খুবই বিরক্তিকর একটি কাজ হবে বরং প্রথম মূলনীতি থেকে বার বার এই হিসাব নিকাশ করা; সুতরাং আমরা বরং একটি খসড়া আর দ্রুত ব্যবহারযোগ্য কোনো নিয়মের প্রস্তাব করা যাক এখানে, যার মাধ্যমে আমরা যে কোনো দুটি সদস্য ‘ক’ এবং ‘খ’ এর মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক পরিমান করতে পারবো। আপনি হয়তো আপনার উইল প্রস্তুত করার সময় বা আপনার নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আপাত সদৃশ্যতা ব্যাখ্যা করার জন্য এটি উপযোগী মনে করতে পারেন। সাধারণ যেকোনো ক্ষেত্রেই এটি কাজ করে। কিন্তু এটি ভেঙ্গে পড়ে যদি যেখানে ‘অজাচার বা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে প্রজনন ঘটে এবং কিছু কীটপতঙ্গদের মধ্যে, যা আমরা পরে দেখবো।
প্রথমে ‘ক’ এবং ‘খ’ এর সব সাধারণ পূর্বসূরিদের চিহ্নিত করুন। যেমন, কোনো এক জোড়া ফার্স্ট কাজিনদের সাধারণ পূর্বসূরি হচ্ছে তাদের ভাগ করে নেয়া একই দাদা/দাদী অথবা নানা/নানী। একবার যখন আপনি কোনো সাধারণ পূর্বসূরি পেয়ে যাবেন, এটি অবশ্যই যৌক্তিকভাবে সত্যি যে তার সব পূর্বসূরি, ‘ক’ এবং ‘খ’ এর জন্য সাধারণ পূর্বসূরি। তবে আমরা সব পূর্বসূরিদের বাদ দিয়ে সবচেয়ে সাম্প্রতিকতম পূর্বসূরি নিয়ে আলোচনা করবো। এই অর্থে প্রথম কাজিনদের সবারই শুধু দুজন সাধারণ পূর্বসূরি থাকবে। যদি ‘খ’ সরাসরি ‘ক’ এর বংশধারার কোন উত্তরসূরী হয়, যেমন, তার প্রপৌত্র। তাহলে ‘ক’ নিজেই একজন সাধারণ পূর্বসূরি যাকে আমরা খুঁজছি।
‘ক’ ও ‘খ’ এর সাধারণ পূর্বসূরি(দের) শনাক্ত করার পর, ‘জেনারেশন ডিসট্যান্স বা প্রজন্ম দূরত্ব গণনা করুন এভাবে: ‘ক’ থেকে শুরু করে পারিবারিক বৃক্ষে উপরে উঠতে থাকুন যতক্ষণ না আপনি একজন সাধারণ পূর্বসূরি অবধি না পৌঁছান এবং আবার নীচে নেমে আসুন ‘খ’ এর দিকে। পারিবারিক বৃক্ষে গাছ বেয়ে উপরে এবং তারপর নীচে আবার আসা অবধি মোট ধাপ সংখ্যাই হচ্ছে ‘প্রজন্ম দুরত্ব। যেমন, যদি ‘ক’, ‘খ’ এর চাচা হয়, তাহলে প্রজন্ম দূরত্ব দুরত্ব হবে ৩; সাধারণ পূর্বসূরি হচ্ছে ‘ক’ এর বাবা (ধরুন) এবং ‘খ’ এর দাদা। ‘ক’ থেকে শুরু করলে সাধারণ পূর্বসূরি প্রাণী অবধি পৌঁছাতে আপনাকে উপরে উঠতে হবে একটি প্রজন্ম। এরপর নীচে নেমে আসুন ‘খ’ এর দিকে, অন্যদিকে আপনাকে আরো দুটি প্রজন্মে নেমে আসতে হবে, সুতরাং প্রজন্ম দূরত্ব হচ্ছে ১+২=৩।
কোনো একটি নির্দিষ্ট সাধারণ পূর্বসূরির মাধ্যমে ‘ক’ ও ‘খ’ এর মধ্যে প্রজন্ম দূরত্ব পরিমাপ করার পর গননা করুন তাদের রিলেটেডনেস বা আত্মীয়তার পরিমান বা, যার জন্য সেই পূর্বসূরি দায়ী; এটা করতে হলে, ১/২ কে গুণন করুন এই একই পরিমাপ দিয়ে প্রজন্ম দূরত্বের প্রতিটি ধাপের জন্য একবার করে: যদি প্রজন্ম দূরত্ব ৩ হয়, এর অর্থ ১/২X১/২X১/২ বা (১/২)°; কোনো একটি নির্দিষ্ট পূর্বসূরির মাধ্যমে যদি প্রজন্ম দূরতু যদি এ সংখ্যক ধাপের সমান হয় তাহলে সেই পূর্বসূরির কারণে আত্মীয়তা বা রিলেটেডনেস হবে (১/২)।
