আমি এই নিন্দাসূচক ভর্ৎসনার জন্য সাধারণ পাঠকদের কাছে খানিকটা প্রশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং দ্রুত আমি মূল আলোচনায় প্রত্যবর্তন করছি। এ-পর্যন্ত আমি অতি সরলীকরণ করেছি কিছুটা এবং এখন আরো কিছুটা বৈশিষ্ট্য সংযুক্ত করার সময় এসেছে। আমি খুব মৌলিক ভাষায় আত্মঘাতী জিনদের কথা আলোচনা করেছি সঠিকভাবে জ্ঞাত আত্মীয়তার সম্পর্কযুক্ত নির্দিষ্ট সংখ্যক নিকটাত্মীয়কে বাঁচানোর জন্য। অবশ্যই, বাস্তব জীবনে, প্রাণীদের নিয়ে এমন কোনো আশা করা যেতে পারেনা যে ঠিক কত জন আত্মীয়ের জীবন তারা বাঁচাচ্ছে, সেই সংখ্যাটি তারা সঠিকভাবে গণনা করতে পারে। এবং একইভাবে তারা মনে মনে হ্যামিলটনের হিসাব নিকাশও করে না, এমনকি যখন কারা তাদের ভাই আর কারা তাদের কাজিন সঠিকভাবে জানার একটি উপায়ও তাদের থাকে। বাস্তব জীবনে, কিছু সুনির্দিষ্ট আত্মঘাতী এবং চূড়ান্তভাবে জীবন ‘বাঁচানো’কে অবশ্যই মৃত্যুর ‘পরিসংখ্যানগত ঝুঁকি দিয়ে প্রতিস্থাপিত করতে হবে, কারো নিজের এবং অন্য সদস্যদের। এমনকি একটি তৃতীয় কাজিন জীবন বাঁচানোর জন্য যোগ্য হতে পারে, যদি সেটি করার ক্ষেত্রে আপনার ঝুঁকি আসলেই খুব নগন্য থাকে। তারপরও আবার, আপনি কিংবা যে আত্মীয়ের জীবন বাঁচানোর কথা আপনি ভাবছেন তারা একদিন না একদিন অবশ্যম্ভাবীভাবে মারা যাবেই। প্রতিটি সদস্যের একটি প্রত্যাশিত আয়ু’ আছে, যা কোনো পরিসংখ্যানবিদ বা অ্যাকচুয়ারী একটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্ভাবনা সংক্রান্ত ভ্রান্তিসহ গণনা করতে পারেন। কোন একটি আত্মীয়ের জীবন বাঁচাতে, যে কিনা খুব তাড়াতাড়ি মারা যাবে তার বার্ধক্যের কারণে, ভবিষ্যতের জিনপুলে তার প্রভাব থাকবে খুব কম, কোনো সমরুপ নিকটাত্মীয়ের তুলনায় যার কিনা বাকী পুরো জীবনটাই পড়ে আছে।
আত্মীয়তা সংক্রান্ত আমাদের পরিচ্ছন্ন প্রতিসম গণনাটিকে পরিবর্তিত করতেই হবে আরো জটিল পরিসংখ্যানগত বাছবিচারের মাধ্যমে। পিতামহ/পিতামহী (এবং মাতামহ/মাতামহী) এবং তাদের নাতি নাতনীদের, জিনগতভাবে যদি বলা হয়, পরস্পরের প্রতি পরার্থবাদী আচরণ করার সমপরিমান কারণ অছে, কারণ যেহেতু তারা একে অপরের ১/৪ ভাগ জিন ভাগাভাগি করে। কিন্তু যদি নাতিনাতনীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেশী হয়, পিতামহ/পিতামহীদের (এবং মাতামহ/মাতামহীদের) থেকে নাতিনাতনী বরাবর পার্থবাদীতার জিনগুলো বেশী নির্বাচনী সুবিধা পাবে নাতীনাতনী থেকে পিতামহ/পিতামহীদের (এবং মাতামহ/মাতামহীদের) বরাবর পরার্থবাদীতার জিনগুলোর চেয়ে। কোনো একটি অল্পবয়সী দুর। সম্পর্কের আত্মীয়কে সাহায্য করার মোট উপকারিতা, নিকটাত্মীয় বদ্ধ আত্মীয়কে সহায়তা করার চেয়ে বেশী হবার সুস্পষ্ট সম্ভাবনা আছে। (ঘটনাচক্রে, পিতামহ/পিতামহীদের (এবং মাতামহ/মাতামহীদের) অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল তাদের নাতী/নাতনীদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত হতে হবে এমন কোনো আবশ্যিকতা নেই। যে সব প্রজাতির মধ্যে শিশুদের মৃত্যুর হার অনেক বেশী, সেখানে এর বিপরীতটি হয়তো সত্যি)।
