হ্যালো! হ্যারিকে সম্বোধন করে ভদ্র মহিলা বললেন–তুমি কি প্রথমবারের জন্য হোগার্টসে যাচ্ছে? রনও প্রথমবারের মতো যাচ্ছে।
তিনি তার ছোট ছেলের প্রতি ইশারা করলেন।
রন লম্বা, পাতলা। হাত পা বড় বড়। চোখা নাক।
হ্যাঁ হ্যারি জবাব দিল। কীভাবে যাব তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি
কেন, তুমি কি প্লাটফর্ম খুঁজে পাচ্ছি না।
না। হ্যারির জবাব।
চিন্তা নেই। তোমাকে শুধু দু প্লাটফর্মের মাঝখানে যেতে হবে। নয় ও দশের মাঝখানে। ওই দেয়ালের দিকে যাও। ঘাবড়াবার কারণ নেই। চেষ্টা কর যাতে রনের আগে পৌঁছতে পারো।
ঠিক আছে। হ্যারি বলল।
হ্যারি তার ট্রলি ধাক্কা দিল এবং সামনের বদ্ধ দেয়ালের দিকে তাকাল। দেয়ালটা একেবারে নিরেট।
হ্যারি হাঁটতে শুরু করল। যাওয়ার পথে লোকজনের সাথে হ্যারির ধাক্কাধাক্কি হলো। হ্যারি আরও দ্রুত হাঁটতে লাগল। টিকিট বাক্সের সাথে হ্যারির ধাক্কা লেগে গিয়েছিল প্রায়। ধাক্কা লাগলে তার জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে যেত। ভাগ্য ভালো। হ্যারিকে দুর্ঘটনায় পড়তে হয়নি।
জনাকীর্ণ প্লাটফর্মের পাশে একটি লাল রঙের বাস্পীয় ইঞ্জিন অপেক্ষা করছিল। ইঞ্জিনের ওপর লেখা ছিল হোগার্টস এক্সপ্রেস।
১১টা। হ্যারি পেছনে তাকাল। তাকিয়ে দেখল। নয় ও দশ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে লেখা ভেসে উঠল–প্লাট ফরম পৌনে দশ।
কথাবার্তায় ব্যস্ত লোকজনের মাথার ওপর দিয়ে ইঞ্জিনের ধোঁয়া ভেসে চলেছে। নানা রঙের বিড়াল পায়ের ফাঁক গলে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। অনেক পেঁচা এদিক–সেদিক উড়ে বেড়াচ্ছে। ট্রাংক টানাটানির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
প্রথমদিকের কামরাগুলোতে ছাত্ররা গা ঘেষাঘেষি করে বসে আছে। কেউ কেউ জানালা দিয়ে মুখ গলিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলছে। একটা ছেলে তার ব্যাঙ হারিয়ে ফেলেছে। হ্যারির ভাগ্য ভালো। সে মোটামুটি একটি খালি কামরা পেয়ে গেল।
ফ্রেড নামের ছেলেটা হ্যারিকে জিজ্ঞেস করল–তুমি কি হ্যারি পটার?
হ্যাঁ। হ্যারি জবাব দিল।
হ্যারির দিকে শেষবারের মতো তাকিয়ে লালচুল যমজভাই দুজন ট্রেন থেকে নেমে এল। হ্যারি জানালার পাশে বসেছিল। সেখান থেকে নিজেকে অনেকটা আড়ালে রেখে হ্যারি প্ল্যাটফর্মে লালচুল পরিবারের সবাইকে লক্ষ্য করছিল এবং তারা কি বলছিল তা শুনছিল। মা এইমাত্র তার রুমাল বের করলেন।
রন, তোমার নাকে ওটা কি?
ছোট ছেলেটি তার মার কাছ থেকে সরে যাচ্ছিল। তার মা তাকে জড়িয়ে ধরে তার নাক মুছে দিলেন।
যমজ ভাইদের একজন বলে উঠল–রনের নাকে কি কিছু আছে?