কিন্তু এটি শুধুমাত্র ‘ক’ ও ‘খ’ এর মধ্যে আত্মীয়তার একটি অংশ। যদি তাদের একাধিক সাধারণ পূর্বসূরি থাকে প্রতিটি পূর্বসূরির জন্য সমতুল্য পরিমান সংখ্যা যোগ করতে হবে। সাধারণত এ-কারণে যা ঘটে তা হলো, এক জোড়া সদস্যরই প্রজন্ম দূরত্ব তাদের সব পূর্বসূরিদের জন্য একই পরিমানের হয়। সেকারণে তাদের যেকোনো একটি পূর্বসূরির সাথে ‘ক’ ও ‘খ’ এর মধ্যে আত্মীয়তা পরিমাপ করতে আপনাকে শুধু করতে হবে পুর্বসুরীদের সংখ্যা অনুযায়ী সেটি গুণন করা। প্রথম কাজিনরা, যেমন, তাদের দুটি সাধারণ পূর্বসূরি আছে, এবং তাদের দুজনের মাধ্যমে পরিমিত প্রজন্ম দূরত্ব প্রত্যেকের জন্য হচ্ছে ৪, সেকারণে তাদের আত্মীয়তা হচ্ছে, ২X(১/২) =১/৮। যদি ‘ক’, ‘খ’ এর প্রপৌত্র হয়, প্রজন্ম দূরত্ব হচ্ছে ৩ এবং সাধারণ পূর্বসূরির সংখ্যা ১ (‘খ’ নিজে), সুতরাং আত্মীয়তা হচ্ছে ১X (১/২) =১/৮। জিনগত হিসাবে বললে, আপনার প্রথম কাজিন হচ্ছে আপনার প্রপৌত্রের সমতুল্য। একইভাবে, আপনি ঠিক যতটুকু আপনার চাচার মত’ (আত্মীয়তা = ২ X (১/২) =১/৪) ততটুকু আপনার দাদার মত (আত্মীয়তা = ১X (১/২)২ =১/৪)।
দূরবর্তী আত্মীয়তা যেমন, তৃতীয় কাজিনদের (২ X (১/২) =১/১২৮) ক্ষেত্রে আমরা প্রায় বেসলাইন সম্ভাবনার কাছাকাছি পৌঁছেছি, যে একটি নির্দিষ্ট জিন যা ‘ক’ বহন করে, সেটি ভাগ করে নেয় যে কোনো ব্যাক্তি যাকেই জনগোষ্ঠী থেকে আপনি নির্বাচন করুন না কেন। তৃতীয় কাজিন, কোনো একটি পরার্থবাদী জিন বহন করার সম্ভাবনাটি জনগোষ্ঠীর যে কোনো কারোর প্রায় সমতুল্য হওয়া থেকে খুব একটা দূরে নয়। কোনো দ্বিতীয় কাজিন (আত্মীয়তা = ১/৩২) হচ্ছে সামান্য খানিকটা বিশেষায়িত। একটি প্রথম কাজিন তার চেয়ে খানিকটা বেশী (১/৮); পুরো ভাই বা বোন আর পিতামাতা আর সন্তান সেকারণেই এত বেশী বিশেষ অবস্থানে অবস্থান করে (১/২) এবং হুবহু যমজরা (যাদের আত্মীয়তা = ১) তাদের নিজেদের মতই বিশেষ। চাচা, ফুফা, ভাইপো, ভাইঝি, দাদা, দাদী, সৎ ভাই আর সৎ বোনরা এই আত্মীয়তার সম্পর্কের মাঝামাঝি অবস্থান করে, ১/৪ আত্মীয়তা সহ।
এখন আমরা কিন-আলটুইজম বা আত্মীয়-পরার্থবাদীতা সম্বন্ধে আরো সুনির্দিষ্টভাবে কিছু কথা বলা মত কোনো অবস্থানে পৌঁছেছি। যে জিনটি নিজেকে উৎসর্গ করে (আত্মহত্যার মাধ্যমে) আরো পাঁচ জন কাজিনকে বাঁচাতে প্ররোচনা দেয়, সেটি জনগোষ্ঠীতে সংখ্যায় বাড়বে না কিন্তু একটি জিন যা পাঁচটি ভাই ও দশজন প্রথম কাজিনকে বাঁচাবে সেটি সংখ্যায় বাড়বে। কোনো একটি আত্মঘাতী পরার্থবাদী জিনকে সফল হতে হলে এটিকে একাধিক ভাইবোন (বা সন্তান বা পিতামাতা) বা চারটির বেশী সৎ ভাইবোন (বা চাচা, ফুফু, ভাইপ, ভাইঝি, দাদা,দাদী) বা আট জনের বেশী প্রথম কাজিনকে বাঁচাতে হবে ইত্যাদি। এধরনের কোনো জিন, যথেষ্ট পরিমান একক সদস্যের শরীরে বাস করে, যাদের জীবন রক্ষা করে পরার্থবাদীরা, নিজেদের মৃত্যুর ক্ষতিপুরণ হিসাবে।
