রন জানাল–ড্রাগনশাস্ত্রে অধ্যয়নের জন্য চার্লি রোমানিয়া গিয়েছে এবং গ্রিংগটসের প্রস্তুতি নেবার জন্য বিল আফ্রিকায় গেছে। তুমি কি গ্রিংগটসের নাম শুনেছ? ডেইলি প্রফেটে এর ওপর অনেক লেখালেখি হয়েছে। মাগলদের কাছে সে পত্রিকাটা পাবে না। কেউ একবার ভল্ট ভেঙ্গে ডাকাতির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি।
হ্যারি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
সত্যিই? এরপর কি ঘটেছিল?
কিছুই নয়, এই জন্যই তো বড় খবর হয়েছিল সেই ঘটনা। রন বলল–আমার বাবার ধারণা ওটা ছিল কোন কালো জাদুকরের কাজ। কিন্তু ওরা মনে করে না যে, কেউ সেখান থেকে কিছু নিয়ে যেতে পেরেছে। এগুলো খুবই খারাপ জিনিস। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সকলেই শঙ্কিত হয় এবং এর সাথে যদি ইউ নো হু-এর হাত পেছনে থাকে, তা হলে তো কথাই নেই। যদিও সে জেনেছে এসব জাদু জীবনের বিষয়। কিন্তু ভোলডেমর্ট নামটি তেমন তাকে অস্বস্তিতে ফেলে না বা তাকে ভয় পাইয়ে দেয় না।
কিডিচ খেলা সম্পর্কে তোমার কি কোন ধারণা আছে? রন হ্যারিকে প্রশ্ন করে।
এ ব্যাপারে আমার কোন ধারণাই নেই। হ্যারি জবাব দিল।
তুমি কি বললে নাম শোননি? বিস্ময়ের সাথে রন প্রশ্ন করে-এটা তো পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ খেলা।
তারপর রন কিডিচ খেলার বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে হ্যারিকে বলল। তারা যখন গল্প করছিল তখন তাদের কামরার দরোজা খুলে গেল। এবার কামরায় ব্যাঙ হারানো ছেলে নেভিল নয়, হারমিওন গ্রেঞ্জার। তিনটি বালক তাদের কামরায় প্রবেশ করল। হ্যারি মাঝখানে বিষণ্ন মুখের বালকটিকে মুহূর্তেই চিনতে পারল। তাকে মাদাম মালকিনের পোশাকের দোকানে দেখেছিল। ডায়াগন এলির চেয়ে এখন বেশি আগ্রহ নিয়ে সে হ্যারির দিকে তাকিয়ে রইল।
এটা কি সত্য? ছেলেটি বলল–সবাই বলাবলি করছিল এই কামরায় হ্যারি পটার আছে। তাহলে তুমিই সেই হ্যারি পটার?
হ্যাঁ হ্যারি জবাব দিল। হ্যারি অন্য দুই ছেলের দিকে তাকাল। তারা দুজনেই খুব মোটা ও তাদের দুজনকেই সংকীর্ণ মনা মনে হলো। তারা দুজনেই বিষণ্ন মুখের বালকটির দুপাশে এমনভাবে দাঁড়িয়েছিল, যেন তারা ওর বডিগার্ড।
এরা দুজন হলো ক্ৰেব ও গয়েল। বিষণ্ণ মুখের ছেলেটি বলল আমার নাম ম্যালফয়–ড্রেকো ম্যালফয়।
রন কাশি দিল। ড্রেকো ম্যালফয় তার দিকে তাকিয়ে রইল।
আমার নামটি কি কৌতুককর মনে হয়। তুমি কে সেটা জিজ্ঞাসা করার কোন প্রয়োজন নেই। আমার বাবা আমাকে বলেছেন ওয়েসলি পরিবারের সদস্যদের মাথার চুল লাল এবং তাদের পরিবারে অনেক বেশি ছেলেমেয়ে।
সে হ্যারির দিকে দৃষ্টি ফেরাল।
