আমি কি তোমাকে বলিনি তুমি খ্যাতিমান? হ্যারির উদেশ্যে হ্যাগ্রিড বললেন। তোমার সাথে দেখা করে অধ্যাপক কুইরেল প্রায় কাঁপছিলেন।
তিনি কি সব সময় এরূপ নার্ভাস থাকেন? হ্যারি জানতে চাইল।
অবশ্যই। হ্যাগ্রিড বললেন–তিনি অত্যন্ত মেধাবী, যখন তিনি পড়াশোনা করতেন তখন সবই ঠিক ছিল। যখন তিনি অভিজ্ঞতার জন্য এক বছর হাতে–কলমে কাজ করতে গেলেন তখনই গোল বাঁধল। কেউ কেউ বলেন, যখন থেকে তিনি রক্তচোষাদের সাক্ষাৎ শুরু করলেন তখন থেকেই তার এই অবস্থা। ছাত্রদের দেখলেও তিনি ভয় পেয়ে যান। যাক সে কথা। আমার ছাতা কোথায়? হ্যাগ্রিড জানতে চাইলেন।
হ্যারি রক্তচোষাদের কথা ভাবছিল।
হ্যারি, সোজা হয়ে দাঁড়াও। হ্যাগ্রিড হ্যারিকে নির্দেশ দিলেন।
হ্যাগ্রিড ছাতার মাথা দিয়ে দেয়ালে তিনবার আঘাত করলেন। দেয়াল নড়ে উঠল। দেয়ালের মাঝখানে একটি গর্ত দেখা গেল। গর্তটি ধীরে ধীরে বড় হলো ও সিংহদ্বারে পরিণত হলো। গর্তের ভেতর দিয়ে হ্যাগ্রিডের মত বিশাল দেহের ব্যক্তিও প্রবেশ করতে পারে। ডায়াগন এলিতে স্বাগতম হ্যাগ্রিড বললেন।
হ্যারির বিস্মিত সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে তিনি মুচকি হাসলেন। হ্যারিও গর্তের ভেতর প্রবেশ করল। হ্যারি ঘাড় ফিরিয়ে দেখলো সিংহদ্বারটা ছোট হতে হতে দেয়ালে মিলিয়ে গেল। বাইরে দোকানগুলোর কলড্রনের সারির ওপর সূর্যের আলো ঠিকরে পড়ছে। জল গরম করার কলড্রনগুলোর ওপর একটা সাইনবোর্ডও ঝুলছিল। কলড্রনস–অল সাইজেস–রূপা, পিতল, পিউটের, তামা সেলফ–স্টিয়ারিং–কলাপসিবল।
হ্যাগ্রিড হ্যারিকে বললেন–তোমারও পানি গরম করার একটা কলড্রন লাগবে। তার আগে চলো তোমার টাকা উঠিয়ে নিই।
হ্যারি ভাবছিল তার যদি আরো আটটা চোখ থাকত। হাঁটতে হাঁটতে তার চোখ চারদিকে ঘুরতে লাগলো। দোকানপাট, লোকজন সবকিছু সে দেখার চেষ্টা করল। হ্যারি দেখল তার বয়সের কিছু ছেলে ঝাড়ুর দোকানের জানালার গ্লাসের ওপর তাদের নাক ঘষে দাঁড়িয়ে আছে। হ্যারি তাদের একজনকে বলতে শুনল–দেখো, নিউ নিম্বাস টু থাউজেন্ড। এটাই সবচে দ্রুতগামী। বিভিন্ন দোকানে পোশাক, দূরবীন ও রূপার অদ্ভুত যন্ত্রপাতি বিক্রি হচ্ছিল। যা হ্যারি এর আগে কখনোই দেখেনি। তারা হাঁটছেন। এক সময় হ্যাগ্রিড বললেন–আমরা গ্রিংগটসে এসে পড়েছি।
তারা একটা তুষার শুভ্র ভবনের সামনে এলো যা অন্যান্য ছোট দোকানগুলোর অনেক উঁচুতে। এক ব্যক্তি তাদের স্বাগতম জানাল। এই তো গবলিন, হ্যাগ্রিড বললেন। লোকটা উচ্চতায় হ্যারির চেয়েও খাটো। তার চেহারায় একটা ধূর্ত ভাব আছে। খাড়া খাড়া কুঁচলো দাঁড়ি। হ্যারি লক্ষ্য করল যে লোকটির আঙুল ও পা অনেক লম্বা। এবার তার দরোজার দ্বিতীয় অংশে এল দরোজার ওপর একটি কবিতা ঝোলানো ছিল।
আগন্তুক, তুমি মন দিয়ে শোনো
লোভের পাপের কি শাস্তি হয় জানো?
