এই যুক্তিটা অনুমান করে নেয় যে, অন্য কোনো পুরষের সন্তান নয় বরং ধারাবাহিকভাবে আপনার পিতার সন্তান উৎপাদন করার জন্য আপনার মায়ের উপর নির্ভর করা যাবে। এবং কতদুর অবধি তাকে ভরসা করা যেতে পারে সেটি সেই প্রজাতির প্রজননসঙ্গী বাছাই করার প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে। আপনি যদি এমন কোনো প্রজাতির সদস্য হন, যারা কিনা স্বভাবজাতভাবে বহুগামী। আপনার মায়ের সন্তানদের আপনি নিশ্চয়ই ভরসা করতে পারবেন না আপন পূর্ণ ভাই-বোন হিসাবে। এমনকি আদর্শ কোনো একগামী পরিস্থিতে আপাতদৃষ্টিতে একটি অপরিহরনীয় বিবেচ্য বিষয় আছে যা আপনার মাকে আপনার চেয়ে খারাপ বাজি হিসাবে উপস্থাপন করে। আপনার বাবা হয়ত মারা গেছেন। এমনকি সবচেয়ে উত্তম ইচ্ছা সত্ত্বে, যদি আপনার বাবা মৃত হয়, তাহলে আপনার বাবার সন্তান উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য আপনার মায়ের কাছে প্রত্যাশা করা সম্ভব না বললেই চলে, পারবেন কি তিনি?
বেশ, মূল কথা হচ্ছে, তিনি সেটা করতে পারেন। আর যে সকল পরিস্থিতিতে এমন কিছু ঘটতে পারে সেগুলো অবশ্যই ‘কিন। সিলেকশন’ তত্ত্বের জন্য নিঃসন্দেহে খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্তন্যপায়ী হিসাবে আমরা সেই ধারণায় অভ্যস্ত যে যৌনমিলনের পর একটি সুনির্দিষ্ট আর বরং সংক্ষিপ্ত সময়-বিরতির পর সন্তানের জন্ম হয়। একটি মানব পুরুষ তার মৃত্যুর পরও সন্তানের পিতা হতে পারে, তবে তার মৃত্যুর পর নয় মাস অতিক্রান্ত হবার পরে নয় (ব্যতিক্রম হতে পারে যদি শুক্রাণুকে হিমায়িত করে সংরক্ষিত করে রাখা হয়। আগে কোন স্পার্ম ব্যাঙ্কে); কিন্তু বেশ কয়েকটি গ্রুপের কীটপতঙ্গ আছে, যেখানে স্ত্রী সদস্যরা তাদের শরীরের একটি জায়গায় সারাজীবনের জন্য শুক্রাণু সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। এবং সেখান থেকে সে একটু একটু করে তার ডিম্বাণু নিষিক্ত করতে ব্যবহার করে, এমনকি তার সঙ্গী মরে যাবার বহু পরে। এরকম করে থাকে এমন কোনো প্রজাতির সদস্য যদি আপনি হন, আপনি আসলেই নিশ্চিৎ হবার সম্ভাবনা পোষণ করতে পারেন যে “জিনগত বাজিতে’ আপনার মা আপনার জন্য ভালো একটি দান হবে। একটি স্ত্রী পিপড়া একটি মেটিং ফ্লাইট এ ওড়ার সময় তার প্রজনন করে জীবনে একবারই, তার জীবনের শুরুতে। এরপর স্ত্রী পিপড়ারা তাদের ডানা হারিয়ে ফেলে এবং আর কখনোই প্রজনন করেনা। স্বীকার করতে হবে, অনেক পিপড়া প্রজাতিতে স্ত্রী পিপড়ারা বেশ কিছু সঙ্গীর সাথে মিলিত হয় তার মেটিং ফ্লাইট এর সময়। কিন্তু আপনি যদি এমন কোনো প্রজাতির সদস্য হয়ে থাকেন, যেখানে স্ত্রী সদস্যরা সবসময় একগামী, আপনি আসলেই আপনার মাকে নিদেনপক্ষে আপনার নিজের মতই জিনগত বাজীতে ভালো দান হিসাবে ভাবতে পারেন। তরুণ কোনো পিপড়া হবার একটি বিশেষ বিষয় হচ্ছে, তরুণ কোনো স্তন্যপায়ীদের ব্যতিক্রম, আপনার বাবা মরে গেল কি, গেল না, সেটা কোনো সমস্যা করে না (অবশ্যই সে নিশ্চিৎভাবে মৃত); আপনি বেশ ভালো ভাবে নিশ্চিৎ হতে পারবেন যে মৃত্যুর পরও আপনার বাবার শুক্রাণু বেঁচে আছে এবং আপনার মা আপনার জন্য ভাইবোন উৎপাদন করা অব্যাহত রাখবে।
