জিনগতভাবে আপনার নিকটাত্মীয় এমন কারো সাথে প্রজনন শুধুমাত্র খারাপ না, জিনগতভাবে বেশী দুরের কারো সাথে প্রজনন বা বহিঃপ্রজননও খারাপ হতে পারে বিভিন্ন স্ট্রেইন বা প্রকারের মধ্যে জিনগত অসামঞ্জস্যতার কারণে। ঠিক কোথায় আদর্শ মধ্যবর্তী অবস্থানটি আছে সেটি ভবিষ্যদ্বাণী করা খুব সহজ না। আপনার প্রথম কাজিনকে প্রজনন সঙ্গী করা উচিৎ হবে আপনার? কিংবা আপনার দ্বিতীয় বা তৃতীয় কাজিন? প্যাট্রিক বেটসন এই প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন, জাপানি কোয়েলদেও মধ্যে, এই ধারাবাহিকতায় তাদের অবস্থানটি কোথায়। একটি পরীক্ষামূলক যন্ত্র, যা পরিচিত ‘অ্যামস্টারডাম অ্যাপারাটাস হিসাবে, সেখানে পাখিদের আমন্ত্রণ জানানো হয় তাদের বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গীনিদের বেছে নেবার জন্য, যারা মিনিয়েচার দোকানের কাঁচের পেছনে অবস্থান করে। গবেষণায় দেখা যায় তাদের নিজেদের আপন ভাইবোন আর পুরোপুরিভাবে সম্পর্কযুক্ত নয় এমন কোনো পাখিদের চেয়ে তারা সঙ্গী হিসাবে প্রথম কাজিনদের পছন্দ করে। পরবর্তী গবেষণাগুলো প্রস্তাব করছে যে তরুণ কোনো কোয়েল তাদের ক্লাচ সঙ্গীদের (Clutch– ক্লাচ মানে একসাথে পাড়া ডিমগুলো থেকে জন্ম নেয়া বাচ্চাগুলো) কিছু বৈশিষ্ট্য শিখে নেয় এবং তারপর, পরবর্তী জীবনে তারা এমন কোনো যৌনসঙ্গী খুঁজে নেয় তারা প্রায় তাদের ক্লাচ সঙ্গীদের মতই হয় তবে খুব বেশী মাত্রায় একই রকম না।
কোয়েল তাহলে, “ইনসেস্ট থেকে বিরত থাকে তারা যাদের সাথে বড় হয়েছে তাদের প্রতি ভিতর থেকে কোনো যৌন-কামনা বোধ না করার মাধ্যমে। অন্যান্য প্রাণীরা সেটি করে সামাজিক আচার আচরণ মানার মাধ্যমে বা প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর বাইরে ছড়িয়ে পড়ার সামাজিকভাবে আরোপ করা নিয়মের মাধ্যমে। বয়োপ্রাপ্ত পুরুষ সিংহদের, যেমন, তাদের পিতামাতার প্রাইড থেকে বের করে দেয়া হয়, যেখানে তাদের প্রলোভিত করার জন্য তাদের স্ত্রী আত্মীয়রা রয়ে যায়। আর এই সব পরুষ সিংহরাই কেবল প্রজনন করতে পারে যদি তারা অন্য কোনো প্রাইডে তাদের জায়গা করে নিতে পারে। শিম্পাঞ্জি আর গরিলা সমাজে তরুণ স্ত্রী সদস্যরা তাদের গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যায় অন্য গ্রুপে তাদের সঙ্গী খোঁজার জন্য। এই দুটি ছড়িয়ে পড়ার প্যাটার্ন, এবং কোয়েলদের পদ্ধতি আমাদের নিজেদের প্রজাতির বহু সংস্কৃতিতেও দেখা যায়।
(৯) এটি সম্ভবত সত্যি সব প্রায় সব প্রজাতির পাখিদের জন্য। যাই হোক না কোনো কিছু পাখিদের তাদের নিজেদের প্রজাতির নীড়কে পরজীবির মত ব্যবহার করা দেখলে আমাদের অবাক হওয়া উচিৎ না। এবং এই প্রপঞ্চটি, সত্যি, ক্রমবর্ধমান হারে অন্য বেশ কিছু প্রজাতির মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বিশেষ করে নতুন আণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কে কার আত্মীয় সেই বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অরো তথ্যের যোগান দিয়েছে। আসলেই, “স্বার্থপর জিন’ তত্ত্বটি হয়তো এমন কিছু ঘটার প্রত্যাশা করে আমরা যতটুকু জানি তারচেয়েও বেশী হারে।