পটার, তুমি অল্পদিনেই বুঝতে পারবে যে কিছু জাদুকর পরিবার অন্য পরিবার থেকে ভালো। তুমি খারাপ লোকের সাথে বন্ধুত্ব করবে না। আমি তোমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারি।
হ্যারির সাথে করমর্দনের জন্য সে তার হাত বাড়িয়ে দিল, কিন্তু হ্যারি সাড়া দিল না।
ধন্যবাদ, কে ভালো কে মন্দ সেটা আমিই বলতে পারব। শীতলভাবে সে কথাগুলি বলল।
ড্রেকো ম্যালফয়ের চেহারা লাল না হলেও তার চেহারায় একটা গোলাপী আভা দেখা গেল।
আমি যদি তুমি হতাম তাহলে আমি আরো সতর্ক থাকতাম। সে আস্তে আস্তে বলল–তুমি যদি আর একটু নম্র না হও তাহলে তোমাকেও তোমার বাবা–মার পথে যেতে হবে। তারা বুঝতে পারেনি কোন জিনিসটি তাদের জন্য কল্যাণকর ছিল। তুমি যদি ওয়েসলির মত মাস্তান আর হ্যাগ্রিডের সাথে মেলামেশা কর, তাহলে তোমার ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো যাবে না।
হ্যারি এবং রন দুজনেই দাঁড়াল। ওয়েসলির চেহারা তার চুলের মত লাল হয়ে উঠল।
রন বলল–কথাটা আবার বলতো।
তোমরা কি আমাদের সাথে মারামারি করতে চাও? ম্যালফয় ধমকের সুরে বলল।
যদি তোমরা এক্ষুণি এখান থেকে বিদেয় না হও। হ্যারি খুব কড়াভাবে বলল। একটু বেশি কড়াভাবেই। কারণ ওর সাথে অপর দুজন ক্রেবে আর গয়েল ওদের উডয়ের চেয়ে গায়ে–গতরে বড়সড় ছিল।
আমাদের এখান থেকে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। আমাদের খাবার সব শেষ হয়ে গেছে এবং মনে হচ্ছে তোমাদের কাছে এখনও কিছু খাবার আছে।
রনের কাছে রাখা চকোলেট ফ্রগের দিকে গয়েল এগুল। রন লাফ দিয়ে আগে বাড়ল। গয়েলকে স্পর্শ করার আগেই বিকট শব্দ করে গয়েল আর্তনাদ করে উঠল।
স্ক্যাবার্স, রনের ইঁদুরটি তার আঙুলের ডগায় ঝুলছিল। ইঁদুরটি তার ছোট ধারাল দাঁত গয়েলের আঙুলে বসিয়ে দিয়েছে। ক্রেবে আর ম্যালফয় পেছনে সরে দাঁড়াল। স্কাবার্সের কামড়ে গয়েল হাউ–মাউ করছিল। গয়েল ইঁদুরটাকে ছুঁড়ে ফেলার জন্য হাত মুরাতে লাগলো। এক সময় ইঁদুরটা ছুটে গিয়ে জানালায় আঘাত করলো। এরপর তারা তিনজনই ছুটে পালালো। হতে পারে তারা ভেবেছিল ঘরে বোধহয় আরো অনেক ইঁদুর আছে। পায়ের শব্দ শুনতে পেয়ে ঘটনার এক সেকেন্ড পরই হারমিওন গ্রেঞ্জার কামরায় প্রবেশ করল।
এখানে এতক্ষণ কী ঘটলো? মেঝেতে ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মিষ্টি দেখে হারমিওন প্রশ্ন করল। রন লেজ ধরে টেনে স্ক্যাবার্সকে হাতে তুলে নিল।
আমার মনে হচ্ছে সে আঘাত পেয়েছে। রন হ্যারির দিকে তাকিয়ে বলল। সে স্ক্যাবার্সের দিকে তাকাল। তারপর বলল–না, না–আমার বিশ্বাস হয় না… সে বোধ হয় ঘুমিয়ে পড়েছে।
আসলে সে ঘুমিয়েই পড়েছিল।
তোমার সাথে ম্যালফয়ের এর আগে কখনও দেখা হয়েছে?
