(৫) গ্রুপ সিলেকশন আর কিন সিলেকশনের মধ্যে পার্থক্যটি কোথায় সে ব্যাপারে সংশয় এখনও দূর হয়ে যায়নি। হয়তো সেই পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। আমার মন্তব্যটি দ্বিগুণ গুরুত্ব নিয়ে এখনও তার অবস্থানচ্যুত হয়নি। শুধুমাত্র, অসাবধানতাবশত আমি নিজেই একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভ্রান্তি সেখানে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ করে দিয়েছি এই বইটির প্রথম সংস্করণের ১০২ নং পৃষ্ঠার (প্রথম সংস্করণের মূল বইয়ের ১০২ নং পৃষ্ঠা) উপরের অংশে। মূল বইটিতে আমি বলেছিলাম (নতুন এই সংস্করণে সামান্য যে অংশ আমি পরিবর্তন করেছি, এটি তার একটি যে দ্বিতীয় কাজিনরা সাধারণত সন্তান অথবা ভাইবোন যে পরিমান পার্থবাদীতা পায় তার ১/১৬ অংশ পায়’: যেমন, এস, অল্টমান এটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, বিষয়টি স্পষ্টতই ভুল। কিন্তু এটি ভুল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কারণে, সেখানে সেই সময় আমি যা বোঝাতে চেয়েছিলাম, সেটির সাথে এটির কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। যদি কোনো পরার্থবাদী প্রাণীর কাছে একটি কেক থাকে, যা সে তার আত্মীয়দের মধ্যে ভাগ করে দিতে পারবে, কোনো কারণই নেই প্রতিটি আত্মীয়কে সেই কেক থেকে একটি করে টুকরো দেয়া। কেকের টুকরোর আকার নির্ধারিত হবে আত্মীয়তার সম্পর্কের ঘনিষ্টতার উপর। আসলেই, বিষয়টি অর্থহীনতার দিকে পরিচালিত হয় কারণ প্রজাতির সব সদস্যরা, অন্য প্রজাতির কথাতো বাদই দিলাম, নিদেনপক্ষে দুরসম্পর্কের আত্মীয়, সুতরাং তারা প্রত্যেকেই খুব সতর্কতার সাথে ভাগ করা কেকটির একটি অংশ দাবী করতে পারে! এর বিপরীত, যদি কোনো নিকটাত্মীয় থাকে আশে পাশে, দুরবর্তী আত্মীয়দের সেই কেক থেকে কোনো ভাগ দেয়ার কোনো কারণ নেই। আরো অন্য অনেক জটিলতার স্বীকার যেমন, ক্রমান্বয়ে হাস পাওয়া উপকারের’ (ল অব ডিমিনিশং রিটার্ন) সুত্র অনুযায়ী, পুরো কেকটিকে উচিৎ হবে তার আশে পাশে উপস্থিত কোনো নিকটাত্মীয়কে দেয়া। আমি অবশ্যই যেটা বোঝাতে চেয়েছিলাম, সেটি ছিল, আমরা শুধুমাত্র এমন কিছু প্রত্যাশা করতে পারি যে সন্তানদের কিংবা ভাইবোন যে পরিমান পার্থবাদীর সুফল পায় দ্বিতীয় কাজিনদের সমপরিমান পরার্থবাদীতা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে (পৃষ্ঠা ১২২, মূল বইয়ের)।
(৬) কিন সিলেকশন তত্ত্বটি কাজ করার জন্য জীবসদস্যদের হিসাব নিকাশ করার প্রায় অবাস্তব পর্যায়ের দক্ষতার প্রয়োজন আছে কিনা এই বিভ্রান্ত যুক্তিটি কোন অংশেই না কমে বরং বার বার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে ধারাবাহিক প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। শুধু তরুণ ছাত্রছাত্রীরা নয়, সুপরিচিত সামাজিক নৃতত্ত্ববিদ মার্শাল শাহলিনস The Use and Abuse of Biology বইটি মোটামুটি ভদ্রমাত্রায় অপরিচিতির জগতে হারিয়ে যেতে পারতো, sociobiology বিষয়ের উপর ‘বিধ্বংসী আক্রমণ” হিসাবে এটিকে যদি প্রশংসা করা না হতো। নীচের উদ্ধৃতিটি, কিন সিলেকশন কি মানুষের মধ্যে কাজ করে এই ধারণার সাথে সংশ্লিষ্ট, আসলেই এমন কিছু যে কোনো যুক্তি হতে পারে তা বইটি না পড়লে বিশ্বাস করা সম্ভব হতো নাঃ
‘প্রসঙ্গক্রমে, মন্তব্য করার প্রয়োজন আছে যে ভাষাতাত্ত্বিক বা লিঙ্গুইস্টিক সমর্থনের অভাবে সৃষ্ট এপিসটেমিওলজিকাল সমস্যাগুলো, যা সম্পর্কের কোএফিশিয়েন্ট r এর পরিমান হিসাব নিকাশ করতে সাহায্য করে, সেটি কিন সিলেকশন তত্ত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাটতি। ভগ্নাংশ আসলেই খুব দূর্লভ এই বিশ্বের ভাষাগুলোতে, যার আবির্ভাব দেখি আমরা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষায় এবং নিকট ও দূরপ্রাচ্যের প্রাচীন সভ্যতাগুলোয়, কারণ তথাকথিত আদিম মানুষদের মধ্যে তারা সাধারণত অনুপস্থিত। শিকারী ও সংগ্রহকারীদের সাধারণত এক, দুই আর তিন এর বেশী গণনা করার কোন পদ্ধতি নেই। আমি নিজেকে বিরত রাখছি এমন কি আরো বড় সমস্যাগুলো থেকে, কিভাবে প্রাণীরা হিসাব করে বের করতে পারে যে r (ইগো, প্রথম কাজিনরা) = ১/৮।
