হ্যারি তাকে বলল, ডায়গন এ্যালিতে তাদের দেখা হওয়ার বিষয়।
আমি এই পরিবারের কথা শুনেছি। রন খুব গুরুগম্ভীর ভাবে বলল। ইউ-নো-হু অদৃশ্য হয়ে যাবার পর যারা আমাদের সাথে প্রথমে এসেছিলেন ওর মধ্যে ওরাও ছিল। ওরা বলেছিল ওদের ওপর জাদু করা হয়েছিল। আমার বাবা অবশ্য এ গল্প বিশ্বাস করেন না। কালো জাদুর দিকে যেতে ম্যালফয়ের বাবার অজুহাত বের করতে কোন রকম অসুবিধে হয় না।
রন হারমিওনের দিকে তাকিয়ে বলল–আমরা কি কোনভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারি।
তোমাদের উচিত তাড়াতাড়ি পোশাক পরে নেয়া। আমি ট্রেনের চালককে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন–আমরা গন্তব্যে এসে গেছি প্রায়। তোমরা তো মারামারি করছিলে এখানে, করছিলে কিনা? আমাদের সবার নামার আগে তোমরা যদি সেখানে নাম, তোমাদের বিপদ হতে পারে।
রন জবাব দিল–স্ক্যাবার্স মারামারি করেছে। আমরা করিনি। আমরা এখন পোশাক পরিবর্তন করব। তুমি কি একটু বাইরে যাবে?
হারমিওন বলল–ঠিক আছে। আমি যাচ্ছি। আমি এখানে এসেছি, কারণ ছোট ছেলেমেয়েদের মত এখানকার লোকজন করিডোরে দৌড়াদৌড়ি করছে। আর তুমি কি জানো তোমার নাকে ময়লা লেগেছে।
রন হারমিওনের যাবার দিকে তাকিয়ে রইল। হ্যারি জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। বাইরে অন্ধকার হয়ে আসছে। মেঘলা আকাশের নিচে পাহাড় ও বন দেখা যাচ্ছে। মনে হলো ট্রেনের গতি কমে আসছে।
হ্যারি ও রন তাদের জ্যাকেট খুলে হোগার্টসের জন্য কালো পোশাক পরে নিল।
ট্রেন থেকে একটি ঘোষণা এলো–আমরা পাঁচ মিনিটের ভেতর হোগার্টস পৌঁছব। তোমাদের মালামাল ট্রেনেই রেখে দিও! মালামালগুলি পৃথকভাবে হোগার্টস স্কুলে পাঠানো হবে।
ট্রেনের গতি কমল। এক সময় ট্রেন থামল। নামার জন্য সবাই দরোজায় ভিড় করছে। প্ল্যাটফর্মে বেশ ঠাণ্ডা। হ্যারি হঠাৎ একটি পরিচিত কণ্ঠ শুনতে পেল প্রথম বর্ষের ছাত্র যারা তারা ডানদিকে এসো। হ্যারিও এদিকে এসো। এটা ছিল হ্যাগ্রিডের কণ্ঠস্বর।
হ্যাগ্রিড বললেন–যারা প্রথম বর্ষের ছাত্র তারা আমাকে অনুসরণ কর প্রথম বর্ষের আরও কেউ আছে? সাবধানে পা ফেলো। আমাকে অনুসরণ করো।
পা পিছলিয়ে ও হোঁচট খেতে খেতে তারা হ্যাগ্রিডকে অনুসরণ করে খাড়া ও সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে আগে বাড়ল। দুপাশেই এত অন্ধকার ছিল যে হ্যারি ভাবল এখানে সারি সারি গাছ দাঁড়িয়ে আছে। যাবার পথে কেউ তেমন কোন কথা বলল না। হ্যাগ্রিড বললেন–তোমরা সবাই প্রথম বারের মতো হোগার্টস জাদুবিদ্যায় স্কুলে এসেছে।
হঠাৎ জোরে উ–উ–উ–ধ্বনি শোনা গেল।
সংকীর্ণ পথটি যেখানে গিয়ে থামল সেখানে সামনে একটি বড় লেক।
লেকের দুপাশে পাহাড়। আকাশে তারা। কাছাকাছি কয়েকটি দুর্গ আছে বলে মনে হলো।
