কী জানো তাহলে?
হ্যারি জবাব দিল-এতটুকু জানি পৌনে দশ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ঠিক এগারোটায় ট্রেনে চড়তে হবে।
কী প্ল্যাটফর্ম বললে? আন্ট ও আঙ্কল তার দিকে বিস্ময়ে তাকালেন।
পৌনে দশ নম্বর প্ল্যাটফর্ম। হ্যারি বলল।
যত্তসব রাবিশ–
এ নামে তো কোন প্ল্যাটফর্ম নেই। আঙ্কল ভার্নন মন্তব্য করলেন। টিকিটে তো তাই লেখা আছে। হ্যারি মরিয়া হয়ে জবাব দিল।
যত্তসব পাগলের কাণ্ড। আঙ্কল ভার্নন মন্তব্য করলেন–ঠিক আছে। অপেক্ষা করো, তুমি নিজেই দেখতে পাবে। তোমাকে কিংস ক্রস স্টেশনে নামিয়ে দিতে আমার কোন অসুবিধে নেই। কারণ কাল আমরাও লন্ডন যাচ্ছি।
পরিবেশ লঘু করার জন্য হ্যারি প্রশ্ন করল–আপনারা লন্ডন যাচ্ছেন, কেন?
ডাডলিকে হাসপাতালে নিতে হবে। বড় হওয়ার আগেই তার পেছনের ছোট লেজটায় অস্ত্রোপচার করতে হবে। সে-ই লেজটাই, যেটা গজিয়েছিল ঝড়ের রাতে, হ্যাগ্রিডের জাদুমন্ত্রে। সে রাত থেকে হ্যারিকে ডাডলির জ্বালাতন করাতো দূরের কথা, ওর ধারে কাছে যেতে সাহস পায় না।
পরদিন ভোর পাঁচটায় হ্যারি ঘুম থেকে উঠল। ভেতরে টান টান উত্তেজনা। তাই দ্বিতীয়বার আর ঘুমোতে গেল না। সে তার জিনসের কাপড় বের করল, কারণ জাদুকরের পোশাক পরে সে স্টেশনে যেতে চাচ্ছিল না। ট্রেনে উঠে সে পোশাক পালটে নেবে। হোগার্টসের জন্য যা যা জিনিস, তার তালিকা হ্যারি একবার যাচাই করে নিল। কারণ হোগার্টসে গিয়ে দেখা যাবে যে এমন কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা দরকার ছিল কিন্তু সেগুলো আনা হয়নি।
তারপর হ্যারি অপেক্ষা করতে লাগল–ডার্সলি পরিবারের সদস্যদের কখন ঘুম ভাঙে। দু ঘণ্টা পর হ্যারির ভারী ট্রাংক ডার্সলির গাড়িতে ওঠানো হলো। আন্ট পেতুনিয়া ডাডলিকে বলে দিলেন–গাড়িতে ও যেন হ্যারির পাশে বসে। ভয়ে ভয়ে হলেও ডাডলি হ্যারির পাশে গাড়িতে বসলো, গাড়ি চলতে শুরু করলো।
সাড়ে দশটায় তারা কিংস ক্রস স্টেশনে পৌঁছলেন। আঙ্কল ভার্নন হ্যারির ট্রাংকটা ট্রলিতে উঠিয়ে দিলেন এবং নিজেই ট্রলিটি স্টেশনে ঠেলে নিয়ে গেলেন। হ্যারি আঙ্কলের ওই কাজকে একটা আশ্চর্য সদয় ব্যবহার বলে মনে করল। একটু পরে যখন আঙ্কল ভার্নন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছলেন তখন তার মুখে এক অদ্ভুত হাসি।
আঙ্কল ভার্নন বললেন-এই তোমার প্ল্যাটফর্ম প্ল্যাটফর্ম নয়… প্ল্যাটফর্ম দশ। তোমার প্ল্যাটফর্ম এ দুটি সংখ্যার মাঝামাঝি হওয়া উচিত। মনে হচ্ছে–প্ল্যাটফর্ম এখনও তৈরি করেনি। আঙ্কল ভার্নন ঠিকই বলেছেন। প্ল্যাটফর্মের কোন এক জায়গায় প্লাস্টিকে বড় অক্ষরে নয় এবং অন্য এক স্থানে দশ লেখা আছে। এ দুয়ের মাঝামাঝি জায়গায় কোথাও কোন কিছু লেখা ছিল না।
