(৭) এই বইটি লেখার পর কিন রিকগনিশন বা আত্মীয় শনাক্তকরণের ধারণাটি ব্যাপকভাবেই বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাণীরা, আমরাসহ, আপাতদৃষ্টিতে বিস্ময়কর সব সূক্ষ্ম দক্ষতা বহন করি, যা আমাদের সাহায্য করে আত্মীয় থেকে অনাত্মীয়দের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য, কখনো শুধুমাত্র গন্ধ শুঁকে। Kin Recognition in Animals নামে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বই এই ক্ষেত্রে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তার একটি সার সংক্ষেপ করেছে। মানুষ এর উপর অধ্যায়টিতে লেখক পামেলা ওয়েলস দেখিয়েছেন সেই বক্তব্যটির (“আমরা জানি কে আমাদের
আত্মীয় কারণ আমাদের সেটা বলা হয়েছে’) সাথে আরো কিছু সংযোজন করা প্রয়োজন: অন্তত কিছু পরিস্থিতিগত প্রমাণ আছে যে যে আমরা নানা ধরনের শব্দহীন বা বাক্যহীন সংকেত বা ইঙ্গিত ব্যবহার করি, যা মধ্যে আমাদের আত্মীয়দের ঘামের গন্ধও অন্তর্ভুক্ত। পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে সেই উদ্ধতিটি যা তিনি ব্যবহার করেছিলেন, তার অধ্যায়টির শুরুতে:
all good kumrads you can tell by their altruistic smell– e. e. cummings (তাদের পরার্থবাদী গন্ধ শুঁকে আপনি ভালো কমরেডদের চিনতে পারবেন– ই ই কামিংস)
আত্মীয়দের পরার্থবাদীতা ছাড়াও হয়তো পরস্পরকে শনাক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে। তারা হয়তো বহিঃপ্রজনন (জিনগতভাবে ভিন্ন সম্পর্কযুক্ত প্রাণীদের মধ্যে প্রজনন) আর আন্তঃপ্রজনন (জিনগত সম্পর্কযুক্ত প্রাণীদের মধ্যে প্রজনন) মধ্যে একটি ভারসাম্য করতে চায়। বিষয়টি আমরা পরের নোটে দেখবো।
(৮) একটি প্রাণঘাতী লিথাল জিন হচ্ছে যে জিনটি এর বাহককে হত্যা করে। কোনো একটি রিসেসিস বা প্রচ্ছন্ন লিথাল জিন, যেকোনো রিসেসিভ জিনের মত কোনো প্রভাব ফেলে না যদি না এটি দ্বিগুণ মাত্রায় উপস্থিত না থাকে। রিসেসিভ লিথালরা জিন পুলে টিকে থাকে, কারণ বেশীর ভাগ সদস্যই কেবল তাদের একটি করে কপি বহন করে এবং সে কারণে এর দ্বারা কোনো ক্ষতি সম্মুখীন হয়না। যে কোনো লিথাল জিনই দূর্লভ, কারণ যদি এরা কখনো খুব বেশী মাত্রায় সাধারণ হয় তাহলে জিনপুলে এরা এদের অনুলিপিদের দেখা পাবে যা এদের বাহকদের হত্যা করবে। তা সত্ত্বেও বহু ধরনের লিথাল জিন থাকতে পারে, সুতরাং আমরা এখনও জিনপুলে বহু লিথাল জিন বহন করে যাচ্ছি। ঠিক কত ধরনের ভিন্ন লিথাল জিন মানব জিন পুলে লুকিয়ে আছে এ বিষয়ে আনুমানিক ধারণগুলোর মধ্যে বেশ তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। কিছু বই মনে করে গড়ে প্রতিটি মানুষের জন্য দুটি করে লিথাল জিন আছে। যদি একটি র্যানডোম কোনো পুরুষ অন্য কোনো র্যানডোম নারীর সাথে প্রজনন করে, সম্ভাবনা আছে তার লিথালটি তার সঙ্গীনির লিথাল এর সাথে মিলবে না এবং এর কোনো কুফল ভোগ করবে না তাদের সন্তানরা। কিন্তু যদি কোনো ভাই তার বোনের সাথে প্রজনন করে এবং একটি কন্যার জন্ম দেয়, এই পুরো সমীকরণটি ভয়ঙ্কর ভিন্ন