(১০) সিংহদের মধ্যে সহযোগিতার মূল চালিকা শক্তি হিসাবে ‘কিন সিলেকশন’ ধারণার উপর বারট্রামের গুরুত্ব আরোপ করার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন সি, প্যাকার এবং এ. পুসে। তারা দাবী করেছিলেন যে, অনেক প্রাইডে দেখা যাবে কোনো দুটি পুরুষ সিংহের মধ্যে কোনো আত্মীয়তা নেই। প্যাকার ও পুসে প্রস্তাব করেন পারস্পরিক পরার্থবাদীতা অন্ততপক্ষে কিন সিলেকশনের মতই ব্যাখ্যা হতে পারে সিংহদের মধ্যে এই ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাখ্যা হিসাবে। হয়তো উভয় পক্ষই সঠিক। অধ্যায় ১২ গুরুত্ব দিয়েছে যে পারস্পরিক আচরণ (Tit for Tat) বিবর্তিত হতে পারে শুধুমাত্র যদি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমান সংখ্যক এই পারস্পরিক উপকারিতা বিনিময়কারীদের যদি প্রথম ধাপেই জড়ো করা সম্ভব হয়। এটি নিশ্চিৎ করে যে কোনো একটি হবু সঙ্গীর উপকারের বিনিময়ে উপকার করার ভালো সম্ভাবনা আছে। আত্মীয়তা সম্ভবত এমন কিছু ঘটার জন্য সবচেয়ে সুস্পষ্ট কোন উপায়। আত্মীয়রা স্বাভাবিকভাবে পরস্পর সদৃশ হয়, সুতরাং যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটিতে নাও পৌঁছায় কোনো জনগোষ্ঠীতে, এটি। কোনো একটি পরিবারের মধ্যে হয়তো সম্ভব হতে পারে। হয়তো সিংহদের মধ্যে সহযোগিতার শুরুটা ঘটেছিল আত্মীয়তার প্রভাবজনিত কারণে, যা প্রস্তাব করেছিলেন বারট্রাম। এবং এটি প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যেখানে উপকারের বিনিময়ে উপকার বা রেসিপ্রোসিটি নির্বাচনী সুবিধা পায়। সিংহদের নিয়ে এই মতানৈক্য সমাধান করা যেতে পারে শুধুমাত্র বাস্তব তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে। এবং শুধুমাত্র বাস্তব তথ্য প্রমাণই চিরকালের মতই কোনো একটি বিশেষ কেসের ব্যাপারেই তথ্য দেবে, সাধারণ কোনো তাত্ত্বিক তর্কের ব্যাপারে নয়।
(১১) ব্যাপকভাবেই এখন বোঝা সম্ভব হয়েছে এক জোড়া হুবহু যমজ তাত্ত্বিকভাবে আপনার কাছে ততটাই মূল্যবান যতটা আপনি আপনার নিজের কাছে মূল্যবান– যতক্ষণ অবধি যমজটি আসলে নিশ্চিৎভাবেই আপনার যমজ। তবে যে বিষয়টি এত ব্যাপকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হয়নি সেটি হচ্ছে বিষয়টি একইভাবে সত্য নিশ্চিৎভাবে একগামী কোনো মায়ের ক্ষেত্রে। আপনি যদি নিশ্চিভাবে জানেন যে আপনার মা, আপনার বাবার সন্তান ধারাবাহিকভাবে জন্ম দিয়ে যাবে এবং শুধুমাত্র আপনার বাবার সন্তানই, সেক্ষেত্রে আপনার মা জিনগতভাবে আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক যেমন আপনার হুবহু যমজ কোন ভাই-বোন বা আপনার নিজের মত। নিজেকে একটি সন্তান উৎপাদন করার যন্ত্র হিসাবে ভাবুন। তারপর আপনার একগামী মা হচ্ছেন একটি (আপন) ভাই-বোন তৈরীর যন্ত্র এবং আপন ভাই-বোন জিনগতভাবে আপনার নিজের সন্তানের মতই মূল্যবান। অবশ্যই এটি ব্যবহারিক অনেক বিবেচনাকে উপেক্ষা করছে। যেমন, আপনার মা আপনার চেয়ে বয়সে প্রবীন, তবে সেটি তাকে ভবিষ্যৎ প্রজননের জন্যে আপনার নিজের চেয়ে ভালো কিংবা খারাপ বাজি হিসাবে ভাবার বিষয়টি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে– আমরা কোনো সাধারণ সূত্র দিতে পারি না।