হ্যাগ্রিড এক সারি নৌকা দেখিয়ে বললেন একটা নৌকায় চারজনের বেশি উঠবে না।
সবাই ঠিকমতো উঠল কিনা হ্যাগ্রিড তা ভাল করে দেখে নিলেন।
অনেকগুলো ছোট ছোট নৌকা এগিয়ে যেতে থাকল। লেকের পানি স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছ। সবাই চুপ করে আছে। নৌকাগুলো দুর্গের কাছাকাছি এল।
হ্যাগ্রিড চিৎকার করে বলল–তোমরা সবাই মাথা নিচু কর।
তারপর একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গ। মনে হলো দুর্গের নিচ দিয়ে নৌকা চলছে।
শেষ পর্যন্ত মাটির নিচে বন্দরের মত একটা স্থানে পৌঁছালো। সম্পূর্ণ জায়গাটাতে নুড়ি–পাথর ছড়ানো।
সবাই নৌকা থেকে নামছে কিনা হ্যাগ্রিড দাঁড়িয়ে দেখছিলো। নেভিলকে দেখে হ্যাগ্রিড জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি তোমার ব্যাঙ? নেভিল ব্যাঙটা দেখে আনন্দে বলে উঠলো, ট্রেভর! ট্রেভর তার ব্যাঙটির নাম।
পাথরের সিঁড়ি বেয়ে তারা ওপরে উঠতে থাকলো। পাথুরে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে ওক গাছের দরোজা। হ্যাগ্রিড বললেন, সবাই ঠিকমত এসেছে, আর তুমি তোমার ব্যাঙ পেয়েছ। তিনি তার বিশাল মুষ্টি দিয়ে দরজায় তিনবার আঘাত করলেন।
০৭. সেই হ্যাট
মুহূর্তেই দরোজা খুলে গেল। লম্বা, কালো চুলের এক মহিলা পান্নার মত সবুজ রঙের পোশাক পরে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তার চাহনি খুব কড়া। হ্যারি ভাবল, এ মহিলাকে পেরিয়ে সামনে যাওয়া ঠিক হবে না।
হ্যাগ্রিড বললেন, অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল, এরা প্রথম বর্ষের ছাত্র।
ধন্যবাদ হ্যাগ্রিড। আমি ওদেরকে এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি।
ম্যাকগোনাগল সবাইকে হল ঘরে নিয়ে গেলেন। হল ঘরটি বিশাল। পাথরের দেয়ালে মশালের আলো। ছাঁদ অনেক উঁচুতে।
তারা সবাই অধ্যাপক ম্যাকগোনাগলকে অনুসরণ করলো। পাথরের মেঝেতে নানা রকম চিত্র আঁকা। হ্যারি ডানদিকের দরোজার ওপাশ থেকে শত শত লোকের কণ্ঠ শুনতে পেল–স্কুলের বাকি অংশটুকু নিশ্চয়ই এখানে কিন্তু অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল তাদেরকে হল ঘরের মধ্যে একটা খালি ছোট কামরায় নিয়ে গেলেন। তারা সবাই পরস্পরের গা ঘেঁষে কোনমতে সেখানে দাঁড়ালো, সাধারণত এতক্ষণ তাদের দাঁড়ানোর কথা নয়। তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে এদিক–ওদিক তাকাচ্ছে।
ম্যাকগোনাগল বললেন–তোমাদের সবাইকে হোগার্টসে স্বাগত জানাচ্ছি। টার্ম শুরুর ভোজসভা শিগগিরই শুরু হবে। গ্রেট হলে আসন গ্রহণ করার আগেই তোমাদের কে কোন হাউজে যাবে তা বণ্টন করা হবে। এই কাজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ হাউজটাই হবে তোমাদের পরিবার। তোমরা হাউজের ডর্মিটরিতে থাকবে। অবসর সময় কমনরুমে কাটাবে।
