রন বলল, আমি একটা ফ্রগ চকোলেট নেই, দেখি এগ্রিপা বা টলেমির ছবি পাই কিনা।
হ্যারি পড়তে লাগলো…
আলবাস ডাম্বলডোর হোগার্টস-এর বৰ্তমান অধ্যক্ষ, যাকে বিবেচনা করা হয় এ যুগের শ্রেষ্ঠতম জাদুকর হিসেবে। ১৯৪৫ সালে কালো যাদুকর গ্রিনডে ওয়াল্ডকে পরাজিত করেই ডাম্বলডোর বিখ্যাত হন; ড্রাগন রক্তের ১২টি ব্যবহার উদ্ভব ও সহকর্মী নিকোলাস ফ্লামেলের সাথে আলকেমির উপর কাজ করাও তার অন্যতম কীর্তি। প্রফেসর ডাম্বলডোর উপভোগ করেন চেম্বার মিউজিক ও টেনপিন বোলিং।
হ্যারি এবার কার্ডটি উল্টাল। এবার তাকিয়ে দেখে কার্ডে ডাম্বলডোরের কোন ছবিই নেই।
কই, তিনি তো নেই। হ্যারি অবাক বিস্ময়ে মন্তব্য করল।
তুমি তো আশা করতে পার না তিনি সারাক্ষণ কার্ডের সাথে লেগে থাকবেন। রন বলল–তিনি আবার আসবেন। আমি আবার মর্গানাকে পেয়েছি।… তার ছটা ছবি পেয়েছি।
তুমি কি কার্ড জমাতে চাও?
রনের দৃষ্টি চকোলেট ফ্রগের প্যাকেটগুলোর দিকে।
না–ও না–ও হ্যারি বলল, তুমি তো জান, মাগল জগতে ছবির ভেতর মানুষ স্থায়ীভাবে থাকে।
সত্যিই কি তারা তাই করে? তারা কি একটুও নড়াচড়া করে না। রন আশ্চর্য হয়ে মন্তব্য করল–সত্যিই কী অদ্ভুত!
হ্যারি দেখল যে ডাম্বলডোরের ছবি পুনরায় কার্ডে চলে এসেছে এবং তিনি হ্যারির দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। বিখ্যাত জাদুকরদের ছবির চেয়ে রন-এর মনোযোগ ছিল খাবারের দিকে। একটু পর হ্যারি কার্ডে শুধু ডাম্বলডোরই নয়–আরো বিখ্যাত জাদুকরদের ছবি দেখল। এরপর হ্যারি বেরটি বোটস-এর বিচিত্র গন্ধের মটরশুটির প্যাকেট খুললো। এ সব বিষয়ে তোমাকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রন হ্যারিকে সাবধান করে বলল। যখন তারা বলে সকল প্রকার গন্ধ, তার মানে সকল প্রকার গন্ধ–তুমি জান, চকোলেট, পিপারমেন্ট এবং মার্মালেড-এর মত সাধারণ জিনিসে যা পাও, আবার তুমি পালং শাক, কলিজা বা ষাড়ের ভুঁড়ির গন্ধ।
রন একটি সবুজ মটরদানা হাতে নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করল এবং মটরদানায় কামড় বসাল।
তারা বেশ মজা করে খাচ্ছিল। হ্যারি টোস্ট, নারকেল, সেকা মটরশুটি, স্ট্রবেরি, তরকারি, ঘাস, কফি ও সার্দিন খেল। এবং সাহস করে একটি ধূসর রঙের খাবারে এক কামড় দিল যা রন কখনো করবে না, ওটা আসলে ছিল মরিচ।
এবার তারা জানালা দিয়ে দেখল, খেত–খামার নয়, ট্রেনটি বন, আঁকাবাঁকা নদী ও ঘন সবুজ পাহাড় অতিক্রম করছে। তাদের কম্পার্টমেন্টের দরজায় টোকা দেয়ার শব্দ পেল এবং দরজা টেনে গোলমুখ ছেলেটি ভেতরে ঢুকলো, ওকে হ্যারি পৌনে দশ প্লাটফর্মে দেখেছিল। কাঁদো কাঁদো মুখ তার। বলল, তোমরা কি একটি ব্যাঙ দেখেছো? তারা যখন মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, না। সে কেঁদে ফেলো, আমি ওটা হারিয়ে ফেলেছি। হ্যারি তাকে সান্ত্বনা দিল–পেয়ে যাবে। ঘাবড়িওনা।
