মুরগির ছানারা সবাই একটি পারিবারিক ‘ক্লাচে’ খাদ্য গ্রহন করে, সবাই তাদের মাকে অনুসরণ করে, তাদের দুটি প্রধান ধরনের ডাক আছে। বেশ উঁচু স্বরে তীক্ষ্ম পাখির চিপ, যা আমি আরো আগেই উল্লেখ করেছিলাম, সেটি ছাড়াও তারা বেশ সুরেলা একটি সংক্ষিপ্ত আওয়াজ করে যখন খাদ্য গ্রহন করে। চিপ, যার প্রভাব আছে মায়ের সাহায্য ডেকে নিয়ে আসে, সেটি গ্রুপের অন্য মুরগীর ছানারা অবজ্ঞা করে। তবে ছোট সেই সুরেলা ডাকের সেই টুইটারগুলো কিন্তু সঙ্গী মুরগী ছানাদের আকর্ষণ করে; এর মানে যখন কোনো মুরগী ছানা খাওয়ার সন্ধান পায়, তার সুরেলা ডাক অন্যান্য মুরগী ছানাদের খাদ্যের উৎসের প্রতি আকর্ষণ করে। আগের হাইপোথেটিকাল উদাহরণের ভাষায়, এই টুইটারগুলো হচ্ছে ‘ফুড কল’, বা খাওয়ার জন্য ডাক। এর আগের ক্ষেত্রটির মত ছানাদের আপাতদৃষ্টিতে প্রার্থবাদীতাকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে কিন সিলেকশন দিয়ে। যেহেতু প্রকৃতিতেই ছানারা সবাই আপন ভাইবোন, কোনো একটা জিন যা খাদ্য সন্ধানের টুইটার দেয়, তা বিস্তার লাভ করবে, শর্ত শুধু যে ডাকটি দিচ্ছে তার জন্য তাকে যা মাশুল দিতে হয় তার অর্ধেকের চেয়েও কম মোট উপকারিতা যা অন্য ছানারা পায় তার কাছ থেকে। যেহেতু সুবিধাটি সমস্ত ক্লাচের সবার মধ্যে বন্টন হচ্ছে, যা সাধারণত দুই সংখ্যার বেশী, সেকারণে খুব কঠিন না কল্পনা করা যে এই পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটছে। অবশ্যই এই আইনটি বিভ্রম সৃষ্টি করে গৃহপালিত ও খামারের কোনো পরিস্থিতিতে যখন কোন একটি মুরগীকে ডিমের উপর বসানো হয় যা তার নিজের না, এমনকি হাস কিংবা টার্কির ডিমও সেটি হতে পারে। কিন্তু সেটি মুরগী কিংবা তার বাচ্চারা কেউই সেটা বুঝতে পারে এমনটা আশা করা যায় না। তাদের আচরণেরর প্রকৃতিটি গড়ে উঠেছে সেই পরিস্থিতিতে যা প্রকৃতিতে সাধারণত বিরাজ করে। এবং প্রকৃতিতে কোনো আগন্তুককে সাধারণত অন্য একই নীড়ে দেখা যায় না।
যদিও এই ধরনের ভুল হয়তো প্রকৃতিতে কখনো কখনো ঘটে। যে প্রজাতিরা দলবদ্ধ হয়ে বাস করে, সেখানে একটি এতিম শিশুকে দত্তক নিতে পারে আগান্তক কোনো স্ত্রী সদস্যরা, খুব সম্ভবত তারা নিজের সন্তান হারিয়েছে। যারা বানরদের বিশেষ করে পর্যবেক্ষণ করেন তারা মাঝে মাঝে ‘আন্ট’ শব্দটা ব্যবহার করেন এভাবে দত্তক নেয়া স্ত্রী প্রাণীদের চিহ্নিত করার জন্য। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সেখানে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে সে আসলেই তারা ‘আন্ট’ বা খালা, বা আসলেই কোনো ধরনের আত্মীয়; যদি বানর-পর্যবেক্ষণকারীরা জিন সচেতন হতেন যেমনটি তারা হতে পারতেন, তারা ‘আন্ট’ এর মত এত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করতেন না খুব ভালোভাবে বিষয়টি বিবেচনা না করে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের সম্ভবত এই দত্তক নেয়ার বিষয়টি, যতই হৃদয়স্পর্শী হোক না কেন, আগে থেকে গড়ে ওঠা সহজাত কোনো নিয়মের একটি ভ্রান্ত প্রয়োগ বা মিস ফায়ারিং হিসাবে গন্য করতে হবে। এর কারণ দয়ালু কোনো স্ত্রী সদস্য একটি অনাথকে প্রতিপালন করার মাধ্যমে তার নিজের জিনের কোনো উপকার করছেন না; সে তার সময় আর শক্তি অপচয় করছে, যে সময় আর শক্তি সে ব্যয় করতে পারতো নিজেদের আত্মীয়দের জন্য, বিশেষ করে তার অনাগত সন্তানদের জন্য। ধারণা করা যেতে পারে এটি একটি ভুল যা খুব কদাচিৎ ঘটে, সুতরাং প্রাকৃতিক নির্বাচন “অযথা ব্যস্ত হয়নি মাতৃত্বের সহজাত প্রবৃত্তিকে আরো বেশী বাছ বিচার করার ক্ষমতা দিয়ে এই নিয়মটিকে বদলাতে। যাই হোক, বহু ক্ষেত্রেই এই ধরনের দত্তক নেয়ার বিষয়টি ঘটে না এবং অনাখরা পরিত্যক্ত হয়েই মারা যায়।
