মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালবাইনো’ হবার জিনটি কথা বিবেচনা করুন। বাস্তবিকভাবেই বেশ কিছু জিনের অস্তিত্ব আছে যারা অ্যালবাইনিজমের কারণ হতে পারে, কিন্তু তাদের মধ্যে আমি শুধু একটি জিনের কথা বলছি। এটি প্রচ্ছন্ন বা রিসেসিভ, এর মানে, ‘অ্যালবাইনো’ হবার জন্য এটিকে কোনো মানুষের শরীরে অবশ্যই দ্বিগুণ মাত্রায় উপস্থিত থাকতে হবে। আর আমাদের প্রতি ২০,০০০ জনের মধ্যে ১ জনের শরীরে এটি সত্যি। কিন্তু একক মাত্রা বা একটি কপি হিসাবেও এটি উপস্থিত প্রতি ৭০ জনের মধ্যে ১ জনের শরীরে এবং এইসব ব্যক্তিরা কেউ ‘অ্যালবাইনো’ নন। যেহেতু এটি বন্টন করা আছে অনেক ব্যক্তির শরীরে, ‘অ্যালবাইনো’র মত জিন, অন্তত তাত্ত্বিকভাবে সক্ষম, জিনপুলে তার নিজের টিকে থাকার বিষয়টি সাহায্য করতে পারে এর শরীরগুলোকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করে যেন, তারা অন্য ‘অ্যালবাইনো’ শরীরের প্রতি পরার্থবাদীতার সাথে আচরণ করে, কারণ জানা আছে তারা একই জিন বহন করে। ‘অ্যালবাইনো’ জিনের খুব খুশী হওয়া উচিৎ যদি কিছু শরীর, যার মধ্যে তারা বাস করে, তারা মারা যায়, শর্ত শুধু সেটার করার মাধ্যমে তারা অন্য শরীরকে টিকে থাকতে সাহায্য করে, যারা একই জিন ধারণ করে। যদি কোনো অ্যালবাইনো’ জিন কোনো একটি শরীরকে দিয়ে আরো অন্য দশটি ‘অ্যালবাইনো’ শরীরকে বাঁচাতে পারে, তাহলে এমনকি কোনো এক পরার্থবাদীর মৃত্যু জিনপুলে ‘অ্যালবাইনো’ জিনের সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমানে ক্ষতিপুরণ পাবে।
তাহলে কি আমরা আশা করবো অ্যালবাইনোরা পরস্পরের সাথে বিশেষ দয়াশীলতার সাথে আচরণ করবে? আসলে এর উত্তর সম্ভবত, না। এবং কেন না সেটি বোঝার জন্য আমাদের ‘সাময়িকভাবে জিন একটি সচেতন’ এজেন্ট এই ধারণার রুপকটিকে পরিত্যাগ করতে হবে কারণ এই প্রসঙ্গে এটি আসলেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি করবে। আমাদের অবশ্যই পুনরায় অনুবাদ করতে হবে শ্রদ্ধাযযাগ্য, যদিও জটিল শব্দাবলীতে। অ্যালবাইনো’ জিন আসলে টিকে থাকতে বা অন্য ‘অ্যালবাইনো’ জিনকে সাহায্য করতে ‘চায় না। কিন্তু যদি ‘অ্যালবাইনো’ জিন ঘটনাক্রমে এর বাহক শরীরকে অন্যান্য ‘অ্যালবাইনোদের সাথে পরোপকারিতার সাথে আচরণ করার কারণ হয়, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এর ফলাফল হিসাবে এই জিনটির সংখ্যা জিনপুলে বেড়ে যাবে। কিন্তু সেটি ঘটার জন্য, শরীরের উপর জিনদের দুটি স্বতন্ত্র প্রভাব থাকতে হবে, তাদের অবশ্যই এর সাধারণ প্রভাবটি প্রদান করতে হবে, খুবই ফ্যাকাশে চামড়া। এছাড়াও এটিকে অবশ্যই সেই প্রবণতার নিশ্চয়তা দিতে হবে, যা বাছাইকৃতভাবে সেই সব একক সদস্যদের প্রতি পরোপকারী আচরণ করে, একই ভাবে যাদের চামড়ার রং ফ্যাকাশে। এধরনের ‘দ্বিগুণ প্রভাব’-এর জিন, যদি এর অস্তিত্ব থাকে, জনগোষ্ঠীতে অত্যন্ত সফল হতে পারে।