যারা শুধু নেয়, অর্জন করে না কিছুই
তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে, মানো।
আমাদের মেঝের নিচে যে গুপ্তধন
সেগুলো তোমার নয়, তবুও বলি
যদি তুমি হুঁশিয়ার না হও, করো চুরি
তাহলে দেখবে সেখানে
গুপ্তধন ছাড়াও আছে ‘অন্য কিছু’।
আমি বলেছি না, তোমারও এ ধরনের একটি পোশাক নিতে হবে। হ্যাগ্রিড বললেন।
দুজন গবলিন তাদের বো করল। তারা তখন মর্মরের তৈরি বিশাল হল রুমে। আরো প্রায় একশ গবলিন উঁচু চেয়ারে বসেছিল। তারা বড় বড় লেজারে লিখছিল, তামার দাঁড়িপাল্লায় মুদ্রার ওজন নিচ্ছিল এবং চোখে লাগানো ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে মূল্যবান পাথর পরীক্ষা করছিল।
সুপ্রভাত হ্যাগ্রিড বললেন–হ্যারি পটারের সিন্দুক থেকে কিছু টাকা ওঠাবার জন্য আমরা এখানে এসেছি।
আপনাদের কাছে কি চাবি আছে?
হ্যাঁ, আছে হ্যাগ্রিড জবাব দিলেন। তারপর তিনি তার পকেট খালি করে সমস্ত জিনিসপত্র কাউন্টারের ওপর রাখতে শুরু করলেন। হ্যারি ডানদিকে লক্ষ্য করে দেখল যে গবলিনটা একটা মুক্তার স্তূপ ওজন করছে।
পেয়েছি সোনালী চাবিটা হাতে পেয়ে হ্যাগ্রিড বললেন।
গবলিন চাবি পরখ করে বলল–ঠিক আছে।
হ্যাগ্রিড বেশ গুরুত্বের সাথে বললেন–আমি ডাম্বলডোরের কাছ থেকে একটি চিঠিও নিয়ে এসেছি। চিঠিটা ইউ–নো–হোয়াট, সাতশত তের ভল্টের বিষয়ে। গবলিন মনোযোগ দিয়ে চিঠিটা পড়ল। ঠিক আছে। গবলিন হ্যাগ্রিডকে চিঠিটা ফেরত দিয়ে বলল–ভলটে যাবার জন্য আমি এই বলে গবলিন গ্রিপহুককে ডাকলো।
গ্রিপহুকও একজন গবলিন। হ্যাগ্রিড সব ডগ–বিস্কুট পকেটে ভরার পর তারা দুজন গ্রিপন্থককে অনুসরণ করল।
৭১৩ নং ভলটে ইউ–নো–কী করে? হ্যারি জানতে চাইল। হ্যাগ্রিড জবাব দিলেন–আমি তোমাকে তা বলতে পারব না। এগুলো হোগার্টসের গোপনীয় জিনিস। ডাম্বলডোর বিশ্বাস করে আমাকে যতটুকু কাজ দিয়েছেন-এর বাইরে আমার কিছু করার নেই।
গ্রিপহুক তাদের জন্য দরোজা খুলে দাঁড়ালো। ভেতরে ঢুকেই হ্যারি বিস্মিত। ঘরে মশাল জ্বলছে। যাওয়ার রাস্তাটা সরু এবং নিচের দিকে ঢালু হয়ে চলে গেছে। মেঝেতে বেশকিছু রেল লাইন। গ্রিপহুক বাঁশি বাজাতেই একটা ছোট বাহন তাদের সামনে এল। তারা চড়ে বসলো। অবশ্য হ্যাগ্রিডের বিরাট শরীর নিয়ে একটু কষ্ট হল উঠতে। বাহনটা ছুটতে শুরু করল। খুব দ্রুত ছুটছে। আঁকা–বাঁকা পথ দিয়ে। হ্যারি ডাইনে বায়ে উডয়দিকে তাকাল। কিছুই দেখতে পেল না শুধু বাহনটার চলার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বাহনটা সবুজ আলোকিত এক স্থানে থামলো। হ্যাগ্রিডের পা ঝিম ঝিম করছিল, সে দাঁড়াতে পারছিলো না, পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো। সরু পথের দেয়ালে একটা দরজা। গ্রিপহুক দরজার তালা খুললো।
