যেমনটা আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এটি কিন্তু এত বেশী জটিল না। যখন কোনো মানুষ একটি বল উপরের দিকে ছুঁড়ে মারে শূন্যে এবং আবার সেটিকে ধরে, সে এমনভাবে আচরণ করে যেন সে এক গুচ্ছ ডিফারেনশিয়াল সমীকরণ সমাধান করছে বলটির গতিপথ নির্ণয় করার জন্য; সে হয়তো আদৌ জানেই না এই ডিফারেনশিয়াল সমীকরণটি কি, বা তার কোনো মাথাব্যাথা নেই, কিন্তু সেই বিষয়টি উপরে দিকে ছুঁড়ে আবার বলটি ধরার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেনা। কোনো একটি অবচেতন পর্যায়ে, গাণিতিক সমীকরণের সমতূল্য কিছু যা কার্যকরীভাবে ঘটছে। একইভাবে যখন মানুষ কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সিদ্ধান্ত নেবার পক্ষে বিপক্ষে সব কিছু এবং এই সিদ্ধান্তের সকল সম্ভাব্য পরিণতি সে বিবেচনা করে, যা কিনা তার পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব। এখানে কিন্তু সে যে কাজটি করছে তা কার্যকরীভাবে কোনো একটি বড় গাণিতিক হিসাব নিকাশ করার সমতুল্য, যা কিনা কোনো কম্পিউটার হয়তো করতে পারে।
যদি আমাদের কোনো কম্পিউটারকে প্রোগ্রাম করতে হয় যা একটি মডেল সারভাইভাল মেশিনের কাল্পনিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে যেখানে এটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পরার্থবাদীতার সাথে সে আচরণ করবে নাকি করবে না। তাহলে আমাদের সম্ভবত উচিৎ হবে মোটামুটি এভাবে আগানো– বিকল্প যে কাজগুলো প্রাণীরা হয়তো করতে পারে আমাদের উচিৎ হবে তার একটি তালিকা করা। তারপর এইসব প্রতিটি বিকল্প আচরণের প্রকৃতির জন্যে আমরা একটি ‘ওয়েইটেড সাম’ ক্যালকুলেশন প্রোগ্রাম করতে পারি। সবগুলো উপযোগিতার থাকবে একটি ধণাত্মক প্লাস চিহ্ন আর সব ঝুঁকির জন্য থাকবে ঋণাত্মক বা নেগেটিভ চিহ্ন। প্রতিটি ঝুঁকি আর সুফল উভয় ক্ষেত্রকেই সমানভাবে ‘ওজন’ করা হবে যখন তাদের গুণন করা হবে আত্মীয়তার সম্পর্কের জন্য প্রযোজ্য সূচক দিয়ে, তাদের সব একসাথে যোগ করার পর। সরলতার কারণে আমরা শুরু করতে পারি, কিছু অন্য নিয়ামক ওজনগুলো বাদ দিয়ে, যেমন, বয়স আর স্বাস্থ্য। যেহেতু কোনো একক সদস্যের তার নিজের প্রতি আত্মীয়তার পরিমাপ হচ্ছে ১ (যেমন, সে নিজেই তার ১০০ শতাংশ জিন বহন করে– অবশ্যই); তার নিজের প্রতি সুবিধা কিংবা ঝুঁকির কোনো অবমূল্যায়ন করা হবে না মোটেও বরং পরিমাপে তাদের পুরোপুরি ‘ওজন’ দেয়া হবে। যেকোনো একটি বিকল্প আচরণের প্যাটার্নের মোট গণিতটি দেখতে হবে অনেকটা এরকম: কোনো একটি আচরণের প্রকৃতির মোট সুবিধা = নিজের সূবিধা– নিজের ঝুঁকি + ১/২ ভাইয়ের সুবিধা– ১/২ ভাইয়ের ঝুঁকি + ১/২ অন্য ভাইয়ের সুবিধা– ১/২ অন্য ভাইয়ের ঝুঁকি + ১/৮ প্রথম কাজিনের সুবিধা– ১/৮ প্রথম কাজিনের ঝুঁকি + ১/২সন্তানের সুবিধা–১/২ সন্তানের ঝুঁকি + ইত্যাদি।
