অন্যদিকে, গিলোমটরা তাদের নিজেদের ডিম চিনতে পারে এর গায়ে থাকা বিশেষ ছোপ ছোপ দাগ দেখে এবং সক্রিয়ভাবে তাদের বাছাই করে নেয় ডিমে তা দেবার সময়। সম্ভবত এর কারণ তারা নীড় বাধে সমতল বা চ্যাপ্টা পাথরের উপর, যেখানে ডিম গড়িয়ে এদিক ওদিক চলে যাবার সম্ভাবনা আছে যা প্রতিবেশী গিলেমটদের ডিমের সাথে মিশে যেতে পারে। এখন হয়তো বলা যেতে পারে, কি দরকার তাদের এই বাছাই করে কেবল নিজেদের ডিম তা দেওয়া ঝামেলাটা পোহানো? নিশ্চয়ই যদি সবাই বিষয়টি ঠিক করে সে অবশ্যই অন্য কারো ডিমের উপর বসছে তা দেবার জন্য, তাহলে তো কোনো সমস্যা হবার কথা না, নির্দিষ্টভাবে প্রতিটি মা তার নিজের নাকি অন্য কারো ডিমের উপর বসছে। এটাই গ্রুপ সিলেকশন প্রস্তাবকদের যুক্তি। একবার তাহলে বিবেচনা করুন কি হতে পারে যদি এরকম কোনা গ্রুপ বেবী সিটিং চক্র আসলেই তৈরী হলো। গিলেমটদের গড় ক্লাচ বা একবারে পাড়া ডিম ছানার আকার হচ্ছে এক। এর অর্থ হচ্ছে যদি এই পারস্পরিক বেবী সিটিং চক্রটিকে সফলতার সাথে কাজ করতে হয়, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক গিলেমটদের গড়ে একটি ডিম এর উপর তা দেবার জন্য বসতে হবে। এখন ধরুন কোনো একজন প্রতারণা করলো এবং ডিমের উপর সে বসতে অস্বীকার করলো। ডিমের উপর বসে সময় নষ্ট না করে সে বরং সেই সময়টা ব্যয় করলো আরো ডিম পাড়ার জন্য। এবং এই পুরো স্কীমটা সৌন্দর্য হচ্ছে অন্য আরো বেশী পরোপকারী মনোভাবাপন্ন প্রাপ্তবয়স্করা সেই ডিমগুলোর উপর লক্ষ রাখবে তার হয়ে। তারা বিশ্বস্ত থাকবে সেই নিয়মটি মেনে চলতে, “যদি কোনো এলোমেলো কোথাও পড়ে থাকা ডিম চোখে পড়ে, নিজের নীড়ের আশে পাশে, সেটিকে টেনে নিজের নীড়ে নিয়ে আসতে হবে এবং এর উপরে বসতে হবে। সুতরাং এভাবে এই প্রতারণা করার জিনটি পুরো জনগোষ্ঠীতে বিস্তার লাভ করবে এবং এই চমৎকার সৌহার্দময় ‘বেবী সিটিং’ চক্রটি ভেঙ্গে পড়বে।
‘বেশ’, বলা যেতে পারে, “কি ঘটতে পারে যদি কোনো সৎ পাখি এই আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার না হতে অস্বীকার করে এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকে একটি মাত্র ডিমের উপর বসার জন্য, শুধুমাত্র তার নিজের ডিম? এটা নিশ্চয়ই প্রতারকদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেবে। কারণ তারা দেখতে পাবে তাদের নিজেদের ডিম পাথরে উপর পড়ে আছে, কেউ সেগুলোতে তা দিচ্ছে না। এটা নিশ্চয়ই তাদের শায়েস্তা করেনোজা পথে নিয়ে আসবে। কিন্তু হায়! সেটি হয় না। যেহেতু আমরা প্রস্তাব করছি যে ডিমে তা দেওয়া সদস্যরা একটি ডিম থেকে অন্য ডিমের কোন পার্থক্য করে না, যদি কোনো সৎ পাখি এমন কোনো আচরণ অনুশীলন করে প্রতারণা প্রতিরোধ করার জন্য তাহলে তাদের নিজেদের ডিমের একই সম্ভাবনা থাকবে প্রতারকের ডিমের মতই উপেক্ষিত হবার। প্রতারকদের তারপরও সুবিধা আদায় করে নেবার একটি উপায় থাকবে। কারণ তারা আরো বেশী ডিম পাড়বে এবং আরো বেশী পরিমান সন্তান তাদের টিকে থাকবে। সুতরাং সৎ গিলেমটদের এই সব প্রতারকদের পরাজিত করার একটি মাত্র উপায় আছে, সেটি হচ্ছে সক্রিয়ভাবে নিজেদের ডিমের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা। এর মানে পার্থবাদীতা পরিত্যাগ করে নিজের স্বার্থের প্রতি নজর দেয়া।