চুপ কর। রন ধমক দিল।
পার্সি কোথায়? তার মা জানতে চাইলেন।
সে আসছে
বড় ছেলে দৌড়াতে দৌড়াতে এল। এরই মধ্যে সে তার পোশাক বদলে হোগার্টসের জাদুর স্কুলের পোশাক পরে নিয়েছে। হ্যারি দেখল ইংরেজি পি বর্ণ দিয়ে তার বুকের ওপর একটি উজ্জ্বল ব্যাজ।
মা, বেশিক্ষণ থাকতে পারব না। ছেলেটি বলল।
আমি প্রিফেক্টদের কামরা থেকে এলাম। তারা তাদের জন্য দুটি কামরা পৃথক করে রেখেছেন।
পার্সি, তুমি কি একজন প্রিফেক্ট? যমজদের একজন প্রশ্ন করল।
যমজদের একজন আবার প্রশ্ন করল–পার্সি প্রতিদিন নতুন পোশাক পায় কিভাবে?
কারণ সে একজন প্রিফেক্ট। মা জবাব দিলেন। ভালোভাবে থেকো। যখন সুযোগ পাবে তখন আমাকে একটা পেঁচা পাঠাবে।
তিনি পার্সির কপালে চুমু দিলেন। পার্সি চলে গেল! এরপর তিনি যমজ ভাইদের দিকে নজর দিলেন।
হ্যারি লক্ষ্য করল ট্রেন বাঁক নেবার সাথে সাথেই মা ও মেয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।
ট্রেনে চড়তে পারায় হ্যারির অনেক আনন্দ হচ্ছিল। সে কী করবে ভেবে পাচ্ছিল না। হঠাৎ করে সামনের দরোজা খুলে গেল। একজন লালচুলের বালক কামরায় প্রবেশ করে হ্যারির উল্টোদিক দেখিয়ে জানতে চাইল-এখানে কি কেউ আছে? হ্যারি না বলাতে বালকটি ওই আসনে বসে পড়ল।
প্রথমে সে হ্যারিকে লক্ষ্য করল। তারপর জানালা দিয়ে বাইরে এমনভাবে তাকাল যেন সে হ্যারিকে দেখতেই পায়নি। হ্যারি লক্ষ্য করল এর ভেতরে দু যমজ ভাই ফিরে এসেছে।
যমজ ভাইদের একজন বলল আমাদের কি পরিচয় হয়েছে? আমরা ফ্রেড ও জর্জ। এ হলো আমাদের ভাই রন। আবার দেখা হবে।
বিদায়, হ্যারি ও রন বললো। যমজ দু ভাই অন্য কামরায় গিয়ে দরোজা বন্ধ করে দিল। তুমি কি আসলেই হ্যারি পটার? রন আবার প্রশ্ন করল।
হ্যাঁ। মাথা নেড়ে হ্যারি বলল। রন আবার বলল–আমি ভেবেছিলাম ফ্রেড বা জর্জের মধ্যে কেউ একজন হবে।
রন হ্যারির কপালের দিকে ইঙ্গিত করে বলল।
হ্যারি, এখানেই কি ইউ-নো-হুর…।
হা হ্যারি জবাব দিল–কিন্তু আমার কিছু মনে নেই।
তোমার কি কিছুই মনে নেই? রন আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করল।
তীব্র সবুজ আলোর কথা আমার মনে পড়ে। এর বাইরে কিছুই মনে করতে পারি না। হ্যারি জবাব দিল।
ওহ। এই বলে রন বসে পড়ল ও হ্যারিকে দেখতে লাগল। কিছুক্ষণের জন্য। তারপর সে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল।
তোমাদের পরিবারের সবাই কি জাদুকর? হ্যারি রনকে প্রশ্ন করল। রনকে হ্যারির খুব ভাল লেগেছে।
রন জবাব দিল–আমার তাই মনে হয়। মায়ের এক দূরসম্পৰ্কীয় ভাই আছেন যিনি হিসাবরক্ষক। আমরা তাকে নিয়ে খুব একটা আলোচনা করি না।
তাহলে তুমি অনেক জাদু জানো। হ্যারি মন্তব্য করল।
ওয়েসলি পরিবার পুরনো জাদুকর পরিবারের অন্যতম। ডায়াগন এলির সেই ছেলেটি এ ধরনের মন্তব্য করেছিল।