এই গণিতের যোগফল হবে এমন কোনো একটি সংখ্যা যাকে বলবো সেই আচরণের প্যাটার্নের জন্য ‘নেট বেনিফিট স্কোর’, সর্বমোট উপযোগ স্কোর। পরবর্তীতে মডেল প্রাণীটি সমপরিমান গণিত করে প্রতিটি বিকল্প আচরণের প্যাটার্নের জন্য তার হাতে যা আছে। অবশেষে সে বেছে নেয় একটি আচরণের প্যাটার্ন সম্পন্ন করার জন্য, যেখানে সে সবচেয়ে বেশী সুবিধা পায়। এমনকি যদি সব স্কোরই ঋণাত্মক আসে, তারপরও সে বেছে নেবে যেখানে মান সবচেয়ে বেশী, সব মন্দের ভালটিকে। মনে রাখবেন যেকোনো ধনাত্মক কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট আছে সময় আর শক্তির ব্যবহার, যে দুটোই অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যেতে পারতো, যদি কোনো কিছু না করাটা দেখা যায় এমন কোনো ‘আচরণ’ হিসাবে বের হয়ে আসে, যার মোট সুবিধার স্কোর সবচেয়ে বেশী, তাহলে সেই মডেল প্রাণীটি কিছু করবে না।
এখানে একটি অতিমাত্রায়-সরলীকৃত উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, তবে এবার সেটি প্রকাশ করছি কোনো কম্পিউটার সিমুলেশন না বরং একটি ব্যক্তিক আত্মকথন হিসাবে। আমি একটি প্রাণী, যে কিনা আটটি মাশরুমের একটি গুচ্ছ খুঁজে পেয়েছে, পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে, এবং সেগুলো বিষাক্ত হতে পারে সেই ঝুঁকিটা সেখান থেকে কিছুটা বিয়োগ করে, আমি হিসাব করে দেখলাম এগুলোর প্রত্যেকটার মূল্য +৬ ইউনিট ( এই ইউনিটগুলো মনগড়া একটি পে-অফ বা পুরষ্কার, যা এর আগের অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছিল।); মাশরুমগুলো আকারে এত বড় যে আমি মাত্র তিনটা খেতে পারবো। আমার কি উচিৎ হবে এই আবিষ্কারটি কাউকে জানানো, খাদ্যের সন্ধান পাওয়া গেছে এমন একটি ডাক’ দিয়ে? আমার ডাক শুনতে পারে এমন দূরত্বে কে কে আছে? ভাই ‘খ’ (তার সাথে আমার সম্পর্ক =
১/২), কাজিন ‘গ’ ( যার সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক = ১/৮) এবং ‘ঘ’ (কোনো নির্দিষ্ট আত্মীয় নয়, তার সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক এত কম যে সেটাকে শূন্য হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে প্রায়োগিক সবক্ষেত্রে)। আমার জন্য সর্বমোট ‘বেনিফিট’ বা উপযোগ স্কোর হচ্ছে, আমার এই খুঁজে পাওয়াটি নিয়ে আমি যদি চুপ থাকি, তাহলে মাশরুম প্রতি +৬ করে তিনটির জন্য, যা আমি খেতে পারবো, সেটি তাহলে হচ্ছে সর্বমোট +১৮; আমি যদি খাদ্যের সন্ধান দিয়ে ডাক দেই,আমার নেট বেনিফিট স্কোর বের করার জন্য সেখানে একটু হিসাব নিকাশ করতে হবে। আটটি মাশরুম আমাদের চার জনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। আমার ভাগের দুটো থেকে, প্রতিটি +৬ ইউনিট মোট লাভ হবে +১২ ইউনিট। কিন্তু আমিও কিছু পে-অফ পাবো যখন আমার ভাই আর কাজিন তাদের ভাগে দুটি করে মাশরুম খাবে, কারণ আমাদের ভাগ করে নেয়া জিন। আসল স্কোর তাহলে আসবে (১X১২)+ (১/২X১২)+(১/৮ X ১২)+(০ X ১২) = +১৯ ১/২। এই ক্ষেত্রে কোনো স্বার্থপর আচরণের মোট লাভ হচ্ছে +১৮: খুব কাছাকাছি দুটি স্কোর, কিন্তু রায়টি স্পষ্ট; আমি অবশ্যই খাদ্যর সন্ধান দিয়ে ডাক দেবো; আমার পরার্থবাদী আচরণ এই ক্ষেত্রে আমার স্বার্থপর জিনকেই মূল্য পরিশোধ করবে।