একটি রুপ ধারণ করে। আমার রিসেসিভ লিথাল জিন যতই দূর্লভ হোক না কেন বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে, বেশ শঙ্কিত হবার মত সম্ভাবনা আছে আমার বোনের লিথাল আর আমার লিথালটি সম্ভবত একই। এখন যদি আপনি হিসাব করেন, দেখা যাবে প্রতিটি লিথাল জিন যা আমি বহন করছি, যদি আমি আমার বোনের সাথে প্রজনন করি, আমদের প্রতি আটটি সন্তানের একটি হয় মত হয়ে জন্ম নেবে বা অল্প বয়সেই মারা যাবে। ঘটনাচক্রে, যদি জিনগতভাষায় বলা হয়, তাহলে কৈশোরে মারা যাওয়াটি জন্মের সময় মারা যাওয়া থেকে আরো অনেক বেশী ‘লিথাল’: জন্মের সময়েই মৃত শিশু তার পিতা-মাতার গুরুত্বপূর্ণ সময় আর শক্তি ব্যয় করে না। কিন্তু যেভাবেই আপনি দেখুন না কেন বিষয়টি, নিকটাত্মীয়দের ইনসেস্ট বা অজাচার শুধুমাত্র সামান্যমাত্র ক্ষতিকর না, এটি আসলেই ভয়াবহ ক্ষতির সম্ভাবনাপূর্ণ। আর সক্রিয়ভাবে নিকট আত্মীয়ের সাথে প্রজনন বা ইনসেস্ট এড়িয়ে চলার বিষয়টির নির্বাচন যেকোনো নির্বাচনীর চাপের মতই শক্তিশালী হতে পারে যা কিনা প্রকৃতিতে পরিমাপ করা হয়েছে।
নৃতত্ত্ববিদরা যারা ‘ইনসেস্ট’ আচরণ এড়িয়ে চলার ডারউইনীয় এই ব্যাখ্যা অস্বীকার করেন হয়তো অনুধাবন করেননি আসলেই কতটা শক্তিশালী একটি ডারউইনীয় ব্যাখ্যার বিরোধিতা তারা করছেন। তাদের যুক্তি কখনো এত বেশী দুর্বল যে, সেটি শুনলে মনে হতে পারে যেন মরিয়া হয়ে তারা সেটা মেনে নেবার জন্য মিনতি করছেন। সাধারণত তারা যা বলেন, যেমন: যদি ডারউইনীয় নির্বাচন আসলেই আমাদের ভিতর সহজাতভাবে ‘ইনসেস্ট’ আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি প্রতিষিদ্ধ বা নিষিদ্ধ করার জন্য আমাদের কোনো দরকার ছিল না। এটি ঘিরে এই প্রতিষিদ্ধতা বা টাবু বিষয়টি গড়ে ওঠার কারণ মানুষের অজাচার-জনিত কামনা আছে। সুতরাং ইনসেস্ট-এর বিরুদ্ধে কোনো নিয়মের ‘জৈববৈজ্ঞানিক কোনো কারণ থাকবে না, এটি অবশ্যই বিশুদ্ধভাবে হতে হবে সামাজিক’। এই বিরোধীতা বরং কিছুটা এরকম: গাড়ীদের ইগনিশন সুইচের কোনো লক বা তালার দরকার নেই কারণ গাড়ির দরজায় তালা আছে। সেকারণে ইগনিশন লক চুরি বিরোধী কোনো ব্যবস্থা হতে পারেনা, তাদের অবশ্যই বিশুদ্ধভাবে কোনো না কোনো আচারজনিত গুরুত্ব আছে! নতত্ববিদরা এছাড়াও বলতে খুব পছন্দ করেন যে, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে ভিন্ন ভিন্ন টাবু আছে, আসলেই আত্মীয়তারও ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা থাকতে পারে। তারা মনে হয় এমন ভাবে চিন্তা করেন যে এই বিষয়গুলো ইনসেস্ট এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে ডারউইনীয় ব্যাখ্যার প্রচেষ্টাকে খাটো করে। কিন্তু কেউ হয়তো বলতে পারেন যে যৌন কামনা ডারউইনীয় কোনো অভিযোজন হতে পারেনা, কারণ ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে প্রচলন আছে ভিন্ন ভিন্ন আসনে যৌন মিলন করার। ইনসেস্ট বা অজাচার এড়িয়ে চলার বিষয়টি খুব সম্ভবত অন্য প্রাণীদেও মতই মানুষের ক্ষেত্রেও একটি ডারউইনীয় নির্বাচনের ফলাফল।