ভালো থেকো। এই বলে তার সে-ই অদ্ভুত ও সংশয়মিশ্রিত হাসি হেসে আঙ্কল ভার্নন আর কোন কথা না বলেই প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে গেলেন। হ্যারি তাকিয়ে দেখল ডার্সলিরা গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের তিনজনই হাসছে। হ্যারির মুখ শুকিয়ে গেল। সে ভাবতে লাগল সে এখন কি করবে? পেঁচা হেডউইকের কারণে লোকজন তার দিকে তাকাচ্ছে। ট্রেনের ব্যাপারে কাউকে জিজ্ঞেস করা উচিত। হ্যারি গার্ডের কাছে গিয়ে হোগার্টসের ট্রেনের কথা জানতে চাইল। প্ল্যাটফর্ম নম্বর পৌনে দশ বলতে হ্যারির সাহস হচ্ছিল না। হোগার্টস কোথায়? জানতে চাইল গার্ড। হ্যারিও তাকে বলতে পারল না হোগার্টস দেশের কোন জায়গায় অবস্থিত। হ্যারি কি বলবে, তার মাথায় কিছু আসছিলো না। এবার প্রশ্ন করল–আচ্ছা এগারোটার সময় কোন ট্রেন আছে কি?
তাতো বলতে পারলাম না। গার্ড জবাব দিল। তখন এগারোটা বাজতে মাত্র দশ মিনিট বাকি। সে কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না। ট্রেনের মাত্র দশ মিনিট বাকি। সে স্টেশনের মাঝখানে ভারি ট্রাঙ্ক, পেঁচা ও পকেটভর্তি জাদুকরদের টাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
ঠিক এই সময়ে পেছনে একদল লোক দেখতে পেল যারা আলাপে মাগল শব্দটি বারবার বলছিল। এক মোটা মহিলা চারজন লাল চুল যুবকের সাথে কথা বলছিলেন। হ্যারি তাদের দিকে এগিয়ে গেল। শুনতে পেল মহিলা বলছেন–
–তোমাদের প্ল্যাটফর্ম নাম্বার কত?
পৌনে দশ। একটি ছোট মেয়ে জবাব দিল। তারও লালচুল। মাম, আমিও কি ওদের সাথে যেতে পারি না।
না, না, গিনি তুমি ছোট এখনো বড় হওনি। এখন চুপ কর। আর পার্সি তুমি আগে আগে যাও।
ছেলেদের মধ্যে যাকে সবচে বেশি বয়সের মনে হলো তাকে প্ল্যাটফর্ম নয় ও দশের দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেল। হ্যারি তাকে অপলক দৃষ্টিতে লক্ষ্য রেখে তার পেছনে পেছনে অগ্রসর হলো। ছেলেটা যখন এই দুটো প্লাটফরমের মাঝামাঝি পৌঁছলো, তার সামনে দলে দলে পর্যটক। যখন সর্বশেষ ব্যাগটিও ট্রেন থেকে খালাস করা হলো তখন দেখা গেল যে ছেলেটি অদৃশ্য হয়ে গেছে। ফ্রেড, তারপর তোমার পালা। ভদ্রমহিলা বললেন।
আমি ফ্রেড নই। আমি জর্জ। ছেলেটি জবাব দিল। তুমি কি আমাকে জর্জ বলে ডাকতে পারো না?
দুঃখিত, জর্জ। ভদ্রমহিলা বললেন।
ঠাট্টা করছিলাম। আমিই ফ্রেড। এই বলে সে চলে গেল।
তারপর তৃতীয় ভাইটি বদ্ধ দেয়ালের দিকে অগ্রসর হলো। তাকে আর দেখা গেল না। মুহূর্তের মধ্যে দেখা গেল তারও কোন হদিস নেই। হ্যারির পাশে কেউ আর রইল না।
মাফ করবেন। ভদ্রমহিলার কাছে এসে হ্যারি বলল।
