আমি শুনলাম তুমি মাগলদের সাথে থাকতে গিয়েছিলে। তারা কেমন? রন হ্যারিকে প্রশ্ন করল।
খুবই খারাপ। তবে তাদের সবাই নয়। হ্যারি জবাব দিল। মাগল চেনার জন্য আমার চাচা, চাচী ও চাচাতো ভাইই যথেষ্ট। আমার যদি তিনজন জাদুকর ভাই থাকত।
পাঁচ–রন বলল। যেকোন কারণেই হোক রনকে একটু মনমরা দেখাচ্ছিল। রন বলে চলল–আমাদের পরিবারে আমি ষষ্ঠ ব্যক্তি যে হোগার্টসে যাচ্ছি। তুমি হয়তো বলতে পার বিল আর চার্লি যা রেখে গেছে তার অনেক কিছুই আমি পেয়েছি। বিল ছিল হেডবয়, আর চার্লি কিডিচ দলের অধিনায়ক। এখন পার্সি একজন প্রিফেক্ট। ফ্রেড আর জর্জ অনেক হইচই করে বেড়ায়। তবুও তারা ভালো নম্বর পায়। সবাই মনে করে তারা খুব মজার। প্রত্যেকেরই প্রত্যাশা আমিও তাদের মত ভালো করব। আমি যদি ভালো করি তাতেও আমার কোন কৃতিত্ব থাকবে না। কারণ এ রকম ফলাফল ওরা সবাই আগে করে গেছে। যার পাঁচ ভাই আছে সে কখনো নতুন কিছু পায় না। আমি বিলের কাছ থেকে তার পুরনো পোশাক, চার্লির কাছ থেকে জাদুদণ্ড এবং পার্সির কাছ থেকে পুরনো ইঁদুর পেয়েছি।
রন তার জ্যাকেটের ভেতর হাত দিয়ে একটা মোটা ধূসর রঙের ইঁদুর বের করল। ইঁদুরটা তখন ঘুমোচ্ছিল। এর নাম স্ক্যাবাস। এটা কোন কাজের নয়। কখনও ঘুম থেকে ওঠে না। পার্সি প্রিফেক্ট হওয়ার পর আমার বাবার কাছ থেকে এক পেঁচা পেয়েছিল। আর আমি পেলাম এই স্কাবার্সকে। রনের কান গোলাপী বর্ণ ধারণ করল। তার মনে হল সে অনেক বেশি কথা বলছে। তাই সে আবার জানালার বাইরে তাকাল। কারো কাছে যদি একটি পেঁচা না থাকে তাহলে তাকে দুঃখিত হতে হবে এমন কোন কথা নেই–হ্যারির কাছে তাই মনে হলো। একমাস আগেও হ্যারির কাছে কোন টাকা পয়সা ছিল না। হ্যারি রনকে জানাল যে তাকে সব সময় ডাডলির পুরনো কাপড় পরতে হয়েছে এবং জন্মদিনে সে কখনো কোন উপহার পায়নি।
হ্যারির কথা শুনে রন খুশি হয়ে উঠল।
হ্যারি রনকে আরও বলল–হ্যাগ্রিডের সাথে সাক্ষাতের আগে বুঝতে পারিনি যে আমাকে জাদুকর হতে হবে। তার সাথে সাক্ষাতের আগে আমি আমার বাবা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
রন একটি দীর্ঘশ্বাস নিল।
কি ব্যাপার? হ্যারি প্রশ্ন করল।
তুমি ইউ-নো-হু-এর নাম বললে। আমিও ভেবেছিলাম তোমরা সবাই… রন বলল। তাকে একই সাথে অভিভূত আবার দুঃখিতও মনে হচ্ছিল।
আমি তার নাম উল্লেখ করে বাহাদুরি দেখাতে চাইনি।
হ্যারি বলল আমি মনে করি আমি যে শব্দগুলো উচ্চারণ করেছি সেগুলো তোমার না জানাই ভালো। আমাকে এখনও অনেক কিছু শিখতে হবে। আমার মনে হয় আমি ক্লাশের সবচেয়ে খারাপ ছাত্র হবো?
