(৬) টেড বার্ক, আমার তৎকালীন গ্রাজুয়েট ছাত্র, আরো প্রমাণ পেয়েছিলেন ঝিঁঝি পোকাদের মধ্যে, এই ধরনেরই ছদ্ম প্রাধান্য বিস্তারকারীদের প্রাধান্য পরম্পরার সিস্টেমের। তিনি দেখিয়েছিলেন একটি পুরুষ ক্রিকেটের কোন স্ত্রী ক্রিকেটকে প্রজনন সঙ্গী বানানো প্রচেষ্টা করার সম্ভাবনা বেশী থাকে, যদি সে খুব সম্প্রতি অন্য কোনো পুরুষের সাথে যুদ্ধে জিতে থাকে, একে বলা উচিৎ ‘ডিউক অব মার্লবরো ইফেক্ট’, প্রথম ডাচেস অব মার্লবরোর রোজনামচায় নিম্নলিখিত লেখা অনুযায়ী : ‘সন্মানিত ডিউক মহোদয় আজ যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন এবং আমাকে দুবার তৃপ্ত করেছেন তার বুট না খুলে। একটি বিকল্প নাম হয়তো প্রস্তাব করা যায় New Scientist ম্যাগাজিনের পুরুষালী হরমোন টেস্টোষ্টরনের মাত্রা সংক্রান্ত এই রিপোর্ট মোতাবেক; বড় ম্যাচ খেলার ২৪ ঘন্টা আগে টেষ্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়, এরপর বিজয়ীদের ক্ষেত্রে সেটি তার উচ্চ মাত্রা ধরে রাখে কিন্তু পরাজিত শরীরে মাত্রা কমে যায়।
(৭) এই বাক্যটি একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে, আমি সম্ভবত সমসাময়িক জৈববৈজ্ঞানিক গবেষণা পত্রিকাগুলোয় ‘ইএসএস’ ধারণার প্রতি বিদ্যমান অবহেলার প্রতি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলাম, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে। যেমন,এই শব্দটি কোথাও ব্যবহৃত হয়নি ই, ও. উইলসন এর বিশাল Sociobiology বইটিতে। আর অবহেলিত নয় এটি এবং আমি এখন আরো বেশী বিচক্ষণ এবং কম ইভানজেলিকাল দৃষ্টিভঙ্গি নিতে পারবো। আপনাকে আসলেই ‘ইএসএস’ এর ভাষা ব্যবহার করতে হবে না, যদি আপনি সুস্পষ্টভাবে চিন্তা করেন সবকিছু। কিন্তু পরিষ্কারভাবে চিন্তা করার জন্য একটি অত্যন্ত সহায়ক একটি দৃষ্টিভঙ্গি, বিশেষ করে সেই সব ক্ষেত্রে– যা ব্যবহারিকভাবে বলতে গেলে প্রায় সব ক্ষেত্রে– যেখানে বিস্তারিত জিনগত তথ্য এখনও আমাদের অজানা। মাঝে মাঝে বলা হয় যে ‘ইএসএস’ মডেলগুলো ধরে নেয় প্রজনন অযৌন, কিন্তু এই বাক্যটি ভ্রান্ত যদি মনে করার হয় অযৌন প্রজনন সম্বন্ধে কোনো ইতিবাচক কিছু বলছে যৌন প্রজননের বীপরিতে। সত্যিটা বরং হচ্ছে যে ‘ইএসএস’ মডেলগুলো জেনেটিক সিস্টেমের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে নিজেদের ব্যস্ত রাখে না। এর পরিবর্তে তারা ধরে নেয় যে, খানিকটা কোনো অস্পষ্ট অর্থে, কোনো কিছু তার সদৃশ কোনো কিছুরই জন্ম দেয়। অনেক কারণে এই ধারণাটি যথেষ্ট না। আসলেই এর অস্পষ্টতা উপকারীও হতে পারে কারণ এটি আমাদের মনকে নিবদ্ধ করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর উপর, বিস্তারিত খুঁটিনাটি সব ছাড়িয়ে, যেমন জিনগত প্রাধান্য বিস্তার, যা কোনো কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আসলেই অজানা, উঝঝ ভাবনাগুলো সবচেয়ে উপযোগী এর নেতিবাচক ভূমিকায়। এটি আমাদের সাহায্য করে তাত্ত্বিক ভুলগুলো এড়াতে যা অন্যথায় আমাদের প্ররোচিত করে।