যাহোক, যদি দেখতে পাও, আমাকে জানিও বলে ছেলেটি চলে গেল। একটু পর আবার সে ফিরে এল। এবার সাথে একটি মেয়ে। তার গায়ে হোগার্টসের ইউনিফর্ম। তোমরা কি কেউ একটা ব্যাঙ দেখেছো, নেভিল হারিয়েছে। মেয়েটি বলল।
আমরা আগেই ওকে জানিয়েছি–আমরা দেখিনি। রন বলল। রনের হাতে জাদুদণ্ড।
একি, তুমি কি ম্যাজিক দেখাবে? রনের হাতে জাদুকাঠি দেখে মেয়েটি বলল।
দেখি কি ম্যাজিক করছো, বলে মেয়েটি বসে পড়লো।
রন একটু ভয়ই পেয়ে গেল, তারপর বলল, ঠিক আছে। কেশে গলাটা পরিষ্কার করে নিয়ে শুরু করলো সানসাইন, ডেইসিস, বাটার মেলো টান দিস স্টুপিড, ফ্যাট র্যাট ইয়েলো। বলে সে জাদুকাঠিটি ঘুরালো। কিন্তু কিছুই হলো না। ইঁদুরটা ধুসরই থেকে গেল এবং ওটা তখনও ঘুমাচ্ছিল।
আমি রন ওয়েসলি। রন মৃদুস্বরে বলল।
আমি হ্যারি পটার। হ্যারি বলল।
তুমি কি সত্যিই হ্যারি পটার? অবাক হয়ে হারমিওন প্রশ্ন করল। তারপর হারমিওন বলে চলল–আমি তোমার সবকিছুই জানি। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও আমি কিছু বই পাই। মডার্ন ম্যাজিকাল হিস্ট্রি, দি রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দি ডার্ক আর্টস এবং গ্রেট উইজার্ডিং ইভেন্টস অফ দি টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি বইগুলোতে তোমার নাম উল্লেখ আছে।
সত্যিই? বিস্ময়ের সাথে হ্যারি প্রশ্ন করে।
আশ্চর্য, তুমি কিছুই জান না। হারমিওন বলল–আমি যদি তোমার জায়গায় হতাম তাহলে আমি সবকিছু খুঁজে বের করে ফেলতাম। আচ্ছা, তোমরা কি কেউ জানো তোমরা কোন হাউজে থাকবে? আমি গ্রিফিল্ডর হাউজে থাকতে চাই। আমার মনে হচ্ছে ওটা ভাল হবে। আজ আমি যাচ্ছি। নেভিলের ব্যাঙ খুঁজতে হবে। আর তোমরা জামা–কাপড় পালটে নাও আমরা শিগগিরই পৌঁছে যাব।
যে ছেলেটি ব্যাঙের খোঁজে এসেছিল তাকে নিয়ে হারমিওন বিদায় নিল।
আমি যে হাউজে থাকি না কেন আমি চাই যেন এই মেয়েটি সেখানে না থাকে। একথা বলে রন তার জাদুদণ্ড ট্রাংকে ভরল।
তোমার অন্য ভাইরা কোন হাউজে আছে? হ্যারি জানতে চাইল। গ্রিফিল্ডর হাউজ। রন জবাব দিল। রনের চেহারা একটু বিবর্ণ হলো। তবুও সে বলে চলল–বাবা ও মা এই হাউজে ছিলেন। আমি যদি এই হাউজে থাকতে না পারি তাহলে বাবা–মা কী ভাববেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। হাউজ হিসেবে ব্যাভেনক্লও খারাপ নয়। কিন্তু ভেবে দেখ, তারা যদি আমাকে স্লিদারিন হাউজে রেখে দেয়।
এই হাউজেই… ইউ নো হু ছিল।
হ্যারি ভাবছিল স্কুল ত্যাগ করার পর জাদুকররা কী করে।