না, তুমি তা হবে না। রন বলল-এখানে অনেকেই মাগল পরিবার থেকে আসে। তারা অল্প সময়েই সব শিখে ফেলে।
তারা যখন কথা বলছিল ঠিক তখনই ট্রেনটি লন্ডন শহরের বাইরে চলে গেল। তারা জানালা দিয়ে মাঠে গরু–ছাগল–ভেড়া দেখতে লাগল।
ঠিক সাড়ে বারোটার সময় তারা ট্রেনের করিডোর থেকে কথাবার্তা ও হাসির শব্দ শুনতে পেল। তাদের কামরার দরোজা খুলে এক ভদ্রমহিলা এসে হাসি মুখে তার টেনে আনা খাবারের ট্রলির দিকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলেন–তোমাদের কারো কোন খাবার লাগবে?
হ্যারি সকালে নাশতা করতে পারেনি। তাই সে উঠে দাঁড়ালো। রন বলল তাকে বাইরে যেতে হবে না। তার কাছেই স্যান্ডউইচ আছে।
হ্যারি যখন ডার্সলি পরিবারের সাথে থাকত তখন তার কাছে কোন টাকা–পয়সা থাকত না। অবশ্য এখন তার পকেট গরম। তার পকেট ভর্তি সোনা ও রূপার মুদ্রা। মহিলাটির ট্রলিতে সব আজব ধরনের খাবার, যা সে জীবনে দেখেনি। সে কোনটাই হারাতে চাইলো না, সবকিছুই অল্প অল্প করে কিনলো এবং মহিলাকে এগারটি সিলভার সিকেল ও সাতটি ব্রোঞ্জ নাটস দিল।
হ্যারি অনেক খাবার দাবার এনে খালি আসনে রাখল।
রন জিজ্ঞেস করল–তোমার কি খুব খিদে পেয়েছে? কুমড়োর একটি প্যাস্ট্রি মুখে দিতে দিতে হ্যারি বলল–হ্যাঁ আমার খিদে পেয়েছে।
রন প্যাকেট খুলে চারটি স্যান্ডউইচ বের করল। হ্যারিকে বলল, তুমি এখান থেকে কিছু নেবে? অবশ্য স্যান্ডউইচগুলো শুকনো। বুঝতেই পারছো। আমরা পাঁচ ভাই, মা খুব একটা সময় পায় না।
হ্যারি তার প্যাস্ট্রি রনের সামনে রেখে বলল নাও, এখান থেকে নাও। এ পর্যন্ত ভাগাভাগি করে খাবার সুযোগ হ্যারির হয়নি। রনের সাথে ভাগাভাগি করে খাওয়াতে হ্যারির মনে এক আনন্দময় অনুভূতির সৃষ্টি হলো। রনের সাথে হ্যারি প্যাস্ট্রি ও কেক খেল। স্যান্ডউইচের কথা তারা একেবারেই ভুলে গেল।
চকোলেট ফ্রগের একটি প্যাকেট বের করে হ্যারি রনকে জিজ্ঞেস করল-এটা কী?
হ্যারি বলে চলল-এগুলি নিশ্চয়ই ব্যাঙ নয়।
হ্যারি যেকোন বিস্ময়ের জন্য প্রস্তুত ছিল।
না ব্যাঙ নয়। রন জবাব দিল। দেখো সাথে একটি কার্ড আছে।
কি? হ্যারি প্রশ্ন করল।
তুমি জানো না। রন বল–চকোলেট ফ্রগের ভেতর কার্ড থাকে। এসব কার্ডে বিখ্যাত জাদুকর ও জাদুকরণীদের ছবি থাকে। আমি এ পর্যন্ত পাঁচশ কার্ড সংগ্রহ করেছি, কিন্তু কোনো কার্ডেই এগ্রিপা বা টলেমির ছবি পাইনি।
হ্যারি তার চকোলেট ফ্রগের প্যাকেটটি খুলল। কার্ডে একজন মানুষের ছবি। তার চোখে অর্ধচন্দ্রাকার চশমা। লম্বা বাঁকা নাক। রূপালী চুল, দাঁড়ি ও গোঁফ। ছবির নিচে লেখা
আলবাস ডাম্বলডোর