পরিসংখ্যানবিদ বা সম্ভাবনা পরিমাপকারীর সমতুল্য উদাহরণটি আরো সম্প্রসারিত করে, প্রতিটি একক সদস্যকে জীবন বীমার আন্ডাররাইটার (বীমাচুক্তির দায়গ্রহণকারী) হিসাবে ভাবা যেতে পারে। কোনো একটি একক সদস্যকে আশা করা যেতে পারে যে, সে বিনিয়োগ করবে বা তার নিজের জীবনের কিছু সম্পদের অংশ ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করবে অন্য কোনো এক সদস্যের জীবনে। আর কাজটি করার জন্য সে এই অন্য সদস্যটির সাথে তার আত্মীয়তার প্রকৃতির উপর নজরে রাখে, এছাড়াও তাকে ভাবতে হয় এই অন্য মানুষটির জীবনে বিনিয়োগ কি একটি ‘ভালো ঝুঁকি’ হবে কিনা, যখন তার প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল অনুযায়ী, যদি সেটি বীমাকারীর আয়ুস্কালের তুলনা করা হয়। খুব কঠোরভাবে ভাবলে আমাদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের’ বদলে ‘প্রত্যাশিত প্রজনন সম্ভাবনা’ বলা উচিৎ, অথবা আরো বেশী সুনির্দিষ্টভাবে ‘ভবিষ্যতে নিজের জিনের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালকে সুবিধা দেবার সাধারণ ক্ষমতা। এরপর পরার্থবাদী আচরণের বিবর্তন হবার জন্য, পার্থবাদীর জন্য সর্বমোট ঝুঁকি অবশ্যই কম হতে হবে যে উপকারিতা পাবে তার সর্বমোট উপকারিতা গুণন তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কের চেয়ে। ঝুঁকি এবং লাভকে পরিমাপ করতে হবে জটিল পরিসংখ্যানগত উপায়ে– যেভাবে আমি ব্যাখ্যা করলাম।
কিন্তু কোনো বেচারা সারভাইভাল মেশিনগুলো করবে, বিশেষ করে খুব দ্রুততার সাথে, এমন প্রত্যাশার চেয়ে স্পষ্টতই এটি অত্যন্ত জটিল হিসাব নিকাশ (৬)! এমনকি বিখ্যাত গাণিতিক জীববিজ্ঞানী জে. বি. এস, হলডেনও (১৯৫৫ সালে একটি পেপারে হ্যামিলটনের ধারণাটির আগেই ধারণা করেছিলেন, নিকটাত্মীয়কে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া থেকে বাঁচাবে এমন একটি জিনের বিস্তার সম্বন্ধে কিছু প্রস্তাব করে) মন্তব্য করেছিলেন, ‘অন্তত দুইবার আমি খুব সম্ভবত পানিতে ডুবতে থাকা কাউকে বাঁচিয়ে ছিলাম (নিজের জন্য খুব সামান্যতম ঝুঁকি নিয়ে) এবং এইসব হিসাব নিকাশ করার আমার। কোনো সময় ছিলনা। সৌভাগ্যক্রমে অবশ্য হলডেন খুব ভালো করে জানতেন, আদৌ কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই এমন কিছু ধারণা করা যে, সারভাইভাল মেশিনগুলো এই সব যোগ বিয়োগগুলো সচেতনভাবে তাদের মাথার মধ্যে করে থাকে। ঠিক যেমন করে আমরা হয়তো একটি স্লাইড রুল ব্যবহার করতে পারি আদৌও অনুধাবন না করে যে আমরা, আসলেই ‘লগারিদম ব্যবহার করছি। সুতরাং একটি প্রাণীও হয়তো আগে থেকে প্রোগ্রাম করা এমন কোনো উপায়ে, এটি আচরণ করে এমনভাবে যেন জটিল কোনো হিসাব নিকাশ করছে।