মেনার্ড স্মিথের ভাষা যদি ব্যবহার করি, এই পার্থবাদী দত্তক নেবার কৌশল সেকারণে বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কোনো কৌশল নয়। এটি অস্থিতিশীল এই অর্থে যে এর চেয়ে আরো উত্তম কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থপর কৌশল হচ্ছে, একজনের যা ডিম পাড়ার কথা, তারচেয়ে বেশী পরিমান ডিম পাড়া এবং তারপর সেই ডিমের উপর বসে তা দিতে অস্বীকার করা। এই পরের স্বার্থপর স্ট্রাটেজীটি আবার নিজেও অস্থিতিশীল, কারণ পরার্থবাদী যে কৌশলটি সে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে সেটি অস্থিতিশীল এবং সেটি অপসৃত হবে। কোন একটি গিলেমটদেও জন্য শুধুমাত্র বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশল হতে পারে তার নিজের ডিমকে চিনতে পারা এবং শুধুমাত্র নিজের ডিমের উপর বসেই তা দেয়া আর ঠিক সেটাই ঘটে প্রকৃতিতে।
যে সমস্ত গান-গাওয়া পাখি বা সঙ্গ-বার্ড প্রজাতির সদস্যদের সাথে কোকিলরা পরজীবির মত আচরণ করে তারা কোকিলদের এই আচণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে, তবে এই ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের ডিমের আকার আকৃতি না চিনে বরং সহজাতভাবে ডিমের উপর প্রজাতি নির্দিষ্ট কোনো চিহ্ন শনাক্ত করার মাধ্যমে; যেহেতু তাদের সেই বিপদের আশঙ্কা নেই যে তাদের নিজেদের প্রজাতির অন্য সদস্যরা তাদের সাথে পরজীবির মত আচরণ করতে পারে, এটি কার্যকরী(৯)। কিন্তু কোকিলরা তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রতিআক্রমণ করে তাদের ডিমকে ক্রমশ আরে বেশী তাদের পোষক প্রজাতির ডিমের রং, আকারের সদৃশ্য করে তোলার মাধ্যমে। এটি একটি মিথ্যার উদাহরণ এবং প্রায়শই এটি ভালোভাবে কাজ করে। এই বিবর্তনীয় অস্ত্র প্রতিযোগিতার ফলাফল হচ্ছে কোকিলের ডিমের বিস্ময়কর নিখুঁত অনুকরণ মিমিক্রি। আমরা অনুমান করতে পারি কোকিল ডিম ও বাচ্চার কিছু অংশ ‘ধরা পড়ে যাবে। এবং যারা ধরা পড়বে না তারা বেঁচে থাকবে পরবর্তী প্রজন্মের কোকিলের ডিম পাড়ার জন্য। সুতরাং যে জিনগুলো ছলনা করার ক্ষেত্রে বেশী দক্ষ সেগুলো বিস্তার লাভ করে কোকিলদের জিন পুলে। একই ভাবে পোষক পাখি, যার দৃষ্টিশক্তি যথেষ্ট শক্তিশালী কোকিলের ডিমের ছদ্মবেশ এর কোন খুঁত ধরার ক্ষেত্রে, সেগুলোই তাদের জিনপুলের অংশ হয়। এভাবে তীক্ষ্ম আর সন্দেহবাদী চোখে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়। কিছু সক্রিয় বৈষম্যমূলক বিভাজনকে সুতীক্ষ্ম করতে পারে প্রাকৃতিক নির্বাচন এটি তার একটি ভালো উদাহরণ, এই ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক বিভাজন অন্য প্রজাতির বিরুদ্ধে, যে প্রজাতির সদস্যরা তাদের সবের্বাচ্চ প্রচেষ্টা করে এই বৈষম্যমূলক আচরণটি কার্যত ব্যর্থ করার জন্য।
