ঘরের ভেতর রাশি রাশি স্বর্ণমুদ্রা। রূপোর স্তম্ভ। পাহাড়প্রমাণ ছোট ছোট ব্রোঞ্জের টুকরো। এবার স্মিত হেসে হ্যাগ্রিড হ্যারির উদ্দেশ্যে বললেন-এসবই তোমার। স্বর্ণগুলো হলো গ্যালিওন আর রূপোগুলো হলো সিকেল।
সব আমার, বলেন কী? অবিশ্বাস্য। হ্যারির কণ্ঠে বিরাট বিস্ময়।
মুদ্রাগুলো ব্যাগে ভরার ব্যাপারে হ্যাগ্রিড হ্যারিকে সাহায্য করলেন, হ্যাগ্রিড বললেন–সিন্দুক আর ভল্টে আরো আছে।
গ্রিপহুক বলল–ধীরে ধীরে সেগুলোও পাবে।
তারা আগে বাড়তে লাগল। তারা যতই আগে বাড়ল ততই তারা শীত অনুভব করতে লাগল।
মাটির নিচে একটা ছোট নদী। ওরা নদী অতিক্রম করল। তাদের সামনে সাতশ তের নাম্বার ভল্ট, কিন্তু চাবি ঢোকাবার ছিদ্র নেই। গ্রিপহুক বলল–সরে দাঁড়াও। বলেই তার লম্বা আঙুল ভল্টের গায়ে লাগিয়ে দিল। ভল্টের দেয়াল সরে গেল। গ্রিপহুক বলল–গ্রীংগট গবলিন ছাড়া অন্য কেউ হলে দরোজা ওদের শুষে নিত এবং ওরা এর ভেতর আটকে যেত।
হ্যারি জিজ্ঞেস করল–কেউ ঢুকেছে কিনা তা দেখার জন্য তুমি কতদিন পর পর পরীক্ষা কর।
গ্রিপহুক জবাব দিল–দশ বছরে অন্তত একবার। গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নির্ভর ভল্টে কিছু অসাধারণ ঘটনা ঘটে থাকে। হ্যারি নিশ্চিত ছিল, এখানে অসাধারণ কিছু সে দেখবে। ঘর ভর্তি অলংকার। হঠাৎ একটা ছোট প্যাকেটের ওপর তার দৃষ্টি পড়ল। হ্যাগ্রিড মাটি থেকে প্যাকেটটা তুলে তার কোটের ভেতর রাখল। হ্যারি জানতে চাইল, ভেতরে কী!
চলে এসো। এই মাটির তলার বাহনে। হ্যাগ্রিড কললেন–আমার সাথে এখন কোন কথা বলবে না।
আমার এখন কোন কথা না বলাই ভাল। হ্যারি ভাবছে এত ভারী বস্তা ভর্তি টাকা পয়সা নিয়ে তারা কোথায় এবং কিভাবে যাবে।
একটা বাহনে করে ঝড়ের গতিতে তারা গ্রীংগটসের বাইরে চলে এলো। বাইরে তারা সূর্যের আলোর রেখা দেখতে পেল।
তার এখন জানার দরকার নেই কত গ্যালিওনে এক পাউন্ড হয়। এত অর্থ নিয়ে সে দাঁড়িয়ে আছে যা সারা জীবনেও সে দেখেনি–সারা জীবনে ডাডলিও দেখেনি।
এখনও হ্যারির ইউনিফর্ম কেনা বাকি। মাদাম মালকিনের দোকানে কি ইউনিফর্ম পাওয়া যাবে?
