এখন আবার আমরা ফিরে আসি কোনো একটি গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের সাথে প্রাণীর আত্মীয়তা বা কিনশীপের ‘পরিমাপ’ এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কোনো প্রকৃতিবিদের সংশ্লিষ্ট পরিমাপের তুলনামূলক আলোচনায়। ব্রায়ান বার্টাম বহু বছর ধরে সিংহদের জীববিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন সেরেনগেতি ন্যাশনাল পার্কে। তাদের প্রজননের আচরণ সম্বন্ধে তার জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে, তিনি একটি বৈশিষ্ট্যসূচক সিংহদের দল বা প্রাইডের সদস্যদের মধ্যে গড়পড়তা আত্মীয়তার সম্পর্ক পরিমাপ করার চেষ্টা করেছিলেন। যে সকল বাস্তব তথ্য তিনি ব্যবহার করেছিলেন এ ধরনের কোনো পরিমাপের জন্য সেগুলো হচ্ছে এরকম : কোনো একটি সাধারণ প্রাইডে সাতটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী সদস্য থাকে যারা এর স্থায়ী সদস্য এবং দুটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সিংহ যারা ক্ষণস্থায়ী। প্রাপ্তবয়স্ক নারী সিংহদের অর্ধেক সংখ্যক সদস্য একই সাথে এক ব্যাচ সিংহ শাবকের জন্ম দেয় এবং তারা একসাথে তাদের প্রতিপালন করে, সুতরাং খুবই কঠিন বলা কোন সিংহ শাবকটি আসলে কোন সিংহীর সন্তান। সাধারণত এই বাচ্চাদের সংখ্যা বা লিটার সাইজ গঠিত হয় তিনটি সিংহ শাবকদের দিয়ে। এই সিংহ শাবকদের বাবা হবার দায়িত্ব সমান ভাবে ভাগ করে নেয় প্রাইডের পুরুষরা। তরুণ সিংহীরা প্রাইডে থাকে এবং বৃদ্ধ সিংহীদের তারা প্রতিস্থাপিত করে যারা প্রাইড ছেড়ে চলে যায় বা মারা যায়। পুরুষ সিংহরা কৈশোর পার হলে তাদের প্রাইড থেকে বের করে দেয়া হয়। তারা যখন বড় হতে থাকে তারা একটি প্রাইড থেকে অন্য কোনো প্রাইডে যাযাবরের মতই ঘুরে বেড়ায় সম্পর্কযুক্ত পুরুষদের সাথে দল বেধে বা জোড়ায় জোড়ায় এবং আবার তাদের মূল পরিবারে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম।
এটি এবং অন্য কয়েকটি পূর্বধারণা ব্যবহার করে, আপনি দেখতে পারবেন যে, একটি সাধারণ সিংহ প্রাইডের দুটি সদস্যের মধ্যে। আত্মীয়তার একটি গড় সম্পর্ক গণনা করা সম্ভব হবে। বার্টামের পরিমাপে যেকোনো র্যানডোমভাবে বাছাইকৃত দুজন পুরষ সিংহের জন্য সংখ্যাটি ০.২২ এবং যে কোনো এক জোড়া স্ত্রী সিংহর মধ্যে সংখ্যাটি ০.১৫। এর মানে হচ্ছে, কোনো একটি প্রাইডে পুরষরা গড়পড়তায় তাদের সৎ ভাই এর চেয়ে খানিকটা কম আত্মীয় এবং স্ত্রী সিংহরা খানিকটা নিকটাত্মীয় তাদের প্রথম কাজিনদের চেয়ে।
