কিভাবে কোনো বন্য প্রাণী ‘জানতে পারে কে তাদের আত্মীয় বা অন্যভাবে বললে, কোন আচরণগত নিয়ম তারা অনুসরণ করতে পারে যার পরোক্ষ প্রভাব থাকতে পারে তাদের সম্পর্কে এমন কিছু ধারণা দেবার জন্য, যেন মনে হয় তারা তাদের আত্মীয়তা সম্বন্ধে জানে? আপনার আত্মীয়দের প্রতি সদয় আচরণ করুন এই নিয়মটি অবধারিত ভাবে প্রশ্নের জন্ম দেয়, প্রায়োগিক ক্ষেত্রে রিলেশন বা আত্মীয়তার সম্পর্কগুলোকে কিভাবে শনাক্ত করা হয়ে থাকে। প্রাণীদের তাদের জিনগুলো অবশ্যই এই সূত্রে কাজ করার জন্য সাধারণ কোনো সরল নিয়ম বেধে দেয়। এমন কোনো নিয়ম যা পুরোপুরিভাবে সর্বস্তরের কোন ‘কগনিশন’ বা অবধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট না, যা কিনা সেই প্রাণীর আচরণের মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে, কিন্তু তা সত্ত্বেও একটি সূত্র কাজ করে অন্তত গড়পড়তা যেকোনো পরিস্থিতিতে। আমরা মানুষরাও নানা ধরনের নিয়ম সম্বন্ধে সুপরিচিত এবং তারা এত শক্তিশালী যে, আমরা যদি সংকীর্ণমনা হই, শুধু একটি আইন বা নিয়ম মানি, এমনকি যখন আমরা খুব ভালোভাবে দেখতে পাই, এটি আমাদের বা অন্য কারোরই কোনো উপকারে আসছে না। যেমন, কিছু গোড়া ইহুদী বা মুসলিমরা তাদের নিজেদের না খাইয়ে রাখবে তবে কিছুতেই শূকরের মাংস খেয়ে নিয়ম ভাঙ্গবে না। প্রাণীরা তাহলে কি কোনো সাধারণ নিয়মগুলো মানে, যা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, নিকটাত্মীয়দের পরোক্ষভাবে উপকার করবে?
যদি প্রাণীদের অন্য কোন একক সদস্যদের প্রতি পরোপকারী আচরণ করার এমন কোনো প্রবণতা থাকে যারা শারীরিকভাবে তাদের সদৃশ, তারা হয়তো পরোক্ষভাবে তাদের আত্মীয়দের জন্য কিছুটা ভালো কাজ করছে। অনেক কিছু নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রজাতির বিস্তারিত নানা বিষয়ের উপর। এধরনের কোনো আইন, যে কোনো অবস্থায়, শুধুমাত্র পরিসংখ্যানগতভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার ব্যপারটা নিশ্চিৎ করে। যদি পরিস্থিতি বদলায়, যেমন যদি কোনো একটি প্রজাতি আরো বড় কোনো গ্রুপে বাস করা শুরু করে, তখন এই আইনটি আবার ভুল সিদ্ধান্ত নেবার কারণ হবে। ভাবা যেতে পারে যে বর্ণবাদী সংস্কারগুলোকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে নিজেদের সাথে সদৃশ্যময় মানুষদের সাথে সহমর্মিতা অনুভব করা এবং যারা ভিন্ন তাদের সাথে খারাপ আচরণ করার ‘কিন সিলেকশন’ বা আত্মীয় নির্বাচনের একটি অযৌক্তিক সাধারণীকরণের প্রবণতার মাধ্যমে।
