এখানে চারটা হাউজ আছে–গ্রিফিল্ডর, হাফলপাফ, র্যাভেন ক্ল ও স্লিদারিন। প্রত্যেকটা হাউজের ম্যাজিকের ইতিহাস আছে। হাউজে থাকার ব্যাপারে কিছু নিয়ম–কানুন আছে। অনিয়ম করলে পয়েন্ট কাটা যাবে। বছরের শেষে হাউজ-কাপ দেয়া হয়। যে হাউজ সবচে বেশি পয়েন্ট পাবে সে হাউজই কাপ পাবে। হাউজ কাপ পাওয়া একটা সম্মানের ব্যাপার।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্কুলের সামনে বাছাই অনুষ্ঠান হবে, তাই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল নেভিলের জামা ও রনের নাকের দিকে লক্ষ্য করলেন। হ্যারিকে খুব নার্ভাস দেখাছিল। সে যথাসম্ভব তার চুল ঠিক করে নিলো।
তোমরা শান্তভাবে অপেক্ষা কর। আমি সময়মতো ফিরে আসবো। এই বলে অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল বিদায় নিলেন।
তারা কিসের ভিত্তিতে আমাদের হাউজ ভাগ করে দেবেন? রন জানতে চাইল।
আমার মনে হয় তারা কোন একটা পরীক্ষা নেবেন। ফ্রেড বলছিল এই পরীক্ষা বেশ কষ্টকর। ফ্রেড বোধহয় ঠাট্টা করেছে। হ্যারির বুক কাঁপছে। আবার পরীক্ষা দিতে হবে। কিসের পরীক্ষা!
হ্যারির বুক ভীষণভাবে কেঁপে উঠলো। পরীক্ষা? স্কুলের সবার সামনে। সে তো এখন পর্যন্ত কোন জাদু জানে না। তাকে কি করতে হবে? এই সময় যে এই ধরনের কিছু হবে, আসার আগে সে ভাবেনি।
কেউ বিশেষ কোন কথা বলছে না। শুধু হারমিওন ফিস ফিস করে নিজের জাদুর ক্ষমতার কথা বলল।
হ্যারি চারিদিকে দেখল যে প্রত্যেকের চেহারায় একটা আতঙ্কের ভাব ফুটে উঠেছে।
তারপর হঠাৎ কিছু একটা ঘটলো, হ্যারি লাফ দিয়ে এক ফুট ওপরে উঠলো–তার পেছনের কয়েকজন চিৎকার করে উঠলো। প্রায় বিশটা ভূত পেছনের দেয়াল থেকে স্রোতের মত আসছে। দেখতে মুক্তোর মত সাদা ও কিছুটা স্বচ্ছ। তারা একে অপরের সাথে কথা বলতে বলতে ভেসে বেড়ালো। প্রথম বর্ষের ছাত্রদের দিকে তারা খুব একটা তাকালো না। একজন মোটা সন্ন্যাসীর মতো ভূত বলছে–ফরগেট অ্যান্ড ফরগিভ। আমার মনে হয় ওকে আরেকটা সুযোগ দেয়া উচিত। আরেকজন বলছে—না না। তাকে অনেক সুযোগ দেয়া হয়েছে। আর দেয়া যায় না।
একটা ভূত হঠাৎ করে ছাত্রদের দেখে বলল, এখানে তোমরা কী করছ?