এখন, অবশ্যই, কোনো একটি নির্দিষ্ট জোড়া সদস্য হয়তো পূর্ণাঙ্গভাবে আপন ভাই, কিন্তু বারট্রামের কোনো উপায় নেই সেটা জানার এবং আমার মনে হয় বেশ নিশ্চিৎ হয়েই বাজি রাখা যেতে পারে সিংহরাও নিজেরাও সেটা জানেনা। আবার অন্য দিকে, গড় যে সংখ্যাটি বারট্রাম পরিমাপ করেছেন, সেই তথ্যটি একটি অর্থে সিংহদেরও কাছেও আছে। যদি এই সংখ্যাটি বৈশিষ্ট্যসূচক হয় কোনো একটি গড়পড়তা সিংহ প্রাইডের জন্য, তাহলে কোনো একটি জিন যা তার বহনকারী পুরুষ সদস্যকে অন্য একটি পুরুষ সদস্যেও প্রতি এমন ভাবে আচরণ করার প্রবণতার কারণ হয় যেন তারা প্রায় সৎ ভাইয়ের মত, সেই জিনটির ইতিবাচক ভূমিকার রাখে টিকে থাকার ক্ষেত্রে। কোনো জিন যা কিনা বাড়াবাড়ি করে এবং পুরুষদের এমনভাবে আচরণ করায় যা কিনা প্রযোজ্য হতে পারে আপন ভাইয়ের ক্ষেত্রে, সেই জিনগুলো সাধারণত শাস্তি পায়, ঠিক যেমন করে কোনো জিন শাস্তি পায় বেশী বন্ধুভাবাপন্ন না হবার জন্য, যেমন ধরুন অন্য পুরুষদের দ্বিতীয় কাজিন হিসাবে মনে করার মাধ্যমে। যদি সিংহদের জীবনের বাস্তব সত্যগুলো বারট্রাম যেমন বলছেন তেমন হয়ে থাকে এবং একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয়, যদি তারা এরকমই থাকে বহু সংখ্যক প্রজন্মে, তাহলে আমরা আশা করতে পারি যে প্রাকৃতিক নির্বাচন একটি মাত্রায় পরার্থবাদীতাকে সমর্থন করবে যা কোনো একটি সাধারণ প্রাইডের গড় আত্মীয়তা সূচকের জন্য যথোপযুক্ত। আমি ঠিক এটাই বোঝাতে চাইছিলাম, যখন বলেছিলাম যে প্রাণীদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কের পরিমান কোনো প্রাণী আর একজন ভালো প্রকৃতিবিদের একই হবার সম্ভাবনা আছে (১০)।
সুতরাং আমরা উপসংহারে পৌঁছাতে পারি যে ‘সত্যিকারের আত্মীয়তা হয়তো কম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পরার্থবাদীতার বিবর্তনে বরং আত্মীয়তার সবচেয়ে ভালো যে পরিমাপটি প্রাণীরা করতে পারে তার চেয়ে। এই বাস্তব সত্যটি সম্ভবত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বোঝার জন্য কেন পিতামাতার শিশু প্রতিপালন করার কাজটি এত বেশী মাত্রায় আমরা দেখতে পাই এবং তারা আরো বেশী নিবেদিত প্রকৃতিতে ভাই/বোন পরার্থবাদীতার চেয়ে এবং এছাড়া আরো একটি কারণ কেন প্রাণীরা তাদের নিজেদের বেশী মূল্য দেয় এমনকি বহু সংখ্যক ভাইদের তুলনায়। সংক্ষেপে আমি যেটা বলতে চাইছি সেটি হলো, আত্মীয়তার সূচক ছাড়াও, আমাদের আরো একটি বিষয় বিবেচনা করা উচিৎ সেটি হচ্ছে নিশ্চয়তার সূচক। যদিও পিতামাতা/শিশুর সম্পর্ক তার ভাই/বোন এর সম্পর্কের চেয়ে কিন্তু জিনগতভাবে বেশী না, তবে এর নিশ্চয়তার সূচকটি অনেক বেশী। খুব সাধারণভাবেই কে আপনার ভাইবোন সেই বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশী নিশ্চিৎ হওয়া সম্ভব কে আপনার সন্তান সেই বিষয়ে, আর আপনি সবচেয়ে বেশী নিশ্চিৎ আপনি কে সেই বিষয়ে!
