ফ্রেন্ড আর জর্জ এই ঝাড়ি নিয়ে অনেক অভিযোগ করেছে। এগুলো নাকি বেশি উপরে উঠলে কাঁপতে থাকে। আর বাঁদিকে ঘুরে যায়।
তাদের শিক্ষক মাদাম হুচ ক্লাসে প্রবেশ করলেন। তার চুল ছোট ও ধূসর রঙের। চোখ বাজপাখির চোখের মত হলুদ।