(৮) সুপরিচিত তত্ত্ব পাংচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম এর ধারণাটি একভাবে প্রকাশ করার জন্য এই অনুচ্ছেদটি বেশ ভালো একটি সার সংক্ষেপ হতে পারে এখন। আমি লজ্জিত হচ্ছি বলতে যে, যখন আমি আমার ধারণাটি লিখেছিলাম, ইংল্যান্ডের অনেক জীববিজ্ঞানীর মত আমিও, এই তত্ত্বটি সম্বন্ধে পুরোপুরি অজ্ঞ ছিলাম, যদিও এটি প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে, এরপর থেকে অবশ্য, যেমন, The Blind Watchmaker আমি কিছুটা শিশুসুলভ বিরক্তিও প্রকাশ করেছি– হয়তো একটু বেশী মাত্রায়– যেভাবে পাংচুয়েটেড ইকুইলিয়রিয়াম ধারণাটি যতটা না তার চেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যদি এটি কারো অনুভূতিকে আহত করে, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তারা হয়তো লক্ষ করতে পারেন, অন্তত ১৯৭৬ সালে আমার হৃদয়টি ঠিক জায়গায় ছিল। ((পাংচুয়েটেড ইকুইলিয়ব্রিয়াম ধারণা বিবর্তন জীববিজ্ঞানে প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন স্টিফেন জে গ্যল্ড এবং নিল এলড্রেজ। তারা দাবী করেছিলেন যখন কোনো একটি প্রজাতি জীবাশ্ম রেকর্ডে আবির্ভূত হয়, প্রজাতিটি একটি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছায়, যখন নেট বিবর্তনীয় পরিমান খুব সামান্য সেই ভূতাত্ত্বিক রেকর্ডে।))
০৬. জিনম্যানশীপ বা জিন সৌহার্দ
অধ্যায় ৬ : জিনম্যানশীপ বা জিন সৌহার্দ
স্বার্থপর জিন আসলে কি? এটি শুধুমাত্র সত্যিকারের ডিএনএ-এর একটি একক অংশ নয়। ঠিক যেমন আদিম সুপে ছিল, এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট টুকরো ডিএনএ’র ‘সব অনুলিপিগুলো’, যারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। আমরা যদি নিজেদের স্বাধীনতা দেই, জিনদের নিয়ে এমনভাবে কিছু বলার জন্য যে, তাদের সচেতন লক্ষ্য আছে, যারা আমাদের আশ্বস্ত করছে সবসময়, আমরা আমাদের অস্পষ্ট এলোমেলো অদক্ষ ভাষাকে সম্মানজনক কোনো অর্থে অনূদিত করতে পারবো। যদি আমরা সেটি করতে চাই, আমরা সেই প্রশ্নটি করতে পারি, একটি একক ‘স্বার্থপর জিন’ কি করার চেষ্টা করছে? এটি চেষ্টা করছে জিনপুলে তার সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করতে। মূলত এই কাজটি সে করে শরীরকে প্রোগ্রাম করতে সাহায্য করে, তার টিকে থাকা আর প্রজনন করার জন্য যে শরীরে এটি নিজেকে খুঁজে পায়। কিন্তু এখন আমরা জোর দিচ্ছি যে এটি আসলে বিতরণকৃত ‘এজেন্সি বা দায়িত্ব, বহু ভিন্ন ভিন্ন একক শরীরে যার একই সাথে অস্তিত্ব আছে। এই অধ্যায়ের মূল বিষয়টি হচ্ছে, একটি জিন হয়তো এর নিজের অনুলিপিকে’ সাহায্য করতে পারে, যা অন্য শরীরগুলোয় অবস্থান করছে। যদি তাই হয়, এটিকে দেখে একক কোনো সদস্যের পরার্থবাদীতা মনে হতে পারে, কিন্তু জিন স্বার্থপরতার কারণে এমন কিছু ঘটবে।