মাদাম মালকিনের সঙ্গেও আলাপ হলো।
অবশ্যই পাওয়া যাবে। তিনি বললেন–হোগার্টস থেকেও একটি ছেলে এসেছে, তাকেও ইউনিফর্ম দিয়েছি।
সেই ছেলেটার সাথেও হ্যারি আলাপ করল। তাদের মধ্যে বেশ কিছু কথাবার্তা হলো। স্কুল সম্পর্কেও তাদের মধ্যে কথা হলো। তার কাছ থেকে একটা নাম শোনা গেল–কিডিচ। কিডিচ কী? কিডিচ এক ধরনের খেলা। খেলাটা অনেকটা ফুটবল খেলার মতো। এ খেলায় কিছু ঝাড়ু লাগে।
ফ্লারিশ ব্লট নামে এক বইয়ের দোকান থেকে হ্যারির জন্য স্কুলের বই কেনা হলো। এই দোকানে বইয়ের স্ট্যাকগুলো সিলিং পর্যন্ত পৌঁছেছে।
চামড়া বাঁধাই বিরাট বিরাট বই, সিল্ক কাপড়ের বাঁধাই ডাকটিকেটের মতো ক্ষুদ্র বই, বিচিত্র রকমের প্রতীক চিহ্নের বই আবার কিছু বই আছে যেখানে কিছুই ছাপা নেই। এমনকি ডাডলির মতো ছেলে–যে মোটেও বই পড়ে না, এসব বই পাওয়ার জন্য সেও নিশ্চয়ই পাগল হয়ে যেত।
বই দেখতে দেখতে এক জায়গায় হ্যারি থেমে গেল, বইটা ছিল শাপ ও প্রতিশাপ… কারসেস এন্ড কাউন্টার কারসেস। বন্ধুদের কিভাবে বোকা বানানো যায় বা শত্রুদের কিভাবে ক্ষতি করা যায়। লেখক অধ্যাপক ভিনডিকটাস ভিরিডিয়ান।
হ্যাগ্রিড এখান থেকে হ্যারিকে প্রায় ঠেলেই সরালেন। আমি দেখছিলাম, ডাডলিকে অভিশাপ দেয়ার কিছু পাওয়া যায় কিনা।
মন্দ নয়, আমি বলবো না যে আইডিয়াটা খারাপ হ্যাগ্রিড বললেন, কিন্তু তুমি তো বিশেষ কোন কারণ ছাড়া মাগলদের ওপর শাপ দিতে পারবে না। এটা নিষিদ্ধ। তাছাড়া তুমি এ কাজ পারবেও না। এর জন্য তোমাকে যথেষ্ট পড়াশোনা করতে হবে।
হ্যাগ্রিড হ্যারিকে স্বর্ণের তৈরি কলড্রন কিনতে দেননি। তবে জাদুপানীয় তৈরির উপাদান মাপার নিক্তি ও ভাঁজ করা যায় এমন একটি স্কেল কিনে দিলেন। এরপর ওরা গেল ওষুধের দোকানে–ফার্মেসিতে। পচা ডিম ও পচা পাতাকপির বিশ্রী গন্ধ এক ধরনের ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে সেখানে। মেঝেতে পিপা ভর্তি কিছু সরু জিনিস, জারভর্তি ভেষজ, শুকনো শিকড় ও চকচকে উজ্জ্বল গুড়ো পদার্থ দেয়ালে লাইন করে সাজানো।
পাখার বান্ডেল, ছাদ থেকে নিচে পর্যন্ত ঝোলানো সুতোয় বিষধর সাপের দাঁত, পাখির হাড়ের তৈরি অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি। হ্যারি নিজে একুশ গ্যালিওন দিয়ে ইউনিকর্নের দুটো রূপার শিং কিনলো।
দোকান থেকে বের হয়ে হ্যাগ্রিড হ্যারির জন্য ক্রয় তালিকা বের করলেন। ও, তোমার জন্মদিনের উপহার তো কেনা হয়নি। হ্যারি লজ্জা পেয়ে বলল, না এর কোন প্রয়োজন নেই।
না, এ কথাটা তোমাকে আমার বলার দরকার ছিল না। তোমার জন্য ব্যাঙ কিনবো না। এটা কেউ এখন পছন্দ করে না। বিড়ালও না। বিড়াল থাকলে আমার হাঁচি হয়। তোমার জন্য কিনবো পেঁচা। এটা এখনকার ছোটরা খুব পছন্দ করে। খুবই প্রয়োজনীয়। চিঠিপত্রও নিয়ে যায়। তোমার অন্য জিনিসপত্রও নিয়ে যেতে পারবে।
আউল এমপোরিয়ামটা ছিল সম্পূর্ণ অন্ধকার। পেঁচার ঝটপটানির শব্দ। একটা সাদা পেঁচাকে একটা সুন্দর বড় খাঁচায় ভরে হ্যারি অগ্রসর হতে লাগল।
কুড়ি মিনিট পরে ওরা আউল এমপোরিয়াম অতিক্রম করে শেষ দোকানে পৌঁছল। সরু এবং নোংরা রাস্তা। দরোজায় লেখা আছে অলিভ্যান্ডার্স–সুন্দর জাদুদণ্ড প্রস্তুতকারক, স্থাপিত খ্রি. পূ. ৩৮২।