এখান থেকে আমরা যে উপসংহারে পৌঁছাতে পারি সেটি হচ্ছে যদি আপনি ভাইবোনের প্রতিপালন এবং প্রতিরক্ষাকারী সৈন্য কীট পতঙ্গদের প্রপঞ্চটি নিয়ে কৌতূহলী হয়ে থাকেন, আমাদের তাহলে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে সেই সব প্রজাতিদের দিকে যেখানে স্ত্রী সদস্যরা সারা জীবনের জন্য শুক্রাণু সঞ্চয় করে। পিপড়া, মৌমাছি আর বোলতাদের ক্ষেত্রে, যেমনটি অধ্যায় ১০ এ আলোচনা করা হয়েছে একটি বিশেষ জিনগত অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য নিয়ে– হ্যাপলোডিপ্লয়ডি– যা তাদেরকে বেশী মাত্রায় সামাজিক কীট হবার জন্য প্রভাবিত করে। আমি এখানে যে যুক্তিটি প্রস্তাব চেষ্টা করছি সেটি হচ্ছে– সেটি ঘটার জন্য হ্যাপলোডিপ্লয়ডি একমাত্র কারণ নয়। আদর্শ কোনো পরিস্থিতিতে সারাজীবনের জন্য শুক্রাণু সংরক্ষণ, কোনো একটি মাকে জিনগতভাবে মহামূল্যবান হিসাবে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে কমপক্ষে একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং যাকে পরার্থবাদী সহযোগিতা দেয়া যুক্তিযুক্ত, ঠিক যে পরিমান সাহায্য কোনো হুবহু যমজ পাবার দাবী রাখে।
(১২) এই মন্তব্যটি এখন আমাকে বিব্রত আর লজ্জিত করে। কারণ এরপর আমি জানতে পেরেছি যে সামাজিক নৃতত্ববিদরা মায়ের ভাইেয়র প্রভাব নিয়ে শুধুমাত্র কথাই বলেন না, অনেকেই এছাড়া আর খুব কম কিছুই বলেছেন। এই প্রভাবটি যা আমি পূর্বধারণা করেছিলাম, সেটির একটি পর্যবেক্ষণগত উপাত্ত নির্ভর বাস্তব সত্য বহু সংখ্যক সংস্কৃতিতে বহু দশক ধরেই লক্ষ করেছেন নৃতত্ত্ববিদরা, এবং বিষয়টি তারা বেশ ভালো করেই জানতেন। উপরন্তু যখন আমি প্রস্তাব করেছিলাম যে, সুনির্দিষ্ট কোনো হাইপোথিসিস, কোনো একটি সমাজে যেখানে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বা ব্যাভিচারিতার ব্যাপক প্রচলন আছে, সেখানে মামারা বাবাদের তুলনায় অনেক বেশী পরার্থবাদী হয়, কারণ শিশুটির সাথে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্কে তাদের অনেক বেশী আত্মবিশ্বাস থাকে (মূল বইয়ের পৃষ্ঠা ১৩৮)। আমি দুঃখজনকভাবে সেই সত্যটি খেয়াল করিনি যে, রিচার্ড আলেকজান্ডার ইতিমধ্যে সেই একই প্রস্তাবটি করেছিলেন (বিষয়টি স্বীকার করে একটি ফুটনোট এই বইটির প্রথম সংস্করণের পরবর্তী প্রকাশনাগুলোয় সংযুক্ত করা হয়েছিল); এই হাইপোথিসিসটি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, যারা করেছেন তাদের মধ্যে আলেকজান্ডার নিজেই অন্যতম। নৃতত্ত্ববিদ্যার নানা গবেষণাপত্র থেকে সংখ্যাগত উপাত্ত সংগ্রহ করে এই গবেষণাটি এর পক্ষেই মতামত দিয়েছে।
০৭. পরিবার পরিকল্পনা
অধ্যায় ৭: পরিবার পরিকল্পনা