এটা প্রথম বার নয়, আমি এর আগেও এই বিশেষভাবে উন্মোচক অনুচ্ছেদটি উল্লেখ করেছি। আমার বরং উচিৎ হবে আমার নিজের খানিকটা কর্কশ উত্তরটি এখানে পুনব্যবহার করা, যা আমি Twelve Misunderstandings of Kin Selection প্রবন্ধে লিখেছিলাম:
‘শাহলিনস এর জন্য করুণা যে তিনিও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার প্রলোভনের স্বীকার হয়েছেন, কিভাবে প্রাণীরা r ‘হিসাব কষে বের করতে পারে সে বিষয়ে। যে অদ্ভুত ধারণাটিকে তিনি পরিহাস করার চেষ্টা করেছেন সেটা যথেষ্ট মনের ভিতর কোন ঘন্টি বেজে ওঠে সতর্ক করে দেবার জন্য। কোনো শামুকের খোলস নিখুঁত দারুণ লগারিদম নির্ভর সর্পিলকার একটি গঠন কিন্তু কোথায় শামুক তার লগ টেবিল এর বইটা লুকিয়ে রাখে; সত্যি তো কিভাবে এটি এমনকি সেই বইটি পড়ে, কারণ এর চোখের লেন্সের তো কোন ‘ভাষাতাত্ত্বিক সহায়তা বা যোগ্যতা নেই m গণনা করার জন্য, যা প্রতিসরণের কো-এফিসিয়েন্ট? কিভাবে সবুজ উদ্ভিদরা ক্লোরোফিলের ফর্মুলা মনে রাখে?
বাস্তব সত্যটি হচ্ছে যদি আপনি অ্যানাটোমী, ফিজিওলজী বা জীববিজ্ঞানের যে-কোনো বিষয় নিয়ে ভাবেন, শুধু মাত্র আচরণ নিয়ে নয় শুধু, শাহলিনসের মত, আপনিও তার সেই একই অস্তিত্বহীন সমস্যার মুখোমুখি হবেন। কোনো একটি প্রাণী বা উদ্ভিদের শরীরের যে-কোনো অংশের জণতাত্ত্বিক বিকাশ প্রক্রিয়ার জন্য জটিল গণিতের পূর্ণ বিবরণের প্রয়োজন আছে, কিন্তু তার মানে কি, প্রাণী আর উদ্ভিদকে বুদ্ধিমান গণিতজ্ঞ হতে হবে। অনেক লম্বা উদ্ভিদদের সাধারণত বিশাল বাট্রেস বা ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য ডানার মত অংশ থাকে যা কাণ্ডের গোড়া থেকে দুই পাশে ছড়িয়ে বের হয়ে আসে। কোনো একটি প্রজাতির মধ্যে গাছ যত লম্বা হবে, ততই তাদের বাট্রেস আপেক্ষিকভাবে আকারে বড় হবে। ব্যাপকভাবে এটি স্বীকৃত যে এই সব বাট্রেসগুলো আকার ও আকৃতি সেই গাছটিকে সোজা হয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার জন্য অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে উপযুক্ত গঠনের নিকটবর্তী হয়। যদি কোনো প্রকৌশলীকে সেটা বোঝাতে হলে বেশ জটিল গণিতের সাহায্য তাকে নিতে হবে। শাহলিন বা অন্য কারো কাছে এটি কখনো মনে হয়নি এই বাট্রেস তৈরীর করার পেছনে থাকা তত্ত্বটিকে সন্দেহ করা যেতে পারে তার কারণ শুধুমাত্র গাছদের সেই গাণিতিক হিসাব নিকাশ করার কোনো দক্ষতাই নেই বলে। কেন তাহলে, কিন নির্বাচনের আচরণ বিষয়ক বিশেষ কেসটিতে এই সমস্যাটি উদ্ভূত হচ্ছে? নিশ্চয় এর কারণ হতে পারে না যে এটি হচ্ছে আচরণ, কোনো অ্যানাটোমি নয়, কারণ অসংখ্য উদাহরণ আছে আচরনের { আমি বোঝাতে চাইছি কিন সিলেকশন আচরণের) যা শাহলিন সতর্কতার সাথে গ্রহন করতে পারেন তার এপিসটেমিওলজিকাল বিরোধীতার প্রসঙ্গ উত্থাপন ছাড়াই, ভাবুন, যেমন আমার নিজের উদাহরণটি (মূল বইয়ের পৃষ্ঠা ১২৪-৫), যেখানে উপরে ছুঁড়ে দেয়া কোনো বল আবার ধরার সময় আমাদের জটিল সব গণনা করতে হয়। সুতরাং এখানে অবশ্যম্ভাবীভাবে একটি ভাবনা চলে আসে, আসলে কি কোনো সামাজিক বিজ্ঞানী আছেন যারা প্রাকৃতিক নির্বাচনের তত্ত্বটি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট, কিন্তু যিনি, সম্পূর্ণ অসংশ্লিষ্ট কারণে, যার শিকড় হয়তো আছে তাদের বিষয়ের ইতিহাসে, হতাশার সাথে চেষ্টা করছেন কিছু খুঁজে পেতে– যে কোনো কিছু– সুনির্দিষ্টভাবে কিন সিলেকশন তত্ত্বটিতে যে কোন ধরনের ভুল।