একটি উদাহরণ আছে যেখানে এই ধরনের ভুলের অত্যন্ত চরম মাত্রাটি দেখা যায়, যে আপনি হয়তো এটিকে আদৌ কোনো ভুল হিসাবে মনে করতে না চাইতে পারেন বরং স্বার্থপর জিন তত্ত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রমাণ হিসাবে মনে হতে পারে। উদাহরণটি হচ্ছে শোকাহত বানর মায়েদের দেখা গেছে অন্য স্ত্রী সদস্যদের বাচ্চা চুরি করতে এবং তাদের প্রতিপালন করতে। আমি এটাকে দেখি দুটি ভুল হিসাবে, কারণে যে দত্তক নিয়েছে সে শুধু তার নিজের সময়ই নষ্ট করেনি, সে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্ত্রী সদস্যকে ভারমুক্ত করেছে সন্তান প্রতিপালনের কষ্টকর কাজটি থেকে ও তাকে দ্রুত আরেকটি সন্তান ধারণ করার জন্য মুক্ত করেছে। আমার মনে হয় এই গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণটি আরো গভীর গবেষণা দাবী করে। আমাদের জানা দরকার বিষয়টি কতটা প্রায়শ ঘটে; এবং শিশু ও দত্তক গ্রহনকারী সদস্যটির মধ্যে গড় আত্মীয়তার পরিমানটি বা কতটুকু হতে হতে পারে এবং শিশুটির প্রকৃত মায়ের মানসিকতা কেমন– কারণ সর্বোপরি এটি ঘটলে তারই সবিধা, তাহলে মায়েরা কি বোকা তরুণ স্ত্রী সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে প্রতারিত করে তাদের সন্তানদের প্রতিপালনের দ্বায়িত্ব নেবার জন্য এমনকি আরো প্রস্তাব করা হয়েছে যে দত্তককারী আর বাচ্চা চুরি করা সদস্যরা হয়তো সন্তান প্রতিপালন কলা বিষয়ে মূল্যবান শিক্ষা অর্জন করার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে।)?
পরিকল্পিতভাবে মাতৃত্বের সহজাত প্রবৃত্তিকে ব্যবহার করার একটি উদাহরণ আমরা দেখি কোকিলদের ক্ষেত্রে এবং অবশ্যই অন্যান্য প্রজনন বা ব্রুড় পরজীবি পাখিদের আচরণে– এরা হচ্ছে সেই সব পাখি প্রজাতি, যারা তাদের ডিম পাড়ে অন্য প্রজাতির পাখির নীড়ে। কোকিলরা এই নিয়মের অপব্যবহার করে, যে নিয়মটি পাখি পিতামাতার প্রবৃত্তিগত: ‘তোমার বানানো নীড়ে থাকা যেকোনো। ছোট পাখির ছানার প্রতিপালন করো। কোকিলরা ছাড়া এই নিয়মটির সাধারণত একটি প্রত্যাশিত প্রভাব হচ্ছে নিকট স্বজনদের মধ্যে পার্থবাদীতা সীমাবদ্ধতা রাখার জন্য, কারণ এটি একটি বাস্তব সত্য যে পাখীর নীড় এত বেশী পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে যে, আপনার নিজের নীড়ে যা আছে তা অবধারিতভাবে আপনার নিজের সন্তান হতে বাধ্য। পূর্ণবয়স্ক হেরিং গাল, তাদের নিজেদের ডিম তারা নিজেরা চিনতে পারেনা এবং আনন্দের সাথে অন্য গালদের ডিমে তারা তা দেয় এবং স্কুলভাবে বানানো কাঠের কোন ডামিকেও তারা ‘তা’ দেবে যদি কোনো মানব গবেষক সেগুলো দিয়ে তাদের ডিমকে প্রতিস্থাপিত করেন। প্রকৃতিতে ডিম শনাক্ত করা গালদের জন্যে জরুরী না কারণ ডিম গড়িয়ে গড়িয়ে যথেষ্ট দুরে যেতে পারে না যে তারা বেশ কয়েক গজ দূরে অন্য কোনো প্রতিবেশী গালের নীড়ের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে গালরা তাদের নিজেদের ছানাদের চিনতে পারে: গালের বাচ্চার ডিম যা পারে না সেটি করতে পারে, তারা মাঝে মাঝে নীড় থেকে বের হয়ে প্রতিবেশী গালের নীড়ের কাছাকাছি চলে আসতে পারে এবং যার পরিণতি হতে পারে ভয়ঙ্কর,যা আমরা প্রথম অধ্যায়ে দেখেছিলাম।