কিন্তু এটি সত্য যে জিনদের বহুমুখী প্রভাব থাকে, অধ্যায় ৩ এ যে বিষয়টি আমি উল্লেখ করেছিলাম। তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব যে একটি জিনের উদ্ভব হতে পারে, যা বাহ্যিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য একটি বৈশিষ্ট্য প্রদান করতে পারে এর বাহককে, ধরুন হালকা রঙের চামড়া, বা সবুজ দাড়ি বা কোনোকিছু যা চোখে পড়ে এবং সেই সাথে কোনো প্রবণতা, যারা এ-ধরনের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য যারা বহন করে তাদের প্রতি বিশেষভাবে ভালো ব্যবহার করার বিষয়টি নিশ্চিৎ করে। এটা সম্ভব, তবে এমন সুনির্দিষ্টভাবে কিছু ঘটার সম্ভাবনা কম। সবুজ দাড়ির বৈশিষ্ট্যেও একই ভাবে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে নোখের কোনা বাড়ার বৈশিষ্ট্যের সাথে বা অন্য যে কোনো বৈশিষ্ট্য বরং সবুজ দাড়ির প্রতি আকর্ষণের সাথে থাকতে পারে যেমন, ফ্রিসিয়া ফুলের গন্ধ নেবার অক্ষমতা। সম্ভাবনা খুবই কম যে একটি এবং একই জিন দুটোই সৃষ্টি করতে পারে, কোনো একটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ও সঠিক ধরনের পরার্থবাদীতা। কিন্তু তাসত্ত্বেও, যাকে কিনা বলা যেতে পারে সবুজ দাড়ির পরার্থবাদীতার প্রভাব, তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হতে পারে।
একটি মনগড়া লেবেল যেমন, সবুজ দাড়ি, হচ্ছে শুধুমাত্র একটি উপায়, যার মাধ্যমে জিনরা প্রজাতির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে তাদের নিজেদের অনুলিপিদের হয়তো শনাক্ত করতে পারে। আর কি কোনো উপায় আছে? একটি বিশেষভাবে সরাসরি উপায় হতে পারে এমন। হয়তো কোনো একটি পরার্থবাদী জিনের বাহককে শুধুমাত্র শনাক্ত করা যেতে পারে সেই বাস্তব সত্যটি ব্যবহার করে, এর বাহক কোনো পরার্থবাদী কাজ করছে। কোনো একটি জিন জিনপুলে ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে, যদি এটি এমন কিছু বলে যা এর সমতুল্য: “শরীর, যদি ‘ক’ কাউকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবতে বসে, ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘ক’ কে বাঁচাও। আর যে কারণে এমন কোনো জিন ভালো করতে পারে, সেটি হচ্ছে গড়পড়তার চেয়ে বেশী সম্ভাবনা আছে যে ‘ক’ এরও একই ‘জীবন রক্ষাকারী পরার্থবাদী জিন আছে। ‘ক’ কাউকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছে, সেই বাস্তব সত্যটি হচ্ছে একটি লেবেল, সবুজ দাড়ি লেবেলের সমতুল্য। সবুজ দাড়ির চেয়ে এটি কম খামখেয়ালী, তারপরও এটিকে বরং অসম্ভাব্য মনে হয়। আর কোনো সম্ভাব্য উপায় কি ভাবা যেতে পারে, যেখানে জিনগুলো অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে তাদের অনুলিপিগুলো শনাক্ত করতে পারে?
