খুব সংক্ষেপে আওকির কাহিনীটি হচ্ছে এরকম; এফিড ‘সৈন্যরা তাদেও শারীরিক গঠনে সুনির্দিষ্ট প্রকারের, অন্যান্য প্রথাগত সামাজিক কীট পতঙ্গ, যেমন, পিপড়াদের নানা শ্রেণীর মতই ঠিক সুনির্দিষ্ট। তারা হচ্ছে লার্ভা যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়না আর সেকারণের তারা প্রজনন অক্ষম। তারা দেখতে কিংবা আচরণে সৈন্য নয় এমন লার্ভা সমসাময়িক সদস্যদের মত নয় যদিও যাদের সাথে জিনগতভাবে তারা হুবহু একই। সৈন্য এফিডরা অসৈন্য এফিডদের চেয়ে বৈশিষ্ট্যসূচকভাবে আকারে বড়, এবং তাদের বাড়তি একটি আকারে বড় সামনের পা থাকে, যার ফলে তারা দেখতে প্রায় স্করপিয়ন বা কাঁকড়াবিছার মত। তাদের ধারালো দুটো শিং থাকে যা মাথার উপরে সামনের দিক বরাবর সাজানো থাকে। তারা এটি সম্ভাব্য কোন শিকারী আগ্রাসী প্রাণীদের সাথে যুদ্ধ আর হত্যা করার জন্য ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায়শই তারা মারা যায়। এমনকি যদি তারা মারা নাও যায়, তারপরও সঠিকভাবেই তাদের জিনগতভাবে পরার্থবাদী হিসাবে ভাবা যেতে পারে, কারণ তারা প্রজনন অক্ষম।
স্বার্থপর জিনের ভাষায়, তাহলে কি হচ্ছে এখানে? আওকি সুস্পষ্টভাবে বলেনি ঠিক কোন বিষয়টি নির্ধারণ করে কোন সদস্যটি প্রজনন অক্ষম সৈন্য হবে আর কোন সদস্যটি প্রজনন ক্ষম স্বাভাবিক সদস্যদের মত হবে। তবে আমরা নিরাপদভাব বলতে পারি এর নিয়ামক সম্ভবত পরিবেশ, কোনো জিনগত পার্থক্য নয়– অবশ্যই কারণ প্রজনন অক্ষম সৈন্যরা এবং সাধারণ এফিডরা যে-কোনো একটি উদ্ভিদের উপর যাদের আমরা দেখি তারা জিনগতভাবে একে অপরের হুবহু সদৃশ। তবে অবশ্যই কিছু জিন থাকবে যারা কিনা সক্ষম পরিবেশগত কোনো সংকেত দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দুটি ভিন্ন বিকাশ প্রক্রিয়ার যেকোনো একটির প্রতি সক্রিয় হবে। কেন প্রাকৃতিক নির্বাচন এই ধরনের জিনকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে, এমনকি যখন সেই জিনগুলোর বেশ কিছু তারা নিজেদের খুঁজে পাবে প্রজনন অক্ষম সৈন্য এফিডদের শরীরে, সুতরাং তারা ব্যর্থ হবে সেখানে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হবার জন্য? কারণ এই সব সৈন্যদের কল্যাণে, সেই একই জিনের অনুলিপিগুলো রক্ষা পাবে সৈন্য নয় এমন প্রজননক্ষম এফিডদের শরীরে। এবং যৌক্তিকতাটা ঠিক একই যে কোনো সামাজিক কীটের জন্য (অধ্যায় ১০ দেখুন), শুধুমাত্র পার্থক্য অন্যান্য সামাজিক কীটদের মধ্যে, যেমন পিপড়া বা টারমাইটদের ক্ষেত্রে, পজনন অক্ষম ‘পরার্থবাদীদের শরীরে থাকা জিনগুলোর প্রজনন সক্ষম সদস্যদের শরীরে তাদের নিজেদের অনুলিপিগুলোকে সাহায্য করার শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যানগত সম্ভাবনা থাকবে। এফিডদের পরার্থবাদী জিনগুলো নিশ্চয়তা উপভোগ করে, পরিসংখ্যানগত সম্ভাবনার পরিবর্তে, কারণ এফিড সৈন্যরা হচ্ছে তাদের প্রজনন সক্ষম বোনদের ক্লোন সহযোগী, যাদের তারা উপকার করে। কিছু ক্ষেত্রে আওকির এফিডরা বাস্তব জীবনের সবচেয়ে সুস্পষ্ট একটি উদাহরণ যা হ্যামিলটনের ধারণাটির শক্তি প্রমাণ করে।