কোনো প্রজাতি, যাদের সদস্যরা সাধারণত বেশী স্থান পরিবর্তন করে না বা যাদের সদস্যরা স্থান পরিবর্তন করে ছোট গ্রুপে, সেখানে যেকোনো একজন ব্ল্যানভোম সদস্য যার মুখোমুখি আপনি হতে পারেন, আপনার বেশনিকটবর্তী আত্মীয় হবার সম্ভাবনা তার হয়তো বেশ ভালো। এই ক্ষেত্রে সেই আইনটি– ‘প্রজাতির যে কোনো সদস্য যার সাথে আপনার দেখা হবে তাদের সাথে ভালোভাবে আচরণ করুন’– টিকে থাকার জন্য ইতিবাচকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবার সম্ভাবনা বেশী, এই অর্থে যেকোনো একটি জিন যা এর বাহককে এই ধরনের নিয়ম মানতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে, জিন পুলে সংখ্যায় তারা আরো অনেক বৃদ্ধি পায়। এটাই হয়তো সেই কারণ পার্থবাদী আচরণ কেন প্রায়শই নজরে পড়ে কোনো বানরদের গ্রুপে এবং তিমিদের দলে। তিমি বা ডলফিনরা পানিতে ডুবে মারা যায় যদি তারা বাতাসে শ্বাস নিতে না পারে। শিশু তিমি মাছ এবং দলে যারা আহত, যারা সাঁতরে উপরে আসতে পারবে না দেখা গেছে অন্য সুস্থ্য সদস্যরা তাদের বাঁচাবার চেষ্টা করছে, ভাসিয়ে রাখার জন্য। আমাদের জানা নেই তিমিদের আসলেই নিজস্ব কোনো উপায় আছে কিনা তাদের নিকটাত্মীয়দের চেনার জন্য, তবে সম্ভাবনা আছে এটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ না; হতে পারে যে সেই দলটি যেকোন সদস্যদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্ভাবনা সার্বিকভাবে এতটাই বেশী হতে পারে যে, সেখানে পরার্থবাদী আচরণের জন্য সময় ও শক্তি ব্যয় করা যুক্তিযুক্ত। ঘটনাচক্রে, অন্ততপক্ষে একটি সত্যায়িত কাহিনী আছে,যেখানে ডুবন্ত কোন মানব সাতারুকে বাঁচিয়েছে বন্য এক ডলফিন। এটি গন্য করা যেতে পারে মূল নিয়মটির একটি ব্যতিক্রম বা মিসফায়ার হিসাবে, যেখানে নিয়ম তাদের শিখিয়েছে গ্রুপের যে কোন সদস্যকে বাঁচাতে। এই নিয়মটিতে উল্লেখিত কোনো সদস্য যে ডুবন্ত মানে হয়তো কিছুটা এরকম: ‘লম্বা ছটফট করছে, উপরের তলদেশের কাছাকাছি শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম কিছু।
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বেবুনদের দেখা গেছে যে তারা তাদের নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের বাকীদের জীবন রক্ষা করে শিকারী প্রাণীদের আক্রমণ থেকে, যেমন, কোনো চিতাবাঘ। খুবই সম্ভাবনা আছে যে কোনো এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের গড়পড়তা উল্লেখযোগ্য পরিমান জিন আছে, যা দলটির অন্য সদস্যদের মধ্যেও আছে। একটি জিন যা বলছে’ কার্যত,– ‘শরীর, যদি তুমি প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ হয়ে থাকে, তাহলে চিতাবাঘের আক্রমণ থেকে দলকে বাঁচাও’– তার সংখ্যা জিন পুলে বেড়ে যাবে। প্রায়শই উল্লেখিত এই উদাহরণটি নিয়ে আলোচনা শেষ করার আগে, নিরপেক্ষতার পরিচয় হবে যদি আমরা অন্তত একজন সম্মানিত কর্তৃত্বের কথা যোগ করতে চাই, যিনি খুবই ভিন্ন একটি বাস্তব সত্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তার মতে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা সবার আগেই দিগন্ত রেখায় অদৃশ্য হয়ে যায় যখন চিতাবাঘের আবির্ভাব ঘটে।