কেউ জবাব দিল না।
মোটা সন্ন্যাসী বলল-এরা নতুন ছাত্র। একটু পরে এদের বাছাই পর্ব শুরু হবে।
কয়েকজন নীরবে সম্মতি জানাল। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ফিরে এসে বললেন-এখন অন্যসব কাজ বন্ধ। এখন বাছাই পর্ব শুরু হবে।
এরপর ভূতগুলো পেছনের দেয়াল দিয়ে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল।
যাবার আগে একটা ভূত বলল–আশা করি, তোমাদের সাথে হাফলপাফে দেখা হবে। আমি ওই হাউজের সদস্য ছিলাম।
সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াও এবং আমাকে অনুসরণ কর। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল প্রথম বর্ষের ছাত্রদের নির্দেশ দিলেন।
পায়ে ব্যথার কারণে হ্যারি খুব দ্রুত হাঁটতে পারছিল না। তার সামনে ছিল বালু রঙের চুলের একটি ছেলে, আর তার পেছনে ছিল রন। তারা কামরা থেকে বের হয়ে হল ঘর পার হয়ে গ্রেট হলে প্রবেশ করল।
জায়গাটা খুবই মনোরম। হ্যারি এ ধরনের অপূর্ব সুন্দর জায়গা কল্পনা করতেও পারে না। চারটা লম্বা টেবিলের ওপর হাজার হাজার মোমবাতি মৃদু বাতাসে জ্বলছে। মঞ্চে একটা লম্বা টেবিল। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগলসহ শিক্ষকগণ এই টেবিলটাতে বসলেন। তাদের দিকে যে শত শত মুখ তাকিয়ে ছিল, তাদের দেখে মনে হচ্ছিল উজ্জ্বল মোমবাতির সামনে ক্ষণপ্রভা লণ্ঠন। ছাত্রদের মাঝে দুএক ভূতকেও দেখা যাচ্ছিল। সামনের চেহারাগুলো দেখার জন্য হ্যারি ওপরে তাকাল। ওপরে সে কালো ভেলভেটের সিলিং ও তারা দেখতে পেল। হারমিওন হ্যারির কানে কানে বলল, হোগার্টস, এ হিস্টরি–বইতে আমি পড়েছি, বাইরের আকাশের মতই এটা আকর্ষণীয়। এখানে কোন ছাদ আছে এবং এই গ্রেট হলটা স্বর্গের কোন স্থান নয়। এটা একেবারেই মনে হয় না।
হ্যারি নিচে তাকিয়ে দেখলো অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল একটা চার–পায়া টুল তাদের সামনে রাখলেন। টুলের ওপর ছিল জাদুকরের একটা চোখা হ্যাট। হ্যাটটা খুবই পুরনো ও জরাজীর্ণ। আন্ট পেতুনিয়া হলে এটাকে কোনদিন বাড়িতে ঢুকতে দিতেন না। একটু পরে এই হ্যাটটা গান গাইতে শুরু করল। ছাত্রদের মাঝখানে এখানে সেখানে ভূত ঘোরাফেরা করছিল।
হে তুমি হয়তো ভাবনি আমিও সুন্দর
শুধু চোখের দেখা দিয়ে করো না বিচার
যদি আমার চেয়ে চৌকস কোনো হ্যাট
দেখাতে পারো তুমি; আমি নিজেই,
নিজেকে গিলে খাবো।
তুমি তোমার টুপিকে কালো রাখতে পারো
তোমার উঁচু হ্যাট মসৃণ ও লম্বা
কিন্তু আমার জন্যে আছে হোগার্টসের সর্টিং হ্যাট
এবং আমি সবাইকে তা পরাতে পারি
তোমার মাথায় কিছুই নেই গোপন
সর্টিং হ্যাট দেখতে পায় না কিছু
অতএব আমাকে পরীক্ষা করো, বলে দেবো
কোথায় তুমি যেতে চাও?
হতে পারো তুমি গ্রিফিল্ডরের বাসিন্দা
যেখানে হৃদয়ে বাস করে সাহস
তাদের সাহস, স্নায়ু ও মর্যাদা
গ্রিফিল্ডরদের করে তোলে মহীয়ান
হতে পারো তুমি হাফলপাফের বাসিন্দা
যেখানে তারা ন্যায়বান ও অনুগত
আর ধৈর্যশীল হাফলপাফেরা হচ্ছে সৎ
এবং পরিশ্রমে অকাতর।
অথবা বিজ্ঞ পুরনো র্যাভেন ক্লর বাসিন্দা
যদি থেকে থাকে তোমার তৈরি মন
যেখানে ধীমান ও শিক্ষিতেরা সহযাত্রী খুঁজে পাবে
কিংবা হতে পারো বাসিন্দা স্লিদারিনের
যেখানে খুঁজে পাবে তুমি প্রকৃত বন্ধুকে
ধূর্ত লোকেরা উদ্দেশ্য হাসিল করতে
বেছে নেয় যেকোন উপায়।
অতএব আমাকে ভয় পেও না, করো না হৈচৈ
(আমার কেউ না থাকলেও) তুমি রয়েছ
ঠিক নিরাপদ হাতে, যে কারণে আমি থিংকিং ক্যাপ।