তাহলে কি এফিডদের সত্যিকারের সামাজিক কীটের বিশেষ ক্লাবে যোগ দেবার অনুমতি দেয়া উচিৎ, যে ক্লাবটি ঐতিহ্যগতভাবে পিপড়া, মৌমাছি, বোলতা আর উইপোকাদের দখলে? কীটতত্ত্ববিদ্যার রক্ষণশীল ঘরানার বিশেষজ্ঞরা হয়তো তাদের সেই ক্লাবের বাইরে রাখতে পারেন নানা কারণ উল্লেখ করে। তাদের দীর্ঘায়ু বিশিষ্ট বৃদ্ধ কোনো রানি নেই যেমন। উপরন্তু সত্যিকারের ক্লোন হওয়া সত্ত্বে, আমার শরীরের কোষগুলো যতটা সামাজিক এফিডরা ততটাই সামাজিক। কোনো একটি উদ্ভিদের উপর একটি প্রাণী তার খাদ্য সংগ্রহ করছে, ঘটনাক্রমে এর শরীরটি বিভাজিত হয়েছে বহু সংখ্যক আলাদা আলাদা এফিডদের শরীরে, তাদের কোনো কোনোটি বিশেষায়িত হয়ে প্রতিরক্ষার দ্বায়িত্ব পালন করার জন্য, ঠিক যেমন মানুষের শরীরে শ্বেত রক্ত কনিকা। সত্যিকারের সামাজিক কীট, তাদের যুক্তি অনুযায়ী, একই প্রাণীর অংশ না হয়েও পরস্পরের সহযোগিতা করে, সেখানে আওকির এফিডরা সহযোগিতা করে কারণ তারা একটি অর্গানিজমেরই অংশ। এই শব্দ উৎস আর অর্থ সংক্রান্ত জটিলতায় আমি জড়াতে চাইনা। আমার কাছে মনে হয় যে, আপনি যতক্ষণ বুঝতে পারছেন, কি ঘটছে পিপড়াদের মধ্যে, এফিড আর মানব কোষগুলোর মধ্য, আপনার সেই স্বাধীনতা থাকা উচিৎ তাদের সামাজিক হিসাবে আখ্যা দেবেন কি দেবেন না যেমনটি আপনি চান। আর আমার নিজের পছন্দ হলো, আমার কারণ আছে আওকির এফিডকে কোন একটি একক অর্গানিজমের অংশ না ভেবে বরং সামাজিক কীট হিসাবে চিহ্নিত করা। কোনো একটি একক জীবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে যা কোনো একটি একক এফিড সেটি ধারণ করে। কিন্তু যা একগুচ্ছ এফিড ক্লোনের থাকে না। যুক্তিটির বিষদ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে The Extended Phenotype এর একটি অধ্যায় Rediscovering the Organism এবং এই বইটিতে সংযুক্ত নতুন অধ্যায় The Long Reach of the Gene 41
(৪) আমি আশা প্রকাশ করেছিলাম যে, ই. ও. উইলসন তার কিন সিলেকশনের সংজ্ঞাটি পরিবর্তন করবেন তার ভবিষ্যৎ লেখায়, যেন তিনি সন্তানের ‘কিন’ হিসাবে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করেন। আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, তার On Human Nature এ আপত্তিকর বাক্য ‘সন্তান ছাড়া বাকীরা সত্যি সত্যি বাদ দেয়া হয়েছে– আমি এর জন্য কোন কৃতিত্ব দাবী করছি না! তিনি যোগ করেছেন, ‘যদিও কিন এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যে সেটি সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু কিন সিলেকশন শব্দটি সাধারণত ব্যবহৃত হয় শুধুমাত্র যেন অন্ততপক্ষে কিছু অন্য আত্মীয়– যেমন ভাই বোন কিংবা পিতামাতারাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি আসলেই সঠিক মন্তব্য, জীববিজ্ঞানীরা সাধারণত শব্দটিকে এই অর্থে ব্যবহার করেন। যা শুধুমাত্র সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন ঘটায় যে, বহু জীববিজ্ঞানী ‘কিন সিলেকশন’ বিষয়টি মৌলিকভাবে আসলে কি, সে-ব্যাপারে এখনও সুস্পষ্ট কোনো ধারণা পোষণ করেন না। এখনও তারা ভ্রান্তভাবে ভাবেন এটি যেন কোনো বাড়তি, সীমিত কিছু সদস্যর জন্য প্রযোজ্য একক সদস্যদের নির্বাচনের ধারণার বাইরের কোনো বিষয়। কিন্তু এটি অবশ্যই তা নয়। কিন সিলেকশন নব্য ডারউইনবাদের মৌলিক ধারণাগুলো থেকে উদ্ভূত, যেমন রাত দিনের পরে।
